প্রতিধ্বনি গল্প পুরস্কার ২০২৫-এর দীর্ঘ তালিকায় “লাশঘর’

অ+ অ-

 

লেখক পরিচিতি || আলতাফ শেহাব

গল্পকার ও কবি। জন্ম ৭ মে ১৯৮১ সালে, কুমিল্লায়। পড়াশোনা রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। বিপ্লবী ধারার প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হন ১৯৯৯ সালে। তিনি সম্পাদনা করেছেন প্রেক্ষণকবিতাপত্র। লেখালেখির শুরু তারও আগে, প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় সাহিত্যপত্রিকা প্রভাত-এ ১৯৯৭ সালে। ২০১০ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বইনুন আগুনের সংসার। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন।

লাশঘর || গল্পের সারাংশ

শুনশান লাশঘরের প্রহরী ওহাব আলীর দিনরাত কেটে যায় নিষ্প্রাণ দেহগুলোর স্মৃতি ও স্বপ্নের গলিপথে ঘুরে ঘুরে। হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে নানা বয়সী মানুষের ক্ষতবিক্ষত লাশ আসতে শুরু করায় তারই মধ্যে জন্ম নেয় এক গভীর রূপান্তর। এক কিশোরের খোলা পেটে সে দেখতে পায় ক্ষুধার বিরুদ্ধে জমে থাকা অন্নের বিচিত্র সমারোহ। এক মধ্যবয়সী মানুষের পিঠের গুলির ছিদ্রে উঁকি দেয় আপনজনের জন্য মায়াভরা এক ঘর-সংসার। এই বিমূর্ত জগৎ থেকে যখন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত ওহাব বেরিয়ে আসে, চেনা পৃথিবীটাই তখন তার কাছে হয়ে ওঠে সবচেয়ে বেশি অচেনা, সবচেয়ে বেশি বিমূর্ত। চোখের দেখা আর মনের জানার এক বিক্ষুব্ধ সংঘাতে আবির্ভূত হয় এক তৃতীয় জগৎ, যে জগৎ আস্তে আস্তে তাকে গ্রাস করে নেয়। শেষ পর্যন্ত ওহাব আলী লীন হয়ে যায় লাশকাটা ঘরের প্রতিটি নিঃশব্দের সঙ্গে।

বিচারকের মন্তব্য

গল্পের খোলা আঙ্গিনায় ইচ্ছেমতো সব বলে ফেলার অবকাশ থাকলেও লেখক সেই পথ পরিহার করে কাব্যিক অন্তঃসলীলায় সরাসরি কিছু না বলেও সবকিছু বলে দিয়েছেন। পরাবাস্তবতা ও যাদুবাস্তবতার মধ্যেকার সূক্ষ্ম পার্থক্যকে তিনি অত্যন্ত নৈপুণ্যের সাথে আলাদা করেছেন। গল্পে কিছু ঘটনা অবাস্তব মনে হয় কিন্তু ঘটে যায়। আবার, বাস্তবিকই যে ঘটনা ঘটবে বলে মনে হয় কিন্তু তা অবাস্তবই রয়ে যায়। এই ধরনের দৃশ্যাবলি সৃজনে পরাবাস্তবতার কৌশল প্রয়োগে লেখক সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছেন।