আমাদের ত্বকের নিচে ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| বোহেমিয়ান ফেরোমন ||

বার বার কেন আসতেই হবে 
স্বপ্নে… বাসে…

কালো কফি। তার ঘাম। তার সৌন্দর্য্য

গিলে ফেলতে চেয়েছিলাম,
শরীরে ভেজা শার্ট।
মুখে বাদামের স্বাদ

সকালে সবাই তৃষ্ণার্ত,
মিথস্ক্রিয়া নয়— 
বাইরে আকাশ ছিল বিশুদ্ধ মনের মত সাদা

নীরব মেঝেতে বসে
একই ঘরে একটি প্রবন্ধ পড়তে চেয়েছি,
যখন ঢলেছি পরাধীন ঘুমে 
ঘন হলো, কালো রাত

 

|| ম্যানগ্রোভ ||

—তখন বাইরে বৃষ্টি সে বলল, ‘আমি আক্রান্ত’
চামড়া ফুঁড়ে ক্রমাগত বাড়ছে উদ্ধত ব্যথার
বেগুনি রক্তপাত

মাকড়সার ডিমের মত বোধহীন ঘোলা চোখ
বিক্ষুব্ধ উদ্গীরণ মাংসহীন মাংসে
ঘুমন্ত লাভার উত্তপ্ত আক্রোশ

অস্তিত্বকে ছিন্ন করতে সমস্ত নিমজ্জিত সবুজ
অলস দ্বীপের ধূসর মাটি ছুঁয়ে

জেগে ওঠার প্রস্তুতি নিয়ে 

 

|| হায়াসিন্থ ||

গ্রীষ্মের হলুদ দেয়ালে কুঁকড়ে ছিলাম মানচিত্রের মত
আড়ম্বরপূর্ণ বোহেমিয়ান স্টুডিওতে
বিছানার পাশে ফ্রেমবন্দি ইয়েটস,
সে আমাকে পড়ে শুনিয়েছিল।

রাতের প্রচণ্ড বৃষ্টিতে
ছাতার মত গুটিয়েছিল ড্যানডিলিওন
লিমিটেড এডিশন সুইট মিড-সামার।

ছিপি খোলা হায়াসিন্থের বেগুনি ভাষায়
ঢাকা ছিল তাঁর চোখের বরফ
বুকের অ্যালকোহলে

দূরে ঠেলে দিয়েছিল সে আমাকে—
জানালার কাঁচ ছিটকে সোফায়,
এখনো চাদর দিয়ে ঢাকা
কালচে-মেরুন দাগ

আমাদের চুল
আমাদের ত্বক
আমাদের ঘাম


|| আমাদের ত্বকের নিচে ||

কেবল সেই ছিল আমার চোখে
আমার জিন্স, আমার নীল নখ।
সিঁড়ির ধাপে
ঝলসানো সূর্যে অন্ধকার আমাকে
দু’আঙুলে ছবিটি তুলে দিয়েছিল সে, 

সঙ্গ পেতে দেরি হয়নি—

কয়েন, মোমবাতি আর একটি লাল গোলাপ।
চুলে হাত পরতেই বিদ্যুৎ তরঙ্গে জ্বলে উঠেছিল
শরীরের মধ্যস্থিত ফিলামেন্ট—

একসাথে
দুজনেরই 

নভেম্বরের ঝরঝরে বিকেলে
পনির আপেল, চেনিন ব্ল্যাঙ্ক আর ফুল কিনতে 
বেরিয়ে পড়েছিলাম আমরা। 

 

|| জৈবিক ||

কখনো কি দেখা হবে!
নিশ্চিত ছিলাম সে চায়নি—

স্নানঘরে সাদা মার্বেল বেগুনি তোয়ালে,
হাতের দশটি আঙুল জড়িয়ে পায়ের দশটি আঙুল।

উষ্ণ বাতাসে ল্যাভেন্ডার-সুগন্ধি-সময়
ডালিম ফুল—বাইরে বৃষ্টির স্রোত
আকাশের লাল অ্যাম্বারে সারের তীব্র গন্ধ।

আমাদের স্যাঁতস্যাঁতে পোশাকগুলো ছিল ক্লান্ত
জানালায় সূর্যের আকৃতি, প্রসেকো, ফ্রাইয়ের ঘৃণিত শাসনে
শরীরে প্রতিটি চিহ্ন ছিল বিপরীত;

মহাজাগতিক, কৃত্রিম আলোয়
পরিব্রাজকের চুল ছুঁয়ে আমি বিভ্রান্ত হয়েছি—বারবার

রুক্ষ দেয়াল আঁকড়ে আলংকারিক সুঠাম গতিপথ
ছিটকে বেরিয়ে এসেছিলাম
সৌরমণ্ডলের বাইরে—
অতিক্রান্ত পুরুষদের মত
অস্পষ্ট শীতল জলে মুক্তির কামনায়
কাঁপছিল দৈহিক উপাদান—
প্রশ্ন করেছিলাম নিজেকে,
নিশ্চিত ছিলাম সে চায়নি—


|| বিশ্রান্ত ||

আলো বদলে সিলিংয়ে এখন নতুন প্যাটার্ন,
হাতের স্পর্শে ঘোলাটে ক্রিস্টাল ডোরনব,
স্থির বাতাসে দরজা খোলা—

যেন গিলে খেয়েছে সময়

জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে যে গাছটি—
পাতা ঝরে গেছে

এভাবেই চলে গেছে সে
সকল হিসাবের খাতা ফেলে
ভাঙা কাঁচের টুকরো মুখে
মুহূর্তের ব্যবধানে


|| নিম্ফ ||

—তবুও জীবন অসীম
সেইসব অপ্রাপ্তি আর উত্তরহীন প্রশ্নে।

সবকিছুই ক্যামোফ্লাজ। কেবল রূপ ধরে থাকা।
মথ লার্ভা ফুলকো। অসম্পূর্ণ রূপান্তর।
ডানাহীন উইপোকার মতো।

নিষ্ফল অপ্রাপ্ত অবদমিত বর্ণে জীবনের সাদৃশ্যে—
বিক্ষিপ্ত ফসফরাস