এমরান হোসেনের একক চিত্র প্রদর্শনী ‘বাঘের অন্ধ চোখে দেখা’

অ+ অ-

 

শিল্পীকথা || এমরান হোসেন

এমরান হোসেন একজন বাংলাদেশী দৃশ্যশিল্পী যিনি ১৯৯০ সালের ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ছাপচিত্র বিভাগে স্নাতকোত্তর (২০১৩) সম্পন্ন করেন। শিল্পী এমরান ড্রয়িং, উডকাট, লিথোগ্রাফ, মনোপ্রিন্ট, ড্রাই-পয়েন্ট এবং ইনস্টলেশনসহ নানা মাধ্যমে কাজ করে থাকেন। তিনি রিসাইকেলড প্যাকেট ও উপকরণ ব্যবহার করে ড্রয়িং নির্মাণে আগ্রহী, যা তার কাজে পরিবেশ সচেতনতার এক বিশেষ মাত্রা যুক্ত করে। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে শিল্প প্রদর্শনী আয়োজন ও কিউরেটিংয়ের কাজ করেছেন। তিনি স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রায় ১৩টি যৌথ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। তার শিল্পকর্ম ২০১৭ সালে চীনের প্রিন্ট মেকিং মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ গোয়ালান ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্ট বিয়েনালে প্রদর্শিত হয়। বর্তমানে তিনি ফেনী প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) চারু ও কারুকলা বিষয়ের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত।

 

শিল্পকথা || বাঘের অন্ধ চোখে দেখা

একটি অন্ধ বাঘ যখন দেখে, সে দেখে ছায়া, সন্ত্রাস আর গভীর নিস্তব্ধতা। আমার রেখাগুলো যেন সেই বাঘের চোখ হয়ে উঠেছে—যেখানে আলো নেই, তবুও দৃশ্যের অভাব আমার এই ড্রয়িংগুলো একটি অন্তর্জগৎকে তুলে ধরার চেষ্টা, যেখানে মানুষের অভিজ্ঞতা, যন্ত্রণাবোধ, ভয়, স্বপ্ন এবং স্মৃতিরা একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে এক নতুন বাস্তবতা নির্মাণ করে। এখানে বাস্তবতার নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই; বরং রেখা, দাগ ও বিমূর্ত আকৃতির মধ্য দিয়ে সেইসব অবচেতন অভিব্যক্তি উঠে আসে যা ভাষায় বলা যায় না। এটি যেন জীবনের জৈব ও মানসিক উপাদানগুলোর একটি সম্মিলিত রূপ, যেখানে মানুষ প্রকৃতির অংশ এবং একই সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের শিকার। বিশৃঙ্খল, সেখানে ভয়াবহ মুখাবয়ব, অঙ্গচ্ছিন্নতা এবং ছায়াসম শরীরগুলো আমাদের অজানা এক শঙ্কা ও মানসিক চাপের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই রেখাচিত্র কোনো বাহ্য জগতের অনুবাদ নয়—এ এক মানসপট। এখানে বাস্তবতা নয়, বরং অনুভূতির টানাপোড়েন, আতঙ্ক, আকাঙ্ক্ষা আর অদ্ভুত রূপান্তর। আমার ড্রয়িংগুলোতে যে কাঠামো নেই, সে কাঠামোর মধ্যেই লুকানো আছে জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অনিশ্চয়তা। যেমন একটি বাঘ তার চর্মচক্ষে না দেখেও শিকার টের পায়, তেমনি আমার কলম অনুভব করে যে বাস্তব, তা চেনা দৃশ্যের বাইরে। যেখানে মানুষ ছায়া হয়ে যায়, আর ছায়া ফিরে তাকায় মানুষের চোখে। এই চিত্রমালা একধরনের নিঃশব্দ চিৎকার—যেখানে কোনো ভাষা নেই, কেবল রেখা আছে। প্রতিটি আঁচড় একটি প্রশ্ন—আমি কে? কেন এই বিভ্রান্তি? কোথায় আমার পরিপূর্ণতা?

প্রতিধ্বনি আয়োজন করেছে এমরান হোসেনের একক চিত্র প্রদর্শনী বাঘের অন্ধ চোখে দেখা। এটি চলবে ৫ মে থেকে ১৪ জুন ২০২৫ নাগাদ।

 

ই-প্রদর্শনী || বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || এমরান হোসেন 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || 

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || ১০

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || ১১

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || ১২

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || ১৩

 

 

বাঘের অন্ধ চোখে দেখা || ১৪

 

ছবি © এমরান হোসেন