টেলিপ্যাথি ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| পেইন্টার ||

সেকেলে গ্যালারি—চতুর্ভুজ ফাঁকা—পেছন দিক সুরকি আর বাটা ইটের তৈরি। ভেতরে দেয়ালহীন আবছা আলো ছায়ার খেলা। শোঁ-শোঁ বাতাসের ধাক্কায় কাঁপে তিনশতাধিক পেরেক মারা কাচের চেয়ার। গ্যালারির একপাশে অসম্পূর্ণ সুইজবোর্ড মাঝে মাঝে কাঁপছে। ধোঁয়াশার দেয়াল সরাতেই—চিত্রকর জিরো সিক্স পয়েন্টে চাইনিজ কালি মাখালেন ছাইরঙা চোখে।

সূচনাটা এমনই ছিল—আসন ঘরে প্রদীপ জ্বলছে সীমাহীন। পাতা চুষে চুষে বর্ণিল প্রদীপগুলো বৃত্তাকারে— মাঝামাঝি বিশাখা লারেলাপ্পা দুলছে...

অতঃপর কিছুটা মাতলামি, মৃত্যুমুখে নির্গত গরল, আঁকো শ্লেষ্মাবৃষ্টি; তৃষ্ণার কিছু লাভা। অঢেল রং, তুলি ফুরালে চলবে না।

গত জন্মে প্রেমিক ছিলে অথবা চিত্রকর। দশক টাল খেলো শতাব্দীর ঘোরে। ভয় নেই—পাঁজরের হাড় খুলে আঁকো বিশাখার বিষ। 


|| টান ||

স্পষ্ট আর অস্পষ্ট শব্দ দু’টিতে এক ধরনের আকস্মিকতা রয়েছে। তৃতীয় যুদ্ধের গন্ধ নেই, এদিকে চতুর্থ যুদ্ধের প্রস্তুতি। তোমাকে ভাবতে-ভাবতে শরীরের মিহি ঘামে স্রোতের জন্ম হয়।
স্রোতে ভেসে যাচ্ছে দোজখের একাংশ—

অদ্ভুত! ঘামছি আমি, অথচ গন্ধ বেরুচ্ছে বারুদের

ভয়ংকর ক্ষুধা পেয়েছে
কিছু দিন গেলে পিপাসায় মরব
মৃত মানুষেরা
কেউ জানো? 

কবরে শুয়ে আছে যারা
আমাদের হয়ে উল্লাস করবে 
              তারাই প্রথম

ডেস্কের ওপর রাখা মোটা তিনখানা কিতাব 
হালকা দুলে-দুলে প্রথম কিতাবখানা 
টাইলসের ওপর আছড়ে পড়ল
একই ভঙ্গিতে 
পরপর আরো দু’খানা

চলো, 
এখন ম্যাজিক্যাল থ্রো বাদ দিয়ে জ্যান্ত একটি সাগর খাবো 
ডেস্কের দ্বিতীয় তাকে রাখা একটি জলপট
বটল গ্রিন কালার ছিপিটি ঠেসে দেয়া
পটের অর্ধেকটাতে জল
বাকি অংশে জমে আছে বিন্দু-বিন্দু জল...

স্পষ্ট?
হ্যাঁ
যে স্থানে তুমি
সে স্থান আমিময়

অস্পষ্ট? 
সামনে যে পটটি রাখা—দেখো, ওপর হতে এক ফোঁটা জল অন্য জলবিন্দুগুলোকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে মিশে যাচ্ছে; সাগরে...

 

|| অমিল ||

নেই টান
ভালোবাসা নেই কোথাও           
আবেগ-অনুভূতি
কেবলি ফরমালিটি 

ঘরগুলো যেন কেমন 
রঙটা বড় অদ্ভূত
অথবা অ্যাশ
আমি চাইনি 
তবুও এসেছে হেমন্ত
অভাব আজ
এক ফোঁটা কুয়াশার

শুকিয়ে গেছে কত 
শত বিগত দিন
সব কিছু যন্ত্র যেনো
মানুষ পায়নি
মনের খোঁজ কোনো

আজকাল চলছে
বড় আকাল 
মেলেনি সন্ধান বৃষ্টির
উঠোনে জমেনি শ্যাওলা
তবুও মেঘ
ওই যে আকাশ কালো

এখানে নেমেছে সন্ধ্যা
নেই বাতাসের ঘ্রাণ
মাতাল অন্ধকার...

 

|| টেলিপ্যাথি ||

ঈশ্বরের হাত নেই 
আর আমার পা

কারণ
একই ভৌগোলিক এলাকায় 
দু’জনের বসতি

 

|| লুকোচুরি ||

আসে যদি দুরন্ত ঝড়—
নিশ্চিহ্ন করে যত সন্ধ্যাপ্রদীপ
জানি ফুরাবে না তপস্যা আমার 

কথা দিলাম হেঁটে যাব অন্তিম এই বালুচর
তবুও এক বর্ষা খেলে যাক তোমার চোখে 
চন্দ্রঠোঁটে ঘিরে থাকুক; ধোঁয়াটে কোমলতা 

শুষে নিয়ে রাতের সবটুকু নির্জনতা
হাতে তুলে দিই যদি গোলাপি সকাল
ফিরে যাবার বেলায় শুধু একবার 
পিছু ডেকো; বোলো স্নিগ্ধ করে
ভালো থেকো... 

কথা দিলাম হেঁটে যাব অন্তিম এই বালুচর...!