প্রতিধ্বনি গল্প পুরস্কার ২০২৬-এর দীর্ঘ তালিকায় ‘ক্রেতাবান্ধব নগরে গোরস্থান সংক্রান্ত ইশতেহার’
প্রতিধ্বনি গল্প পুরস্কার ২০২৬-এর দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ
গল্পের সারাংশ || ক্রেতাবান্ধব নগরে গোরস্থান সংক্রান্ত ইশতেহার
জীবনের প্রকৃত অর্থ খোঁজার লক্ষ্যে একজন পুরোদস্তুর কর্পোরেট কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে এক অজানা উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। জাগতিক সব মোহ কাটিয়ে আত্মিক শান্তির আশায় সে আশ্রয় নেয় এক জীর্ণ মাজারে। সেখানে তার পরিচয় হয় এক রহস্যময় আধ্যাত্মিক ফকিরের সঙ্গে, যাঁর সহজ-সরল জীবনবোধ তাকে মুগ্ধ করে। কিন্তু তার সেই শান্তিময় আশ্রয়ে আচমকা এক অভিনব ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে হাজির হয় তার প্রাক্তন সিইও। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে মানুষকে একটু অপার্থিব পরশ এনে দেওয়ার ছুঁতোয় শুরু হয় আধ্যাত্মিকতার পুঁজিবাদী বাণিজ্যিকীকরণ। মাজারের পবিত্র আবহ রাতারাতি কর্পোরেট পণ্যে রূপান্তরিত হয়। এরপর গল্পটি এক কাল্পনিক মৃত্যু বিপণন কেন্দ্র ও উল্টো গোরস্থানের মধ্য দিয়ে পরাবাস্তব যাত্রায় মোড় নেয়। সেখানে সেই কর্মকর্তা চরম বিস্ময়ে আবিষ্কার করে—যে ফকিরের মাঝে সে বৈরাগ্য খুঁজেছিল, খোদ সেই ফকিরসহ মাজারের সবাই আসলে মৃত্যুর এই বাণিজ্যিকীকরণের ফাঁদে বন্দি। গল্পের পরতে পরতে মিশে আছে অসংখ্য স্ববিরোধী ভাবনা ও আপাতবিরোধ। গুরুগম্ভীর আবহে এগিয়ে যাওয়া প্রতিটি দৃশ্য ও সংলাপের আড়ালে প্রচ্ছন্নভাবে লুকিয়ে আছে আধুনিক পুঁজিবাদের নির্মম ব্যঙ্গরস।
লেখক পরিচিতি || কায়সার হেলাল
কথাকার ও প্রাবন্ধিক। কুমিল্লার বাসিন্দা। জন্ম ১৯৮৬ সালে, বান্দরবান জেলায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। পড়াশোনা ক্যান্সার গবেষণা, জেংজু বিশ্ববিদ্যালয়, চীন। ‘দৃক’ এবং ‘শালবন’ নামে দুটি লিটলম্যাগের সম্পাদনায় জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখছেন।



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন