শব্দের ভেতর টক মিষ্টি ঝাল নোনা তিতা সব স্বাদ আছে: আনিফ রুবেদ
‘নতুন গল্পের সন্ধানে’ শিরোনামে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক জার্নাল প্রতিধ্বনি আয়োজিত প্রতিধ্বনি গল্প পুরস্কার ২০২৫-এর সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। বিগত ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এ প্রকাশিত ১০টি দীর্ঘ তালিকার গল্প থেকে বিচারকমণ্ডলী সংক্ষিপ্ত তালিকার জন্য ৫টি গল্প বাছাই করেছেন। প্রতিধ্বনি এবার নতুনভাবে সংযোজন করেছে—সংক্ষিপ্ত তালিকার পাঁচজন গল্পকারের বিশেষ সাক্ষাৎকার।
সাক্ষাৎকার || শব্দ আমাদের ভাবনার সীমাও ঠিক করে দেয় || আনিফ রুবেদ
প্রতিধ্বনি গল্প পুরস্কার ২০২৫-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন। সংক্ষিপ্ত তালিকায় আপনার নাম দেখার পর প্রথম অনুভূতি কেমন ছিল?
আনিফ রুবেদ: আমার আন্তরিক ধন্যবাদ এবং প্রীতি জানবেন। সংক্ষিপ্ত তালিকায় আমার নাম দেখার পর আমার ভালো লেগেছিল।
গল্পটি কখন লিখেছিলেন? আর গল্পটি লেখার পেছনে বিশেষ কোনো ভাবনা বা অনুপ্রেরণা কী কাজ করেছিল?
আনিফ: গল্পটি বেশ আগের লেখা। গল্প লেখার পর বহুদিন ধরে বহুবার নিজে নিজে পড়ি এবং ঠিকঠাক করি। একটা গল্পের জন্য প্রচুর সময় নিই আমি। এতে কোনো বিরক্তি বা ক্লান্তি অনুভব করি না। আমার কোনো তাড়া নেই।
এই গ্রহ নানা প্রাণীতে পূর্ণ। এসব পশু-প্রাণীদের চাইতে মনুষ্যপ্রাণীকেই আমার বেশি নির্মম মনে হয়েছে। চারদিকে তাকালেই খুব সহজেই দেখা যাবে যে, একটা কুকুর হয়তো কোনো একটা ছায়ায় ঘুমাচ্ছে বা বিশ্রাম নিচ্ছে, হঠাৎ করেই কেউ একজন মারাত্মকভাবে ঢিল ছুড়ে দিলো কুকুরটির দিকে। এরকম দৃশ্য যখন চোখের সামনে তৈরি হয় তখন কুকুরের যে শারীরিক কষ্ট হলো তার জন্য খারাপ তো লাগেই; সাথে সাথে আমার মনে প্রশ্নও জাগে, কুকুরটি এখন কী ভাবছে মানুষ সম্পর্কে? অপমানিত কুকুরটির কি মনে হচ্ছে না, মানুষ বড্ড অমানুষ?
এই ধরনের পশুপক্ষের একটা ভাবনা হয়তো কাজ করছিল আমার গল্পটি লেখার আগে এবং লেখার সময়।
মরাকান্দির বিল-এর মতো মর্মস্পর্শী একটি গল্প রচনায় রূপকের আঙ্গিক ও বর্ণনাশৈলী বেছে নিলেন কেন?
আনিফ: এ প্রশ্নের উত্তর দু’নম্বর প্রশ্নের উত্তরের কাছে আছে। ওই উত্তরের কাছে থেকে কিছুটা ধার নিয়ে এই প্রশ্নটার উত্তর করা যায়। ‘রূপক আঙ্গিক’ বলতে যা বোঝায় ঠিক তেমনটা করতে চাইনি। আমি বরং মানুষদের প্রতি অন্য প্রাণীদের মনোভাবটা কী হতে পারে বা কেমন হতে পারে সেটাই নিজের মতো করে আন্দাজ করে এখানে প্রয়োগ করেছি। তাদের ভাবনাটা আমি ভাবতে পেরেছি এমন নয়, কারণ আমিও তো মানুষ; বরং এটা একটা চেষ্টা বা পদ্ধতিমাত্র। হতে পারে, এরকম কোনো ভাবনাই তাদের নেই অথবা আছে; যা আরও জটিল এবং কঠিন।
‘গল্পটি মর্মস্পর্শী’ এই অর্থে যে মানুষের নৃশংসতা, মানুষের স্বার্থপরতা হাজার হাজার বছর ধরে একই ধরনের শক্তি নিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মানুষ থেকে মানুষে; এতে এতটুকু ভাটা পড়েনি। অথচ, হাজার হাজার বছর আগে থেকে এখন পর্যন্ত অনেক শিক্ষাদীক্ষা পেল মানুষ, ধর্ম পেল, বিজ্ঞান পেল, সাহিত্য-সংস্কৃতি পেল কিন্তু নৃশংসতার, স্বার্থপরতার শেষ হলো না; এসবের রূপ পাল্টেছে হয়তো কিন্তু তীব্রতা কমেনি বিন্দু সমানও।
একজন কিশোরী চারজন গুণ্ডা দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে, খুন হয়েছে এই ব্যাপারটিকে মূল ধরে নিয়ে যদি গল্পটিকে ‘মর্মস্পর্শী’ মনে করা হয় তবে তা গল্পটির একটিমাত্র অংশকেই চিহ্নিত করতে পারে। বরং মানুষ যে আচরণিকভাবে আদিমকালের চেয়ে একটুও এগুতে পারল না এটাই মর্মস্পর্শী।
আবার, মানুষের লোকলজ্জা আছে; লোকলজ্জার ভয়ে অনেককিছু করে না বা গোপনে করে কিন্তু মানুষের ভেতর পশুলজ্জার ভয় মোটেও যেন নেই। এমন দৃশ্য আমরা হরহামেশাই দেখতে পাই, কোনো এক লোক একটা গরু বা ছাগল বা পাখির সামনেই মূত্রত্যাগ করতে বসে গেল; কোনো লজ্জাবোধ কাজ করল না। মানুষের নিজ-লজ্জা তো একটুও নেই যেটা লোকলজ্জার চেয়েও বৃহৎ হওয়ার কথা ছিল। মানুষের যদি লোকলজ্জা থাকে তবে নিজলজ্জা থাকে না কেন? নাকি মানুষ নিজেকে লোক ভাবে না! এই গল্পটাতেও দেখা যায়, মানুষ নিজেকেও লজ্জা না করে, অন্য পশুদের লজ্জা না করেই গর্হিত কাজে লিপ্ত হয়েছে; ভাবনার ভেতরেই আসেনি যে, পশুরা তাদেরকে কী ভাবছে?
এমনধারার ভাবনাই গল্পটির এমন বর্ণনাকৌশল ঠিক করেছে সম্ভবত।
গল্পটির ভাষাশৈলীতে ‘মাঠের মৃত্তিকা/ আকাশের কৃত্তিকা’, ‘দৃষ্টিমধুর/ দৃষ্টিবিধুর’, এবং ‘সিন্ধুসারস/ বিন্দুসারস’—এরকম অসংখ্য কাব্যিক ও আলংকারিক পদযুগল ব্যবহার করে একটি শ্লেষাত্মক আবহ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, এমন কাব্যিকতার আশ্রয় নেওয়া কি আপনার লেখার একটি অভ্যাসগত বৈশিষ্ট্য, নাকি এই গল্পের মধ্যে নির্দিষ্টভাবে ব্যঙ্গ-শ্লেষ ফুটিয়ে তোলার একটি সচেতন শৈল্পিক কৌশল?
আনিফ: শব্দকে—Word এবং Sound এই উভয় অর্থেই—আমার খুব যাদুকরী এবং কার্যকরী উপাদান বলে মনে হয়। শব্দের ভেতর টক মিষ্টি ঝাল নোনা তিতা সব স্বাদ আছে। শব্দের ভেতরেই দর্শন আছে, আবহ আছে, ছবি আছে, ইতিহাস আছে, রাজনীতি আছে, আবর্তন এবং বিবর্তনও রয়েছে।
শব্দ চিন্তা দান করতে পারে, গল্প বা গল্পের চরিত্র দান করতে পারে, কবিতা এবং সংগীত দান করতে পারে। কাব্যসাহিত্য বা শ্রাব্যসাহিত্য বা গদ্যসাহিত্য সবকিছুতেই মূল ভিত কিন্তু শব্দই। শব্দ দিয়েই আমাদেরকে আমাদের ভাব, ভাবনা, ঘটনা, আবহ ইত্যাদিকে ধরতে হয় বা আটকে রাখতে হয়।
শব্দ আমাদের ভাবনার সীমাও ঠিক করে দেয়। কিন্তু ভাবনা তো সীমা মানতে চায় না অনেকসময়, ফলে, নতুন শব্দের খোঁজ করতে হয়, নতুন শব্দ সৃষ্টি করতে হয় বা পুরাতন শব্দকে কেটেছেঁটে বা জোড়া দিয়ে অন্য একটা রূপ দিতে হয় বা প্রচলিত শব্দকেই বিশেষ সংস্থানে ব্যবহার করতে হয়। প্রশ্নের ভেতর থাকা মৃত্তিকা/ কৃত্তিকা; সিন্ধুসারস/ বিন্দুসারস শব্দ বা শব্দযূথগুলো একটা বিশেষ সংস্থানে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি।
এবার যে গল্পের পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করছি তার নাম ‘গ্রহস্থালির কালো ও আধাকালো ছবি’। এখানে ‘গ্রহস্থালি’ শব্দটিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। ‘গৃহস্থালি’ শব্দটি আমরা সকলেই জানি; গৃহস্থালিতে কয়েকজন নারী-পুরুষ-শিশু থাকে, কয়েকটি পশুপাখিও থাকে বা থাকতে পারে। ‘গৃহস্থালি’ শব্দটিকে ‘গ্রহস্থালি’ শব্দে রূপান্তর করে পুরো পৃথিবীর মানুষ এবং অন্যান্য জড়-জীব নিয়ে যে বিশাল সংসার রয়েছে তাকেই ধারণ করার চেষ্টা করেছি। উল্লেখ্য, ‘মরাকান্দির বিল’ গল্পটি আমার নতুন পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।
হ্যাঁ, শব্দকে নিয়ে আলাদা করে ভাবা এবং প্রয়োগ করা আমার অভ্যাস এবং সচেতন চেতনারও ব্যাপার।
একটি ইঁদুর ও একটি শিয়ালের মতো প্রাণীর দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে আপনি ভালো-মন্দ বোধ সম্পর্কে একটি নির্মোহ পর্যবেক্ষণ উপস্থান করেছেন। গল্পের চরিত্রদের মতো কি আপনিও মনে করেন যে, মানুষের নীতিবোধ পরিবর্তনশীল ও পরস্পরবিরোধী?
আনিফ: অনেকক্ষেত্রেই মানুষকে আমারও অন্যজীবদের তুলনায় বেশি লোভী মনে হয়। এবং এই লোভকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে মানুষ। ফলে ওইসব চরিত্রদের মতোই আমারও মনে হয় মানুষের নীতিবোধ পরিবর্তনশীল এবং পরস্পরবিরোধীও। এবং শুধু তাই নয়, মানুষ যা-ই করতে যায় তাতেই নিজের পক্ষে একটা যুক্তি দাঁড় করাবেই। কেউ যদি ঘুষ খায় তবে সে তার আগে অবশ্যই একটা যুক্তি তৈরি করে নেবে। এই একটা ক্ষেত্রে চরম অসৎ মানুষটিও সৎ থাকে অর্থাৎ যুক্তি তৈরি না করে অপরাধ করতে যায় না।
গল্পে পিতা-চরিত্রটি প্রথমে মুমূর্ষু সেই মেয়েটিকে বাঁচানোর চেয়ে তার হাতের আংটিটিকেই লোলুপভাবে কামনা করে; কিন্তু পরবর্তীতে তাকে বাঁচানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, শিয়ালটি শুরুতে মেয়েটির প্রতি মানুষের নৃশংসতাকে ভর্ৎসনা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে নিজেই মৃত মেয়েটির মাংস ভক্ষণে লোলুপ হয়ে ওঠে। একই পরিস্থিতিতে মানুষের এবং প্রাণীর আচরণে এই পারস্পরিক বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলার পেছনে আপনার কী ভাবনা জানতে চাই।
আনিফ: ঠিক আগের প্রশ্নের উত্তরে এ ব্যাপারে কিছু কথা হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে মানুষের বৈপরীত্যটা একেবারে স্পষ্ট কিন্তু প্রাণীর ক্ষেত্রে এই বৈপরীত্য দেখা গেলেও তা খুব একটা প্রকট নয়; কারণ প্রাণীরা যা যা করে তার প্রায় সবটাই প্রয়োজনের খাতিরে করে।
‘সৃষ্টিজগৎ মানেই অহেতুক এক নির্মমতা’—এই ব্যঞ্জনাময় বাক্যটির পেছনে আপনার কোনো দার্শনিক ভাবনা কাজ করেছে?
আনিফ: বাক্যটির পেছনে একটি সহজ দার্শনিক ভাবনা রয়েছে। এ ভাবনা সকলেরই খুব পরিচিত। খাদ্যশৃঙ্খল ব্যাপারটা সকলেই জানে এবং এও জানে এক জীব আরেক জীবকে কিভাবে খেয়ে ফেলে। এবং ইচ্ছে করলেও কোনো প্রাণীই এটা করতে সক্ষম হবে না যে, আমি কাউকে খাব না। কিন্তু এ তো গেল শুধু বেঁচে থাকার প্রয়োজনের ব্যাপার এবং খুব সচেতন ব্যাপার। কিন্তু এর বাইরেও খুব ছোটো ছোটো ব্যাপার রয়েছে যেগুলো খুব করে ভাবায় আমাকে। ধরা যাক, একজন মানুষ গাছের ডালে বসে থাকা একটা পাখির দিকে ঢিল ছুড়লো। পাখির ব্যাপারে দুটোর মধ্যে একটা ঘটবে, একটা হলো পাখিটা মারা যেতে পারে অথবা উড়ে যেতে পারে। এর সাথে সাথে ওই মানুষটার অজান্তেই আরও একটি ব্যাপার ঘটে যেতে পারে, সেটা হলো, ঢিলটি যেখানে পড়বে সেখানে কোনো একটা ঘাসফড়িং ছিল হয়তো, যেটা ঢিলের তলায় চ্যাপ্টা হয়ে মরে গেল, হয়তো একটা ব্যাঙ ছিল, যেটার একটা ঠ্যাঙ ভেঙে গেল বা মাথা থেতলে গেল। এরকম ভাবনা ওরকম একটি বাক্য আমার মধ্যে জন্ম দেয়।
পাঠক হিসেবে আপনার প্রথম গল্প এবং লেখক হিসেবে আপনার প্রথম গল্প—সেই স্মৃতিগুলোর কথা শুনতে চাই।
আনিফ: শিশুকাল থেকেই বাংলা বইটা সবচেয়ে বেশি ধরে থাকত আমাকে। সুতরাং পাঠক হিসেবে একেবারে প্রথম গল্পটা যে কী তা ঠিকঠাক বলা সম্ভব নয় সম্ভবত। তবু বলতে গেলে বলতে হয়, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইতে থাকা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঝড়ের পরে’ গল্পটি খুব আনন্দ দিয়েছিল। ঘুরে ঘুরে পড়তাম।
অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় কোনো এক সাহিত্য সংগঠনের লোকজন আসে এবং জানায়, তারা একটা ম্যাগাজিন করতে যাচ্ছে যেখানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রদের থেকে গল্প-কবিতা থাকবে। সেইসময়েই আমি ওই ম্যাগাজিনের জন্য প্রথম গল্প লিখি। গল্পটি আমার স্যারের কাছে দিই। তিনি একটু উল্টেপাল্টে দেখে বলেন, কিছুই হয়নি।
আপনার পাঠ্যতালিকায় কোন কোন দেশি ও বিদেশি গল্পকার বা ঔপন্যাসিক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন? কাদের লেখনী আপনাকে গল্প বলতে বা লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে?
আনিফ: আমি নির্বিচারে পড়তে পছন্দ করি। মূলত আমি পড়তে চাই প্রচুর। এবং লিখতেও চাই। সুতরাং বিশেষ স্থান দখল করার ব্যাপার খুব একটা নেই। তবুও অনেক লেখক আছেন যাঁদের প্রতি আমার মুগ্ধতা চিরবীজের মতো হৃদয়ে বপন করা আছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, মানিক, বিভূতিভূষণ, সতীনাথ ভাদুড়ী, বনফুল, জীবনানন্দ দাশ এবং আরো অনেকে। আমার বেঁচে থাকার সময় বেঁচে থাকা বা বেঁচে ছিলেন এমন প্রিয় লেখকগণের মধ্যে রয়েছেন আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ, শহীদুল জহির, মামুন হুসাইনসহ আরো অনেকেই। বিদেশি লেখকদের মধ্যে তলস্তয়, গোর্কি, মার্কেজ, ইমরে কার্তেস, ইভান বুনিন, অরুন্ধতি রায়।
আমার অনুপ্রাণনার বিষয়টা অনেকটা সামগ্রিক। একেবারে প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত রচিত হওয়া যেসব চিত্রসাহিত্য, শ্রাব্যসাহিত্য, কাব্যসাহিত্য এবং গদ্যসাহিত্যের আমি আস্বাদ পেয়েছি তার সবগুলোই আমার চিন্তা এবং প্রকাশভঙ্গির ওপর ছাপ ফেলেছে।
বর্তমানে আপনি কী পড়ছেন? আর আপনার সৃজনশীলতার পাতায় কোন লেখার কাজ চলছে?
আনিফ: প্রতিদিন পঞ্চাশ পৃষ্ঠা করে পড়ার একটা লক্ষমাত্রা থাকে আমার; যদিও অনেক সময় এই মাত্রা পূরণ করতে পারি না। সারাদিনে আমার পড়ার ব্যাপারটা তিনটা পর্বে বিভক্ত। এতে করে সারাদিনে দুটি বা তিনটি বইয়ের সাথে আমার সংযোগ ঘটে। একটা বই সবসময় আমার হাতে থাকে; এ বইটা পড়া হয় যখন আমি পথেঘাটে বা চায়ের স্টলে বসে থাকি তখন; একটা বই থাকে আমার কর্মস্থলে; এবং একটা বই থাকে বিছানায়; ঘুমানোর আগে এই বইটি পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ি। এখন কর্মস্থলে থাকা বই হলো নজরুল রচনাবলী আর বিছানায় থাকা বইটি হলো তলস্তয়ের ‘ওয়ার এন্ড পিস’।
এর আগের একটা প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়ে গেছে যে, এখন ‘গ্রহস্থালির কালো ও আধাকালো ছবি’ নামের একটা ছোটো গল্পের পাণ্ডুলিপি নিয়ে কাজ করছি। ২০২৬ সালে বইটি গ্রন্থাকারে বের হতে পারে।
প্রতিধ্বনির সঙ্গে থেকে আপনার সাহিত্য ভাবনা বিনিময় করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আনিফ: প্রতিধ্বনির প্রতিও আমার শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা।
লেখক পরিচিতি
লেখক ও গল্পকার। তিনি ১৯৮০ সালের ২৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চামাগ্রাম নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দশটি। উল্লেখযোগ্য গল্পের বই—মন ও শরীরের গন্ধ, দৃশ্যবিদ্ধ নরনারীগান, জীবগণিত; কাব্যগ্রন্থ—পৃথিবীর মৃত্যুদণ্ডপত্র, এসো মহাকালের মাদুরে শুয়ে পড়ি; এবং উপন্যাস—কালকাঠুরে। বর্তমানে থাকেন চাপাইনবাবগঞ্জে।



আনিফ রুবেদ
সৌপ্তিক
ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ ০৬:১৫