টাইম ট্রাভেল ও অন্যান্য কবিতা
কবি ঋজু রেজওয়ান গুরুতর অসুস্থ; সম্প্রতি তাঁর ব্রেন টিউমারের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এই কঠিন সময় তাঁর পরিবার ও পাঠকদের জন্য গভীর উদ্বেগের। প্রতিধ্বনির পাঠকদের জন্য তাঁর পাণ্ডুলিপি থেকে ছয়টি কবিতা দেওয়া হলো। তাঁর এই কবিতাগুলো মহাশূন্য, নৈঃশব্দ্য ও অস্তিত্বের দার্শনিক অনুসন্ধানে নির্মিত এক মহাজাগতিক কাব্যভ্রমণ। ভাষা কখনও গূঢ়, কখনও ঝলকে ওঠা আলোর মতো—তার কবিতায় শূন্যতাই যেন এক মহাসংগীত। শব্দের ভেতর যে আলোক তিনি জ্বালান, তা যেন সুস্থ শরীরে ফিরে এসে আবার আমাদের সাহস ও সৌন্দর্য শেখায়। আমরা কবি ঋজু রেজওয়ানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
|| টাইম ট্রাভেল ||
অসময় বলেছিল—
সময়েই এসো, সময়ে গিয়েছি... বলেছে—‘অপেক্ষা’
অকস্মাৎ প্রস্থানে... ১৩.৮ পেরিয়ে এখনও অপেক্ষায়!
কালের পরিক্রমায়—
দেখছি, রহস্যাবৃত কিছু প্রতিচ্ছবি—ভাবায় না, এখন!
ধূর্ত গিরগিটি—উদ্ঘাটন করেছে রং পাল্টানোর রহস্য
হারানো ব্যাবিলনের...
রাতকানা ট্রাভেলের দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতির ‘আমি’
আর, ‘তুমি’ সুবিশাল মহা+কাশের ওয়াল ডেকোরেশন!
অন্য টাইম মেশিন—
সিঙ্গুলারিটি জ্যোৎস্নায় ফিরে যেতে চায়—দূরত্ব অভেদ!
|| নৈঃশব্দ্যের রেকাব ||
রাত ভাঙার অভ্যেস! পানকৌড়ির দুটি—ঠোঁটে...
গ্যালাক্সি-ছায়ায়— খুনি পৃষ্ঠার মিথুন।
আনতনক্ষত্র রাতে... নৈঃশব্দ্য—পেঁয়াজ ফুলেও;
শীতের Porn-কাঁথায়—ব্যথার জোলাপ!
দূর... সাঁওতালের গাঁ, অব্যক্ত ব্যথায়... চিঁ চিঁ
মায়োসিস প্রতীক্ষাতে... প্যাঁচারা নিশ্চুপ!
রেশমি আলোর মিড়ে... কাঁপা কাঁপা ভীত স্বরে
গভীর ক্রন্দনে ঝরে... মুক্তোর টিলিক!
মায়াবী রাতের ’পরে কোন বিরহীর অপেক্ষায়
মিহিমিহি শিশিরের... নৈঃশব্দ্যে বিছায়—
অনিত্য কায়ার ন্যূডাকাশে শুভ্র কুয়াশা-চাদর।
|| ক্যালেন্ডার ||
দাঁড় ভাঙা মাঝির সাম্পান—পুরাক্যালেন্ডার!
উল্টালেই স্মৃতিস্বর! তবুও সুদূর ক্যানভাসের
মহাজাগতিক শূন্যতায় কোথাও দাঁড়িয়ে বেশ,
দেখছি ত—তোমারামার ভেতর ফাঁপা প্রেম
ভ্রান্তির অদৃশ্যে... শূন্যতাও এক—মহাক্লান্তি
হয়ত বা—ব্ল্যাকহোলের হৃদয়ে... করি বাস
ক্যালেন্ডারের রহস্য! তোমারও—দুই বিলিয়ন
আলোকবর্ষের চওড়ায়—একমাত্র-ই, ‘আমিই’
বুদবুদ ও ভাসমান এই শূন্য ঘরে... ফেরে কেউ
আচম্বিতে? কী জানি! —আলো ও অন্ধকারে
যারা বাস করে শূন্যস্থানে... তারাই খুঁজছে...
Babbles Music এবং সবটা Nothingness.
|| দেখি যা সীমা, জানি না অসীম—||
জানি না অসীম—দেখছি দূরহাকাশ!
কাশফুলচ্ছবি
দেখিনি যদিও আনন্দচ্ছবির এই রূপ।
নিজ সীমারেখা, আজ বিস্তীর্ণ খেয়াল!
আলের দেরাজপূর্ণ—জলজ পূর্ণিমা।
পর্বতশৃঙ্গের পাদে
অপরিসীম স্তব্ধতায়—অর্ধনগ্ন রাত্রির
গভীরে জ্বলছে, নিত্য অসংখ্য নাবিক।
কুয়াশায়—যাচ্ছ, তুমিও অশীতিপর!
নক্ষত্রের কালবেলা
ভাসছে, তবুও মহাপৃথিবীর নৌকোয়—
স্পষ্টতর খুঁজছি—আমার-ই পূর্বাপর।
|| অদৃশ্য দরজা ||
পাথরের কান্না—
সুফির চোখেও খোলে... অদৃশ্য দরজা।
ধূলি নাড়া দেয়—
চেতনা খোঁজে... তার হারানো সংগীত।
জলের ফোঁটায়—
অন্তরের মন্ত্র—অসীমের আরও স্পর্শ।
বস্তুর স্থিরতা, আর—সুফিরও নৈঃশব্দ্য
একই ছায়ায় নাচে...
একই নিঃশ্বাসে... ফোটে ভিন্ন আলো।
শুধুই এক অন্তর—শুধুই এক-ই দৃশ্য!
যেখানে বস্তু...
চেতনার পরিসরে... মেটাভার্স প্লাজমা।
|| অলৌকিক ছায়া ||
যাকে খুঁজতে যাই—
সে কোন অদৃশ্য; বৈকুণ্ঠগঞ্জে স্মিত বদনে আসে
অতি অলৌকিক হাজার দুয়ারীর অন্ধকার খিলে...
কোথাও আলো নেই!
রোদ-বৃষ্টি, জল নেই!
প্রজন্ম এক ঘা, পিনিয়নের মত ঘুরছে তো ঘুরছে!
পানাম নগরের...
ধ্বংসস্তূপের পলেস্তারা খসা ভাঙা ইটের স্তূপ—
ভেতরে ক্ষয়ে যাওয়া গুঁড়ো-লাল-সুড়কি! রঙিন!
অতীতের ছায়ায়!
নিঃশব্দ—প্রহর!
নিজ পঙ্কস্রোতে—অকিঞ্চন আমি, অপেক্ষায়।
প্রতিটি ধ্বংসে খুঁজছি তাহারেই, প্রতি পর্যটকে...



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন