বুকারজয়ী ঔপন্যাসিক জেনি অ্যারপেনব্যাকের সাক্ষাৎকার
|| ভূমিকার বদলে ||
‘কায়রোস’ ২০২৪ সালের আর্ন্তজাতিক বুকার পুরস্কার জয়ী উপন্যাস। একটি বিনষ্ট সম্পর্কের দুটি মানুষের আবেগঘন ও বিষাদে বিধ্বস্ত এক প্রেমের গল্প। ইউরোপীয় ইতিহাসের ভূকম্পমানীয় পটভূমিতে এর মূল প্রোথিত। জেনি অ্যারপেনব্যাক রচিত উপন্যাসটি জার্মান থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন মাইকেল হফম্যান।
১৯৮৬ সালের ১১ জুলাই, বার্লিন। ক্যাথরিনা ও হ্যানসের আকস্মিকভাবে পূর্ব-জার্মানের এক বাসের ভিতর দেখা হয়ে যায়। মেয়েটি অল্পবয়সী ছাত্রী আর পুরুষটি মধ্যবয়স্ক, বিবাহিত ও লেখক। তাদের মধ্যে হঠাৎ একটা সুতীব্র আকর্ষণ গড়ে উঠে। দুজনেই সমানুপাতিকভাবে সঙ্গীত ও শিল্পের অনুরাগী। দুজনেই এই সর্ম্পকের গোপনীয়তা সুনিপুণভাবেই বজায় রেখেছে। পর্যায়ক্রমে তাদের সর্ম্পকে ভয়ানক এক ফাটল দেখা যায়। পরস্পরের প্রতি নির্দয়তা, শাস্তি এবং ক্ষমতা প্রয়োগের দরজা খুলে যায়। চেনা পৃথিবী মুহূর্তে বদলে যায়। জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। সাথে হাজার বছরের পুরানো নিশ্চয়তা ও বিশ্বস্ততার নিয়ামাবলী মুছে যেতে থাকে। নবযুগের আগমনের সাথে সাথে অতীত হারাতে থাকে পরতে পরতে। টাইমস লিটারারি সাপ্লিসেন্টের মতে, জেনি অ্যারপেনব্যাকের কায়রোস উপন্যাসে ইতিহাসের দায়ভার, পূর্ব ও পশ্চিমের নিজস্ব অভিজ্ঞতা এবং সাংস্কৃতিক ও নৈর্ব্যক্তিক স্মৃতি কিভাবে একজন ব্যক্তির পরিচয়কে নির্ধারণ করে তাই উঠে এসেছে। তিনি সবসময় লিখে এসেছেন যে—সব ব্যক্তি সবসময় মন্দ নয়। সব রাষ্ট্র সবসময় নষ্ট নয়। তিনি রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রমতাদর্শের মাঝে অস্তিত্বের যে সংকট ও সংশয় কাজ করে তারই চিত্র এঁকেছেন।
|| জেনি এরপেনব্যাক ||
জেনি অ্যারপেনব্যাক ১৯৬৭ সালে পূর্ব-জার্মানিতে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মহাকাব্যিকধারার কথাসাহিত্যিক। মতান্তরে সমকালীন জার্মান সাহিত্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাহিত্যস্বর। তাঁর উপন্যাস ‘দ্যা এন্ড অব ডেইস’ স্বনামধন্য হ্যানস ফালাদা পুরষ্কার ও আন্তর্জাতিক ফরেন ফিকশন প্রাইজ লাভ করে। এই উপন্যাসটি আমেরিকান নোবেল বলে পরিচিত নিউস্টাড আর্ন্তজাতিক কথাসাহিত্য পুরষ্কারে প্রতিনিধিত্বশীল গ্রন্থ হিসাবে মনোনীত হয়। তাঁর সর্বাধিক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘গো, ওয়েন্ট, গন’ ২০১৮ সালে আর্ন্তজাতিক বুকার পুরষ্কারের জন্য চূড়ান্ত তালিকায় মনোনীত হয়। নিউ ইয়র্কারের সাহিত্য সমালোচক জেমস উড বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ‘জেনি অ্যারপেনব্যাক যদি কখনো সাহিত্যে নোবেল জয় লাভ করেন তখন এই উপন্যাসটি সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক উচ্চারিত হবে।’ তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস ‘কায়রোস’ ২০২৩ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড ফর ট্রান্সলেটেড লিটারেচারের জন্য দীর্ঘ তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে ‘কায়রোস’ উপন্যাসের জন্য তিনি আর্ন্তজাতিক বুকার পুরস্কার লাভ করেন। জন পাওয়ার্স কায়রোস-্এর প্রশংসা করে বলেন, ‘অ্যারপেনব্যাক আগামী পাচঁ বছরের মধ্যে সাহিত্যে নোবেল পেতে যাচ্ছেন।’
|| সম্পাদকীয় নোট ||
জেনি অ্যারপেনব্যাকের সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশন প্রতিধ্বনি পত্রিকাকে সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদ ও প্রকাশের কপিরাইট প্রদান করেছে। আমরা বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশান ও জেনি অ্যারপেনব্যাকের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। প্রতিধ্বনির জন্য এটি অনুবাদ করেছেন লেখক ও সমালোচক পলাশ মাহমুদ।
বুকারজয়ী ঔপন্যাসিক জেনি অ্যারপেনব্যাকের সাক্ষাৎকার
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক বুকার ২০২৪ সালের দীর্ঘতালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়ে আপনার অনুভূতি কেমন? বুকার বিজয়ী হওয়াটা আপনার জীবনে কি কোন বিশেষ অর্থ যোগ করে? জার্মান সাহিত্যে বুকার বিজয় কি কোন প্রভাব ফেলতে পারবে?
জেনি অ্যারপেনব্যাক: বুকারে মনোনীত হওয়ায় খুব সম্মানিত বোধ করছি। কোন পুরস্কারে লেখক ও তার অনুবাদককে একই সাথে মনোনীত করে সমান মূল্যায়ন করা খুবই অসাধারণ ব্যাপার। আমার মা নিজেও একজন অনুবাদক ছিলেন। উনি আরবি ভাষা থেকে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করতেন। তাই আমি খুব ভালো করেই জানি, অনুবাদকর্ম কতটা জটিল একটা কাজ। অনুবাদকদের কাজের যথার্থ মূল্যায়ন খুব কমই দেখা যায়। যদি আমি এই পুরষ্কারটি পাই তাহলে আমার অনুবাদক, প্রকাশক, বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সাথে উদ্যাপন করবো। আমি জানি, এই গৌরবময় অর্জন ইংরেজি প্রকাশকদের জার্মান লেখা বই ইংরেজিতে অনুবাদ করে প্রকাশ করতে আরো উৎসাহ যোগাবে।
প্রশ্ন: এই উপন্যাসটি লেখার পিছনে আপনার প্রেরণার গল্পটি বলবেন কি? মানে ঠিক কি কারণে আপনি এই বিশেষ গল্পটি বলতে চেয়েছেন?
জেনি অ্যারপেনব্যাক: কায়রোস একটি অসাধারণ প্রেম ও তার করুণ সমাপ্তির একান্ত গল্প। একই সাথে এটি একটি দেশের সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতনের গল্প। একবার ভেবে দেখো, কোনোকিছু প্রথমে যা ঠিক বলে মনে হয়, পরে তা কী করে ভুল বলে প্রমাণিত হয়? এই ভালো থেকে মন্দের দিকে পরিগমন আমার কাছে খুব আশ্চর্য লাগে। এই পরিগমনে ভাষার অনেক কারসাজি আছে। যেহেতু ভাষা আমাদের ভেতরের অনুভূতি ও কল্পনা প্রকাশের মাধ্যম, আবার এই ভাষার মাধ্যমেই আমরা তাদের গোপন করি বা ধোঁকা দেই। ভাষা আমাদের ভেতরটা প্রকাশ করে, অন্যের মিথ্যা বোঝাতে পারে। আমাদের ভেতরটা ফাঁকা মাঠ বানিয়ে রাখতে পারে। তুমি যদি নীরবতার বদলে আমাদের কথোপকথনের দিকে নিবিড় দৃষ্টি দাও। তাহলে অদৃশ্য তরঙ্গকেও দেখতে পাবে। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের ক্ষমতার হাতবদল দেখতে পাবে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অত্যাচার দেখতে পাবে।
প্রশ্ন: উপন্যাসটি লিখতে আপনি কতদিন সময় নিয়েছেন? লেখার প্রক্রিয়াটাই বা কেমন ছিলো? আপনি কি হাতে লিখতে পছন্দ করেন নাকি টাইপ করে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন? আপনি কি অনেকগুলো ড্রাফট করে লিখেন? আপনি কি আগে থেকেই উপন্যাসের কাহিনি ও কাঠামো ঠিক করে ফেলেন?
জেনি অ্যারপেনব্যাক: আমি মূলত কম্পিউটারে লিখি। আমার প্রত্যেকটা বইয়ের ক্ষেত্রে শুরুতেই আমি একই কাহিনি দশ বা বার রকমভাবে লিখি। তারপর খুব অস্থির হয়ে উঠি। একটা সময় আমি মনটাকে স্থির করে যেকোন একটাকে চূড়ান্ত বলে নির্বাচন করি। তারপর আবার অস্থির হয়ে উঠি। যে সব অধ্যায় ইতোমধ্যে লেখা হয়ে গেছে তাদের ক্রমিক নাম্বারগুলো কয়েকটা ছোট ছোট চিরকুটে লিখে রাখি। তারপর চিরকুটগুলো একটা বাটিতে রাখি। আমার ছেলেকে বাটি থেকে চিরকুটগুলো ক্রমানুযায়ী তুলতে বলি। লক্ষ্য করি, ক্রমগুলো আমার মনমতো হচ্ছে কি না? তারপর আমি সূচনাপর্বটা লিখি। কিছুক্ষণের জন্য একটু প্রশান্তি লাগে। আমি যখন উপন্যাসের অর্ধেকটা লিখে শেষ করি তখন খেয়াল করে দেখি যে প্রথমে যেমনটা ভেবে শুরু করেছিলাম, শেষের দিকে এসে তা অনেকটা ভিন্নরকম হয়ে উঠেছে। প্রত্যেকটা উপন্যাসের আলাদা জীবনচক্র আছে। আমি শুধু এই চক্রের সাথে নিজেকে একটু মানিয়ে নেই। এই উপন্যাসের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনধারার সাথে পা মিলিয়ে চলার চেষ্টা ছাড়া আমার আর কিছুই করার থাকে না।
প্রশ্ন: উপন্যাসটির অনুবাদক মাইকেল হফম্যানের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিলো? হফম্যানের সাথে একসাথে ইংরেজি সংস্করণে কাজ করতে কেমন লেগেছে? হফম্যানের সাথে সহযোগী হয়ে কাজ করার সময় এমন কোন চমৎকার মুহূর্ত কি আছে? কিংবা আনন্দময় সময় বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি কি হয়েছেন?
জেনি অ্যারপেনব্যাক: এটাই আমাদের প্রথম যৌথ সাহিত্যকর্ম। এবং আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে এমন একজন অভিজ্ঞ অনুবাদক আমার পাশে পেয়েছি।
একবার ভেবে দেখো, কোনোকিছু প্রথমে যা ঠিক বলে মনে হয়, পরে তা কী করে ভুল বলে প্রমাণিত হয়? এই ভালো থেকে মন্দের দিকে পরিগমন আমার কাছে খুব আশ্চর্য লাগে। এই পরিগমনে ভাষার অনেক কারসাজি আছে। যেহেতু ভাষা আমাদের ভেতরের অনুভূতি ও কল্পনা প্রকাশের মাধ্যম, আবার এই ভাষার মাধ্যমেই আমরা তাদের গোপন করি বা ধোঁকা দেই। ভাষা আমাদের ভেতরটা প্রকাশ করে, অন্যের মিথ্যা বোঝাতে পারে। আমাদের ভেতরটা ফাঁকা মাঠ বানিয়ে রাখতে পারে। তুমি যদি নীরবতার বদলে আমাদের কথোপকথনের দিকে নিবিড় দৃষ্টি দাও। তাহলে অদৃশ্য তরঙ্গকেও দেখতে পাবে। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের ক্ষমতার হাতবদল দেখতে পাবে।
প্রশ্ন: আপনার পাঠ অভ্যাস সম্পর্কে আমাদের একটু বলুন। আপনি বর্তমানে কোন বই পড়ছেন এবং কেন?
জেনি অ্যারপেনব্যাক: আমি এখন যে বইগুলো পড়ছি তা শুধুই আনন্দের জন্য পড়ছি। অন্য সবার মতোই আমিও সকালে বিছানা থেকে ওঠার আগেই একটু পড়ি। তারপর সকালে নাস্তা খাওয়ার পর বা দুপুরে খাবারের পরও একটু পড়ি। প্রায়ই ট্রেনে যাওয়ার সময়ও পড়ি। আমি গাড়ি চালাতে চালাতে বইয়ের অডিও শুনে থাকি। যদি খুব ক্লান্ত না হয়ে পড়ি তাহলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও পড়ি। দিনের বেলা আমি ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ি। তবে তার বেশির ভাগই নিজের লেখালেখির জন্য পড়া হয়। যেমন এখন আমি ক্রিস্টাইন লাইয়ের ‘ল্যান্ডস্কেপ’ পড়ছি। সম্প্রতি লাইয়ের সাথে আমি একটা সাহিত্য উৎসবে পরিচিত হয়েছি এবং মনে রাখার মতো আলাপ হয়েছে। সহিংসতা, বিনাশ ও স্মৃতি নিয়ে তিনি খুব ভালো লিখতে পারেন।
প্রশ্ন: আপনার পাঠক হওয়ার পথে জার্নিটা কেমন ছিল? শৈশবে আপনি কি ধরনের বই পড়তেন? গল্প-কাহানি আপনার তরুন বয়সের মনে কেমন প্রভাব ফেলেছে? এমন কোন একক বই আছে যা আপনার কল্পনার রাজ্যকে শাণিত করেছে?
জেনি অ্যারপেনব্যাক: ছোট বেলায় আমি খুব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম কখন আমি বই পড়ার জন্য একটু একা হতে পারবো। মা-বাবা আমাকে অনেক অনেক গল্প পড়ে শোনাতো আর সেগুলো শুনে শুনে আমার এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। যখন থেকে আমি বইয়ের পাতায় কালিতে লেখা অক্ষরগুলো চিনতে শিখেছি। তখন থেকেই সবাই আমাকে কোলের উপর বই হাতে ঘরের এক কোণে বসে আছি দেখতে পেতো। প্রথমে আমি শিশুদের জন্য উপযোগী সব চিরায়ত সাহিত্য পড়েছি। পরের দিকে আমি সব ধরনের বই পড়া শুরু করি। শুধুমাত্র তরুন বয়সে না বরং সারাটাজীবন আমি ‘গ্রিমের ফেইরি টেইলস’-এর জাদু-কল্পজগতের ভিতর কঠিন বাস্তবতার আঘাতে প্রভাবিত হয়েছি। এই গল্পগুলো এখনো আমার কাছে অমীমাংসিত প্রহেলিকার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: ইংরেজিভাষার পাঠকদের জন্য জার্মান ভাষার কোন গ্রন্থটি পড়ার পরামর্শ দিবেন? এই বইটি আপনার উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলেছে?
জেনি অ্যারপেনব্যাক: মার্লেন হাউশেফারের ‘দ্যা ওয়াল’। কল্পনাতীত ধ্বংসের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার ওপর এটাই আমার কাছে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
প্রশ্ন: আর্ন্তজাতিক বুকার পুরস্কৃত হওয়া বা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত কোন উপন্যাসটি আপনার কাছে প্রিয়? যদি থাকে তাহলে ঠিক কেন প্রিয় বলবেন কি?
জেনি অ্যারপেনব্যাক: ২০০৫ সালে মিশরীয় লেখক নাগিব মাহফুজ আর্ন্তজাতিক বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। তার রচনা সমগ্র আমার মা জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেছেন। নাগিব মাহফুজের কায়রো শহরটি সবসময় আমাদের পূর্ব-জার্মানে বিরাজমান ছিল। ১৯৮৮ সালে তিনি যখন নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন তখন আমরা এই পুরস্কার প্রাপ্তিকে নিজেদের জয় বলে উদ্যাপন করেছিলাম। জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আমাকে খুব গভীরভাবে বিমোহিত করেছিলো।
প্রশ্ন: সর্বব্যাপি ও বৈচিত্র্যময় সাহিত্যিকধারাকে বিশ্বপাঠককুলের কাছে নিতে কথাসাহিত্যের অনুবাদ কি রকম অবদান রাখতে পারে বলে মনে করেন? আরো বেশি পাঠক অনূদিত গ্রন্থ পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে আমরা কিভাবে প্রেরণা দিতে পারি।
জেনি অ্যারপেনব্যাক: অগণিত গুরত্বপূর্ণ ও বিখ্যাত ইংরেজি ভাষার লেখক ইংরেজি পাঠকুলের স্বভাব নষ্ট করে দিয়েছে। দুনিয়াতে অনেক দেশের লেখক আছে যারা জীবন দরদী গল্প বলতে চায়। এখনো অনেক ধরনের শৈল্পিক স্বাধীনতা আবিষ্কার করা বাকি আছে, যেমন: গল্প বলার ধরন, আশ্চর্যজনক পটভূমি, রূপচিত্র ও উপমা। বেঁচে থাকার আরো অনেক ধরন আছে যা এখনো অনাবিস্কৃত। তাদের শুধু আবিষ্কার করলেই চলবে না, বরং সাহিত্যে পাঠের মাধ্যমে জীবনকে আগাগোড়া খুঁড়ে দেখতে হবে। যেহেতু আমরা মানুষ ও একই গ্রহে বাস করি, সেহেতু ওই সমস্ত ভিন্ন জগত ও বাস্তবতাকে ভিন্নভাবে আস্বাদন করতে হবে যা পাতার পর পাতার পড়ার মাধ্যমে আমাদের খুব চেনা হয়ে উঠবে।
কপিরাইট © বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশন
বাংলা কপিরাইট © প্রতিধ্বনি



চমৎকার
[email protected]
অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ০৫:১০