এখনই দাঁড়ানোর সময় ও অন্যান্য কবিতা
|| শব্দ করো না ||
খুব সাবধান! শব্দ করো না!
শব্দের জন্য প্রস্তুত নয় বিদগ্ধ ইন্দ্রিয়
এখন আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের সহিস।
ছুটে যাচ্ছি, যাচ্ছি আর যাচ্ছি—অতি-সাধারণ-গ্রাম
বৃহৎ নগরী জমজমাট অভিজাত পাড়া
কানাগলি-পথ, মহাসড়ক পেরিয়ে পাহাড় উপত্যকা
স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার রেখে দূরে আরো দূরে...
সুমেরীয় কবির কবিতা উচ্চারিত হোক এখন,
উচ্চারিত হোক বাংলা উড়িষ্যার ইতিহাস-ভুগোল
সিন্ধু মাঝির গান আর আধুনিক জনপদের নাম
খুব সাবধান! খুব সাবধান! কেউ শব্দ করো না।
পায়ে পায়ে এগিয়ে যাই প্রদেশের সহিস
এখন বেদনাবহ ঘর প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে ঢুকরে উঠছে
প্রজ্জ্বলনের আগে খুব-শীতল মারাঠা দস্যুর বিবেক
সর্বত্র অবিনশ্বর অবিনশ্বর ভাব
অহংকারের চুল্লি জ্বলছে দিকহীন দিগন্তহীন
ভিজে যাচ্ছে অসময়ের বৃষ্টিতে সোহাগের তানপুরা।
কবি ছাড়া আর কে যন্ত্রণায় শক্তিশালী হয়?
কে খোঁজে অজস্র বিষবহ তীর, কে খোঁজে
বারংবার দুর্যোগ মোকাবেলায় নতুন নতুন কৌশল?
খুব নীরবেই রেখে যাই যত্নের পাঠশালা; শব্দ করো না।
|| নষ্টফুলের মৌসুম ||
আমি মৃত্যু ছুঁয়ে যখন অখণ্ড মহাকাল ছুঁলাম
ভেবেছিলাম সম্পর্কে বদলে দেয়া যায় সেলাইয়ের গতি
ভেবেছিলাম ভালোবাসা পেলে ভালোবাসবে
দ্রাক্ষারসের গ্লাসে চুমুক দেয়া বুনো শুয়োর,
ভেবেছিলাম কবিতা শুনলেই প্রত্যাশাভঙ্গের দুঃখ মুছে
উজ্জীবিত হবে অমীমাংসিত সম্পর্কগুলো,
কাঁচা কয়েনের মতো ঝনঝন করবে সময়ের সুন্দর
কিন্তু কিছুই হলো না; কাদায় লুটোপুটি খেল
আটকে গেল, শব্দ করলো স্বভাবগত।
আহ্ আর কথা বলো না! কথা বলো না!
মুক্ত করে দাও তামাম আপেল বাগান;
কেটে-কুটে ভক্ষণ করুক তৃষ্ণাবহ
নষ্টফুলের মৌসুম।
|| এখনই দাঁড়ানোর সময় ||
ওহে মানুষ আপনারা ফিরে তাকান,
থেমে যান, দেখুন—
এ শহরের বতিগুলো স্নান করছে রক্তজলে,
ঘর,বড়ি ডুবছে ভাসছে; হন্য হয়ে খুঁজছে মানুষ,
ভেলায় ভেসে যাচ্ছে লাশ,
জ্বলছে শিশুর চোখে আতঙ্ক, মানুষ ও সম্পদ,
উদ্দেশ্যহীন বাড়ছে জল,
বাঁচাতে গিয়ে—মরছে না কেউ, সবাই নীরব দর্শক।
ঈর্ষাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে
চারটি পায়ের ব্যবধানেও কত অসহায় সময়।
ওহে মানুষ দেখুন—এ শহরের কোথাও এখন—
ফুলের জন্য আন্দোলন নেই।
উঠে দাঁড়ান মেরুদণ্ডী সমাবেশ, এবং
প্রতিরোধ করুন, এখনই দাঁড়ানোর সময়।
|| কবিকে পাঠ করো ||
কবিকে খনন করো, কবিকে খোঁজ;
পেয়ে গেলে সন্ধি নয় বিবাদ বোঝ।
কবি কি ভাঙাঢেউ, বিরহ—বিবিধ আকাশ,
নীলখাম, স্মৃতির ঝালর, মলিন দিন-মাস?
তাকেই ভাঙো তুমি, তাকেই গড়ো;
নির্মাণে, বিনির্মাণে—যন্ত্রণায় নড়ো।
কবি তো স্বপ্নভূক, নন্দিত কারু ক্যানভাস
পুড়তে থাকে ভেতরে তার অমিমাংসিত-শ্বাস।
কবিকে পাঠ করো, পাঠ করো সমগ্র বিশ্বাস,
ছলে নয়, বলে নয়—পাঠ কর তার ধ্যান-অনুপ্রাস।
|| বিরহ বিচ্ছেদ ||
আমি আর আসবো না।
খোলা দরজার অপেক্ষা ফুরাবে না কোনদিন,
তোমরাও লিখবে না সুসম্পর্কের বাসী-কথা,
না এলে ক্ষতি নেই। কেউ বাঁধবে চুল, তুলবে বকুল,
আঙিনার গাছে জল দেবে, দু’বেলা ধরবে মুকুল।
আমি আর জানালায় দেখবো না বিবর্ণ-আকাশ
চাঁদগলে নেমে যাওয়া সুর কী অদ্ভুত মধুর,
বলবো না—বলবো না কোনকালে কোনদিন;
ঘিরে থাকুক ভাঙারোদ মিহিঅনুতাপ।
আমারে অপলক অবহেলা দিয়েছিল কবিতাপ্রেমী নিঠুর।



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন