অ্যাভারেজ গরমের কবিতা ও অন্যান্য
||ঋতুরিক্ত ||
মরুভূমির মনের মতো যে কারও শরীর, বৃষ্টি ও বিচ্ছেদে ভেজা। মানবীয় কল্পনার বাইরে কতদূর যেতে পারে কবিতা; তবু কবিতা লেখার মাতুব্বরি চলে মানুষের পৃথিবীতে, যেমন প্রতিটি শান্তিচুক্তির গায়ে নতুন আরও যুদ্ধের গন্ধ লেগে থাকে৷ অন্ত্যমিল নির্বাসনে দেওয়া তো যায়—দরকার কিন্তু নিয়ম করে ত্যক্ত করে লিরিক্যাল আদি-ইউরিন্যাল। আকাশ দেখার বাসি চোখ, তারপরও বিশ্বাস ‘উইন্ড উইল ক্যারি আস’, আর যৌনাতীত যে সব কুসুম প্ররোচনার অভাবে যথাসময়ে না ফোটে মর্সিয়া ক্রন্দনে; তাদের সকাশে হাস্যসঙ্গমরত আমাদের আধুরি কাহানি। চিত্রকরের স্বপ্নে আসা মাঠ রঙের খরায় ভাসে, কবিতা খানজাহান আলী (র.) মাজারের কুমিরের পেটে। দেখার জন্য আবার সেই আকাশ, শোনার জন্য ধারণাযোগ্য গান, এন্ড উইন্ড উইল নেভার ক্যারি আস।
|| অ্যাভারেজ গরমের কবিতা ||
গরমের ছুটিতে তোমার অন ডে-শরীর নিয়ে কোথায় যাবে, কী করবে; ভেবেছ কিছু অগাস্টিন? এমন গ্রীষ্মদিনে কারা দলে দলে মান্ডায় যায়, কারা নির্জনে সান্ডা খায়—তোমার কাছে নিশ্চয়ই আছে তার খবরাখবর। পরিবাগের দিকে তোমার রিক্সা ঢুকে গেলে গায়ে লাগতেও পারে হাওয়া, জল্লাদিনী-ছাওয়া। আর যারা খেতে ও কারখানাতে খাটছে ভূতের বেগার, ব্রাইটার সামার ডে-তে তুমি তাদের স্মরণে মনের আকাশে বানিও ফুলের পাহাড়। অগাস্টিন, তোমার যেসব প্রেমিকা গরম সহ্য করতে না পেরে চলে গেছে তুষারের দেশে, তাদের বরফ-হৃদয়ে মাঝেমধ্যে ডুব দিয়ে থেকো। দেখিও, প্রেম মরে গেল তার শীতল অবশেষ কতটা বাড়িয়ে তুলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন! এসি বাড়াও, এসি কমাও, এসিটা একটু বন্ধ করো, এসিটা আবার চালাও, এসিটাকে ফাকাপ হতে দাও। কাঁচা আমের টকের মতো মিষ্টি একটা ব্যাপার বৈশাখি ভাবনার কেন্দ্রীয় প্রান্ত ছুঁয়ে থাকুক। অগাস্টিন, তোমার দিকে তারানা তাক করে আছে তীর; জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে এলোমেলো স্মৃতির মীড়ে আহির-ভৈরবের ভিড়। তোমার ঘামে ভেজা বক্সারে প্রায়শই বাৎসায়ন ঘুরেফিরে। তুমি নির্বিকার লোকাল বাসে, জানলার পাশের সিটে বসে হোটেল-সমুখের গনগনে চুলায় পরোটার সঙ্গে ভাজা হতে হতে তোমার মহাকাব্যিক মন নিয়ে গরমাগরম একটা ম্যাক্সিম নামিয়ে ফেলার কথা ভাবছ নাকি, অগাস্টিন?
|| নাছোড় ||
মহানগর থেকে মফস্বলের টেনশনের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে প্রফুল্ল শুয়ে থাকা। ধুলার বিছানা। বালির বালিশ। ধোপদুরস্ত নিজেরই লাশ বয়ে চলা ০১, ০১টা ধ্বস্ত মানুষ। সমুদ্র-দিগন্ত মূলত আনগ্ন নীলশাদা আমার আত্মার বিস্তার। রক্তাক্ত কোহেনকে বহন করে চলেছি মোহাম্মদপুরে, বিরক্ত বুকোস্কিকে ফেলে দিয়ে এসেছি হাতিরঝিলে। ঝিঁঝিঁ পোকাদের ভোজসভায় ঢুকে গেছি রবাহূত। আগাম হ্যাংওভারের সকাল সাজানো। বিতিকিচ্ছিরি ভরদুপুরের পানপাত্রে নিশিরাতের নন্দন। যদ্যপি নাইটের চেয়ে বেশি নাইটমেয়ারের দাম। মধুমাখা ক্ষুধা হারাই কী করে, বিষাক্ত পিপাসার সঙ্গে? বৃষ্টিতে সব ভিজে গেছে, ঊষর শুধু বৃষ্টির গতর। ফুলের বনে ভ্রমর। কখনও পথ চলিনি তবু পায়ে কহর। জীবন, তোমার দিকে প্রেমাক্ত যৌন অভিলাষ জারি রেখে বার বার মরে যাওয়ার আগে আমাকে তো একবার জন্মাতেই হতো।



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন