সংকটে সৃজনশীল প্রকাশনাখাত: সংকটের স্বরূপ সন্ধানে
সঞ্চালক এ ব্যাপারে আমার মতামত জানতে চাইলে আমি আবারও বললাম, সংকটের কার্যকর সমাধান করতে হলে তো সুনির্দিষ্ট তথ্য লাগবে। সংকটটা কেন হচ্ছে, কোথায় হচ্ছে, কারা এর জন্য দায়ী—সেটা পরিষ্কারভাবে না বুঝলে তো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। আর দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার পেতে হলে প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তথা ভুক্তভোগীদেরই এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।
অমর একুশে বইমেলা শুরুর কয়েকদিন আগে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানের অপর অতিথি ছিলেন প্রকাশক সমিতির সাবেক একজন প্রভাবশালী নেতা। তখন কাগজের দুষ্প্রাপ্যতা ও অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। বলা হচ্ছিল, এর ফলে সৃজনশীল ও মননশীল বইয়ের প্রকাশনা অর্ধেকে নেমে আসবে। উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বইয়ের দামও। আর অনিবার্যভাবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পাঠক বা ক্রেতার ওপর—যারা এমনিতেই ক্রমশ বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। টকশোর আলোচনার মূল বিষয়বস্তুও ছিল সেটাই।
আলোচনা শুরুর আগে আমি প্রকাশক সমিতির সেই নেতাকে জিজ্ঞেস করলাম, একুশে বইমেলাসহ সব মিলিয়ে সারা বছর কত বই প্রকাশিত হয়, কত কাগজ লাগে, তার মধ্যে দেশে কত উৎপাদিত হয় এবং আমদানি নির্ভরতা কতটা—এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে আছে কি-না। তিনি অকপটে বললেন, ‘না, নেই’। আমাদের সঙ্গে একজন প্রতিবেদকও যুক্ত ছিলেন—যিনি কাগজের সংকট নিয়ে ইতোমধ্যে বেশকিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। আলোচনা যখন শুরু হলো তখন তিনিও বেশ জোর দিয়ে কাগজের সংকটের কথা বললেন। এও বললেন যে নিশ্চিতভাবে এবারের বইমেলায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সঞ্চালক এ ব্যাপারে আমার মতামত জানতে চাইলে আমি আবারও বললাম, সংকটের কার্যকর সমাধান করতে হলে তো সুনির্দিষ্ট তথ্য লাগবে। সংকটটা কেন হচ্ছে, কোথায় হচ্ছে, কারা এর জন্য দায়ী—সেটা পরিষ্কারভাবে না বুঝলে তো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। আর দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার পেতে হলে প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তথা ভুক্তভোগীদেরই এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। সংকটের পূর্ণাঙ্গ চিত্রটি তুলে ধরে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে যে এক্ষেত্রে সরকার বা নীতি-নির্ধারকদের করণীয় কী এবং একইসঙ্গে তাদের দাবিগুলোও তুলে ধরতে হবে সুস্পষ্টভাবে। উদাহরণ হিসেবে বললাম, সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন ‘নোয়াব’ প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার আগে নিয়মিতভাবে এ কাজটি করে থাকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে—যাতে বাজেটে তার যথাযথ প্রতিফলন থাকে। পাশাপাশি, যেকোনো সংকটকালেও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন তারা। পোশাক শিল্পখাত এক্ষেত্রে আরও অগ্রসর।
সরকারের কাছ থেকে নীতিগত সহায়তা অথবা দ্রুত প্রতিকার পেতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। অনুমানের ওপর তো চিকিৎসা চলে না। নিশ্চিতভাবে রোগ শনাক্ত করা না গেলে চিকিৎসাও ভুল বা ব্যর্থ হতে বাধ্য। প্রায় ঘন্টাব্যাপী আলোচনার মধ্য দিয়ে অচিরেই আমরা সব পক্ষ একমত হয়েছিলাম যে, যে-সংকট নিয়ে আমরা কথা বলছি তার স্পষ্ট কোনো চিত্র আমাদের কারো কাছে নেই। আমরা কথা বলছি অনেকটাই অনুমানের ওপর নির্ভর করে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে সামগ্রিকভাবে প্রকাশনা খাতের অবস্থাও অনেকটা তাই।
সংকটের মধ্যেও সৃজনশীল বইয়ের যারা বড় ক্রেতা সেই গ্রন্থাগার ও পাঠকরা সমস্যাটিকে দেখেন কিছুটা ভিন্নভাবে। তারা মনে করেন, সৃজনশীল বইয়ের পাঠক কমে যাওয়ার দায় প্রকাশকরাও এড়াতে পারেন না। কারণ প্রকাশকের সংখ্যা বাড়লেও সামগ্রিকভাবে প্রকাশনার মান নেমে গেছে। নিম্নমানের বইয়ে ছেয়ে গেছে সারা দেশ। গুটিকয় ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ প্রকাশনার ক্ষেত্রেই এটা সত্য।
২
সৃজনশীল প্রকাশনাখাতের সংকট নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে অনেক দিন থেকে। আমরা একে অপরকে সংকটের কথা বলছি। বলছি জনসাধারণের বই বিমুখতার কথা। অমর একুশের বইমেলার মতো বইকেন্দ্রিক সভা-সমাবেশগুলোতে অনেক কথার ভিড়ে এ প্রসঙ্গেও দু-একটি বক্তব্য উঠে আসছে। কিন্তু সেটা খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না—কারণ তা যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরিসংখ্যান দ্বারা সমর্থিত নয়। এ থেকে কেবল এটুকুই নিশ্চিত হওয়া যায় যে সৃজনশীল প্রকাশনা খাতটি একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই সংকটের স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ কোনো চিত্র অদ্যাবধি আমাদের নজরে আসেনি। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে কোভিডের আগ্রাসন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন আমি এ ব্যাপারে বিশিষ্ট লেখক ও প্রকাশক মফিদুল হকের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। বেশ পরিশ্রম করে তিনি একটি প্রস্তাবনাও তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি না হওয়ায় আর আগানো সম্ভব হয়নি।
বস্তুত জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি আমার সীমিত জ্ঞান দিয়ে সংকটটিকে বোঝার চেষ্টা করে আসছি। কথা বলেছি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে। এখানে প্রকাশক আছেন, প্রকাশকদের সমিতি আছে, আছে বাংলা একাডেমিসহ প্রকাশনা-সংশ্লিষ্ট আরও কিছু প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও বইয়ের বড় ক্রেতা হিসেবে আছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরসহ সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য গ্রন্থাগার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বড়- ছোট বইবিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো তো আছেই। সর্বোপরি আছেন বইয়ের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক পাঠকসাধারণ। আরও একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ অথচ উপেক্ষিত পক্ষ আছেন। তারা হলেন, লেখক। সে প্রসঙ্গে পরে অন্য কোনো উপলক্ষ্যে বিশদ আলোচনা করার আশা রাখি। বিভিন্ন পর্যায়ে বিস্তর আলাপ-আলোচনা থেকে আমার মনে হয়েছে, আমাদের সৃজনশীল প্রকাশনাখাত যে একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে কোনো মতদ্বৈধতা নেই। তবে সংকটের স্বরূপ ও দায়দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক মত-ভিন্নতা রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে।
তুলনামূলকভাবে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় সংকটটিকে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অবস্থান থেকে দেখার দুর্লভ সুযোগ আমার হয়েছে। তিনটি পক্ষের প্রথমটি হলো প্রকাশক, দ্বিতীয়টি গ্রন্থাগার ও পাঠক এবং তৃতীয়টি হলো লেখক। প্রকাশক বই প্রকাশ ও বিপণন করেন। লেখক সৃষ্টিশীল শ্রম দিয়ে লেখেন বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেন এবং চূড়ান্তভাবে বইটির গন্তব্য হলো গ্রন্থাগার বা সরাসরি পাঠক। তাঁরা গাঁটের পয়সা খরচ করে বইটি কেনেন। অতএব, এখানে কারো ভূমিকাই কারো চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। চলমান সংকট সম্পর্কে তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব অবস্থান ও বক্তব্য রয়েছে এবং তা যথেষ্ট জোরালোও বটে। সৃজনশীল ও মননশীল বইয়ের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য প্রত্যক্ষভাবে যাচাইবাছাই করার বিরল সুযোগও আমি পেয়েছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বিদ্যমান সংকটের ত্রিমাত্রিক একটি ছবি আমি এখানে উপস্থাপন করতে চাই।
প্রকাশকদের বড় অংশই সংকটটিকে দেখছেন ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে।তাদের বক্তব্য হলো, প্রকাশনা-সংশ্লিষ্ট ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু সৃজনশীল বইয়ের বিক্রি কমে গেছে ব্যাপকভাবে। অন্যদিকে, সৃজনশীল ও মননশীল বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হিসেবে সরকারের বরাদ্দও খুব বেশি বাড়েনি বিগত বছরগুলোতে। ফলে তাদের পক্ষে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সর্বোপরি, কোভিডের কারণে পরপর দুটি বছর তারা প্রতিষ্ঠানের তালাই খুলতে পারেননি। এ সময়ে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বইয়ের চাহিদা যেমন ছিল না, তেমনি বইয়ের দোকানগুলোও ছিল তালাবদ্ধ। বই বিক্রির জন্য যে মেলাটির ওপর তারা সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল—পরপর দুটি বছর অমর একুশের সেই বইমেলাও বিঘ্নিত হয়েছে মারাত্মকভাবে। করোনার দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়ে গেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক দুর্যোগ। প্রকাশকরা বলছেন, সব মিলিয়ে তারা বেদিশা হয়ে পড়েছেন। সংকট উত্তরণে তারা সরকারের সহায়তা চান। তারা মনে করেন, সরকার জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতি বছর যে বই ক্রয় করে তার বরাদ্দ কয়েকগুণ বাড়ানো হলে তারা দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন। পাশাপাশি, কাগজসহ মুদ্রণ সামগ্রীর ওপর ভর্তুকির কথাও বলেছেন কেউ কেউ।
সংকটের মধ্যেও সৃজনশীল বইয়ের যারা বড় ক্রেতা সেই গ্রন্থাগার ও পাঠকরা সমস্যাটিকে দেখেন কিছুটা ভিন্নভাবে। তারা মনে করেন, সৃজনশীল বইয়ের পাঠক কমে যাওয়ার দায় প্রকাশকরাও এড়াতে পারেন না। কারণ প্রকাশকের সংখ্যা বাড়লেও সামগ্রিকভাবে প্রকাশনার মান নেমে গেছে। নিম্নমানের বইয়ে ছেয়ে গেছে সারা দেশ। গুটিকয় ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ প্রকাশনার ক্ষেত্রেই এটা সত্য। তাদের বক্তব্য হলো, এমনিতেই যেখানে কোচিং ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের চাপে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, সেখানে ভুল বানান ও ভুল বাক্যের অযত্নে প্রকাশিত [কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে কপি-পেস্ট করা] এসব বই পাঠকরা কেন পড়বে? তারপরও ভালো বই যে প্রকাশিত হচ্ছে না তা নয় কিন্তু সেইসব বই সম্পর্কে পাঠককে অবহিত করার কার্যকর কোনো উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। ফলে মন্দ বইয়ের প্রবল কলরোলে তাও চাপা পড়ে যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। তাদের মতে, পাঠক সৃষ্টি করাও প্রকাশকের অন্যতম দায়িত্ব। সেটা করতে হলে দেশে যে শত শত গ্রন্থাগার রয়েছে তাদের সঙ্গে প্রকাশকদের একটা ভালো যোগাযোগ ও কার্যসম্পর্ক থাকা দরকার। দরকার ভালো বইয়ের ব্যাপক প্রচার। কিন্তু বাস্তবে তা এখনো সুদূর পরাহত বলেই মনে হচ্ছে।
লেখকদের মধ্যেও রয়েছে নানা মত। তাদের একটি অংশ সৃজনশীল বইয়ের বিক্রি কমে গেছে—এমন কথা মানতেই রাজি নন। তাদের বক্তব্য হলো, বই যদি বিক্রিই না হবে তাহলে কয়েক দশক আগেও যেখানে প্রকাশকের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা, সেখানে শত শত প্রকাশক তৈরি হলো কীভাবে? এখন বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস ছাপিয়ে বিশাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানও উপচে পড়ছে প্রকাশকের ভিড়ে। বিশাল বিশাল সব প্যাভেলিয়ন চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। বই বিক্রি না হলে তো প্রকাশনাখাত শুকিয়ে যাওয়ার কথা। এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশা অবলম্বন করার কথা প্রকাশকদের। কিন্তু বাস্তবে কি আমরা তার উল্টো চিত্র দেখছি না? লেখকদের এ অংশটি মনে করেন, সংকট আসলে সততার ও পেশাদারিত্বের। তাদের অভিযোগ, প্রকাশকরা প্রুফ রিডারকেও পয়সা দেন, কিন্তু লেখককে দেন না বা দিতে চান না। বরং ক্ষেত্রবিশেষে লেখককে গাঁটের পয়সা দিয়ে বই বের করতে হয়। ফলে প্রতিশ্রুতিশীল ভালো লেখকরা টিকতে পারছেন না। লেখালেখি ছেড়ে তাদের ছুটতে হচ্ছে অন্য জীবিকার সন্ধানে।
সংখ্যায় কম হলেও লেখকদের অপর একটি অংশ এমন অভিযোগ মানতে রাজি নন। তাদের কেউ কেউ আমাকে এমনও বলেছেন যে লেখক হিসেবে যতটা রয়্যালটি তার পাওয়ার কথা তিনি বা তারা তার চেয়ে বেশিও পেয়েছেন প্রকাশকের কাছ থেকে। এমনকি দুর্দিনেও প্রকাশকরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে কার্পণ্য করেন না। এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন প্রকাশকের বক্তব্য হলো, যাদের বই বিক্রি হয় তাদের একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়ার জন্য আমরা অগ্রিমও দিয়ে থাকি। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, যেসব লেখকের বই বিক্রি হয় না তাদের নিয়ে। আর কোনো লেখক যদি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে খ্যাত-অখ্যাত প্রকাশকের নাম বা লোগো ব্যবহার করে নিজের খরচে বই বের করেন সেই দায় তো লেখকের? এর জন্য তো প্রকাশককে দায়ী করা যাবে না। সব মিলিয়ে সমস্যাটি বেশ জটিল।
সেই ষাটের কিংবা সত্তরের দশকে যখন আমাদের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি এবং মাথা প্রতি আয় ছিল তলানিতে, তখনো এমনকি জেলা পর্যায়ের বইয়ের দোকানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। পাঠকের মূল আকর্ষণ ছিল হাল আমলের কবি-লেখকদের কবিতা-গল্প-উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই। আমরা নতুন বইয়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম। অনেক সময় পছন্দের বইটি সবার আগে সংগ্রহ করার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চলে আসতাম। বাংলা একাডেমির বইমেলায় কবি-লেখকরা হয়রান-পেরেশান হয়ে যেতেন ভক্ত-পাঠকদের অটোগ্রাফ দিতে দিতে।
৩
যে-কথাটি কোনো পক্ষের আলোচনায় আসেনি, সেটি হলো পাঠকশূন্যতা। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে সারা দেশের বহু গ্রন্থাগার পরিদর্শনের এবং শত শত গ্রন্থাগার প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ আমার হয়েছে। সরকারি গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের অধীনে প্রতি জেলায় একটি করে গ্রন্থাগার রয়েছে—যেগুলো পাবলিক লাইব্রেরী নামে সুপরিচিত। এ ছাড়া দেশ জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আরও অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগার। সেসব গ্রন্থাগারের সংগ্রহ খারাপ বলা যাবে না। তদুপরি, প্রতি বছর সরকারি অর্থে কয়েক কোটি টাকার নতুন বই সেখানে পাঠানো হচ্ছে। আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় পড়ার পরিবেশও মোটামুটি ভালোই বলতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ পাঠাগারই পাঠকশূন্য। পাঠকের স্থানটি দখল করে নিয়েছে চাকরিপ্রার্থী নোট-গাইড বইয়ের পাঠকরা। তারা অন্য কোনো বই—তা যত মূল্যবানই হোক না কেন—ছুঁয়েও দেখেন না। চাকরিপ্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায়ও আমরা তার প্রমাণ পাচ্ছি।
আবার বইয়ের দাম বেশি কিংবা মানুষের পকেটে টাকা নেই বলে ঢালাও যেসব কথাবার্তা শোনা যায়—তা যে কতটা অসার সেটি বোঝার জন্য রকেট বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই। রাজধানী ঢাকার সকল প্রান্তের চোখ-ধাঁধানো ব্যয়বহুল রেষ্টরেন্টগুলোর ‘ঠাই নেই ঠাই নেই’ অবস্থাই বলে দেয় এসব অজুহাত একেবারেই ভিত্তিহীন। হাতের নিত্যনতুন মোবাইল সেট কিংবা রমরমা মার্কেটগুলোর কথা নাই-বা বললাম। সহজ কথায়, বইয়ের দাম কিংবা টাকা এখানে সমস্যা নয়। সমস্যা অন্যত্র। সেটি বুঝতে হলে আমাদের কয়েক দশক পেছনে যেতে হবে।
সেই ষাটের কিংবা সত্তরের দশকে যখন আমাদের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি এবং মাথা প্রতি আয় ছিল তলানিতে, তখনো এমনকি জেলা পর্যায়ের বইয়ের দোকানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। পাঠকের মূল আকর্ষণ ছিল হাল আমলের কবি-লেখকদের কবিতা-গল্প-উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই। আমরা নতুন বইয়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম। অনেক সময় পছন্দের বইটি সবার আগে সংগ্রহ করার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চলে আসতাম। বাংলা একাডেমির বইমেলায় কবি-লেখকরা হয়রান-পেরেশান হয়ে যেতেন ভক্ত-পাঠকদের অটোগ্রাফ দিতে দিতে। এখন শুধু যে সেই চিত্র আমূল বদলে গেছে তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে শুনি যে লেখকরাই পাঠকদের ধাওয়া করেন তাদের সদ্য প্রকাশিত বই গছিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কেন?
সাম্প্রতিক জনশুমারি অনুযায়ী ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে সকল বিচারেই বইয়ের বিক্রিও কয়েকগুণ বেশি হওয়ার কথা। কেননা শিক্ষার হার বেড়েছে; ব্যাপকভাবে বেড়েছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও। মাথা প্রতি আয়ের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের অবস্থান এখন শীর্ষ পর্যায়ে। আগেই বলেছি, চারপাশের ঝলমলে শপিংমল ও রেষ্টুরেন্টগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছে যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের পকেটে টাকার কোনো অভাব নেই। তা সত্ত্বেও কেন এই বইবিমুখতা? শুধু বই বিক্রি বাড়ানোর স্বার্থেই নয়, জাতি হিসেবে আমাদের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করার জন্যও নীতিনির্ধারক মহলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষেরই এ প্রশ্নটির মুখোমুখি হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রকাশকদের জন্য বিষয়টি আরও অধিক জরুরি এ কারণে যে এর সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। কেবল অনুমান নয়, এ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রকাশকদের সমিতিও অব্যাহতভাবে পাঠক জরিপের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে উপযুক্ত কর্মকৌশল।
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের দিক থেকেও আমরা সমস্যাটিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নিরীক্ষামূলক কাজ করে যাচ্ছি। প্রথমত, আমরা বোঝার চেষ্টা করছি সমস্যাটি কেন হচ্ছে? মূল গলদটা কোথায়? দ্বিতীয়ত, আমরা দ্রুত সমাধানের পথ সন্ধান করছি। অবলম্বন করছি নানা কৌশল। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে গ্রন্থকেন্দ্রের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে আমরা গবেষণার পথেও হাঁটছি। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী একটি গবেষণার কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিবেদনটি খুব শীঘ্রই আমাদের ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। আশার কথা হলো, কিছু কিছু বিষয় আমরা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে—যদিও সমস্যার বিশালতার বিপরীতে তা একেবারেই নগণ্য।
বইবিমুখতা বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজে এবং অনিবার্যভাবে সৃজনশীল বইয়ের বাজারেও। অথচ বইয়ের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় একটি বাজার আমাদের আছে। কিন্তু প্রকাশকদের দিক থেকে সংকটটিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে যথাযথ কর্মকৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাপক সংখ্যক পাঠককে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করার কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
৪
উপরের আলোচনা থেকে সামগ্রিকভাবে সৃজনশীল প্রকাশনা খাতে সংকটের যে-ছবিটি দৃশ্যমান হয়েছে তাকে মোটা দাগে নিম্নরূপভাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
ক. বইবিমুখতা বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজে এবং অনিবার্যভাবে সৃজনশীল বইয়ের বাজারেও। অথচ বইয়ের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় একটি বাজার আমাদের আছে। কিন্তু প্রকাশকদের দিক থেকে সংকটটিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে যথাযথ কর্মকৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাপক সংখ্যক পাঠককে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করার কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
খ. ঘোলা জল যেভাবে স্বচ্ছ জলকে হটিয়ে দেয়, তেমনি মানহীন ও নকল বইয়ের আগ্রাসনও ভালো বইয়ের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো এসব বই বিদ্যমান পাঠকবিমুখতাকে আরও তীব্র করে তুলছে।
গ. গত কয়েক দশকেপ্রকাশনা খাত প্রকাশক ও প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যার বিচারে স্ফীত হলেও পেশাদারিত্বের দিক থেকে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। ফলে পাণ্ডুলিপি নির্বাচন, পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা, চৌর্যবৃত্তি [Plagiarism] প্রতিরোধ, লেখকের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন এবং মুদ্রিত বইয়ের গুণমান নিশ্চিতকরণ থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত যে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো রয়েছে সেখানে বড় ধরনের পেশাগত ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
ঘ. পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় বইয়ের যে বিশাল বাজার রয়েছে সেই বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং তার সুফল ঘরে তোলার ক্ষেত্রেও আমরা যথেষ্ট পিছিয়ে আছি।
ঙ. সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠানও বই কিনে থাকে। সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বই বিক্রির সুযোগ ও সম্ভাবনাকে আরও কীভাবে প্রসারিত করা যায় সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার। এজন্য গবেষণালব্ধ সুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রয়োজন। সেটার ঘাটতির কথা এ নিবন্ধের শুরুতেই বলা হয়েছে।
খুব নির্দিষ্ট করে যদি বলি, পঞ্চাশের ও ষাটের দশকে ভাষা ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক যে জাগরণ তৈরি হয়েছিল এর জন্য সেরকম একটি সামাজিক জাগরণ দরকার। এখানে সবার আগে প্রকাশকদের এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে।
৫
অনস্বীকার্য যে সমস্যাটি বেশ জটিল এবং তার নিয়ন্ত্রণও পুরোপুরি আমাদের হাতে নেই। কেননা এর সঙ্গে বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক বাস্তবতারও যে একটি যোগসূত্র রয়েছে তা কারো অজানা নয়। একদিকে ভোগবাদী বিশ্বব্যবস্থার একচ্ছত্র প্রভাব, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মহাবিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট অভিঘাত আমাদের চেনা সমাজকে তছনছ করে দিয়েছে। হরণ করে নিয়েছে মানুষের সব সুস্থির অবকাশ—যা বরাদ্দ ছিল মূলত বইয়ের জন্য। সর্বব্যাপী বইবিমুখতার পেছনে ভোগবাদী মানসিকতার পরোক্ষ প্রভাবের পাশাপাশি প্রযুক্তির এই আগ্রাসনের প্রত্যক্ষ ভূমিকাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এ বাস্তবতাকেও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। সেসঙ্গে আমাদের নোটগাইড ও কোচিং নির্ভর একচোখা শিক্ষাব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী কুফল তো আছেই।
সব মিলিয়ে, সৃজনশীল ও মননশীল বই থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবার—কারো জন্যই এটা ভালো লক্ষণ নয়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এ নিয়ে বিদগ্ধজনদের মধ্যেও কিছু ভুল ধারণা রয়ে গেছে—যা বিভিন্ন পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। সৃজনশীল বইয়ের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার হলে প্রকাশকরা ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হবেন এটা সত্য, কিন্তু তারপরও এটি কিন্তু নিছক বাণিজ্য নয়। এর সঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক, মানবিক ও রাজনৈতিক বিকাশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছিলেন যে সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ লাগবে। সেই সোনার মানুষ এমনি এমনি তৈরি হয় না। এর জন্য সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি প্রথমত ও প্রধানত যে জিনিসটি দরকার সেটি হলো—বই, সৃজনশীল ও মননশীল বই। এই একটি কাজ ঠিকমতো করতে পারলে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তপনা ও মাদকাসক্তিসহ বহু জটিল সমস্যা থেকে আমরা সহজে পরিত্রাণ পাবো।
এখন প্রশ্ন হলো—কাজটি করবে কে? উত্তর সহজ: আমি, আপনি। কোথা থেকে শুরু করতে হবে? প্রথমত পরিবার থেকে, দ্বিতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবং তৃতীয়ত, নিজ নিজ পাড়া-মহল্লা থেকে। খুব নির্দিষ্ট করে যদি বলি, পঞ্চাশের ও ষাটের দশকে ভাষা ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক যে জাগরণ তৈরি হয়েছিল এর জন্য সেরকম একটি সামাজিক জাগরণ দরকার। এখানে সবার আগে প্রকাশকদের এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে।
বই পাঠের প্রতি পাঠকের রয়েছে সীমাহীন আগ্রহ,উদ্দীপনা। কিন্তু মানসম্পন্ন বই না হলে পাঠকের তৃষ্ণা নিবারণ হয় না। এতে করে সে তৃষ্ণার্ত থাকে তবুও দূষিত পান থেকে বিরত থাকে! এর বাইরে দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় অনস্বীকার্য যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো জ্ঞাতে অজ্ঞাতে কিংবা নেশায় আমাদের বই পড়ার মতো সৃজনশীল কাজটিকে অনেকাংশেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে এর থেকে বের হয়ে আসা অসম্ভব কিছুই নয়,কিন্তু সে উদ্যোগটি নিতে হবে আমাদেরই। মানে পাঠকদেরই।
মোহাম্মদ আলী রিফাই
মে ১৯, ২০২৩ ০৮:২৮
এই জাগরণ আর সম্ভব হবে না।
পিয়াস
মে ১৯, ২০২৩ ১২:১৫



বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সুযোগ রয়েছে l এ বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য প্রবন্ধকারকে ধন্যবাদ জানাই I
বিমল গুহ
মে ১৮, ২০২৩ ১৩:৪৪