লেট দেয়ার বি বুলেট

অ+ অ-

 

এখন কি শ্রাবণ 
চারিদিকে মেঘের গন্ধে 
অচেনা অস্থিরতার বিন্দু বিন্দু বরফ
কবে থেকে বর্ষাকাল লাল হতে শিখল
এমন বৃষ্টির দিন 
বারুদের বৈশাখ হলো কী করে
রক্তের ভেতর বয়ে যাচ্ছে উন্মাদনার 
দিন তারিখহীন গহিন স্রোত
আগুনের মৌমাছি মিশে যাচ্ছে 
রক্তক্ষরণের খরতাপে
বুকের নদীতে ভেঙে পড়ছে ফুঁসে ওঠা 
একশ বঙ্গোপসাগর
লেগেছে রে লেগেছে
রক্তে আগুন লেগেছে
কি করে লাগল আগুন রক্তে 
রক্তের নিশ্ছিদ্র দ্রাঘিমায় পৌঁছে গেল আগুনের গ্যালিভার
কখন কিভাবে 
এইসব প্রশ্নের আড়ালে
রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাজপথ
পথে পথে শহীদের আত্মার আত্মনিবেদন
রক্ত মাংসের আত্মকথা 
প্রতিটি রাজপই আজ  শহীদ মিনার
প্রতিটি জনপদ যেন মৃতের শহর
জীবিতদের চোখে মুখে মৃতদের ছায়া
থমকে আছে সময়
হিম-শীতল হয়ে আছে ঘড়ির কাঁটা
আকাশের চিল 
শহরের কাক ও কুকুর 
গাছের ফুল ও ফুসফুস
প্রত্যেকের ভেতর বিভ্রান্তির তির ধনুক
এটা কি মানুষের শহর
মানুষ কি করে হারিয়ে ফেলল মানুষের উত্তাপ
কবে থেকে জমা হলো পাপের প্যারাডাইস
রক্ত ও মৃত্যুর মাঝখানে
নীরবতার দ্বীপ
একি কবরের নিস্তব্ধতা
নাকি নতুন করে ফুঁসে ওঠার নিঃশর্ত মধ্যবিরতি
কিম্বা পূর্বাভাসের প্রসব বেদনা
একটি ঝড়
দুইটি ঝড়
তিনটি ঝড়
অনেক অনেকগুলো ঝড়
একসাথে 
একই সমান্তরাল জ্বলে উঠবে
নিঃশব্দের প্রহর বয়ে যায়
ঘন্টা বাজছে দূরের কোনো দুঃস্বপ্নে
দুঃসময়ের বিদগ্ধ চোরাবালিতে বেড়ে ওঠে
আমাদের সন্তানেরা
তাদের প্রাপ্য ছিল আরও গাঢ় বিশ্বাস ও
বায়ুমণ্ডলের বর্ষণমুখর মহাকাব্য
তবু আমাদের সন্তানেরা বেড়ে ওঠে
অনেক শূন্যতার ভেতর 
ভোরের ভূখণ্ড নিয়ে
আহা আমাদের সন্তানেরা
আমাদের প্রিয় সন্তানেরা
কলিজার কাঠবিড়ালি
আমাদের স্বপ্নের সোনালি রোদের রাষ্ট্রদূত 
আমাদের সন্তানেরা প্রাণের প্রবাদ
হৃদয়ের গহিন প্রবচন
আমাদের রক্তের সাথে মিশে থাকা
রক্তকরবী
ওরা তরুণ তুর্কি
কিশোর প্রাণের জলপ্রপাত
যার ঝিরঝির শব্দের বাগানে মিশে আছে
আমাদের আগামীর বন্দনাগীত
সুদিনের কোমলগান্ধার
ওদের মায়াবী মুখে পড়েনি 
দহনের দাগ 
ছলনার ছায়া
কি সতেজ উচ্ছল মন
সবুজ মুখচ্ছবি
ওদের মুখের দিক তাকালে মনে হয়
বেহেস্তের বাতাস বয়ে যাচ্ছে বসন্ত দিনে
এমন আদরমাখা লাল টুকটুকে সন্তান
পরানের পরান
আত্মার অনুবাদ
সময়ের ডাক শুনে
পড়ার টেবিল ছেড়ে সরাসরি
নেমে এল রাজপথে
মিছিলে স্লোগান দিতে দিতে 
ওরা রাজপথেই মরে গেল
ওরা এল
ওরা মরে গেল
মাঝখানে শুধু মাতৃভূমি
ওদের আত্মত্যাগ
মাতৃভূমিকে ভালোবাসার নতুন শুরু
ওদের আত্মোৎসর্গ 
দেশপ্রেমের শেষ পৃষ্ঠা
ওরা সুঠাম শরীরে হাসিমুখে মরে যেতে পারে
ওদের মরে যেতে দ্বিতীয় চিন্তার দরকার পড়ে না
ওরা আসে 
ওরা প্রথমবারেই মরে যায়
এইভাবে মরে যাবার নাম আত্মঅহংকার
আমাদের সন্তানেরা মরে যায় বলেই
বন্ধক থেকে ফিরে আসে স্বাধীনতা
আমরা বেঁচে থাকার বড়াই করি আর
নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে
উদয়াস্ত উপভোগ করি 
কড়ি ও কদর্য
আমাদের সন্তানেরা 
দরজা বন্ধ করে
ঘরে বসে থাকার অন্ধ পাত্র নয়
ওরা ইতিহাসের পাত্রপাত্রী
পড়ার টেবিল থেকে একলাফে 
রাজপথ
এরপর মৃত্যু
নীরবতার মহাজাগতিক মর্মপীড়া
ওদের পিছুটান নেই
অগ্রপশ্চাতে কোনো প্রহেলিকা নেই
কুয়াশার ক্যামোফ্লেজ নেই
রাজপথে মরার জন্যই যেন ওদের বেড়ে ওঠা
রাজপথে জীবন দিতেই ওরা জন্মেছিল
ফ্যাসিবাদের কারখানায় কয়লা হবার নিয়তি নিয়ে
ওরা পৃথিবীতে আসেনি
ওদের আগমন 
মন থেকে মুছে দিতে ফ্যাসিবাদের ভয়
ওরা নির্ভয়ে 
স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসার 
একাডেমিক একপাক্ষিক গণ্ডি পেরিয়ে
দাঁড়ায় এসে রাজপথের প্রলয় মেঘে
ওদের কাঁচাহলুদ কণ্ঠ থেকে
শ্রাবণ দিনের স্লোগানে 
বজ্র-বিদ্যুতের বিক্ষোভ উঠতেই
ফ্যাসিস্টের গুলিতে ওরা শহীদ হয়ে যায় 
বেঁচে থাকার জন্য ওরা বেচাবিক্রির 
বিবিধ কারসাজি জানে না
ওরা জানে শুধু শর্তহীন মৃত্যু
স্লোগান দিতে দিতে মরে যাওয়াই ওদের জীবন
এত সহজ মৃত্যু
দেশের জন্য এত সহজেই 
এত সানন্দে 
দুই হাত প্রসারিত করে মরে যাওয়া যায়
এমন মৃত্যু কবে
কোথায় এসেছিল
কোন কালে
কোন দেশে এসে ছুঁয়ে গেছে 
এত সরল সাধারণ
অসাধারণ মৃত্যু
এত একরোখা 
এত ঐকান্তিক
কে কবে এমন করে মরেছিল আগে
এভাবেও মরে যাওয়া যায়
দেশের জন্য মরে যেতে একটুও ভাবতে হয় না
ওরা আসল
দেখল 
মরে গেল
দ্বিধাহীন মৃত্যুর বিরল দৃশ্যের বাংলাদেশ
সন্তানের মৃত্যুকে দেখতে হয় 
দর্শকের চোখে
এমন ফ্যাসিবাদের ফলভরানত মৌসুম
জবরদখলের রক্ত ও রাজনীতি
কে কবে দেখেছে মানশ্চক্ষে
আমরা বেঁচেছিলাম সন্তানের মৃত্যু দেখে দেখে
আমাদের সন্তানেরা লড়েছে 
অক্ষশক্তির দ্রাঘিমাংশে দাঁড়িয়ে 
যেখানে রাষ্ট্র ও রঙ্গমঞ্চ একসাথে পতিত ওষ্ঠে
চুমু খায়
যেখানে রক্তচক্ষুর চোখ ভিজে যায় 
কুমিরের ক্রন্দন পটিয়সী বেদনায়
হায় 
আমাদের সন্তানেরা এভাবে মরে যায়
এভাবে তারা আত্মার ভেতর লুকিয়ে রাখে
গোটা একটা দেশ
দেশপ্রেমে তারা দ্বিধাহীন
দেশকে ভালোবেসে
নির্দ্বিধায় তারা মরে যায় রাস্তায়
ক্ষমতালোভীর জেদের কাছে
আমাদের সন্তানেরা অতি তুচ্ছ 
নগণ্য
তালপাতার সেপাই
ওদের দিকে বন্দুক তাক করে ধরতে
ক্ষমাহীন ক্ষমতাধরদের বুকের মধ্যে 
একটুও অনুভূত হয় না 
কম্পনের একবিন্দু বিষাদ 
যেন বুলেট ওদের প্রাপ্য
লেট 
দেয়ার বি বুলেট
মৃত্যু ওদের নিয়তি
আমাদের সন্তানেরা রাজপথে মরে যাবার ভাগ্য নিয়ে জন্মায়
কালো রেজিমের রোমহর্ষক দিনে 
আয়না ঘর 
গুম ঘর 
ক্রস ফায়ার 
বন্দুক যুদ্ধের ফাঁকে ফাঁকে বেঁচে থাকাই যেখানে বিস্ময়কর গল্প
সেখানে রাজপথের লড়াই 
অকল্পনীয় স্পর্ধার সহজপাঠ
আমাদের সন্তানেরা মরে যায় 
স্পর্ধার সুতীব্র চিৎকারে 
আমাদের সন্তানেরা কালের আবর্তনে 
কালপুরুষ
তারা মৃত্যুকে বানিয়েছে স্বাধীন
জীবনকে করেছে সার্বভৌম
ওরা পরাজয়ে ডরে না বীর
ওদের অস্ত্রের নাম সাহস ও স্পর্ধা
রাষ্ট্রের আমদানিকৃত চর্বিত চর্বণ
গর্বিত গোলাবারুদ
সঘন মহড়া
সাঁজোয়া যান
খুঁতখুঁতে খাকি উর্দি
আড়িপাতা যন্ত্র
প্রাইভেট প্রটোকল
গন্ধগোকুল গোয়েন্দাকাহিনি
ওদের সাহসের কাছে সমস্তই খয়রাতি 
ওদের স্পর্ধার সামনে বন্দুকের নল নিতান্তই
বর্ণপরিচয়হীন অনাথ 
অন্ত্যজ
ওরা রক্তচক্ষুকে দেখায় রক্ত গোলাপ
ওদের সাহসের সামনে 
উষ্ট্রের গলা ধরা নামে রাষ্ট্রীয় মিশন
শন শন বয়ে যায় শীতের শরীর
ওরা কলকে বিকল করে দেয়
বাতাসকে বানায় তাসের ঘর
ওরা ঘর ছেড়ে পথে নেমে 
মরে যেতে পারে
ওরা জুলাইয়ের দিনে
রক্তপদ্মের মতো 
স্লোগানে স্লোগানে ফুটে ওঠে
রাজপথে 
জুলাইয়ের রক্তকমলের দিনে
ওরা এল
ওরা মরে গেল
আর এলোমেলো হয়ে গেল কর্তৃত্ববাদের কুতুবমিনার
আমাদের সন্তানের এক ফোঁটা রক্তের দাম 
এক পৃথিবীর চেয়ে মূল্যবান 
সেই সন্তানেরা রাজপথে এসে
কর্তৃত্ববাদের গুলিতে
পাখির মতো মরে যায়
সেই সন্তানের বুক ঝাঁঝরা হয়ে যায়
শত শত বুলেটের বজ্রপাতে
আমাদের সন্তানেরা মরে যায় এক রক্তাক্ত শ্রাবণে
আমাদের সন্তানেরা মরে যায় বাংলা কারবালায়
আমাদের সন্তানেরা মরে যায় জুলাইয়ের দিনে
এক আধুনিক গণহত্যায়
চোখের সম্মুখে 
গণহত্যার গহিন অন্ধকার
আমাদের বোধ ও বুদ্ধি ঝুলে থাকে দাম্ভিক ইহকালে
বাতাসে দোল খায় বিবেকের বাগধারা
আমাদের চোখ হারিয়ে ফেলেছে দৃষ্টিশক্তির দ্বিপ্রহর
বিধি নিষেধ আর অনিশ্চয়তায় উপকূলে ডুবছে
চাহনির শেষবিন্দু
আমরা অন্ধ
একটি গণহত্যাকে চাক্ষুষ দেখেও যেন 
আমরা দেখতে পারছি না
আমাদের সন্তানেরা মরছে
আমাদের ছাত্ররা মরছে
যেন এটাই ওদের ভাগ্য 
আমরা মেনে নিয়েছি
ওরা মরবে 
ওদের মৃত্যুতে ফ্যাসিবাদের জমিন হবে
জাহেলিয়াতের জতুগৃহ
শক্ত হবে রক্তচক্ষুর হাত পা মাথা ও
মন্ত্রশক্তি
ভক্তির ভিক্ষুকেরা নুয়ে পড়বে পদচুম্বনে
শিককাবাব সমিতি
রং ঢং সং সমিতি
পেশিজীবি পরিষদের ক্লাউনেরা 
মুখে ও মূর্খতায় 
জিঘাংসার রক্ত মেখে
আনন্দের আতিশয্যে 
মূর্ছা যাবে বারবার
আর দিগভ্রান্তের মতো
জয়ধ্বনিতে জয়োল্লাসে মুখরিত করবে চতুর্দিক
এই নিয়তি মেনেই 
আমরা দর্শক গণহত্যার 
সময় এভাবেই বয়ে যাবে
সময় এভাবেই দুঃসময়ের ভাঁজে ভাঁজে
রেখে যাবে রক্তের দলিল
আমরা বয়ে বেড়াব 
সন্তান হত্যার কষ্ট ও কলঙ্কিত উপাখ্যান
যুগের পর যুগ
সময় এভাবেই রক্তচক্ষুর শক্তিশালী হাত ধরে 
গণহত্যা 
গণকবর
গণবিক্ষোভ
গণঅভিশাপ পার হয়ে 
চলে যাবে একবিংশ শতাব্দীর শেষ সীমায়
আমরা পড়ে রইব চব্বিশে
আমাদের সম্বল শুধু
সন্তান হারাবার শোক 
আমাদের সন্তানেরা মরে যাবে
প্রকাশ্য রাজপথে গুলি খেয়ে
যন্ত্রণায় নীল হতে হতে
রক্তে ভেসে যাবে
আমরা সব মেনে নিয়েছি
মৃত্যু হত্যা লাশ
শব 
উৎসব
হঠকারিতা হরিলুট হলাহল
আসলে আমরা কিছুই 
কিছুই মেনে নেইনি
আমরা সন্তান হত্যাকে মেনে নেব
এতই মেরুদণ্ডহীন
বিবেক বর্জিত
কাপুরুষ বোকা চিন্তাশূন্য 
অপূর্ণ মানুষ আমরা 
সন্তানের মৃত্যু দেখে দেখে কাটিয়ে দেব একশ বছর
শীত বসন্তের ঠান্ডা প্রবৃদ্ধি 
চোখের সামনে দেখে যাব হত্যাযজ্ঞের 
নৃশংস প্রশংসা
গণতহ্যার দর্শক হয়ে রইব অনন্তকাল
কিছুতেই নই
কোনো ভাবেই সম্ভব নয়
সন্তানের জন্য শুধু বিলাপ
ক্রন্দন
আহজারি 
বুকফাটা চিৎকার
তীক্ষ্ন আর্তনাদ 
শোকে মুহ্যমান 
অস্থিরতা
প্রার্থনা
না 
খুনিদের জন্য অন্তহীন অভিশাপ দিয়ে যাব  
খুনিদের মাথায় খুলে পড়ুক অশরীরী আকাশ
আমাদের সন্তান হত্যার দায়ে 
খুনিরা খুদাই হয়ে যাক ইতিহাসের 
ইতস্তত আস্তাকুঁড়ে
এক সন্তানের মৃত্যুতে
হাজার সন্তান এসে শামিল হোক
প্রতিরোধের মিছিলে
হত্যার বিরুদ্ধে আমাদের ক্রোধ সীমাহীন
হত্যার বিপরীতে আমাদের ঐক্য 
ইস্পাত কঠিন
আমাদের লড়াই চলমান
খুনিদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে
শুধু বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবার জন্য
আমাদের সন্তানেরা রাজপথে 
রক্ত ঢেলে দেবে বছর বছর 
এতই মূল্যহীন তাদের আত্মদান
তাদের আত্মত্যাগ এতটাই আবেদনশূন্য
ইতিহাস এভাবেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে 
একপাক্ষিক রয়ে যাবে
সময় নিষ্ঠুর বড়
নির্মম 
সময় কাউকে করে না ক্ষমা
সময়ের অপেক্ষা শুধু
আমাদের সন্তানের 
প্রতি ফোঁটা রক্ত দিয়ে লেখা হবে
ইতিহাসের নতুন বাঁক ও বদল
আমাদের সন্তানের রক্তে 
ভেসে যাবে অন্যায়ের অন্দরমহল 
রক্তে ভেসে যাচ্ছে দেশ
