অবহেলার পঞ্চম সংকলন ও অন্যান্য কবিতা
|| অবহেলার পঞ্চম সংকলন ||
আয়নার পেছনে ঝুলে থাকা ঘুমঘোর জ্যামিতি,
বুকের গহ্বরে জমা হয়ে থাকা বৃষ্টিহীন শব্দ।
তুমি এক ধরনের না-থাকা
যার স্পর্শে জেগে ওঠে উপেক্ষার জীবাশ্ম।
আমি কেবল এক পৃষ্ঠা—
যাকে বারবার ভাঁজ করে ছুঁড়ে দেওয়া হয় বাতাসে,
আর বাতাসও শেখে কীভাবে ফেলে দিতে হয় না-পড়া আবেগ।
আমার দৃষ্টির ভিতরে ঘুরপাক খায় এক শূন্যতার ম্যাপ,
তোমার নামহীন উপস্থিতি তাতে শুধু বিন্দু মাত্র,
যার দিকে যাবো ভেবেই ঘুরে দাঁড়ায় সমস্ত পথ।
রাতের নিস্তব্ধতায় আমি শব্দের স্কেলাররাশি চালাই, কেটে ফেলি যত্নের অলীক ত্বক,
তাতে দেখা যায়—অবহেলা আসলে এক ধরণের অভিজ্ঞানহীন ঈশ্বর,
যার প্রার্থনায় থাকে না কোনো শ্রোতা।
|| রমনী-শাসন ||
আকাশ নয়, তুমি সেই অব্যাখ্যাত শূন্যতা—
যেখানে নক্ষত্রও ভয় পায় প্রবেশ করতে।
দিলে না কিছু, তবু হৃদয়ের গোপনতম খামে তোমার নামই সীলমোহর।
তাজ্য শব্দগুলো আজও আমার শব্দকোষে তোমার নামে উচ্চারিত হয়, জানো?
নীল নয়, তোমার চোখ ছিল অন্ধকারের মতন-যেখানে আলো আত্মহত্যা করে।
জ্যোতিষ্কের মৃত্যুর পরও যেমন আলো আসে পৃথিবীতে, তেমনি তুমি থেকেও নেই, না থেকেও আছো।
রুদ্ধ ইতিহাসের পৃষ্ঠায় আমি খুঁজি এক অবিনাশী চুম্বনের পদচিহ্ন।
লিপির মতো ভেঙে পড়ো প্রতিটি স্বপ্নে—তবু তোমাকেই কেন্দ্র করে ঘোরে আমার মহাকাশ।
|| টেবিলে ভগবান বসে আছে ||
নীলচে শব্দের নিচে জেগে ওঠে আগুন
আদিম স্পন্দন কাঁপে হেক্সাকোডে।
ছায়ারা খোঁজে তাদের দেবতা
যার চোখে ধুলো, অথচ মুখে রং-
ধুপ নয়, বারুদের গন্ধ।
প্রতিটি মন্ত্র এখন ক্যাপচা
তুলে নিতে হয় ঘামছোঁয়া পিক্সেলে।
আত্মা—পেনড্রাইভে ঘুমায়
তার পাশে জেগে ওঠে অন্ধকারে পোষা ঈশ্বর।
শিশিরবিন্দু জ্বলছে—
কে জানে, রক্ত না জল?
পৃথিবীর নাভিমূলে শব্দহীন সংঘর্ষ—
আলো চায় আলোকে হারাতে।
প্রার্থনার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে
বায়ুমণ্ডল কাঁদে
একটি মৌমাছি ডানা গুটিয়ে
ধর্মগ্রন্থে আশ্রয় খোঁজে।
তবু কারা যেন হেসে ওঠে দূরে—
অনন্ত শূন্যতায় ছুঁড়ে দেয় একটি প্রশ্ন—
কে ঈশ্বর, কে মানুষ, কে সত্য?
|| আমিষাশী ||
চামড়ার নিচে লুকোনো এক সমুদ্র,
কেউ কি কখনো ছুঁয়ে দেখে তার ঢেউ?
মাংসপিণ্ডের ইশারায় গড়ে ওঠা নগরী,
তার অলিগলিতে হারিয়ে যায় পুরুষের দৃষ্টি।
রক্তের নিচে কি বেঁচে থাকে প্রেম?
নাকি, নখের আঁচড়ে উন্মোচিত হয় শুধুই আকাঙ্ক্ষা?
নারী, একজোড়া চোখের অণুবীক্ষণ তলায়—
কখনো ভাস্কর্য, কখনো কাঁচের জানালা।
শরীর কি শুধুই ভোগ?
না কি তার প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে থাকে একেকটি গ্রহ?
উরুর সংযোগস্থলে মহাকাশের ভাষা,
আর পাঁজরের ফাঁকে ইতি অবাধ্য কবিতা
জ্বলজ্বল করে বিদ্রোহের আগুন!



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন