উদলা নিয়তি ও অন্যান্য কবিতা
|| সুউচ্চ ডেকের মিনার ||
একটা কম্পমান জাহাজ তলিয়ে যাচ্ছে
গভীর সমুদ্দুরে—
থেকে থেকে সাইরেন উঠছে বেজে,
ভয়ার্ত তীক্ষ্ণ ক্ষীণ শব্দ আছড়ে পড়ছে
সমতট জুড়ে,
সমুদ্রবক্ষ ক্রিস্টাল ক্লিয়ার।
শুশুক অথবা ডলফিন কেউই
মুখ তুলছে না যেন,
আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জলের স্তরে স্তরে,
সুবিধাজনক আবাস খুঁজে চলে গেছে
হাল ধরে থাকা নাবিক,
সমুদ্রের বুক জুড়ে দেবতার ছন্দপতন!
আকাশ ভেঙে ঢুকে গেছে তলতরঙ্গের নিনাদে,
লম্বিক তরঙ্গ নিয়ে দুলছে গোটা সমুদ্র,
অস্তায়মান সূর্যের সাথে ঢেকে যাচ্ছে
সুউচ্চ ডেকের মিনার,
ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে চলেছে আবহমান
প্রেমিক সমাজ।
|| সমভিব্যাহার ||
সমস্ত দিন ফেলে বসে আছি খুঁতে
জোড়বদ্ধ সঙ্গীদের হর্ষগীত,
পুলকিত নৃত্য মহাল
টুংটাং বাজছে কাঁচে,
কলহাস্যতা আছড়ে পড়ছে
সমস্ত বর্ণিল দেয়ালে।
আবহ সঙ্গীতের ইথারে বসবাস
ছড়িয়ে যাচ্ছে যুগলবন্দী মুহূর্তে
ঘোরগ্রস্ততায় বয়ে যাচ্ছে সময়,
একটি দূরবর্তী তারার ভূমিকায়
অপেক্ষমান জীবন ও যাপনে,
মানস প্রেমিক যাকে ফেলে গেছে
সংসার নামক স্বপ্নের সমভিব্যাহারে।
|| পরাবাস্তব শরীর ||
এক প্রবারণা পূর্ণিমার রাতে
পাশ থেকে উঠে চলে গেলে,
আমাদের একান্ত ঘরের কপাট
তোমার চলে যাবার আঘাতে
আর্তনাদ নিয়ে ছিটকে পড়লো পাপোশে।
আমি বিমূঢ় বিস্মিত হৃদয়ে পড়ে রইলাম
তোমার ফেলে যাওয়া চিত্রনাট্যে;
এরপর এমন গোলাকার চাঁদ এলো আকাশে
আমি ক্রমশ ভেঙে যেতে থাকলাম
তোমার হর্ষধ্বনির রণনে।
|| উদলা নিয়তি ||
নিয়তির দিকে চেয়ে আছি—
কোথায় যেন নিতে চায়
উদলা বাতাস যেমন ছাদ থেকে শাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায়,
নভেম্বরের হুটহাট বৃষ্টিতে যেমন শহুরে জলাবদ্ধতা নেমে যায়,
আসরের সেজদায় হুড়মুড় করে ওমনি কান্নায় ভেসে যাই,
সন্ধ্যায় হোস্টেলে ফিরে গরম ভাত আর ডাল দেখে গ্রোগ্রাসে গিলে খাই,
এরপর—এশারের আজানে অচেনা নীরবতা নেমে এলে
কেউ যদি বলে, চলো চা খাই
তেমনি ভেসে যাই—
নিয়তির দিকে চেয়ে চেয়ে ফুরিয়ে যাচ্ছে মন
এমনি করে।
|| জোয়ার-ভাটা ||
প্রেমিকেরা ধীরে ধীরে মন থেকে মুছে গেছে,
বিকট ও বিরল প্রদাহ বয়ে বয়ে
আজ আমি নিশ্চল নির্মোহ;
যেভাবে ভাটা সমুদ্রতট হতে লুফে নিয়ে পালায়—
সমস্ত জল,
তেমনি সরে গেছে একে একে,
জাগতিক ও সাংসারিক কোলাহলে ডুবে।
বর্ষীয়ান বৃক্ষের মত সমূহ বিরহ শুষে
আপোষে-ভালোবেসে,
কলমিলতার দেহখানা পড়ে আছে আস্তাকুঁড়ে!
আমার প্রেমিকদের ভালো হোক এই ভেবে,
সমস্ত দিনের শেষে মস্ত পৃথিবী বুকে নিয়ে
আনন্দ ও বিহবলতায় ঢুকে থাকে
ছেলে, বাবা ও বর চরিত্রে।
উৎসর্গ: আব্দুল্লাহ নাঈম



সবগুলো কবিতাই মায়া ও মোহাচ্ছন্ন। জীবনকে জ্বালিয়ে কবিতার অগ্নি-উপাসনা!
তৌহিদ ইমাম
নভেম্বর ২০, ২০২৫ ০২:১৪