অ্যালস্ট্রোমেরিয়া ও অন্যান্য কবিতা
|| অ্যালস্ট্রোমেরিয়া ||
তোমার ফোটনপথে বসে সিগন্যাল দিই হৃদয়ের
তুমি একবারও দেখোনি ফিরিয়া
ফটোনিওন নেটে
গভীর রাতের গন্ধ পাঠিয়ে অপেক্ষা করি, তুমি
শুঁকেও দেখো না তো স্মেল ডোমে
ধবধবে পেটুনিয়া ফুল, নাকি কারো হৃদয়ের চিঠি?
আমার শহর থেকে সেদিন তোমায় দেখি—
তোমার সিটির বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছড়াচ্ছ ঘ্রাণ,
কৃষ্ণপক্ষরাতে খোলা দেহে
ডানা মেলা চাঁদ যেন তুমি—
আমার হৃদয় টলমল করে
সমুদ্রের ঢেউ এসে দুলিয়ে দিচ্ছিল যেন
মাতাল ভ্রমর আমি, লোভ পেয়ে বসে,
পাঠিয়ে দিলাম স্মেল চর—
‘নিয়ে আসো হৃদয়খুশবু আমার প্রিয়ার মনোবাগ থেকে’
সুরভি জ্যামারে দিই সুরভি ডিফেন্স ফাঁকি
নিওন বেগে নিয়ে আসি তোমার একটা স্মেলকণা
হৃদয় মৌতাত করে হিল্লোল ছড়ায় প্রেমে
যেন আজীবন এই গন্ধ
এপিকের মতো ভাস্বর রাখব হৃদয়ের মেমোরিতে
অনামা, তোমার নাম দিই আজ অ্যালস্ট্রোমেরিয়া
মনে হলো এই ফুল যেমন সফেদ
তেমন হৃদয় তুমি বয়ে যাও, যেন মন্দাকিনী—
এতটা বিশ্বাস করি তোমায় জানো না
তোমার হৃদয় হোক আমার জীবন-জিপিএস—
গ্রহ থেকে গ্রহে আমি যেখানে যাইতে চাই
তোমার দেখানো পথে যাব প্রিয় অ্যালস্ট্রোমেরিয়া
নিশ্চয়ই একদিন ডাকবাক্স খুলে
হয়তো দেখবে স্প্যাম ঘরে
আমার এসব গত ফোটন-পত্রাদি পড়ে আছে
বর্ষাতির মতো প্রেম-ডোমে তোমার মাথার ঠিক ওপরে
মুভেবল আল্ট্রাভায়োলেট স্ক্যানার বসিয়ে
ডেভিল তাড়াই তোমার দুনিয়া থেকে দূরে;
নিশ্চয়ই টের পাচ্ছ? তবু কি বুঝতে কষ্ট হয়
আমার প্রেম?
তিনিয়ান দ্বীপে
আমার সোলার-নেস্টে এসো, সত্যি সত্যি পাখি পাবে
পৃথিবীর সব ফুল এখানে দেখতে পাবে
এখানে রয়েছে ‘অল ন্যাচারাল ফ্লাওয়ার্স ব্যান্ড’—
প্রতিটি ফুলের গন্ধ
সেন্টিয়েন্ট মেমোরিতে করে নিয়ে যেয়ো
পরে অন্য কোনো গ্রহে গেলে অথবা বরফ-দেশে
স্মেল হার্ট খুলে
এসব সুবাস শুঁকে নিতে পারবে সত্বর
ভারী শ্রাবণের দিনে তুমি ঘুমাচ্ছিলে
তোমার ওখানে ছিল লো ব্যান্ডউইথ
কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের জোরে পৌঁছে যাই
তোমার গভীর নিশ্বাসের খুব কাছে, উষ্ণতাও পেয়েছি টের
সাদা সিল যেন তুমি
আমার বরফঢাকা মেরু-হৃদয়ের বুকে
অ্যালস্ট্রোমেরিয়া, তোমার বাগানে যাই
নিউরো-ইন্টারফেসে নক দিই
দরজা খোলো না, বরং ব্লক করে দাও সব সিগন্যাল
মেঘের মতন ভেঙে যেতে চায় ধৈর্য
ভালোবাসা খুঁটি হয়ে ঠেক দিয়ে রাখে
এআই মানবে ঠাসা এই দুনিয়ায়ও
মাছিরা যন্ত্রণা দেয়, যেন আস্তাবল-বসুন্ধরা!
সেদিন যখন ছাদে বসে
চোখে ভার্চুয়াল হ্যাপটিক গ্লাস দিয়ে
তোমায় দেখতে থাকি, তখন মাছিরা যেন
আমার সহিত শুরু করে
মকফাইট মকফাইট, ২০০ কিমি দূরে বসে
আকাশ-পর্দায় বই রেখে পড়ো মডার্ন লুমিনা স্ক্রিনে
এসব কিছুই যেন টের পাও না
সেই বর্ণমালা পড়াকালে সকাল সকাল দাদা
বিল থেকে তাজা তাজা মাছ ধরে আনলেন নিজ হাতে
মনে পড়ে গেল
আমার খেলার সাথি গুলাবাহারের কথা—
ভেগান মিট সে খেতে পছন্দ করে না
আমার উদয়পদ্ম, ক্ষণিকের ব্যথা উপশম—
চুরি করে নিয়ে তার বাড়ি পাঠিয়েছি তাজা মাছ
অ্যালস্ট্রোমেরিয়া, জানো, আমার স্মৃতির বাম সেলে
আজও সুরক্ষিত গুলবাহার, শৈশবপাখি
সেদিন অরোরারাতে
হঠাৎ ওয়েদার-নোজে ধরা পড়ে—তোমার অঞ্চলে দ্রুত
দক্ষিণি গ্রহের
ফোটন-ড্রোনের ঝড় বয়ে যেতে পারে, পেরেশানি নিয়ে
ঘুমাতে পারিনি
পাঠিয়ে দিলাম আল্ট্রা ওয়েভ ম্যাটার, প্রতিরোধী ঝড়—
নিশ্চয় সেদিন টের পেয়েছিলে বাড়তি উষ্ণতা?
কারণ আমার প্রেম-কোড মিশিয়ে ছিলাম তাতে
অ্যালস্ট্রোমেরিয়া, অনেক অনেক দিন হলো
আমার রাডার
তোমার সামান্য দ্যুতি সুবাস ডিটেক্ট করে
নিউরাল ইন্টারফেসে
সামান্য বাতাসও দিতে পারেনি আপ্রাণ ঢেউ দিয়ে
জেনোবট পাঠিয়েছিলাম—
সামান্য সন্ধানও দিতে পারেনি তোমার, কোথায় হারালে
রুবি—অ্যালস্ট্রোমেরিয়া? প্ল্যানেট ট্রাভেলে গিয়ে
কোনো শত্রুফাঁদে আটকা পড়লে নাকি?
আমার ফোটন স্পিড ইন্টারপ্ল্যানেট ডোমে
তোমার চোখের গন্ধ সামান্য পৌঁছায় কি না অপেক্ষায় আছি
অ্যালস্ট্রোমেরিয়া, আমার বিকল্প আমি
ওয়েভে ওয়েভে খুঁজে যাব যুগ যুগ ধরে
দেহ অবসান হলেও, তবু তুমি দেখা দিয়ো
হাজার হাজার স্মার্ট ডাস্ট
এই পরিবেশে, গ্রহান্তরে তোমাকে সন্ধান করে যাবে
মনে পড়ে আজ—
দক্ষিণ মেরুতে গবেষণা করতেছিলাম, তুমি ছিলে নর্থ পোলে
হঠাৎ নকিবকণা এসে বলে, ‘এই মুহূর্তেই যেতে হবে নর্থে
ঘণ্টা খানেকের মতো সময় লাগবে’; আমার হৃদয়ে বেজে ওঠে
বাগানবিলাস বেলি-বেলি সোয়াই-পাঁচালি…
উঠে পড়ি সুপারসনিক জেট অরোরা এক্সেলে
স্পেইস টাইম ম্যানিপুলেশন সক্রিয়ই ছিল, তোমার শরীরী
দর্শন পাইব আহা, হৃদয়ে বেজেই চলে তাই
বাগানবিলাস বেলি-বেলি সোয়াই-পাঁচালি…
অবশ্য সেদিনও গিয়ে পাইনি তোমার দেখা, এনার্জি হাউস গ্রহে
জরুরি তলবে চলে গিয়েছিলে
ফিরে এলে একদিন হৃদয়ে একটা নক দিলে, পাঠালে
আমাকে অনেক মিস করো তার থ্রিডি চিত্র
দেখে বুঝলাম, মনে হলো, ভালো তুমি সত্যি বাসো, নিভাঁজ বলো না
বুঝলাম, ভালোবাসা আজীবন অন্তরাল
রাসায়নিকের খেলা, অনুভব দিয়ে তাকে বুঝে নিতে হয়
এরপর আর পাই নাই
তোমার নকিব আর আসে নাই
সুখবর দিয়ে রাখি, সত্যি খুশি হবে—হাজার কার্বন-ফার্ম দিয়ে
তোমার এলাকা শুদ্ধ করে রেখেছি প্রাণের সখা
ফিরে এসো অ্যালস্ট্রোমেরিয়া, ফ্রেশ অক্সিজেন পাবে ঘরে বসে
তোমার পাশেই চাই থাকতে থাকবও;
তখনো হয়তো বেজে যাবে—
বাগানবিলাস বেলি-বেলি সোয়াই-পাঁচালি…
পাঁচালিগাছের ডালে ডালে জৈবিক স্পিকারে
আমি চোখ বুজে ধ্যান নিয়ে
পাঠ করে যাব
ব্রেইনওয়েভ পোয়েমের ঢেউ ঢেউ সারি, এসো অ্যালস্ট্রোমেরিয়া
এসো এই গ্রহে ফিরে আমার বাগানে হৃদয়ের সুরা নিয়ে
এসো অ্যালস্ট্রোমেরিয়া—আমার দুপুরমণি
হারায়ে যাওয়া কোনো সৌরবনে সখা ভাগীরথী ভাগীরথী
|| আনাস ঝরার শাওন দিনে ||
ধুল উড়িয়ে কূল কাঁপিয়ে ঘোড়ার খুর
পলাশ-পলাশ লালে ভেজা
আষাঢ়-শাওন
অধ্যায়—
জোয়ার আসে থোকায় থোকায়
সারি সারি আনাস-ঢেউ
উথালপাতাল
রাস্তায়
সিঁদুরমেঘের দুপুরমণি মিছিল দিয়ে
পাড়ায় পাড়ায় গনগনিয়ে
ফুটছে গাইছে
গান—
ট্রিগার-চাপে রুবির মতো রঙিন হয়ে
পড়ছে ঝরে শাওন-শাওন
মুক্তিপাগল
জান
টিয়ার গ্যাসে হাঁপ উঠেছে নগরজুড়ে
গুড়ুম গুড়ুম অসুর-বাণে
ঝরছে পাখি
সেউ—
সকাল সকাল ঝুমঝুমিয়ে আসছে তেড়ে
আনাস-আনাস মুক্তিতুফান
দুপুরমণি
ঢেউ
কাফন-কাপড় মাথায় বেঁধে
ভাইরা যাচ্ছে তুমুল লড়ে
আমিও যাচ্ছি
মাগো মা—
সাত বছরের শিশু গেলে আমি থাকি
কেমনে ঘরে? না ফিরিলে গর্ব কইরো
জুলাই করে
তরজমা
আনাস নামের ফুলটি ঝরে বুক চিতিয়ে
দুপুরমণি রং ছাড়ে
আকাশ করে
উপুড়—
বাবা-মায়ের কোলের ওপর
শুয়ে আছে রক্তকমল
বাজছে করুণ
সন্তুর
দুপুরমণি দুপুরমণি
জুলাইজুড়ে ফোটে
আনাস-আনাস আবাবিলরা
ভয় পেলো না মোটে
ফ্যাসিবাদী মেডুসারা
যতই তোলে ফণা
আনাস-আনাস ঢেউ এসে
করে ফানা ফানা
দিনের শেষে শাওন দেখে
দিশেহারা গুমের মাতা, জাতির জাঁতা
হুড়মুড়িয়ে যায় পালিয়ে যায়—
জুলাই দেখে
শাওন শাওন রক্ত খেয়ে
অসুর পালায়, কংস পালায়
দূরের আকাশযানে—
লুকায় গিয়ে পাশের দেশে
হুড়মুড়িয়ে গোষ্ঠী নিয়ে
এই শাওনে
আনাস-আনাস পাখিগুলো
গিলে খেয়ে
হজম করতে পারল না সে
মিথ্যা গেয়ে
শাওনজুড়ে, আষাঢ়জুড়ে
দুপুরমণি দুপুরমণি বাজছে করুণ বীণ—
ফরফর করে উড়ছে চিঠি
জুলাইজুড়ে রক্তকমল রক্তকমল
আনাস-আনাস কফিন
আনাস-আনাস রক্তবীণা
জুলাই মুক্তির সহায়—
থোকায় থোকায় বজ্র নামুক
সব ফ্যাসিস্টের গায়



প্রথমটি ভালো গল্প হয়েছে ও দ্বিতীয়টিতে কবিতার ছাপ রয়েছে। ভালো লাগল।
আবেদীন জয়নুল
জুলাই ২৬, ২০২৫ ১৯:২০