অণু-রূপকথা ও অন্যান্য অণু গল্প

অ+ অ-


অণু-রূপকথা

এক দেশে একটা শহর ছিল। সেই শহরের মানুষ সহজে অবাক হতো না। কিন্তু একদিন তারা অবাক হতে বাধ্য হলো। কারণ তাদের শহরে হঠাৎ একটা মানুষ এসেছে যার দুটো পা’ই বাম পা। এর আগে কোনদিন সেই শহরের লোকেরা এতটা অবাক হয়নি। 
তাই সকলে লোকটাকে নিয়ে গিয়ে একটা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করল। সাংবাদিক জিজ্ঞেস করল, ‘ভাই আপনার দুই পা-ই কীভাবে বাম পা হলো?’ শহরের লোকেরা অধীর আগ্রহ নিয়ে চেয়ে রইল জবাব শুনবে বলে। 
লোকটা জবাব দিল, ‘আসলে আমি আর আমার জমজ ভাইয়ের জন্ম প্রায় একই সাথে। আমার দুটো পা যেমন বাম পা, আমার ভাইয়ের দুটোই ডান পা।’ এ কথা শোনার সাথে সাথে শহরের লোকেদের বিস্ময় কেটে গেল। তারা সংবাদ সম্মেলন বাদ দিয়ে উঠে পড়ল। আর এর আগে লোকটাকে দেখে অবাক হয়েছে বলে নিজেদের উপরেই দারুণ বিরক্ত হলো। 
সংবাদ সম্মেলন শেষে সকলে দৃপ্তকণ্ঠে শপথ নিলো ভবিষ্যতে কোনদিন আর এত সহজে তারা বিস্মিত হবে না।

 

গল্পেরা জেগে থাকে

রোজরাতে আমার কিছু লিখতে ইচ্ছা করে। একরকম অসুখের মত। আমি লিখি না।
আমি বরং ভাবি নিঃসঙ্গ এক জেলের গল্প নিয়ে। যার মাছ ধরার ট্রলার হারিয়ে গেছে গভীর সমুদ্রে। চাঁদ তারা সূর্য এদিকে ঢেকে গেছে কোন অমোঘ সর্বগ্রাসী কুয়াশায়। নৌকায় ইতঃস্তত পড়ে আছে সাথীদের লাশ। ক্ষুধা-তৃষ্ণায় মরে গেছে একে একে। জেলে জানে না আর বৃষ্টির দেখা পাবে কিনা। পচে যাবে লাশগুলো। ফেলে দিলে খাবে কি?
একই গল্প নিয়ে ভাবি প্রতিরাতে।
রাত বাড়ে। আমি জেলেটির মত একা হ’তে হ’তে বুঝি এই গল্পের কোনো অডিয়েন্স নাই। খোদা নিজেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন গল্পের সেই জেলে আর গল্পের স্রষ্টার দিক থেকে। কবিতারও প্রয়োজন নাই কোন আর।
একদিন ভাবনায় গল্পটা বদলায়। প্রথমে চমকে যাই। দেখি অলৌকিক কুয়াশা কেটে যাচ্ছে। মিকাইলের ডানায় ভর দিয়ে বৃষ্টি এলে মৃতপ্রায় জেলেটি বেঁচে যায়। একদিন সে এসে দাঁড়ায় সহকর্মী অল্পবয়সী শিক্ষানবিশ জেলেটির বাড়ির দরজায়। তার মা’কে দিতে হবে মৃত্যুসংবাদ। অপেক্ষায় জেগে থাকা কোন এক মা।
সব শুনে মা কাঁদে। একসময় কান্না থামায়। জিজ্ঞেস করে, বাবা, তুমি বেঁচে ফিরলে, শুধু একবার বলো টিকে থাকার জন্য তুমি আমার মানিকের মাংস খাওনি তো?
অবাক হয়ে ভাবি এতদিনের একই গল্প আজ বদলে গেলো কিভাবে। তবে কি পাতা উল্টোইনি এতদিন ভাবনার?


