‘নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা’র আলোচিত সংকলন

অ+ অ-

 

একুশের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে নানাভাষার নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা। কবি ও সমালোচক পলাশ মাহমুদের অনূদিত বইটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনীপ্রতিধ্বনি প্রকাশন। সম্প্রতি নোবেল প্রাইজ ফাউন্ডেশান শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা প্রতিধ্বনিকে বেশকিছু নোবেল বক্তৃতার বাংলা কপিরাইট প্রদান করে। সেটার বাছাইকৃত বক্তৃতার সংকলন নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা। বইয়ে সূচিবদ্ধ হয়েছে পাবলো নেরুদার সেই অপূর্ব শহরের দিকে, শেমাস হীনির কবিতার কৃতিত্বে..., গুন্টার গ্রাসের চলতে থাকবে..., হ্যারল্ড পিন্টারের শিল্প, সত্য ও রাজনীতি, স্ভেতলানা আলেক্সিয়েভিচের পরাজিত যুদ্ধের প্রান্তর থেকে, ওলগা তোকারচুকের একজন দরদি গল্পকার, লুইস গ্লুকের যখন ছোট ছিলাম, অ্যানি এর্নোর কোথা থেকে শুরু করব?, ইয়োন ফসের একটি নীরব ভাষা এবং হান কাংয়ের আলো ও সোনালি সুতো। শিল্পী রাজীব দত্তের প্রচ্ছদ ও অলংকরণে সুন্দর সংকলনটির মূল্য রাখা হয়েছে ৭০০ টাকা।

নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা বইয়ে অনুবাদক পলাশ মাহমুদ সৃষ্টি সুখের পরাগায়ন শিরোনামে দীর্ঘ ভূমিকা লিখেছেন। লেখাটি অনুবাদকের অনন্য অভিজ্ঞতার কথন। তিনি লিখেছেন, সাহিত্যের ভিন্নতা হলো, সাহিত্য অন্য সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখে। সাহিত্যের বৈচিত্র্য হলো, এটা আবহমানকাল ধরে টিকে থাকার সম্ভাবনাময়। সাহিত্য জগৎ ও জীবনকে সর্বজনীন রূপে প্রকাশ করতে পারে। সাহিত্যের অসামান্যতা হলো, সাহিত্য মানুষের অজান্তে মানুষকে মানুষ হয়ে উঠতে প্রলুব্ধ করে। জগতের মোটামুটি একটা অর্থ দাঁড় করায়। সাহিত্য যেমন লেখককে সৃষ্টি সুখের প্রশান্তিতে প্রবাহিত করে, তেমনি পাঠককে করে বিমোহিত। যাপিত জীবনকে ক্ষণিকের জন্য আনন্দময় করতে সাহিত্যের আবশ্যিকতা আছে বৈকি। সাহিত্যের এমন স্বতন্ত্রতা ও বিশেষত্বের জন্য সাহিত্য তো নোবেলের মতো কদর পেতেই পারে।’ ‘একটি বইয়ের প্রার্থনা শিরোনামে ভূমিকা লিখেছেন প্রতিধ্বনির সম্পাদক ও কবি সাখাওয়াত টিপু।

যতই মতান্তর থাকুক না কেন, অপর ভাষা ও সাহিত্যের পরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে অনুবাদ। অনুবাদ যেমন বিশ্বসাহিত্যে প্রবেশের প্রধান উপায়, ঠিক তেমনি অনুবাদের মাধ্যমে অপর ভাষার সাহিত্যের সঙ্গে আপন ভাষার তুলনামূলক চেহারা দেখতে পাওয়া যায়। অনুবাদ মূলত ভাবের ভাবান্তর, অর্থের অর্থান্তর, ভাষার রূপান্তর আর সৌন্দর্যের পরাগায়ন ঘটায়। এটি নিছক এক ভাষা থেকে অপর ভাষার বদল নয়, সাহিত্যের সৃষ্টিশীল চিন্তার দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রসার করে। সাহিত্য চিন্তার এই প্রতিফলন ভাষার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। এক ভাষা থেকে অপর ভাষার অনুবাদ তুলনামূলকভাবে সাহিত্যের বিশ্ব দুয়ার খুলে দেয়। প্রতিধ্বনি একাধিক নোবেল বক্তৃতার বাংলা কপিরাইট পেলেও নানা বিবেচনায় দশটি বক্তৃতা গ্রন্থভুক্ত করেছে। যাতে নানা মহাদেশ, নানা ভাষা, নানা চিন্তা, নানা প্রবণতার সাহিত্য আর শৈল্পিক চিন্তার রূপকে আস্বাদন করা যায়। নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা বইটি পাঠকের সেই সাহিত্যের শিল্পরস আস্বাদনের খোরাক যোগাবে। বইমেলায় সংকলনটি বিপুল সাড়া জাগিয়েছে।

নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা অনলাইনে কিনতে ক্লিক করুন প্রথমা ডট কম ► বাতিঘর ► রকমারি