ভালো সাহিত্য করতে করতে ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| পার্থিব মৃত্যুর পরে ||

প্রশংসা পত্র না পেয়ে পেয়ে শুকিয়ে
ভেতরটা চকির নিচে ছয়মাস পুরাতন মাকড়ের ডিমের মতো
ফাঁপা হয়ে গেলে
ঘরে স্বর্গত দাদুর ডিপোজিট চালিত টাকায় টালি হচ্ছে
সুতরাং ফ্লোরিং করে ঘুমাচ্ছি
চব্বিশ ঘণ্টা সবাই দেখে চলছে
কিছুই করছি না থির, সবাই দেখছে
সচল পৃথিবীর আমি কিচ্ছুটি করছি না
ঘূর্ণনে কোনো অবদান নেই
চুপ, নত মস্তকে,  ফ্লোরের সাথে আঁটকে, চোখাচোখি বাঁচিয়ে
আমার সেনসিটিভ দয়ার শরীরটিতে এক প্রক্রিয়ায় চব্বিশটা বছর বসতে বসতে পোঁদে পোকা ধরে গেলে
শেষে
চুলকাই
আরাম লাগে
চুলকাই,
পেটে  চুলকাই
পেটেও আরাম হয়
পরে তো ভুসভুস করে কিছু
ভাতের ডেলা বেরিয়ে এলে
এরকম ঘটনা দেখা দিলে
অন্যের মায়েরা এমন খুশি হয়ে উঠলে
যেন পার্বণ
উর্ধ্বগামী ধূম্রকুণ্ডলে চর্বি মিশে থাকে
যেন খোলা মাঠে পিঠাপুলি তৈরি হচ্ছে

 

||  নিচতল থেকে ||

আমি এক অসুস্থ মহিলা
আন্ডারগ্রাউন্ড থেকেই বলছি
যকৃৎ নয় মস্তিষ্কটা পঁচে গেছে টের পাই
এখনো অবধি
টের পেয়ে গেলে লোকে বলে পঁচেনি এখনো, ধুর
যত বাজে চিন্তা
সত্য তবু টের পাই
আমার মস্তিষ্কটা তবু পঁচে গেছে
এবং মৃত্যুর জন্যও মাঝেমধ্যে সে প্রস্তুত
পঁচা মস্তিষ্ক নিয়ে
আমি কোথাও কোনো সুস্থ মানুষ দেখতে পাচ্ছি না আর
সব মুখমণ্ডল সন্দেহ তৈরি করে—
আমার মস্তিস্ক, চোখটাও পঁচে গেছে
পঁচে গেছে অনুভূতি
মিরর মিরর মিররও বলে, খারাপই হবে শেষপর্যন্ত সব
আমিও বলি পঁচেনি এখনো, ধুর সব বাজে চিন্তা
ঘিলু গলে পড়ে
গলে পড়ে হাড়মাস
বাড়ির বেড়াল এসে চেটেপুটে খায়
আমরা সকলে সঙ্গে ভাত মাখিয়ে দিই
আমার অনুভূতি পঁচে তীক্ষ্ণ হয়েছে
বেড়াল কুকুরে আমার ঈর্ষা হয়।

 

||  ব্যক্তিগত অস্তিত্ব দ্বিধা ||

ওরা আমাকে দিয়ে কী করাতে চাইছে আমি জানি না
তাকালে দেখতে পাবে শয়তান মানবকূল ঠা ঠা করে হাসে
স্বাভাবিক করে হাসে
শয়তানের কোনো ভনিতা নেই
মানবকূল জন্মলগ্ন থেকে ভনিতা বিহীন শয়তানি করে আসে
মন খারাপ হলে শয়তানি করে
কেউ কেউ কষ্ট করে ভালো হয়
সবে ভালো নয়, কেউ কেউ
শিখতে হয় নিজের পেছন মারা সংক্রান্ত ধূর্ততা।
ডান হাতের আঙুলে চব্বিশ ঘণ্টা আঁশটে গন্ধ

আমি কোথায় যাবো ঠিক বুঝতে পারি না
ছাদে বসে যারা আমাকে এখনো স্বীকার করে নিচ্ছে না
ওরা আমাকে দিয়ে কী করাতে চায়
আমি কি অলীক চিন্তা কিছু?
আমি কি জন্ম নিলাম না আজও?
সমগ্র শয়তানেরা মানবকূল সবে বুড়ো হয়ে গেল
বুড়োদের যথারীতি ভীমরতি হয়েছে ধরে নিয়ে এগুবো ভাবছি

 

||  নিঃসঙ্গ ||

পেছনে তাকালে সোনালি দিন
পিঠে একটা ফলের মাছি বসে আছে
যেকোনো সময় উড়ে যাবে বলে
ভয় পাই

নৈঃসঙ্গ স্বভাবত কালো বলে ভয় পাই
নেতিবাচক ভঙ্গিমায় বলছি না
কিন্তু ভূত আসবার নিয়ম বলে ভয় পাই
চলেই এলে, নৈঃসঙ্গ বৃষ্টির রাতে বলে
পৃথিবীর পর্দায় সিনিক কালো রং চরাচর জুড়ে লেপে দেয় বলে
যেয়ো না যেয়ো না, বলে ভয় পাই

মনোগামী সাধ, বুঝেছি কালো রাত
সদা পলিগামীর আবরণে বিভ্রাট করে
আসে যায় যায় আসে
ভান্টা ব্ল্যাক গাঢ়তর হয়
অন্ধকার হতে থাকে
নেতিবাচক ভঙ্গিতে বলছি না
নৈঃসঙ্গই ক্লাসিক বলে
তবু নিঃসঙ্গতা আজ ভয় দেখালে
তবু নিঃসঙ্গতাকে আজ ভয় করে

 

||  ভালো সাহিত্য করতে করতে ||

একটা তাঁদের বাড়িতে বেঁধে রাখা পাঁঠা কচি কণ্ঠে এমন করে ডাকছে! কাদের বাড়ির ছেলেকে যেন কাল ফাইনাল দেখতে আসবে। কাদের বাড়ির ছেলের বিয়ে লাগল বলে। তাঁদের বাড়িতে বলি হতে পাঁঠাটি ডাকছে এমন রূপে যে আমি আর সইতে পারছি না। আমার কি, এখনই হাইটাইম, পাঁঠা খাওয়া ছেড়ে দেওয়া উচিত? ত্যাগ করা উচিত সর্বভুক প্রবণতা? কোথায় কবে কোন ছেলের বিয়ে হলো তা জেনে কে কবে বড়লোক হয়েছিল? তার চেয়ে ভালো, ভালো সাহিত্য করতে চুপচাপ ইনভিসিবল থাকা। ভেতরে অবসন্নতা উচাটন করলেও বাইরে বিয়েতে খেতে যাওয়া। নাচ দেখা। আর যতিচিহ্ন পাল্টানোর কথা মাথায় এলে তড়িঘড়ি বাড়ি চলে আসা।