ভালো থেকো

নিস্তরঙ্গ সাবার্বিয়ার নিখুঁত পরিচর্যা পাওয়া লনগুলোর প্রান্ত ছুঁয়ে শুয়ে থাকা পাশরাস্তা ধরে সান্ধ্যভ্রমণের সময় আমার মনে হতে থাকে—ভালো থাকা বুঝি একটা কারাগার। একধরনের বন্দিত্ব। হাঁটতে হাঁটতে মিডল ইশকুলের মাঠের কাছে এলে আকাশটাকে বিস্তারিত দেখার সুযোগ হয়। অনুভব করি গোধূলিতে সূর্যও এখানে পরিমিত রঙ ছড়ায়। কম না, বেশিও না। ঠিক যেমন ভালো থাকার জন্য খাওয়া, ঘুম, কাজ ও কায়িক শ্রম প্রতিটা জিনিসের পরিমিতি মেনে চলতে হয়। কম না, আবার একটু বেশিও না। মেঘগুলোকে এমন সময় দেখে মনে হতে থাকে প্লাস্টিকের তৈরি। প্রাণহীন থমকে থেমে আছে। যেন নড়বে কিনা ভাবছে। দ্বিধাগ্রস্ত। 
প্রাণের সাড়া আছে কেবল ইশকুলের মাঠে, যেখানে পড়ন্ত বিকেলের শেষ আলোয় সকার প্রাকটিস করছে চার থেকে চৌদ্দ বছরের শিশুরা। এছাড়া আরো খানিকটা প্রাণের সাড়া আছে অনেক দূর থেকে ভেসে আসা এম্বুলেন্সের শব্দে। কোথাও কেউ হয়তো ভালো নেই, থাকবে না আর।
ভালো থাকা বলতে যদি শরীর আর মন—এই দুয়েরই ভালো থাকা বোঝায়, তবে বিষয়টা ভীষণ চাপের। সময় মত ঘুমোতে হয়, সময় মত খেতে হয়, শরীরটাকে খাটাতে হয়, আবার পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হয়, নিয়ম করে ঠিক সময়ে বলতে হয় ভালোবাসার কথা। তাই সন্ধ্যে হলে মনে হতে থাকে ভালো থাকা আসলে একটা খাঁচায় আটকে থাকা। কারণ সন্ধ্যে এসে মনে করায় সকাল আবারও আসবে। সাথে সাথে জেঁকে ধরে আরেকটা অবিকল একই রকম দিনের ভয়। কাজে ক্লান্তি আসে না। ক্লান্তি আসে সেই অমোঘ পুনরাবৃত্তির কথা মনে এলে। ফুরিয়ে যাওয়ার আগে একই রকম কিছু সংখ্যক সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা। 
একারণে ভালো থাকা অবস্থায় কান পাতলে ভেসে আসে ভোঁতা একটা গোঙানির শব্দ। যার উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না। মনে হ’তে থাকে গহীন কোন কুয়ার তলদেশ থেকে আসছে সেই আওয়াজ। সেই আওয়াজকে হঠাৎ নিজের বলে চিনতে পারলে বুঝতে পারি শেষবার যখন চলে যেতে যেতে স্মিত হেসে বলেছিলে, ‘ভালো থেকো’, সেটা শুভকামনা নয়, অভিশাপই ছিল।

 