একই ক্রন্দনের পুনরাবৃত্তি
একই ব্যথা
বেদনার বাঁধ ভাঙা ঢেউ
আমরা সয়ে যাচ্ছি 
সয়ে যাচ্ছি
কিন্তু যাচ্ছি না
শুধু অপেক্ষা
একটি সময়ের ডাক
কখন এসে পৌঁছাবে আমাদের
মর্মে ও মননে
আমাদের সন্তানেরা ব্যর্থ হয়ে যাবে
পরাজয়ের কালিমায় মুখ লুকাবে 
উত্তর প্রজন্ম
ভাগ্যের এমনই পরিহাস
কালো দিন পার হয়ে কবে আসবে
কালোত্তীর্ণ দিন
সময়ের অমোঘ ডাক
আশঙ্কার সব মেঘ সরিয়ে
আমাদের সন্তানদের কানে এসে ঠিক ঠিক পৌঁছালো 
সময়ের ডাক
এল আশার আষাঢ়
এল স্বপ্নের শ্রাবণ
ইতিহাসের দায় মোচনে এল
বৈষম্য বিরোধী ডাক
মানুষের আহজারি আর্তনাদে বিদীর্ণ 
দমবন্ধ বাতাসে নেমে এল
লাল জুলাই
রক্তাক্ত দিনের মুক্তির ইশতেহার
হার না মানা যুদ্ধের
হাড়মাংস এক করে দেওয়া কল্পনার 
বিকল্পগাথা
আমি তুমি আমরা
আমাদের সন্তানেরা
আমাদের ছাত্ররা
শিক্ষার্থীরা 
আমাদের সব ব্যর্থতার বুকে 
সকল গরল ও গ্লানি ধুয়ে মুছে 
তারা জুলাইয়ের ডাকে 
পড়ার টেবিল ছেড়ে 
নেমে এল রাজপথে
তারা বুক পেত দিল 
অবিভাজ্য অবিসংবাদিত ও অসুস্থ রেজিমের
নির্দয় গুলির সামনে
তাদের বুকে বিঁধে গেল 
বুলেটের ব্লু প্রিন্ট
ফ্যাসিবাদের বুলেটকে বুকে টেনে নিতেই 
তারা বেড়ে উঠেছিল প্রতিদিন 
সাহস আর স্বপ্নে ভর করে 
বাংলাদেশের ভরকেন্দ্রে
এরপর বুলেটিন 
বুলেটের
শত শত বুলেট 
কেড়ে নিল তরতাজা প্রাণের প্রতিবাদ আর সংহতি
প্রতিটি বুলেটের বিপ্রতীপে
এক একটি লড়াই ও আত্মত্যাগের রক্তাক্ত কাহিনি
বুলেটের বিরুদ্ধে জুলাই
বুলেটের প্রতিবাদে নবীন কণ্ঠস্বর
জুলাইয়ের বুক চিরে একটি বুলেটও 
নিঃশব্দে অতিক্রম করতে পারবে না
প্রতিটি বুলেটের জন্য অসংখ্য প্রশ্ন আর প্রতিবাদ
রক্তচক্ষুর কনসেপ্ট
লেট 
দেয়ার বি বুলেট
জুলাইয়ের জনপরিসরে নিতান্তই একচক্ষু দাম্ভিকতা
দম্ভের স্তম্ভ
দলকানা কলের গান প্রজাতিকে স্তম্ভিত করে
জুলাইয়ে চলমান চাঞ্চল্যে
ধুলোয় ধূসরিত হয়ে
মানুষের চোখ আটকে গেল
একটি হেলিকপ্টার ও কয়েকটি নির্দলীয় সুটকেসে
জুলাই চলবে
মুক্তি না আসা পর্যন্ত
জুলাই চলমান
জুলাই চলছে চলবে
মুক্তির নতুন সনদ
জুলাই
আমাদের সন্তানদের রক্তের লাল 
জমাট বাঁধা লড়াই
জুলাই
মৃত্যুর উপত্যকায় দাঁড়ানো অবিনাশী স্লোগান
জুলাই
চারিদিকে মৃত্যুর বিধান ও বিন্যাস
পায়ে পায়ে মৃত্যুর পরোয়ানা
মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে জন্ম নেওয়া প্রতিরোধের নাম
জুলাই
জুলাই জেগে ওঠে
জুলাই জ্বলে ওঠে
জুলাই মৃত্যুর বাগানে 
জীবনের গান
জুলাইয়ের ঐতিহাসিক যন্ত্রণা জুড়ে 
মৃত্যুর উপাখ্যান
জুলাই 
জুলাই