স্যালি রুনির দুই উপন্যাস || প্রেমের ঘরে শ্রেণির ছায়া
স্যালি রুনির দুটি উপন্যাসের শুরুতেই দেখা যায় বাড়ির দরজা খোলার দৃশ্য। ‘নরমাল পিপল’ গ্রন্থে কনেল আসে মারিয়ানের বাড়িতে, যেখানে তার মা লরেন পরিচারিকা হিসেবে কর্মরত; কনেল এসেছে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। অন্যদিকে, ‘কনভারসেশনস উইথ ফ্রেন্ডস’-এ কবিতা আবৃত্তির সূত্রে পরিচিত মেলিসার বাড়িতে আমন্ত্রণ পায় ফ্রান্সেস ও ববি। গৃহপ্রবেশের পরই ফ্রান্সেসের নজরে পড়ে প্রাচুর্যের নানা ছাপ—আসবাবপত্র, বাঁধাই করা ছবি, কাচে ঘেরা ঘর এবং ফলের পাত্র; অর্থাৎ আতিথেয়তার আড়ালে সেখানে ফুটে ওঠে সম্পদের বার্তা। এভাবে এক বাড়িতে যদি তৈরি হয় শ্রমের বন্ধন, তবে অন্যটিতে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মেলবন্ধন। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই মেলিসার স্বামী নিকের সঙ্গে ফ্রান্সেসের অনুরাগের সূচনা ঘটে, যা ববির সঙ্গে ফ্রান্সেসের পূর্বতন সম্পর্ককেও নতুন আন্দোলনে দোলায়িত করে। প্রকৃতপক্ষে, হবু প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরের নিকটবর্তী হওয়ার আগেই যেন পারিপার্শ্বিক বস্তুসামগ্রী নিজেদের মধ্যে সংলাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে। [১][২]
এই দু’টি দিক রুনিকে বোঝার ভিন্ন একটি দিগন্ত উন্মোচন করে। তাঁর উপন্যাসে প্রেম আপাতদৃষ্টিতে একান্ত ব্যক্তিগত বলে মনে হলেও, সেখানে সবার প্রবেশের অধিকার সমান থাকে না। কেউ নিজ গৃহে স্বচ্ছন্দ, কেউবা সেখানে অতিথি অথবা কোনো কর্মচারীর সন্তান। প্রাথমিক আকর্ষণের সময়ে এই সামাজিক পরিচয়গুলো হয়তো নেপথ্যে চলে যায়, কিন্তু সম্পর্কের সমীকরণ ও নিয়ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি ঠিকই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কার নিজের চাওয়া প্রকাশ করার সামর্থ্য আছে, প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কা কার তীব্রতর, কিংবা কার মৌনতা আত্মবিশ্বাসের রূপ নেয়—এসব প্রশ্নের আড়ালে সামাজিক মর্যাদার ইতিহাস সুসংহত থাকে। রুনির চরিত্রগুলো সেই ইতিহাসের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। তবে মূল বিষয় হলো, এই সচেতনতা থাকলেও তারা নিজেদের দায় এড়াতে পারে না।
প্রথম উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৭ সালে, দ্বিতীয়টি ২০১৮ সালে। ডাবলিন, ছাত্রজীবন, সাহিত্য, আকর্ষণ ও আত্মসংশয়ে তাদের নৈকট্য স্পষ্ট। কিন্তু দুই বইয়ের তুলনা কেবল মিলের তালিকা করলে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলি চাপা পড়ে। ফ্রান্সেসের বয়ানে চারজনের সম্পর্কের জট খুলতে গিয়ে পাঠক তার নিজের অন্ধকারের সামনে দাঁড়ায়। মারিয়ান ও কনেলের পালাবদল করা দৃষ্টিকোণে পাঠক দুজনের ভুল ধারণা পাশাপাশি দেখতে পায়। একটি বইয়ে ঘনিষ্ঠতা বোঝার মাধ্যমটিই সন্দেহের বিষয়; অন্যটিতে দুজনকে বুঝেও তাদের ব্যবধান দূর করা যায় না। একই সামাজিক উদ্বেগ এখানে দুটি স্বতন্ত্র সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
রুনির প্রেমকাহিনির আকর্ষণ এই কারণে কিছুটা অস্বস্তিকর। আমরা সাধারণত প্রেমে সামাজিক পরিচয়ের চেয়ে বেশি কিছু হতে চাই। কেউ আমাদের এমনভাবে চিনুক, যে পরিচয় চাকরি, আয়, পরিবার কিংবা জনপ্রিয়তার তালিকায় ধরা পড়ে না। এই আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা রুনি রাখেন। পাশাপাশি দেখান, পরিচয়গুলি ইচ্ছামতো খুলে বাইরে রেখে আসা যায় না। সম্পর্কের মধ্যে ক্ষমতা কাজ করে; তবু ক্ষমতার হিসাব দিয়ে সম্পর্কের সমস্ত অর্থ উদ্ধার করা অসম্ভব। তাঁর দুটি উপন্যাস এই অসম্ভবতার কাছে বারবার ফিরে যায়। এখানে প্রেমের সমালোচনা করা আর প্রেমের পক্ষে দাঁড়ানো পরস্পর বিরোধী নয়।

স্যালি রুনি || Credit: Jonny Davies
|| এক ||
রুনির এই সামাজিক পরিসরের একটি নির্দিষ্ট সময়ও আছে। আর্থিক সংকটের পরের আয়ারল্যান্ড তাঁর বেড়ে ওঠা ও লেখার পটভূমি; বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাস ভেঙে যেতে দেখার কথা তিনি বলেছেন।[৩] তবে ইতিহাসকে এখানে উপন্যাসের বাইরে রাখা ব্যাখ্যামূলক টীকা হিসেবে ভাবলে ভুল হবে। ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে না পারার অনুভূতি সম্পর্কের সিদ্ধান্তেও কাজ করে। কেরিয়ার, পড়াশোনা, কোথায় থাকা সম্ভব, কার কাছে সাহায্য চাইতে হবে: ব্যক্তিগত জীবনের আপাত ছোট প্রশ্নগুলিতে বৃহত্তর অনিশ্চয়তা জায়গা নেয়। প্রেমের নিজস্ব সময়কে তাই চাকরি ও প্রতিষ্ঠানের সময় থেকে আলাদা করা কঠিন।
নরমাল পিপল-এর স্কুলে কনেল জনপ্রিয়, মারিয়ান প্রায় একঘরে। অথচ মারিয়ানের পরিবার বিত্তবান; কনেলের মা তাদের বাড়িতে কাজ করেন। এই বিন্যাসেই একটি জরুরি সতর্কতা রয়েছে। অর্থনৈতিক শ্রেণি এবং প্রত্যক্ষ সামাজিক প্রভাব সব জায়গায় একইভাবে মেলে না। কনেল বন্ধুদের চোখে নিজের অবস্থান অক্ষত রাখতে চায়, তাই মারিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গোপন রাখে। ধনী পরিবারের মেয়ে হয়েও মারিয়ান সেই গোপনীয়তার মূল্য দেয়। তার সম্পদ তাকে স্কুলের অপমান থেকে রক্ষা করে না। আবার কনেলের জনপ্রিয়তা তার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও বদলে দেয় না। দুজনের সুবিধা ও দুর্বলতার মানচিত্র আলাদা।
ট্রিনিটি কলেজে পরিবেশ বদলালে এই মানচিত্রও বদলায়। মারিয়ান নতুন সামাজিক পরিসরে স্বচ্ছন্দ হয়, কনেল নিজের জায়গা খুঁজে পেতে অসুবিধা বোধ করে। একই মানুষের গুণাবলি অন্য প্রতিষ্ঠানে অন্য দাম পায়। স্কুলের পরিচিত ছক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিত সমাজে প্রবেশের জন্য শুধু মেধা যথেষ্ট নয়; কথাবার্তার ভঙ্গি, নিশ্চিন্ত উপস্থিতি, নিজের মতামতকে গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য মনে করার অভ্যাসও লাগে। এই অভ্যাসকে সহজেই ব্যক্তিত্ব বলা হয়। তার পেছনের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক আয়োজন তখন চোখের আড়ালে থাকে। রুনি সেই আড়ালটি সরান, চরিত্রের হাতে শ্রেণিসংগ্রামের বক্তৃতা ধরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন ছাড়াই।
কনেলের বৃত্তি পাওয়ার মুহূর্তে এই ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অর্থের সংস্থান তার পড়াশোনা, সময় ও চলাফেরার সম্ভাবনা বাড়ায়।[৩] মেধার স্বীকৃতির সঙ্গে এখানে জীবনের পরিধিও প্রসারিত হয়। যে সময় অন্যকে কাজ করে অর্জন করতে হয়, কারও কাছে তা আগে থেকেই প্রস্তুত। ফলে সাহিত্য প্রীতি কিংবা বৌদ্ধিক কৌতূহলকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত গুণ হিসেবে উদ্যাপন করা কঠিন। পড়তে বসার অবসরটিরও অর্থনীতি আছে। অবশ্য উপন্যাস কনেলের অর্জনকে খাটো করে না। বরং তার প্রতিভা বিকাশের বাস্তব শর্ত দেখিয়ে মেধার প্রশংসাকে একটু বেশি সৎ হতে বাধ্য করে।
ফ্রান্সেসের ক্ষেত্রে শ্রেণিসচেতনতা আরও প্রকাশ্য, আরও কথাবার্তায় ভরা। ববি তাকে কমিউনিস্ট বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। অথচ মেলিসার বাড়ির স্বাচ্ছন্দ্য ফ্রান্সেসকে আকর্ষণও করে। এই আকর্ষণ ধরে তাকে ভণ্ড প্রমাণ করা খুব সহজ, এবং প্রায় নিষ্ফল। পুঁজিবাদের সমালোচনা করলেই ভালো ঘরে থাকতে ভালো লাগা বন্ধ হবে কেন? প্রশ্নটি বরং সুবিধাভোগের মুহূর্তে নিজের অবস্থান কতটা বোঝা যাচ্ছে। ফ্রান্সেস অন্যের জীবনযাপনের সামাজিক অর্থ ধরতে পারে; নিজের আকর্ষণ, ঈর্ষা ও আত্মরক্ষাকে সেই একই নির্ভুলতায় দেখতে পারে না। তার বুদ্ধিমত্তার ফাঁক দিয়ে উপন্যাসের ব্যঙ্গ কাজ করে।
এখানে মেলিসা ও নিকের সাংস্কৃতিক পরিচিতিও সম্পদের অংশ। তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ মানে বয়সে বড় দুজন মানুষের সঙ্গে আলাপের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত একটি জগতে প্রবেশ। সেই জগতের অনুমোদন ফ্রান্সেস ও ববির কাছে গুরুত্বহীন নয়। ফলে রুনির শ্রেণিচিত্র শুধু ধনী এবং দরিদ্রের মুখোমুখি অবস্থান নয়। কার পরিচিতি আছে, কার শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কে অন্যকে আবিষ্কার করার ভূমিকায় দাঁড়াতে পারে, সেখানেও অসমতা। উদার আড্ডার মাঝখানে এই ক্ষমতা বিশেষ সুবিধা পায়: সবাই এত অনানুষ্ঠানিক যে ক্ষমতার আনুষ্ঠানিক পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

|| দুই ||
এই তুলনায় কেবল ফ্রান্সেস ও নিকের সম্পর্ককে কেন্দ্রবিন্দু করে ববিকে একপাশে সরিয়ে রাখা অনুচিত হবে। ববি শুধু ফ্রান্সেসের ঘনিষ্ঠ বন্ধুই নন, তিনি তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা এবং তাদের মধ্যে যৌথভাবে কবিতা পরিবেশনার এক সৃজনশীল সম্পর্কও রয়েছে। এসব পরিচয়ের কোনটিই অন্যটিকে সম্পূর্ণভাবে ম্লান করে দেয় না। ফলে প্রথম উপন্যাসটিতে প্রেম, বন্ধুত্ব এবং যৌথ সৃজনশীলতার সীমানা বারবার পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে। ‘নরমাল পিপল’-এর মূল দুই চরিত্রের সম্পর্ককে প্রচলিত কোনো সংজ্ঞায় বাঁধা কঠিন, তবে প্রথম বইটির চারজন চরিত্রের মিথস্ক্রিয়ায় সেই জটিলতা আরও বিস্তৃত রূপ নেয়। সেখানে মূল জুটির বাইরে থাকা চরিত্রগুলোরও নিজস্ব গুরুত্ব ও দাবি রয়েছে—তাঁদের কেবল কোনো প্রতিবন্ধকতা বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রুনির চরিত্রদের নিয়ে একটি পরিচিত অভিযোগ, এত বুদ্ধিমান হয়েও তারা সহজ কথাগুলি বলে না কেন? পাঠকের বিরক্তি অমূলক নয়। কিন্তু অভিযোগটির ভেতরে ধরে নেওয়া হয়, বক্তব্য পরিষ্কার হলেই সম্পর্কের সমস্যার সমাধান সম্ভব। কথাটি বলার সামাজিক ও মানসিক মূল্য সেখানে বাদ পড়ে। নিজের তাত্ত্বিক অবস্থান ঘোষণা করলে আত্মপরিচয় দৃঢ় হয়। কাউকে দরকার বলে স্বীকার করলে তার হাতে প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা দেওয়া হয়। এই দুই ধরনের কথার ঝুঁকি এক নয়। রুনির সংলাপে সেই অসম ঝুঁকির হিসাব প্রায়ই বক্তব্যের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে।
