দীপ্তি দত্তের একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘ঘোমটার নিচে’

অ+ অ-

 

শিল্পীকথা || দীপ্তি দত্ত

চিত্রশিল্পী, শিল্পালোচক ও গবেষক। দীপ্তি দত্তের দৃশ্যভাবনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুইটি কাজ—‘রাষ্ট্র কি একটা লিঙ্গ (২০১৮) এবং রেলওয়ে কলোনির ঘরের শিল্প (২০১৮)। প্রকাশিত প্রবন্ধ পুরুষের ব্রতকথা: নেত্রকোণা জেলার তিনটি নমুনা ও পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব, লোক-ইমেজ সংস্কৃতি: রিকশাচিত্রে পদ্মমটিফ, ভাষা আন্দোলন ও শিল্পী মুর্তজা বশীর, ঢাকার বর্তমান রিকশাচিত্র, নারী প্রতিমায় জয়নুল দর্শন, সাহিত্যে বাস্তুবিদ্যা, বহিরাঙ্গণে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, সুলতানের নারী পাঠ ইত্যাদি। চলমান গবেষণায় রয়েছেনগরের সমসাময়িক লোকশিল্পের স্বরূপ সন্ধান, লৈঙ্গিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিল্পইতিহাসে শিল্পী এসএম সুলতানের নির্মিতি ও সুলতানের নিজস্ব বাস্তবতা অনুসন্ধান, বাংলাদেশের রিকশাচিত্র, ম্যুরাল ও আলপনা। তিনি কাজ করছেন প্রাক-আধুনিক ভাস্কর্যের ইতিহাস নিয়েও। ২০২৩ সালে তিনি দৃশ্যশিল্পের একটি প্রস্তাবনা: মুক্ত বাতায়ন স্মরণিকা জাদুঘর স্মারক দুর্ঘটনা শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেন। সম্পাদনা করেন অনিয়মিত পত্রিকা চাড়াল। তার আগ্রহের বিষয়মাতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতি; বিউপনিবেশায়ন; লোকায়ত ও আদিবাসী সংস্কৃতি; নারী ও ধর্মীয় আচার; লৈঙ্গিক এবং প্রাচ্য-ধারণা প্রসূত শিল্পের রাজনীতি। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।

 

শিল্পকথা || ঘোমটার নিচে

শিল্প চর্চা লোকে কেন করে, আমি এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। আমি শিল্পচর্চা করিএটাও আমি বলতে পারব না। রাগ, ক্ষোভ বা হতাশার তীব্র বোধ ছাড়া আমার কিছুই প্রকাশ পায় না ছবি হয়ে। বন্ধুজন বলেন, তাহলে নাকি আমার ছবি ছবি নয়, প্রতিক্রিয়া মাত্র। আমার তাগিদ প্রকাশে, ক্রিয়া, না প্রতিক্রিয়া তা ভেবে করা নয়। তবে আমার ছবি যদি প্রতিক্রিয়া হয়, তাহলে আমাদের ক্রিয়াগুলো নিশ্চয়ই ভাবনার বিষয়। আমার সময়ের যখন কোনো হাত-পা নাই, যখনই সময় কেবল হত্যায় উদ্ধত, আর আমি কেবল অ্যামিবার মতো বেঁচে থাকার চেষ্টা করে যাই, বোধবুদ্ধি যখন গলা টিপে ধরেতখন হাতের কাছে সহজে যা পাই, তাই দিয়ে কিছু করি বা লিখি। হাতের কাছে পাওয়া ইমেজগুলোকে রূপান্তরিত করি আমার নিজস্ব ভাষ্যে। যদিও এসবের বেশির ভাগই প্রকাশ করা হয় না। লেখা বা করা ছবিরাও দম বন্ধ হয়ে মরে যায়, অন্তত আমারগুলো। সেখান থেকে মনের কিছু আলে-বালে ছবি কোলাজে বা রঙে বের করে এনেছি। ছবি করা বা লেখার মধ্যে কোনো তফাৎ বোধ করি না, প্রকাশের তাগিদের দিক থেকে। ছবি পড়ানোর জন্য গ্যালারিতে টাঙিয়ে বসে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না বহুদিন চেষ্টা করেও। যেমন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করাও আমার জন্য সহজ কাজ নয়। এই অসহজ স্ব-ভাবের কারণে বহু ছবি জন্ম নিয়েও সুরক্ষিত নেই আর। তাই এইভাবে অনলাইনে ছবি পড়ার আমন্ত্রণ জানানো আমার জন্য সহজতর হলো।

প্রতিধ্বনি আয়োজিত দীপ্তি দত্তের ঘোমটার নিচে শিরোনামের অনলাইন চিত্র প্রদর্শনীটি চলবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ নাগাদ।

 

ঘোমটার নিচে ||

পাহাড়, ডিজিটাল কোলাজ | ২০২৫

 

ঘোমটার নিচে || ২

পিতা ও শিশু, ডিজিটাল | ২০২৫

 

ঘোমটার নিচে || ৩

যক্ষ, মিশ্র মাধ্যমে কোলাজ | ২০২৫

 

ঘোমটার নিচে || ৪

নিখোঁজ, ডিজিটাল কোলাজ | ২০২৫

 

ঘোমটার নিচে || ৫

নিখোঁজ, সম্পাদিত ছবি | ২০২৫

 

ঘোমটার নিচে ||

দুই বোন, সম্পাদিত ছবি | ২০২৫

 

ঘোমটার নিচে || ৭

আমি, মিশ্র | ২০১৭

 

ঘোমটার নিচে || ৮

শিরোনামহীন, ত্রিমাত্রিক বস্তু, মাটি | ২০২৫ | উপস্থাপন ভাবনা: দীপ্তি দত্ত, নির্মাতা: স্বর্ণা দত্ত

 

ঘোমটার নিচে || ৯

যুগল, এক্রেলিক | ২০১৫

 

ঘোমটার নিচে || ১০

শিরোনামহীন, মিশ্র | ২০১৫

 

ঘোমটার নিচে || ১১

শিরোনামহীন, এক্রেলিক | ২০১৫

 

ঘোমটার নিচে || ১২

শিরোনামহীন, এক্রেলিক | ২০১৫

 

ঘোমটার নিচে || ১৩

প্রেমপত্র, এক্রেলিক | ২০১৮

 

ঘোমটার নিচে || ১৪

শিরোনামহীন, ডিজিটাল কোলাজ | ২০২৫

 

ঘোমটার নিচে || ১৫

জড়জীবন, ডিজিটাল কোলাজ | ২০২৫

কপিরাইট © দীপ্তি দত্ত