পোর্টাল

এই মুহূর্তে আমি আসলে জানি না। এই বাক্য অসম্পূর্ণ। কী জানি না সেটা না বলার কারণে। এই মুহূর্তে আমি আসলে জানি না পরের মুহূর্তে কী হতে যাচ্ছে। হ্যাঁ, আমি জানি আমি কী করতে যাচ্ছি কিন্তু ফলাফল জানা নেই। মনে হ’তে পারে এটা খুব সাধারণ একটা সত্য। অথচ প্রতিদিনের জীবনে এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলোর ব্যাপারে আমরা বলতে পারি কী করলে কী হয়। যেমন উঁচু জায়গা থেকে পড়ে গেলে আপনি ব্যথা পাবেন কিংবা কল ছাড়লে পানি পড়বে। হ্যাঁ, স্বীকার করছি মাঝে মাঝে কলে পানি নাও আসতে পারে। হয়তো ট্যাংকির পানি শেষ। যাই হোক। মোট কথা আমাদের প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতা থেকে এগুলো আমরা মোটামুটি জানি। 
ওহ, যে কারণে এই কথাগুলো বলছিলাম সেটাই তো মনে হচ্ছে ভুলে গেছি। এখন যত মনে করতে চাইব ততই সেটা আর মনে পড়বে না। আচ্ছা দেখি ছোট ছোট সূত্র থেকে স্মরণ করতে পারি কিনা। এই মুহূর্তে আমি দাঁড়িয়ে আছি একটা বন্ধ দরজার সামনে। হ্যাঁ, আমি নিজের বাড়িরই একটা ঘরে দাঁড়িয়ে আছি। দরজার সামনে। দরজা বন্ধ। এই ঘরটা আমার অফিস। মানে এখানে বসে আমি অফিসের কাজ করি। রিমোট ওয়ার্ক। দরজা বন্ধ থাকে। কোন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হ’তে হলে দরজা খুলতে হয়। আর এই দরজা খোলার আগেই প্রতিবার আমি বুঝতে পারি এই মুহূর্তে আমি জানি না পরের মুহূর্তে কী হবে। 
না, দরজা খুলে আমি এখন পর্যন্ত দেখিনি যে আমি অন্য বাস্তবতায় চলে এসেছি। অনেকদিন আগে এমন একটা গল্প পড়েছিলাম যেখানে এক লোক লিফটে করে অনেক উঁচুতলায় ওঠে। লিফটের দরজা খুলতেই দেখে অন্য কোন সময়ে বা জগতে চলে এসেছে। এরকম কিছু হয় না আমার সাথে। প্রায়ই যেটা হয় তা হলো দরজাটা লক করা না থাকলেও খুলতে চায় না। প্রতিবারই যেটা হয় কাজের ফাঁকে কোন না কোন জরুরি দরকারে উঠি। হয় প্রচণ্ড খিদে নিয়ে নয়ত প্রকৃতির জরুরি ডাকে সাড়া দিতে। দরজাটার নড়বড়ে নব তখন এই কোয়ান্টাম খেলাধুলা শুরু করে। ক্লক ওয়াইজ এন্টি-ক্লকওয়াইজ কোনদিকে ঘুরিয়েই কোন সুরাহা হয় না। ততক্ষণে মেজাজ সপ্তমে উঠে যায়। আরো জোরে জোরে ঘুরাই। খুলে না। প্যানিক এটাকের মত হয়। ভয় হ’তে থাকে যদি আর কোনদিন না খোলে? 
পরক্ষণেই নিজেকে আশ্বস্ত করি তেমন পরিস্থিতি হলে দরজা ভেঙে ফেলব। এমনিতে অবশ্য আমার শরীরে শক্তি কম। ছোটবেলা থেকে রাগও বেশি। মা সবসময় বলত দুর্বল মানুষের রাগ বেশি হয়। নিজের রাগ নিয়ে আমি নিজেই ভয়ে থাকি। ভয়টা হলো নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর। সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হয় আমার স্ত্রীর সাথে। দু’জনের রাগ মাঝে মাঝে যখন তুমুল আকার ধারণ করে অনেক কষ্টে নিজেদের সামলাই। 
