মনপাখি ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| মনপাখি ||

বুঝতে পারি না এই ঘর ছেড়ে কোন পন্থে কী রূপে যে যাই, ঘরের পাখিটি আমার হাত ধরে, মন ধরে থাকে। একবারই ডেকেছি নাম, নিরালোকে—অকাল বিভ্রমে; কাছে এলে একবারই কেঁপেছিল হাওয়া, ঘরের পাখিটি তবু হাত ধরে, অকারণ মন ধরে রাখে

অথচ পথের নামে, বনের নামে দিনরাত একা একা যায়, আজও মন তসবির ছোটোবড়ো নামাবলি গায় 

রাজার কয়েদি বলে তার পায়ে লোহার ঘুঙুর। কত যে ফরমান আসে, শব্দ হয়, মনের গুমান ছেড়ে সেও দেখি ইতিউতি যায়, অথচ আমাকে সে, কী কারণে, বেঁধে রাখে মিহিসূক্ষ্ম জরিন সুতায় 

ঘরের পাখিটি আমার হাত ধরে রাখে, মনের পাখিটি আমার অকারণ মন ধরে রাখে! 

 

|| অনাস্থা ||

অবাধ সন্তরণ শেষে মনে হয়, জলে কিছু পাতা মৃত ছিল হয়ত-বা; এই মন অন্যগামী ছিল হয়ত-বা; হাওয়ায় অল্পসল্প দ্বিধা মিশেছিল হয়ত-বা—ফলে এই নিগূঢ় চুম্বনেও কিছু অনাস্থা ঢুকে পড়েছিল হয়ত-বা...

 

|| অনিশ্চয় || 

সহসা কুঞ্জে যখন গিয়েছি আমি
নির্জন তীর, তবু পড়ে যায় সাড়া
ভুল নগরের শতভিড় থেকে দূরে
গিয়েছি সেদিন, ছিল না ফেরার তাড়া।

বড়শিটা ছিল নদীটির কথা ভেবে
ফুরসত পেলে ধরা যাবে কিছু মাছ
কিন্তু আমার সমস্ত বৃথা যায়
নয়নগঞ্জে দেখিনি গুহক-নাচ।

দুর্ভাগা আমি, বন্ধু ছিল না সাথে
সবকিছু রেখে বাড়িতে ফিরব একা
পথে শোনা যাবে নির্বাসনের গান
বিরহকাব্য ঘরে ঘরে হবে লেখা।

 

|| চাঁদরাত ||

এই বজরায় 
গাদা গাদা মানুষের পাশে
আঁকা-বাঁকা পড়ে আছে চাঁদ 

এই পারাপারে  
গাঢ় রাত্রিবেলা 
কারা কারা সূর্যব্রত গায়!

তুমি, এই গীতনারীদের  
উল্টোভাবে এঁকে
ধরে রাখো গনেশ পাইন