ফ্রান্সেস ও ববি প্রেমকে সামাজিক মূল্যবোধের কাঠামো হিসেবে বিচার করতে পারে। নিজেদের সম্পর্ক সেই বিচারের বাইরে থাকে না, কিন্তু তাতে সম্পর্কের অনিশ্চয়তা কমে না।[৪] কোনও ব্যবস্থার ইতিহাস জানার সঙ্গে তার আবেগগত প্রভাব এড়িয়ে চলার সরাসরি সম্পর্ক নেই। বুদ্ধিমান মানুষও ঈর্ষান্বিত হয়, অনুমোদন চায়, অপমান এড়াতে উদাসীনতার অভিনয় করে। ফ্রান্সেসের আত্মপর্যবেক্ষণ তাই সবসময় আত্মজ্ঞান নয়। কখনও সেটি নিজেকে অপ্রভাবিত দেখানোর আরেকটি কৌশল। সে নিজের অনুভূতিকে বিশ্লেষণের টেবিলে বসায়, যেন বিশ্লেষককে আর আহত হতে হবে না। কিন্তু অনুভূতিটি বিশ্লেষকেরই।
ইমেল, মেসেজ ও সামনাসামনি কথোপকথনের ভিন্নতা এই আত্মরক্ষাকে দৃশ্যমান করে। লিখিত বার্তায় বাক্য সম্পাদনা করা যায়; নিজের দ্বিধার চিহ্ন মুছে দেওয়া যায়। যে স্বাচ্ছন্দ্য মুখোমুখি অসম্ভব, পর্দায় সেটি তৈরি করা সম্ভব। অন্যদিকে সেই পরিশীলিত বাক্য প্রাপককে ভুল ধারণাও দিতে পারে। যোগাযোগের মাধ্যম যত বাড়ে, মানুষ তত অকপট হয়ে যায়, এমন কোনও নিয়ম নেই। ফ্রান্সেসের ভাষাগত দক্ষতা তাকে নিজের একটি গ্রহণযোগ্য সংস্করণ বানাতে সাহায্য করে। পাঠক তার ভাবনা এবং তার প্রকাশের মধ্যবর্তী দূরত্ব দেখতে দেখতে বুঝতে পারে, নিখুঁত বাক্যও আত্মগোপনের কাজ করতে পারে।
কনেল ও মারিয়ানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরকে গভীরভাবে জানার অতি-বিশ্বাসই কখনো কখনো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। অতি-পরিচিত মানুষটি সহজেই বুঝে নেবে—এমন ধারণার ওপর নির্ভর করে কথার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এড়িয়ে যাওয়া হয়, আর সেই ফাঁকা স্থানটিতে অপরজন বসিয়ে দেয় তার নিজস্ব আশঙ্কা। অতীতের গোপন সম্পর্কের স্মৃতি বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় বর্তমানের কথোপকথনের অর্থই পাল্টে দেয়। এই ভুল বোঝাবুঝিকে যদি কেবল গল্প এগিয়ে নেওয়ার কৌশল মনে করা হয়, তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়: মানুষ কি সত্যিই নতুন কোনো কথাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে শুনতে পারে? রুনির চরিত্ররা শুনতে পায় অতীতের ক্ষতের অভিঘাতকে সাথে নিয়েই। আর তাদের সেই শোনার ইতিহাসই বারবার তাদের প্রকাশ ও ভাষাকে রেখে দেয় অসম্পূর্ণ।
|| তিন ||
এই কারণে বই দুটির শিরোনামও একটু ব্যঙ্গের সুযোগ তৈরি করে। বন্ধুদের সঙ্গে কথোপকথন সাধারণত নির্ভার শোনায়, অথচ এখানে কথার অধিকার এবং কথার ফল নিয়ে এত টানাপোড়েন। স্বাভাবিক মানুষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও নিরীহ মনে হয়, যতক্ষণ না জানতে চাই কারা স্বাভাবিকতার মানদণ্ড স্থির করছে। স্কুলের স্বাভাবিকতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে না; সামাজিক স্বীকৃতির ভাষা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও সবসময় কাজ করে না। শিরোনাম দুটি যেন পরিচিত শব্দের ভেতর অচেনা নিয়ম দেখায়। মানুষকে একটি নামের মধ্যে নিশ্চিন্তে বসিয়ে দেওয়ার অভ্যাসে এই উপন্যাসগুলির আপত্তি আছে, যদিও তাদের চরিত্রেরা নিজেরাই বারবার সেই অভ্যাসের সাহায্য নেয়।
এই অসম্পূর্ণতাকে রুনি কেবল বিষয় হিসেবে রাখেননি; বয়ানের সংগঠনেও বসিয়েছেন। কনভারসেশনস উইথ ফ্রেন্ডস-এ ফ্রান্সেস নিজেই কথক। আমরা অন্যদের কথা শুনি, কিন্তু তাদের অন্তর্জগতে তার বাইরে কোনও স্বাধীন প্রবেশাধিকার পাই না। তার পর্যবেক্ষণ তীক্ষ্ণ বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়। তারপর মনে পড়ে, তীক্ষ্ণতা নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা নয়। যে মানুষ সুন্দরভাবে নিজের বিভ্রান্তি বর্ণনা করতে পারে, সে বিভ্রান্তির বাইরে দাঁড়িয়ে গেছে, এমনও নয়। ফ্রান্সেসের ভাষা পাঠককে একই সঙ্গে সাহায্য করে এবং প্রভাবিত করে। তার কাছ থেকে তথ্য গ্রহণ করতে হয়, তার রায় থেকে কিছু দূরত্বও রাখতে হয়।
নরমাল পিপল-এ কনেল ও মারিয়ানের দিকে পর্যায়ক্রমে সরে যাওয়া তৃতীয় পুরুষের বয়ান অন্য ব্যবস্থা গড়ে। একটি ঘটনার ভেতর দুজনের অভিজ্ঞতা এক নয়; পাঠক এই অমিল বুঝতে পারে। ফলে তাকে শুধু কার বক্তব্য সত্য তা ঠিক করতে হয় না, বরং দেখতে হয় কেন প্রত্যেকে নিজের ব্যাখ্যাটি বিশ্বাস করছে। রুনি প্রকাশকের সাক্ষাৎকারে দ্বিতীয় উপন্যাসের পরিকল্পনা বোঝাতে ব্যক্তিত্বের বিকাশের পরিবর্তে সম্পর্কের বিকাশে জোর দিয়েছিলেন।[৫] এই কথার তাৎপর্য নির্মাণে ধরা পড়ে। ব্যক্তির পরিচয় স্থির রেখে তার ওপর প্রেমের ঘটনা বসানো হয়নি; সম্পর্কের পরিবর্তনেই পরিচয়ের নতুন দিক প্রকাশ পায়।
দুটি পদ্ধতি পাঠকের নৈতিক অবস্থানও বদলায়। ফ্রান্সেসের পাশে থাকতে থাকতে তার আত্মপক্ষসমর্থনের সুবিধা আমরা ভোগ করি। পরে অন্যের ক্ষোভ সামনে এলে সেই স্বাচ্ছন্দ্য প্রশ্নের মুখে পড়ে। কনেল ও মারিয়ানের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি জানা পাঠককে দ্রুত বিচার করতে প্রলুব্ধ করতে পারে। কিন্তু দুজনের কারণ বোঝা মানেই তাদের কাজের ফল মুছে দেওয়া নয়। সহানুভূতি এখানে দায়মুক্তির ব্যবস্থা হতে পারে না। বরং একই ঘটনায় একাধিক মানুষের ক্ষতি বুঝতে শেখায়। এই জায়গায় রুনির গদ্যের সংযম কার্যকর: তিনি প্রতিটি ভুলের পরে বিচারকের মতো দাঁড়িয়ে রায় ঘোষণা করেন না।
সংলাপে উদ্ধৃতিচিহ্নের অনুপস্থিতিও এই পাঠকে প্রভাবিত করে। বলা কথা, মনের কথা এবং বর্ণনার মধ্যে দৃশ্যমান সীমানা একটু হালকা হয়। তবে এই রীতিকে একাই লেখিকার আধুনিকতার প্রমাণ ভাবা অর্থহীন। গুরুত্বপূর্ণ হল বাক্যের ভিতরে তার ব্যবহার। রুনির আপাত সরল গদ্যে অনেক চাপ থাকে, কারণ একটি সাধারণ মন্তব্যের পেছনে সম্পর্কের আগের ইতিহাস কাজ করে। অলংকার কম বলেই অর্থ সহজ, এমন সিদ্ধান্ত এখানে চলে না। আবার সরলতার প্রশংসায় পাঠযোগ্যতাকে অলৌকিক কৃতিত্ব বানানোরও প্রয়োজন নেই। তাঁর শক্তি মূলত দৃশ্যের মধ্যে মানুষের অবস্থান সামান্য সরিয়ে দেওয়ার নির্ভুলতায়।

|| চার ||
ফ্রান্সেস যখন ববির সঙ্গে তার সম্পর্ককে গল্পের উপাদান করে, ববি তাতে ব্যবহৃত হওয়ার কারণ খুঁজে পায়।[৪] ঘটনাটি উপন্যাসের সাহিত্যিক পরিবেশকে হঠাৎ অন্য আলোয় দেখায়। যে মানুষ নিজের অনুভূতি সহজে বলতে পারে না, সে অন্যের উপস্থিতিকে সাহিত্যিক রূপ দিতে পারে। এই সক্ষমতা নিরীহ নয়। কে কাহিনি লিখবে এবং কে তার চরিত্র হবে, সেই ক্ষমতা সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। ভালো লেখা তৈরি হয়েছে কি না, প্রশ্নটির পাশে তখন আরেকটি প্রশ্ন দাঁড়ায়: লেখার উপাদান হয়ে যাওয়া মানুষটির আপত্তির জায়গা কোথায়?
বিষয়টি ফ্রান্সেসের ব্যক্তিগত অসংবেদনশীলতার অভিযোগে শেষ করলে উপন্যাসের আত্মসমালোচনা হারিয়ে যাবে। পাঠক নিজেও তো অন্যের ঘনিষ্ঠ জীবনের প্রকাশ থেকে সাহিত্যিক আনন্দ পাচ্ছে। যে গোপন কথা বাস্তব বন্ধুর মুখে শুনলে অস্বস্তি হত, উপন্যাসে সেটিই অন্তর্দৃষ্টি বলে প্রশংসিত হতে পারে। রুনি এই লেনদেনের বাইরে নিজের জন্য নিষ্পাপ আসন রাখেন না। তাঁর লেখকচরিত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেমন সন্দেহের বিষয়, তেমনই চরিত্রটির মাধ্যমে পাওয়া আমাদের জানার আনন্দও। বন্ধুত্বের অভিজ্ঞতা শিল্পে রূপান্তরিত হলে কিছু অর্জিত হয়, কিন্তু কারও কাছে সেই অর্জন ক্ষতি হিসেবেও ধরা দিতে পারে।
নরমাল পিপল-এ কনেলের সাহিত্যিক অনুষ্ঠানে অস্বস্তি এই প্রশ্নের সামাজিক দিকটি তুলে ধরে। সাহিত্যকে ঘিরে শ্রেণিগত আত্মপ্রদর্শন তাকে বিচ্ছিন্ন করে। কিন্তু অনুষ্ঠানের লেখক মানুষটি আন্তরিকও হতে পারেন।[৬] এই দ্বিধাটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সন্দেহ মানেই তার প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর অনুভূতি মিথ্যা নয়। সংস্কৃতির বাজার নিয়ে রাগ এবং কোনও বই থেকে পাওয়া আনন্দ একসঙ্গে সত্য হতে পারে। দুই উপন্যাসেই সাহিত্যিক পরিসরের মানুষরা ক্ষমতার বাইরে নয়; একই সঙ্গে তাদের সৃষ্টিশীল আকাঙ্ক্ষাকে কেবল ভান বলে উড়িয়ে দেওয়ার অনুমতিও পাঠক পায় না।
এই দৃশ্যের সাথে রুনির নিজস্ব জনপ্রিয়তার একটি অস্বস্তিকর মিল লক্ষ করা যায়। তাঁর উপন্যাস কেবল পাঠ রুচির মানদণ্ড নির্দেশ করে না, বরং সেই রুচির সামাজিক সুবিধাকেও সামনে নিয়ে আসে। এতে লেখিকার পুরো সমালোচনাটি অগ্যাহ্য হয়ে যায় না, তবে তার সীমাবদ্ধতা পরিষ্কার ভেসে ওঠে। বাজারকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করা কোনো সফল গ্রন্থ থেকে চূড়ান্ত বিচারে সেই বাজারই লাভবান হতে পারে। এই আপাতবিরোধ দূর করার কোনো সহজ পথ রুনি বেছে নেননি। তাই তাঁকে কোনো রাজনৈতিক ভাবাদর্শের নিখুঁত প্রতিনিধি বানালে তাঁর উপন্যাসের সবচেয়ে মৌলিক ও সম্ভাবনাময় সংশয়টিই হারিয়ে যায়, যেখানে সন্দেহ কখনো অসারতায় পর্যবসিত হয়নি।

স্যালি রুনি || Credit: Irish Examiner
|| পাঁচ ||
সমালোচনার সুবিধার্থে চরিত্রদের সঠিক রাজনৈতিক অবস্থান ও ভুল ব্যক্তিগত আচরণের দুটি কলামে ভাগ করা যায়। কিন্তু তাতে পড়া সহজ হয়, মানুষগুলি ছোট হয়ে যায়। রুনির ব্যঙ্গের ভালো মুহূর্তগুলো সেই শ্রেষ্ঠত্ববোধ থেকে দূরে থাকে। আমরা তাদের চেয়ে বেশি জানি বলে হাসতে পারি; আবার নিজেদের জীবনের পরিচিত অজুহাত চিনেও হাসি। এই দ্বিতীয় হাসিতে অস্বস্তি বেশি। প্রগতিশীল মতামত যে দৈনন্দিন ন্যায়বোধের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়, কথাটি পাঠকের নিজের জন্যও প্রযোজ্য। উপন্যাসের শিক্ষিত পরিসরের সমালোচনা করতে গিয়ে শিক্ষিত পাঠক যদি নিজেকে পরীক্ষার বাইরে রাখে, তবে সে ঠিক সেই সুবিধাটিই ভোগ করছে যার বিরুদ্ধে তার এত আপত্তি।
তবু শুধু শ্রেণি আর ভাষার ব্যাখ্যা দিয়ে এই মানুষগুলিকে শেষ পর্যন্ত বোঝা যাবে না। ফ্রান্সেসের এন্ডোমেট্রিওসিস আছে; নিজের শরীরের সঙ্গে তার সম্পর্ক কষ্টকর।[৪] শারীরিক যন্ত্রণাকে আত্মসংশয়ের সুন্দর প্রতীক বানিয়ে দিলে রোগটির বাস্তবতা ছোট হয়। একইভাবে মারিয়ানের পারিবারিক সহিংসতার অভিজ্ঞতাকে তার বিত্তের উল্লেখ দিয়ে নিষ্পত্তি করা যায় না। আর্থিক সুবিধা এবং নিরাপত্তা কখনও সম্পর্কিত, কখনও বিচ্ছিন্ন। এই পার্থক্য মনে রাখলে শ্রেণিবিশ্লেষণ আরও সূক্ষ্ম হয়। সব ধরনের ক্ষতকে এক কারণের ফল বলা বিশ্লেষণের শক্তি নয়; অনেক সময় তা মনোযোগের অভাব।
ঘনিষ্ঠতার মধ্যে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ও তাই কেবল অর্থনীতির অনুবাদ নয়। অন্যকে চাইলে নিজের প্রয়োজনের একাংশ তার প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়। এই নির্ভরতা আনন্দের শর্ত, আবার আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনাও। রুনি স্বাধীন, সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যক্তির আদর্শ সম্পর্কে সন্দিহান।[৬] কিন্তু তার মানে সহিংস সম্পর্ক সহ্য করে যাওয়ার নীতি নয়। কোন সম্পর্ক ছাড়তে হবে এবং কোনটিতে নিজের আত্মরক্ষার অভ্যাস শিথিল করা দরকার, এই দুটির পার্থক্য জরুরি। উপন্যাসের মানুষদের সেই পার্থক্য সবসময় পরিষ্কার জানা নেই; পাঠকের জানার তাড়াও লেখিকা সহজে মেটান না।
এখানেই তাঁর লেখার একটি সীমা নিয়েও প্রশ্ন করা যায়। সামাজিক অসমতা এত স্পষ্ট হওয়ার পরে উপন্যাসের সবচেয়ে তীব্র মনোযোগ ফিরে যায় অল্প কয়েকজন মানুষের ঘনিষ্ঠ জীবনে। যত্ন এবং পারস্পরিক স্বীকৃতি মূল্যবান, কিন্তু তারা বৃহত্তর ব্যবস্থার পরিবর্তনের সমতুল্য নয়। প্রেমের সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিলে সামাজিক সমস্যার ব্যক্তিগত সমাধানে সন্তুষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই আপত্তি রুনিকে পড়ার পথ বন্ধ করে না। বরং জানতে চায়, উপন্যাস তার নির্বাচিত পরিসরে কী দেখাতে পারছে এবং কী বাইরে থেকে যাচ্ছে। তার আবেগের সত্য আর রাজনৈতিক পরিধি আলাদাভাবে বিচার করা দরকার।
তাই উভয় গ্রন্থের পরিণতি আমাদের কোনো সহজ উপসংহারে পৌঁছাতে দেয় না। একদিকে ‘কনভারসেশনস উইথ ফ্রেন্ডস’-এর শেষ পরিণতিতে ফ্রান্সেস ও নিকের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যায়; অন্যদিকে ‘নরমাল পিপল’-এর সমাপ্তিতে কনেলের নিউ ইয়র্কে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্তকে মারিয়ান সানন্দে গ্রহণ করে। এর একটিতে লক্ষ্য করা যায় অতীত জটিলতায় পুনরায় জড়িয়ে পড়ার আকর্ষণ, আর অন্যটিতে প্রকাশ পায় ভালোবাসার মানুষের নিজস্ব পথকে মেনে নেওয়ার স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তুতি। উভয় পরিণতিকেই ‘ব্যর্থ প্রেম’-এর একই ছাঁচে ফেললে এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি আড়াল হয়ে যায়; আবার দ্বিতীয় সমাপ্তিটিকে ‘পরিণত প্রেমের চূড়ান্ত জয়’ হিসেবে আখ্যা দেওয়াও একধরনের অতিসরলীকরণ। জীবন থেকে চরিত্রগুলো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে ঠিকই, তবে তাদের শেখা পাঠের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সম্পর্কের প্রকৃত গুরুত্ব কেবল স্থায়িত্বের নিরিখে বিচার করা যায় না—রুনির ভাবনায় এটি স্পষ্ট। অনেক সময় জীবনে দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি সত্ত্বেও একজন অন্যজনের চাহিদাকে ছাড়িয়ে তাকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, দূরত্ব তৈরি হলেও কারো কারো সান্নিধ্য নিজের জীবনভাবনাকে আমূল বদলে দিতে পারে। এই পরিবর্তনকে নিছক রোমান্টিক সান্ত্বনা হিসেবে দেখা সহজ হলেও, উপন্যাসগুলোতে সেই জটিলতা ও অস্বস্তির বাস্তব ছাপ থেকে যায়; কারণ প্রাপ্ত ক্ষতির আঘাত এবং বিদ্যমান অসমতা একেবারেই মিথ্যা নয়। তা সত্ত্বেও, মানুষের পরিচয় কখনো চূড়ান্ত বা পূর্বনির্ধারিত থাকে না। সূচনাপর্বের সামাজিক পরিচয় কিংবা পারিপার্শ্বিক স্থানাঙ্কগুলো দিয়ে কারো শেষ পরিণতি বা পূর্ণাঙ্গ সত্তাকে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।
প্রথম দুটি বাড়ির স্মৃতি আবার মনে ভেসে ওঠে, যেখানে জড়িয়ে ছিল শ্রম, সম্পদ, পারস্পরিক আকর্ষণ এবং অনুমোদনের তাগিদ। দীর্ঘ কথোপকথন, প্রগাঢ় নৈকট্য কিংবা দূরত্ব সৃষ্টির পরেও সেই বাস্তব সত্যগুলো মুছে যায়নি। পরিবর্তন এসেছে কেবল সেই পরিস্থিতির মাঝে দাঁড়িয়ে মানুষকে নতুন করে চেনার শক্তিতে। প্রেম মানুষকে শ্রেণিগত অবস্থান থেকে মুক্ত করতে পারে না সত্য, তবে তা অন্যের অভিজ্ঞতা ও অবস্থানকে নিজের অনুভূতির অংশ করে তুলতে শেখায়। রুনির উপন্যাস দুটো এই সম্ভাবনার প্রতি যেমন সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারে না, তেমনই একে অস্বীকারও করতে পারে না; আর এই দ্বিধাবোধের মধ্যেই প্রকাশ পায় তাদের সততা। কারণ, ভালোবাসার গণ্ডিতে শ্রেণির ছায়া ঢাকা থাকলেও, সেখানে মানুষগুলো কখনোই কেবল ছায়া হয়ে রয় না ।
সূত্র
মূল রচনা ও প্রকাশিত পাঠাংশ
[১] Sally Rooney, Conversations with Friends (2017)। উপন্যাসের সূচনার অনুমোদিত পাঠাংশ, Literary Hub। Conversations with Friends
[২] Sally Rooney, Normal People (2018)। প্রকাশকের দেওয়া সূচনার পাঠাংশ, Penguin Random House।
Normal People
সাক্ষাৎকার
[৩] Catherine Conroy, “Sally Rooney: The Man Booker contender on dealing with the new normal”, The Irish Times, 25 August 2018। শ্রেণি, বৃত্তি, আর্থিক সংকট এবং ঘনিষ্ঠতা বিষয়ে সাক্ষাৎকার।
The Irish Times
পাঠসহায়িকা
[৪] Conversations with Friends Reader’s Guide, Penguin Random House। বন্ধুত্ব, লেখার নৈতিকতা, যোগাযোগমাধ্যম, এন্ডোমেট্রিওসিস এবং সমাপ্তির প্রসঙ্গ।
প্রকাশকের পাঠসহায়িকা
[৫] “A Conversation with Sally Rooney”, Penguin Random House। প্রথম উপন্যাসের কথক এবং দ্বিতীয় উপন্যাসের নির্মাণ সম্পর্কে লেখিকার বক্তব্য।
প্রকাশকের সাক্ষাৎকার
[৬] Haley Cullingham, “I’m Not So Interested in Feelings People Go Through on Their Own: An Interview with Sally Rooney”, Hazlitt, 30 April 2019। নির্ভরতা, ঘনিষ্ঠতা, সাহিত্যিক পরিসর এবং সংস্কৃতির পণ্যায়ন বিষয়ে সাক্ষাৎকার।
Hazlitt
[৭] Emily Facoory, “Reading guide: Normal People by Sally Rooney”, The Booker Prizes, 1 February 2024। চরিত্র, পারিবারিক সহিংসতা এবং সমাপ্তির তথ্য।
The Booker Prizes



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন