প্রহসনগাথা ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| অবোধ অন্বষেক ||

এক সমুদ্র জলে
স্নান সেরে উঠিবার কালে
চামুণ্ডির শতবর্ষীয় কেশের ঝাপটায় 
ব্রহ্মাণ্ডের ধ্যান ভাঙিলে পরে
              কবিবর অক্ষর চিনিল;
এতদিনে বুঝি তাঁর ত্রিলোচন খুলিল!

আদি-অন্ত
            রূপ-রেখা
                        আকার-প্রকার
সকলই নাড়িয়া সে দেখিল এবার 
অবশেষে বুঝি তাঁর ঘুচিল সংশয়!

আপনার সাদৃশ্য লইলো খুঁজিয়া 
অক্ষয়ে-অক্ষরে
                 সকলই ছিল গাঁথা
আদি হতে
মহাপুরাণে সাজায়ে।


|| উতেরুস্ ||

আমি তোমার বাম বুকের 
পাঁজর হতে চাই
বিনিময়ে আমি দিব তোমায় 
স্বতন্ত্র উতেরুস্
যার কৃপায় তুমি বারবার
তোমার জন্ম নিশ্চিত করতে পারো।

এর রূপ-রস-গন্ধে মাতাল হয়ে 
এ-কে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করতে পারো
অথবা এর উৎকর্ষে
তুমি যৌবনের নতুন জন্ম—
উপভোগ করার উপায় বাতলে নিলে;

তুমি চাইলেই বস্তু জ্ঞান করতে পারো
কিংবা তোমার অনভিজ্ঞ জ্ঞান 
তুলে নিতে পারো বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টে 

তোমার সকল হীনমন্যতা নিয়ে 
তুমি বারবার এর কাছে নত হলে
অথচ তোমার সকল বীরত্ব নিয়ে 
এক সত্তায় বিলীন হতে পারতে
কিন্তু তুমি চাইলে না...

তোমার সীমাবদ্ধতা এই—
কী করে চাইতে হয়, তুমি তা জানোনি;
তাই তুমি তোমার একটা জন্ম 
বারংবার উতেরুসে 
ডুবে মরতে পারলেই বাঁচো! 

তবুও আমি তোমাকে দিবো
             স্বতন্ত্র উতেরুস্
যার কৃপায় তুমি আবার শুধরে নিয়ে  
যৌবনে নব জন্মের স্বাদ পেতে পারো!


|| প্রহসনগাথা ||

তোমার জন্যেই থামি—
যতটুকু নামি
ঠিক তারও অধিক উঠে আসি
আকাশের ঠিক কাছাকাছি 
যেখানে রাম আর রাবণের যুদ্ধ চলে;
        ধরণী কখনোও দ্বিধা হয় না
সীতার কলঙ্ক হলে।

কী ঘটনা ঘটে নারীর কলঙ্কে
খুঁজিতে সখি—আবারও ফিরিল ধরায়
কলঙ্কিনী রাধা বেশে
শ্যামের বাঁশি নয় বরং 
কবির গাঁথুনিই তাকে বাঁধিল ধাঁধায়!

শব্দের দখলিস্বত্ব যখন 
          সমাজপতির চয়নে
কিছু কি বদলায়, তা’য়?
যুগের পর যুগ আসে 
একই করুণ ব্যঙ্গাত্মক উপমায়;

কলিকালের লেখনি যদি 
উঠে আসে রমণীর দক্ষিণ হস্তে 
সফল চিত্র কিছু কি রচিত হয় এই বেলায়
              নাকি সেখানেও নারী থেমে রয়
লক্ষ্মণ-রেখার রক্ষাকবচে?

মৃত্যুর এপারে দাঁড়ায়ে সে ভাবে 
ঝুলে পড়া মাধবীলতা কার অভাবে দোলে 
কার লাগি বসন্তের ঝরে পড়া পাতার দল
কিছুক্ষণ ভেসে রয় জলে
           সবশেষে ডুবিল অতলে

অবশেষে—
নারী দেখিল, শুনিল, জানিল 
শেষে বুঝার-বোঝায়
ফের উচ্চারিত হয়

মেদিনী বিদার হও পশিঁ আ লুকাই

 

|| এক রৈখিক বয়েৎ ||

আমাদের দেখা হয় না অনেকদিন 
তারচে’ বলা ভালো, আমাদের কোনোদিন 
একে অপরেরে দেখা হয়ে ওঠে না 
তুঁত রঙা পাতার আহারে 
বেঁচেবর্তে থাকে যে রেশমেরা, 
            চমৎকার সব বাহারি বুননে—
বিভেদের দেয়াল তুলে দাঁড়াতে সক্ষম 
তোমার আমার প্রতিটি না দেখার মাঝে;

কুণ্ডুলি পাকিয়ে রাজ্যের সকল শীত 
এসে হাজির হবে 
          আমাদের বয়েতের উঠোনে 
কুয়াশা ম্লান হবে অতি ধীরে
ঝরাপাতার আগমনে, 
আগামীর শীতে দেখা না হওয়ার আশঙ্কায়
আমরা আরও কিছুদিন শীত পুষে রাখব!  

পাঁকা মিষ্টি কুমড়োর মাঝখানের বিচিগুলো 
খুব যত্ন করে আলাদা করতে করতে 
হাত খসে কিছু পিচ্ছিল বিচি 
ধুপধাপ মাটিতে গড়িয়ে পড়বে,  
ঠিক যেভাবে প্রতিটি পিচ্ছিল ত্বক থেকে 
খসে পড়ে তাহাদের তৃষ্ণার্ত ঠোঁট । 

ম্যানহোলের খোলা ঢাকনার মতো 
খুলে রাখা সম্ভ্রান্তের সমস্ত হৃদয়খানি
ওতে টুপটাপ গলে পড়বে 
দ্রুত ওপরে উঠতে চাওয়া সব প্রেমিকা
অথবা ক্ষুধার্ত অলস পুরুষ, তার নারীকে 
বন্ধক রেখে চাল কিনতে যাবে হাটে;

হে সম্ভ্রান্ত পুরুষগণ—
আপনাদের ছুঁয়ে দিলে আমি অচ্ছুৎ হবো না
ঈশ্বরীর ছোঁয়ায়, বরং আপনারা পাপমুক্ত হবেন 
আপনারা পাপমুক্ত হলে 
অনেক ঘরের উনুন জ্বলবে না
        তাই আপনারা আরও কিছুদিন 
পাপাত্মা হয়ে থাকুন প্লিজ! 

ওহ্! 
পাকা মিষ্টি কুমড়োর মাঝখানের 
পিচ্ছিল বিচিগুলোর মতো 
ধুপধাপ পিছলে পড়ুক তোমার হৃদয়;
ঠিক যেভাবে প্রতিটি পিচ্ছিল বয়েৎ থেকে  
খসে পড়ে আমার তৃষ্ণার্ত মন।