এরকম অবস্থায় সাধারণত মাথা ঠাণ্ডা করার জন্য ব্রিদিং এক্সারসাইজ করি। নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ি। কখনো কখনো একটু শান্ত হয়ে চেষ্টা করলে দরজা খুলে যায়। কখনো কখনো হাল ছেড়ে দিয়ে আবার কাজের টেবিলে ফিরে এসে বসি। কাজে মনোনিবেশ করার চেষ্টা করি। মনে হতে থাকে দরজার লকে কোন অশরীরী যেন ভর করে আছে। খেলছে আমার সাথে। দাড়িয়াবান্ধা খেলা। 
বাসায় যদি ভূত প্রেত কিছু থাকে অবাক হবো না। দিনের বেশির ভাগ সময় বাড়িতে একাই থাকি। আমার স্ত্রী কাজে যায়। ছেলে ইশকুলে। প্রায়ই দরজার ওপাশে নানা রকম শব্দ পাই। মাঝে মাঝে আওয়াজ পাই কেউ শিস দিচ্ছে। দিনের বেলা বলে ভয় পাই না। কে জানে আছে হয়তো ‘ওরা’। হয়তো আমি বের হ’তে চাইলে ওরা লুকাতে চায় আর যতক্ষণ লুকাতে না পারে দরজা আটকে রাখে। 
আচ্ছা এই মুহূর্তে যখন নব ঘোরাবো খুলবে নাকি খুলবে না? বাজি ধরব? কার সাথে? নিজের সাথেই? আচ্ছা প্রথম চেষ্টায় কি খুলবে? বরাবরের মত ধস্তাধস্তি না করে প্রথমেই যদি শান্তভাবে চেষ্টা করি? সাধারণত শান্ত মনে যখন চেষ্টা করি কিভাবে যেন খুলে যায়। 
একটা বড়সড় নিঃশ্বাস নিয়ে হাত বাড়ালাম। ব্রিদিং এক্সারসাইজ যেভাবে শিখেছি আর কি। স্ট্রেস বা অস্থিরতায় বেশ কাজে দ্যায়। ৪-৭-৮ পদ্ধতিতে শ্বাস নিলাম। নাক দিয়ে ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিতে হয়। তারপর ৭ সেকেন্ড শ্বাস আটকে রেখে মুখ দিয়ে ৮ সেকেন্ড ধরে ধীরে ছাড়তে হয়। পুরোটা ৩-৬ বার। 
শরীরে ভালোভাবে অক্সিজেন যাওয়ায় সম্ভবত যেন সবকিছু পরিষ্কার লাগতে শুরু করল, এমনকি দরজার নবটাও। শীতল ধাতব নব স্পর্শ করা মাত্র মনে হলো আমার ইন্দ্রিয়গুলো সতেজ হয়ে উঠেছে। ইউটিউবের ইয়োগা গুরুকে ধন্যবাদ জানাই মনে মনে। একধরনের কৃতজ্ঞতাবোধ যেন ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। একে কি প্রশান্তি বলে? দরজার হাতল ডানদিকে ঘুরাতে শুরু আমার হাতের কবজি। 
কোথাও কোন দোকানে বা রেস্টুরেন্টে গেলে গেলে আগে পুল নাকি পুশ লেখা দেখে নেওয়ার একটা অভ্যাস আছে আমার। ভুল হ’লে খুব বিব্রত লাগে। দরজাটা নিজের দিকে টেনে খুলতে গিয়ে একবার মনে হলো পুল নাকি পুশ। নিজের ঘরের দরজা নিয়ে এমন বিভ্রান্ত হচ্ছি কেন কে জানে। 
হ্যাঁ নড়ে উঠছে দরজা। খুলছে। আচ্ছা ওপাশে আসলেই আছে তো নিজের ঘর? সবকিছু একই রকম কি আছে? সময়ের কোন পকেট নয় তো আমার এই অফিস? যেখানে সময় থেমে থাকে আর বাইরে আপন গতিতে এগিয়ে গেছে সাল তারিখ? না ওই তো করিডোরের দেয়াল বড় হচ্ছে আস্তে আস্তে দরজার ফাঁক দিয়ে। পুরোপুরি দরজা খোলার আগেই টের পেলাম কেউ দাঁড়িয়ে আছে ওপাশে। আমার স্ত্রী। কোমরে দু’হাত। তাকিয়ে আছে।
“দরজার নষ্ট নবটা ঠিক করে দিয়েছি। গত দুই মাস ধরে বলে বলে তোমাকে দিয়ে ঠিক করানো যায়নি। কোনদিন যদি দায়িত্ব নিয়ে একটা কাজ কর…”
নাহ, দরজার ওপাশের পৃথিবী একটুও বদলায়নি। ফিরে তাকালাম অফিস ঘরের দিকে। সেটাও একইরকম আছে।

 

ডিভাইস

সম্ভবত মোবাইলে গেমস খেলতে গিয়ে আমার ছেলে প্রথম যন্ত্রটার এড দেখতে পায়। এমনিতে খুব সাবধানি ছেলে ও। গেমস খেলার সময় উল্টোপালটা এডে ক্লিক করে না। কিন্তু কিছু একটা ওর নজর কেড়েছিল নিশ্চয়ই। তাই ক্লিক না করে পারেনি। জন্মদিনের উপহার হিসেবে চেয়ে বসলো জিনিসটা। তাও একটা নয় দুইটা। একটা নাকি নিজে ব্যবহার করবে আর আরেকটা দেবে ওর বন্ধু আরিয়াকে।
এমনিতে দাম যে অনেক বেশি তা নয়। কিনে দেওয়াই যায়। দুইটা কিনতে হবে কেন জিজ্ঞেস করলে বললো, যন্ত্রটার আউটপুট নিয়ে তাহলে বন্ধুর সাথে পরীক্ষানিরীক্ষা করা যাবে। সাথে সাথে কথাও দিলো যন্ত্রটা পেলে অনলাইনে গেমস খেলা কমিয়ে দেবে। 
যাই হোক, ওয়েবসাইটে গেলাম। পুরো ওয়েবপেজ জুড়ে বর্ণনা কীভাবে বিজ্ঞানীরা এই যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছে। গবেষণায় নাকি দেখা গেছে, জড় পদার্থ নিষ্প্রাণ কারণ তারা সারাক্ষণ স্বপ্ন দেখে। পদার্থের আশেপাশে একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গকে ধরতে পারলে সেই স্বপ্ন নাকি দেখা সম্ভব মানুষের পক্ষেও। এই যন্ত্র সেই কাজটিই করে। টার্গেট অবজেক্টের সাথে স্পর্শ করিয়ে রাখলে যন্ত্র এই তরঙ্গকে ধরে কিছু প্রসেসিং করে ভিজুয়াল রূপ দিয়ে স্ক্রিনে দেখায়। কিছু ডেমো ভিডিওর লিঙ্ক আছে দেখলাম। আরেকটা লিঙ্ক ফলো করে দেখি ইউটিউবে লোকে প্রচুর ভিডিও আপলোড করেছে—নানারকম জিনিসের সংস্পর্শে যন্ত্রটি রাখার ফলে কী দেখা গেছে। 
বেশ মজাই লাগলো। হয়তো গোপন কোন ক্যামেরা বা অবজেক্ট ডিটেকশন মেকানিজম আছে যেটা জিনিসটাকে ডিটেক্ট করে সেই জিনিসের উপরে একটা র‍্যান্ডোম ভিডিও জেনারেট করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এমন কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করে। মজার খেলনা। 
অর্ডারের দু’দিনের মাঝে পৌঁছে গেলো প্যাকেজ। দুটো যন্ত্র। ছেলে বেশ খুশি। এই খুশি বেশ ছোঁয়াচে। আমরা সবাই মিলে যন্ত্র দুটো আনবক্স করলাম। ছেলে একটা আনবক্সিং ভিডিও বানিয়ে ফেললো।
নানান পরীক্ষা করলাম। বুঝলাম—আমাদের টিভিটা স্বপ্ন দেখে যেন সবসময় ওটাতে পশুপাখির ডকুমেন্টারি দেখা হয়, ডাইনিং টেবিলটা কাঠে পরিণত হওয়ার আগে শৈশবে গাছের অংশ হয়ে থাকার স্মৃতিতে ফিরে যায়, কিচেন নাইফটা সবচেয়ে অপছন্দ করে পেঁয়াজ কাটতে—এরকম আরো অনেক কিছু।
ছেলেটা সারাদিন কাটালো ওটা নিয়ে। আরিয়াকে ফোন করে ডেকে আনলো বাড়িতে। ওর বাবাই নামিয়ে দিয়ে গেলেন। দু’জনে খেললো সারা বিকেল। কৌতূহল নিয়েই দেখছিলাম দুজনের খেলা। হঠাৎ আবিষ্কার করলাম তারা কিছু এক্সপেরিমেন্ট করবে বলে ঠিক করেছে। আরিয়া আইডিয়া দিলো: যন্ত্র দুইটা অন করে একটা আরেকটার সাথে লাগিয়ে দিয়ে রাখলে কী হয় দেখা দরকার। খুব কৌতূহলমাখা আনন্দ নিয়ে ওদের খেলা দেখছিলাম। খেলতে খেলতে হঠাৎ ছেলেটা প্রশ্ন করে। “বাবা, মানুষের গায়ে লাগালে এটা কিছু দেখায় না কেন? মানুষ কি স্বপ্ন দেখে না?”
প্রশ্নটা ধাক্কা দিল আমাকে। ঘুম থেকে উঠে শেষ কবেকার স্বপ্ন স্মরণ করতে পেরেছি সেটা মনে পড়লো না। ভাবলাম ওর মাকে জিজ্ঞেস করি। কে জানে সবারই একই অবস্থা কিনা!