‘নহ মাতা নহ কন্যা’
এই মফস্বল শহরে একটাই মাত্র ব্যাংক। ধনী-গরিব সবারই এখানে আকাউন্ট। নানাকারণে আমার নিজেরও একটা খাতা খুলতে হয়েছে এখানে। দশটা পাঁচটার চাকরি যখন ছিল, তখন খুব একটা এখানে আসা হয়ে উঠত না। তা ছাড়া এখানকার ভিড়ের কথা ভেবে খুব একটা প্রয়োজন না পড়লে আসতাম না। তবে অবসর নেবার পরে ইচ্ছা বা অনিচ্ছা সত্বেও এখানে আসতেই হয়। বিশেষ করে পেনশনের টাকা তুলতে তো বটেই, অন্য নানান কারণেও আসতে হয়। অবসর জীবনে সময় কাটাবার নানা উছিলার একটা হলো এই ব্যাংকে আসা। মাসে দু’বার তো বটেই, কখনও কখনও তিন/চার বারও আসি। এই আসা যাওয়ার সূত্রে দেখেছি মাসের দ্বিতীয় তৃতীয় সপ্তাহে ব্যাংকে লোকজনের ভিড় অপেক্ষাকৃত অনেক কম। তাই আমি চেষ্টা করি ওই সময়েই এখানে আসতে। এমনই এক সময়ে ব্যাংকের এক কর্মী সুজাতার সঙ্গে আলাপ। বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোট, বেশ বুদ্ধিদীপ্ত মুখশ্রী। কাউন্টারে বসে অবসর সময়ে বই পড়ে। কারো সঙ্গে যেচে আলাপ করা আমার স্বভাববিরুদ্ধ। এক্ষেত্রে অবশ্য মেয়েটির সঙ্গে আলাপ করার জন্যে অবশ্য আমাকে অগ্রণী হতে হলো না। মেয়েটি নিজেই একদিন কথা বলল। অতি সাধারণ দু’চারটি কথা। তারই সূত্র ধরে একটু একটু করে জমে উঠল সখ্য। বলাবাহূল্য এরপরে ওর আকর্ষণেই মাঝে মাঝে ব্যাংকে যাই। সুজাতা তাদের ক্যান্টিনে নিয়ে গিয়ে চা খাওয়ায়। এটা-ওটা নিয়ে কথা বলে। বেলা দু’টোর পরে গেলে অনেকটা সময় ওকে একা পাওয়া যায়।
বয়সে প্রায় চল্লিশ বছরের ছোট। তবু সুজাতার সঙ্গে এক ধরনের অসম বন্ধুত্ব হয়েই গেল আমার। একদিন ওকে আমাদের বাড়িতে আসতে বললাম। উলটে ও নিজেই আমাকে ওদের বাড়িতে যেতে বলল। বাড়ি খুব বেশি দূরে নয়। কুড়ি/পঁচিশ কিলোমিটারের দূরত্ব মাত্র। অনেক দ্বিধার অবসান ঘটিয়ে একদিন গেলাম ওদের বাড়িতে। বাবা মায়ের সঙ্গে আলাপ হলো। দাদা বেঙ্গালুরুতে কাজ করে। বাবা, মা, বৌদি ও ছোট দুই বোনের সঙ্গেও আলাপ হলো। বাড়ির লোকেরা আমাকে খুব সমাদর করল। কথায় কথায় সুজাতার একটা পাত্র দেখে দেবার জন্যে ওর বাবা মা খুব করে অনুরোধ করল। সুজাতাকে আলাদাভাবে তা নিয়ে জিজ্ঞেস করাতে ও খুব স্পষ্টভাবে তার পছন্দের কথা জানাল। ও ঝকঝকে স্মার্ট রোজগেরে পাত্র চায়। এর আগে অনেক পাত্রের সন্ধান যে ওরা পায়নি, তা নয়। তবে তাদের সুজাতা পছন্দ করেনি। অনেক পাত্রই এগিয়ে এসেছিল সুজাতার ভালো রোজগারের আকর্ষণে। কিন্তু সুজাতা যে তার বাবা মায়ের দায়িত্ব অস্বীকার করবে না, এটা জেনে অনেকেই মানে মানে কেটে পড়েছে। বলা যায় এইভাবেই একটু একটু করে জড়িয়ে পড়লাম ওদের সঙ্গে।
সুজাতার জন্যে দু’একটা পাত্রের সন্ধান যে আমি দিতে পারিনি তা নয়। কিন্তু কোনটাই ওদের পছন্দ হয়নি। ওদের বলতে সুজাতা নিজেই সেগুলো খারিজ করেছে। আমি অবশ্য এতে খুব স্বস্তিবোধ করেছি। কেননা এইসব ব্যাপারে আমার অতীত অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখের নয়। তবু আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবারের বিজ্ঞাপনের পাতায় পাত্র-পাত্রী কলাম নিয়মিত দেখি। দু’একটার কথা সুজাতাকে জানাই হোয়াটসঅ্যাপে। তেমন কোনও সাড়া না পেয়ে বুঝতে পারি এইভাবে মন মতো পাত্র খুঁজতে খুঁজতেই মেয়েটার বয়েস ছত্রিশ পেরিয়ে গেছে। ওর জন্যে একটু মন খারাপ হয়। কিন্তু জানি এই সমস্যার সমাধানের সূত্র আমার অজানা।
একদিন অবাক করে দিয়েই সুজাতা আমাকে মোবাইল ফোনে তার আসন্ন বিয়ের সুসংবাদটা দেয়। হ্যাঁ, পাত্র পাওয়া গেছে অবশেষে। প্রবাসী দাদার এক সহকর্মী পাত্র, সুদর্শন। বিয়ের পরে সুজাতাকেও প্রবাসী হতে হবে। তাতে অবশ্য কোনও জটিলতা নেই। বিয়ের পরে ওখানে ট্রান্সফার নিতে পারবে সে। ওদের ব্যাংকে এই সুবিধাটুকু আছে এখনও। খবরটা পেয়ে মনটা আনন্দে ভরে যায়। অবশ্য বলতে দ্বিধা নেই, আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে একটু যে বিষণ্ণতার অনুভব হয়নি তা নয়। কিন্তু সেই বিষণ্ণতার সঠিক কারণ অবশ্য খুঁজে পাইনি।
সুজাতার বিয়ের আয়োজনে আমি একটু একটু করে জড়িয়ে পড়ি। বিয়েবাড়ি ঠিক করা থেকে নেমতন্নের চিঠি তৈরিতে ও আমার পরামর্শ নেয়। মাঝেমাঝে আমার নিজের ভিতরেই প্রশ্ন জাগে মেয়েটি আমার কে! ওর জন্যে আমার এত মাথাব্যথা কেন? আমার নিজের বাড়ি থেকেও এ নিয়ে অনেক কটুকথা আমাকে শুনতে হয়েছে। আমি তবু কোনওভাবেই সুজাতার ব্যাপারে নিজেকে কিছুতেই বিযুক্ত করতে পারিনি।
বিয়ের আয়োজনে কার্পণ্য করতে চায় না সুজাতা। চাকরি পাবার পরে সংসারের সব দায় মিটিয়ে দশ বছর ধরে একটু একটু করে টাকা জমিয়েছে মেয়েটা। ওর মাও মেয়ের জন্যে কিছু গয়না গড়িয়ে রেখেছে। ওদিকে দাদা একটা বড়ো অঙ্কের টাকা পাঠিয়েছে বোনের জন্যে। সব মিলিয়ে বেশ একটা জমজমাটি আয়োজন হতে চলেছে বুঝলাম। এলাকার সবচেয়ে দামি বাড়িটা ঠিক করা হয়েছে। একটু দূরের বড়ো শহরের পার্লার থেকে আসবে সুজাতাকে সাজাতে। ওর এক সহকর্মী একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার ঠিক করে দিয়েছে বিয়ের যাবতীয় ছবি তোলার জন্যে। পুরো ব্যাপারটিকে একরকম ধ্রুপদি চেহারা দিতে চায় মেয়েটা।
ক্রমশ বিয়ের দিন এগিয়ে আসছে। হঠাৎ একদিন শুনলাম বর্ধমানের এক বনেদি বাড়িতে পাত্র-পাত্রীর প্রি-ওয়েডিং ফটো শ্যুট হবে। এমনটা তো আজকাল আকছার হচ্ছে। সবই হয় বিপুল অর্থের বিনিময়ে। কিন্তু হঠাৎ আমার কাছে সুজাতা আবদার করে বসল, ওই দিন আমাকে ওদের সঙ্গে থাকতে হবে সারাদিন। আমি একটু কিন্তু কিন্তু করছিলাম। কিন্তু আমার কোনও ওজর আপত্তি টিকল না শেষ পর্যন্ত। অবশেষে একদিন ওদের সঙ্গে লং ড্রাইভে গেলাম। দু’জনার নানা ভঙ্গিমার ছবি তোলা হলো। নানান সাজে ওদেরকে সিনেমার নায়ক-নায়িকা মনে হচ্ছিল। শুটিং-এর সময় আশে পাশের বহু কৌতূহলী জনতার ভিড় জমে গিয়েছিল।
এত কাণ্ডের পরেও বিয়েটা ভেঙ্গে গেল সামান্য একটা কারণে। বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখের দিন সাতেক আগে সুজাতাদের বাড়িতে আশীর্বাদের আয়োজন। সেটাও একটা ছোটখাট বিয়েবাড়ির চেহারা নিয়ে নিয়েছিল সেদিন। যথাসময়ে অনুষ্ঠান পর্ব শেষ হলে বরযাত্রী এবং তত্ত্ব পাঠানো নিয়ে দুই পক্ষে মতানৈক্য দেখা দিলে সেটা প্রায় ঝগড়াঝাটির পর্যায়ে চলে গেল। ব্যাপারটা ঘটল মূলত পাত্রের এক মামা আর সুজাতার এক খুড়তুতো দাদার তুমুল বাকবিতণ্ডার কারণে। আমি তো নির্বাক দর্শক। সুজাতার সঙ্গে দেখা করতে গেলে দেখলাম ওর থমথমে অশ্রুসজল মুখটা। কী যে বলব ভেবে পেলাম না। একসময় সুজাতাই কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল, আপনাকে আমার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে জানতাম। এইভাবে সবটা দেখলেন, অথচ কিছু করতে পারলেন না! সেদিন আমি কিছু বলতে পারিনি। মাথা নীচু করে ওখান থেকে চলে এসেছিলাম সেদিন।
তারপর থেকে সুজাতার সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ কমেই গেল। ব্যাংকে গেলেও ওর সঙ্গে দেখা করি না। এখন আমি বেছে বেছে মাসের প্রথম দিকেই ওখানে যাই। ভিড়ের মধ্যে দেখতে পাই মেয়েটা মুখ বুজে কাজ করে যাচ্ছে। ও যে কাউন্টারে বসে পারতপক্ষে আমি ধারে-কাছে যাই না। তবু ওর সঙ্গে যে একেবারেই দেখা হয় না, তা নয়। তবে তেমন করে কথা আর হয় না। আমি নিজেও কেমন সঙ্কোচ বোধ করি। ওর তরফেও কোনও তৎপরতা দেখতে না পেয়ে একটু অবাকই হই। কীভাবে যেন আমাদের দু’জনার মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে গেল। কী এক অজানা অপরাধবোধে ভুগতে লাগলাম একটু একটু করে।
এইভাবে কয়েক মাস কেটে যায়। একদিন ব্যাংকের মধ্যেই সুজাতা আমাকে প্রায় জোর করে ক্যান্টিনে নিয়ে যায়। হঠাৎ দেখলাম সমস্ত জড়তা কাটিয়ে মেয়েটা সেই আগের মতোই প্রাণোচ্ছ্বল। কথাটা চা খেতে খেতেই ও বলল, আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। পাত্র এই ব্যাংকেরই এক নবাগত কর্মী। দূর থেকে ছেলেটাকে আমায় দেখাল ও। বিয়ের কার্ড যথাসময়ে পেয়ে যাবেন। না, এবার আর আপনাকে বিরক্ত করব না। তাছাড়া সবকিছু তো ঠিক করাই আছে! এখন ভালোয় ভালোয় ব্যাপারটা মিটলে হয়!
বাড়ি ফিরতে ফিরতে কেবল সুজাতার কথাই ভাবছিলাম। যাক এতদিনে মেয়েটার একটা হিল্লে হলো! সত্যি সত্যি ভালোয় ভালোয় ব্যাপারটা মিটলে হয়। আবার কোনও ঝামেলা না আসে! অনেক তো বয়েস হয়ে গেল মেয়েটার! আর কোনও ধাক্কা এলে ও সেটা সামলাতে পারবে না। এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে এলো ওর জন্যে এতশত ভাবছি কেন? ও আমার কে?
সত্যি সত্যি প্রশ্নটার কোনও সদুত্তর পেলাম না মন থেকে।
মধ্যবিত্ত পেশাজীবী বেশিরভাগ নারীদের জীবনসংগ্রামের গল্পটা সুজাতর মতোই। গল্পটা ভালো লেগেছে।
সাইয়িদ সুজন
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০০:৪০
গল্পের নিপাট বুননে কখন যে লেখক আর আমি এক হয়ে গেছি বুঝতে পারিনি.. খুব ভালো লাগল পড়ে।
তরুণ কুমার কর্মকার
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০১:১১
বাহুল্য বর্জিত, দৃশ্যত সরল কিন্ত অন্তর্গত দুঃখ বা বিষণ্নতা মনকে আচ্ছন্ন করে। অব্যক্ত অনুভূতির নিয়ন্ত্রিত প্রকাশ ভাল লাগল। "গল্পের মত" নয় ধ্রুপদী আঙীকে সুখপাঠ্য গল্প।
সাদ কামালী
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০১:৫৬
একটা সত্যিই ঘটনাকে এরম কাল্পনিক করে তুলতে একটা আবেশের দরকার হয়, পর্যবেক্ষণের দরকার হয়। অচেনা এক মেয়ের আয়নায় নিজের সন্তানকে দেখার জন্য একটা অনুভুতি দরকার হয়, দরকার হয় গভীর ভালোবাসার।
Sudipta
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০১:৪৭
ছিম ছাম একটা সুন্দর গল্প।সুজাতা আসলে কে না জানলেও, সুজাতার মতো মেয়েরা সুখী হলে ভালো লাগে।শেষটায় তাই আরাম বোধ হল।খুব ভালো লাগলো দাদা।
সুভাষ চক্রবর্ত্তী
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০১:৪৭
গল্পটি বেশ ভালো দানা বাঁধছিল, হঠাৎ শেষ হয়ে গেল।
সোমনাথ দে
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০১:৫৯
গল্পে দ্বন্দ্বটাই রইলো না। আপনার উচিত ছিল সুজাতাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া।যেখানে দ্বন্দ্ব সেখানেই গল্পের উত্তরণ।
কুমার অজিত দত্ত
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০২:১৪
'অনুগল্পের' নামকরণ অনবদ্য ! ঘটনার মোচড় আপত্ব: স্নেহে- ভরা। অসাধারণ অভূতপূর্ব এক/এক- মুহূর্ত... সারা জীবনেও যা- টাটকা, বিশ্বস্ত হয়ে থাকবে.. গল্পের নায়কের জন্য মনটা দ্রবীভূত হয়ে উঠলো ! লেখকের জন্য- শুভেচ্ছা নিরন্তর ????????
বাবলু দাশগুপ্ত
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০৪:০১
ঝরঝরে গদ্য-ভাষা কখন যে শেষ অক্ষরে পৌঁছে দিল সেটা বোঝার আগেই লেখকের রেখে দেওয়া শেষ প্রশ্নটি নিজেকে অস্থির করে তুলল! চলমান জীবন-স্রোতে বয়ে যাওয়া কোন পান্থ কীভাবে,কোন ভাবে মনের আসনে জায়গা করে নেয় তার ব্যাখ্যা হয়তো নেই। প্রকৃতপক্ষে জীবনের সংগ্রহের মধ্যে এরাও কড়ি। কিছু মুহূর্ত দাগ দিয়ে যায়। ????????
সুজয় মজুমদার।
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০৭:০৫
বৈচিত্রময় মানন জীবনে এমিন সব ঘটনা ঘটে, যা বুঝতে হলে বুদ্ধি নয়, হৃদয় লাগে। সুশীল সাহার গল্পটির বাঁকে বাক্বকে যেন সেই সহজ সত্যটি লুকিয়ে আছে। সুন্দর গদ্য, সাবলীল গতিময় চলন, সব মিলিয়ে চমৎকার গল্প।
অরুণ কর
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০৮:৩৬
ছোটগল্প। তরতরে ভাষায় এগিয়েছে সাবধানী পরিণতিতে।লেখক নায়কের থেকে সমাজের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে এগিয়েছেন।
অসীমসেন।
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ১০:২১
ব্যতিক্রমী অথচ অস্বীকার করা যায় না, এরম সম্পর্কের সুতোয় গল্প বেঁধেছেন প্রীবণ ও চিরযুবক সুশীল সাহা। লেখককে কুর্নিশ।
শিবশঙ্কর পাল, তারাপীঠ, বীরভূম
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ১১:৪০
নামকরণ চমৎকার। সহজ ভাষার এবং ঘটনার প্রবাহের একটা টান অনুভব করা যায়। এখানে সুজাতা যখন লেখক কে প্রশ্ন করে, "আপনাকে আমার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে জানতাম। এইভাবে সবটা দেখলেন, অথচ কিছু করতে পারলেন না!" তখন তার অভিমানী প্রশ্নের মধ্যে কন্যা সত্ত্বা উঁকি দিয়ে যায়। তবে এই ঘটনার পরে লেখক এর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন না হওয়ার কারণ সে ক্রমশ লেখকের সুশীল সত্ত্বাকে আবিষ্কার করে ফেলে। সে বুঝেছে লেখক একজন শান্ত নির্বিবাদী অথচ পরম স্নেহময় মানুষ। সেজন্যেই লেখকের সঙ্গে তার সম্পর্ক আবার ক্রমশ স্বাভাবিক হয়। দ্বিতীয়বার বিয়ের কথা সে লেখককে জানায় পাত্রটিকেও দেখায়। তবে এবার সে নিজের বিয়েতে লেখককে নিমন্ত্রণ করলেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে চায় না। বরং বলে, "না, এবার আর আপনাকে বিরক্ত করব না। তাছাড়া সবকিছু তো ঠিক করাই আছে! এখন ভালোয় ভালোয় ব্যাপারটা মিটলে হয়!" এইখানে সুজাতার অভিমানী কন্যা সত্ত্বা এবং মমতাময়ী মাতৃ সত্ত্বা একাকার হয়ে যায়। কন্যা হিসেবে সে আর বিরক্ত করতে চায় না। কিন্তু মা হিসেবে সন্তানকে সমস্ত ঝঞ্ঝাট থেকে আড়াল করতে চায়।তাই সুজাতা মাতা ও কন্যার মাঝামাঝি এক অসম বন্ধুত্বের সম্পর্কে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।
দেবাশিস রায়চৌধুরী
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ১৩:৩১
পড়তে ভালো লাগলো। পাঠকের ভাবনার জন্য অনেকটা পরিসর।
কৌশিক জোয়ারদার
ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৪ ০৩:২৫
সুজাতা সাধারণ, অথচ কোথায় যেন সে অসাধারণ--সুপ্ত কিন্তু লুপ্ত না। চরিত্র চিত্রন সুন্দর, জানাশোনা অনেককে মনে করিয়ে দেয়।
আশিস ঘোষ
ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৪ ০৫:৪৭
এই অনুগল্পে অনুভূতিই নায়ক। আর অনুভূতির সফল স্ফুরণ তার রেশ রেখে যাওয়ায়। সেই রেশের স্পর্শ পেলাম। কিন্তু মন শুধুমাত্র এই আলতো স্পর্শে কম তৃপ্ত হল। গল্পটি দীর্ঘ হলে অনুভূতি নামক নায়কটিকে বাঁকে বাঁকে খেলানোর সুযোগ ছিল লেখকের এবং আমরা নিশ্চিত তিনি সেটা করতেন। সাবলীল চলনের সহজ ভাষায় লেখা পাঠতৃপ্তি দেয়।
শৌনক গুপ্ত
ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৪ ১২:০৫
চমৎকার গল্প
অমিতাভ
ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৪ ১২:২৬
গল্প বলা সুন্দর হয়েছে। পড়া শেষ করে। প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনে হল এই গল্প কেন লেখা হল? লেখক অবশ্য জানেন " ও আমার কে"। পাঠক হিসাবে তা আন্দাজ করা মুশকিল। তখন মনে হল, কথক যদি "আমি সুজাতার কে?" এই প্রশ্ন রাখতেন! এই মনে হওয়া একজন গল্পবাজের।
সুরঞ্জন প্রামাণিক
ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৪ ২২:৩০
গল্প বলা সুন্দর হয়েছে। পড়া শেষ করে। প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনে হল এই গল্প কেন লেখা হল? লেখক অবশ্য জানেন " ও আমার কে"। পাঠক হিসাবে তা আন্দাজ করা মুশকিল। তখন মনে হল, কথক যদি "আমি সুজাতার কে?" এই প্রশ্ন রাখতেন! এই মনে হওয়া একজন গল্পবাজের।
সুরঞ্জন প্রামাণিক
ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৪ ২২:৫৬
এক অজানা অবুঝ সম্পর্ক আমাদেরও ছুঁয়ে থাকে!
সুশান্ত
ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৪ ০২:২৮
বাহ! ভাল লাগল দাদা। তবে হঠাৎই শেষ হয়ে গেল যেন।
নীহারুল ইসলাম
ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৪ ০৬:৪৯
বাহ! ভাল লাগল দাদা। তবে হঠাৎই শেষ হয়ে গেল যেন।
নীহারুল ইসলাম
ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৪ ০৬:৫১
ভালোই তো। গল্প লিখুন- না!
ভবানী ঘটক
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৪ ১২:৩৪
সবার জীবনেই এমন সুজাতা আছে। তারা যে আমাদের কে সেটাই একটা বড় প্রশ্ন।
অভিনব
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৪ ১৩:২৬



নামকরণ সার্থক। গল্পেরও, চরিত্রেরও। সত্যিই তো, সুজাতা-ই বা কে ছিলেন তথাগত বুদ্ধের?! কিন্তু ওইটুকু পায়সই কি সহজ করে দিল না বোধিলাভ?!
নীলোৎপল
ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৪ ০০:১০