মনোজাগতিক উপন্যাস ‘সমারসেট মমের অলেখা গল্প’
তুহিন সমদ্দারের বাংলা অনুবাদে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ইউরি নাগিবিনের উপন্যাস ‘সমারসেট মমের অলেখা গল্প’। বইটির প্রকাশক মওলা ব্রাদার্স। উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য মানবিক জটিল সম্পর্কের এক মনোজাগতিক আখ্যান। বইয়ে সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। সুপুরুষ, মার্জিত স্বামী আর নম্র স্বভাবের কিশোর সন্তানসহ এক নির্ঝঞ্ঝাট সংসার, বংশমর্যাদায় সামাজিকভাবে সম্মানীয় আর অর্থনৈতিক প্রাচুর্য থাকার পরেও সুন্দরী সুশিক্ষিতা রুচীশীল কোন নারী কি বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়াতে পারেন? বিশেষত, রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায়?
হ্যাঁ, পারেন; যদি স্বামীটি তাকে পর্যাপ্ত সময় না দেন। যদি দুজনের চিন্তায় দূরত্ব তৈরি হয়ে যায় আর সেই সুযোগে প্রেমিকটির সাথে একটা আবেগীয় সংযোগ তৈরি হয়। কিংবা হঠাৎ করেই মানসিকভাবে উভয়ের মাঝে এমন কোন বোঝাপড়া হয়ে যায়—যা থেকে এই মানুষ দুটি দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন; ছিলেন আকণ্ঠ তৃষ্ণার্ত—তাহলে প্রেম সেখানে অনিবার্য। স্বল্প থেকে দীর্ঘ মেয়াদে সেই ভালোবাসা সমান্তরালভাবে চলতে পারে—যা অনেকটাই নির্ভর করে উভয়ের মানসিক ও শারীরিক আকাঙ্ক্ষা এবং একে অন্যের প্রতি দায় ও প্রতিশ্রুতির গভীরতার ওপর।
বিয়ে-পরবর্তী এহেন বাড়তি সম্পর্ক—সমাজ সেটাকে যতোই রেখেঢেকে রাখতে বা পাপ সাব্যস্ত করতে চেষ্টা করুক না কেন—খুব একটা বিরল নয়। প্রয়োজনের তাগিদেই মানুষ এ ধরনের সম্পর্কে জড়ায়। কিন্তু এমন কেউ কি দেখেছে, যেখানে নব্য প্রেমিকটি তার স্বামীর চেয়ে শিক্ষাদীক্ষা, সামাজিক অবস্থান কিংবা অর্থনৈতিকভাবে কেবল পিছিয়েই নয়, বরং ভয়াবহ রকমের দুর্বল। চালচুলোহীন, মদ্যপ আর তিরিক্ষি মেজাজের অসামাজিক ও কুৎসিত চেহারার ওই মানুষটির প্রতি সুন্দরী, বিনয়ী ও শান্ত স্বভাবের নারীদের কি কোন আকর্ষণ তৈরি হতে পারে? এবং সেটা এতোই গভীর ও প্রতিশ্রুতিপূর্ণ হতে পারে যা এমনকি বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে হয়! কী সেই বিস্মরণ যা গোছানো সংসার-সন্তান-স্বামী ত্যাগ করে কেবল ওই অবিবেচক নির্দয় প্রেমিকটির সুখকেই প্রাধান্য দিতে চায়?
এ এক অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব, ত্রিভূজ প্রেমের এক জটিল চিন্তা কাঠামো, যা মেরিকে দীর্ঘকাল ক্যাপ্টেনের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ অথচ জোনসের প্রতি অনুগত করে রাখে। অপ্রচল সেই সম্পর্কের নিরপেক্ষ বয়ান 'সমারসেট মমের অলেখা গল্প' উপন্যাসটি। মানব-মনের অজানা আকর্ষণ আর তার খেসারত ওই প্রানী তিনটি কিভাবে দিয়েছে, তা আপনার কৌতুহলী চিন্তাকে উসকে দেবে। পড়তে পড়তে কাকে যে দোষী ভাববেন, সেটা নিয়ে আপনি নিজেই দ্বিধায় পড়ে যাবেন। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ। ৬৪ বইয়ের মূল্য রাখা হয়েছে ২০০ টাকা।



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন