ক্রীতদাস ও অন্যান্য কবিতা
|| আঁধারের কিছু মুদ্রা ||
একটি-একটি করে সড়কের সবগুলো বাতি নিভে যাচ্ছে
ছুটে আসছে অন্ধকারের কঙ্কালগুলো নাচ দেখানোর জন্য
আমি রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না—কী করে যে ভূতের গলি যাব!
আজ সারারাত আমার ভিক্ষা-করা হবে না, কী খাব তবে?
মাথায় টেনশন নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি সন্ধ্যা থেকে
অপেক্ষা করছি—যদি একটি-দুটি বাতি জ্বলে ওঠে হঠাৎ
হোক-না লাল কিংবা হলুদ রঙের—জ্বললেই হলো
কালোছড়ি হাতে আমি আশায় ভর করে দাঁড়িয়ে রয়েছি
সুযোগ বুঝে কঙ্কালদের সঙ্গে মিশে যাব নাচার জন্য
রাত শেষে আঁধারের কিছু মুদ্রা নিয়ে যদি বাড়ি ফেরা যায়!
|| ক্লাসওয়ার্ক ||
পেন্সিলের প্রান্ত থেকে বেরিয়ে নৌকাটি
চলে গেল বিলে
সরলরেখাটিও ছুটে গেল পিছু-পিছু
লাল-শাদা বিন্দু-ফোটা থইথই বিল
বক্ররেখা নিমজ্জিত গভীর বর্ণহীনে
রাশি-রাশি ফুটন্ত বিন্দুর হাতছানি
আর অথই গভীরে লুকিয়ে-থাকা গুপ্তধনের মোহ—
তা না হলে কি অঙ্কখাতার পৃষ্ঠা থেকে
এভাবে কেউ পালিয়ে আসে
অন্তহীন বিন্দুর হাসি নিয়ে নৌকাটি ফিরছে
সঙ্গে মণিমুক্তোর ঝিলিক
সবাই অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে
ক্লাসওয়ার্ক দেখাতে না-পারা ছেলেটি
ভীষণ মার খেয়েও কেবল হাসছে
|| ক্রীতদাস ||
সারাক্ষণ বুকের ভেতর
একটি খরগোশকে পুষে রাখি
পাতা পড়ার শব্দ শুনে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়
চুকচুক করে দুধ খেয়ে ফেলবে বলে
প্রিয় ভাজা মাছ উল্টে খেয়ে ফেলবে বলে
বাড়ির ইঁদুর মেরে ফেলবে বলে
আমি বিড়াল পুষি না
ঘেউ-ঘেউ করে শত্রুকে তাড়িয়ে দেবে বলে
কুকুর পুষি না
কচি ঘাস-পাতা দিয়ে বুকের গভীরে
আমি একটি খরগোশকে পুষি
|| আমাকে বাজাও ||
তারগুলো ছুড়ে ফেলে দিয়ে
সিনা টান-টান
শুয়ে আছি
আমাকে বাজাও ...
আঙুলের তীক্ষ্ণ ইশারায়
হাঁটুর নিকটে
ফোটাও অজস্র ফুল নতুন রাগের
গেঁথে যাও অনন্তের মালা
নিজস্ব আলোর মঞ্চে দেখাও ম্যাজিক
ডানা মেলে উড়ে যাবে সংখ্যাহীন পাখি
পালক আলগা করে
দেখাবে মুদ্রার উল্টোপিঠ
তুমি ছুঁয়ে দেখ
পেতলের বুক থেকে
বের হবে নিকেলের অন্তহীন শিখা
পুড়ে যাবে দর্শকের মুগ্ধ চোখগুলো
সকলেই অন্ধ হয়ে
কানে বধিরতা
আর হাতে শাদাছড়ি নিয়ে
বাড়ি ফিরে যাবে



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন