নীরবতার রাষ্ট্রভাষা ও অন্যান্য কবিতা
|| পিকাসোর সাথে আলাপ ||
ঘুমন্ত ক্যানভাসে আঁকা স্বপ্নেরা জেগে জেগে ওঠে,
রঙেরা খুঁজে ফেরে দেহহীন আত্মার প্রতিচ্ছবি—
আমি বলি, ‘পিকাসো, মানুষের মুখ কেন ভাঙা?’
সে হাসে, ‘সময়ের পাঁজরে লুকানো ব্যথা তো এ-ই।’
ঘড়ির কাঁটা গলিয়ে দেয় চোখের ভিতর সময়ের ছায়া,
নাক হয় নদী, ঠোঁট একটি ভগ্ন সভ্যতার নৌকা—
দর্শন বলে, রূপ নয়, অনুভবই চূড়ান্ত রিয়ালিটি,
জাদুবাস্তবতায় আমি ও পিকাসো দুজনেই অসমাপ্ত ছবি
|| নীরবতার রাষ্ট্রভাষা ||
অরাজনৈতিক হইতে চাওয়া মানে নিঃশব্দের ছাদে একটি নীল পাখি বসে থাকা, যার ঠোঁটে সূর্যের ছাই; যে গান গায় না, স্বপ্নে ফুঁ দেয়। মাটি তখন ঘুমন্ত এক তৃতীয় চোখ, দেখে না, জেগে থাকে।
একটা যুদ্ধবিমান উড়ে যায় আকাশের আরকিমিডিস বিন্দু ছুঁয়ে—তার নিচে শব্দ থামে না, কিন্তু শব্দের ছায়া নিঃশব্দ হয়ে ওঠে। আমি কবিতা লিখি বাতাসে আগুন মিশিয়ে, যেখানে প্রতিটি ছন্দ একেকটা নিরস্ত্র প্রশ্নচিহ্ন
তুমি কি শুনতে পাও, গানের ভেতর যে যুদ্ধ থেমে যায়? নাকি শব্দই তোমার রাষ্ট্র, আর নীরবতা শুধুই বিদ্রোহ?
|| মৃত্যু একটি মিথ ||
লাশের ঘ্রাণ—
হয়তো চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধের
ফ্যাশন ফ্র্যাগরেন্স,
চটকদার বোতলে স্মৃতির লেবেল।
আমরা হাঁটছি—
গুগল ম্যাপে নেই এই পথ,
মাঝখানে ভুল বানানে লেখা :
‘হোপ’ ≠ ‘হোম’
মরে আছি বহুকাল,
কিন্তু সার্টিফিকেটে লেখা :
‘অসুস্থ রাষ্ট্রে সুস্থ নাগরিক’
যারা সাহসী ছিল
তাদের ফাইল এখনো মিসিং,
নাম বদলে তারা আছে ভোটার লিস্টে
এবং আমি—
শুধু এক্সহিউমড বাক্য
পচে যাই ভাষার ডাস্টবিনে,
প্রুফরিডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে
শকুনটি—
শেষ সাক্ষ্যদাতা,
তাকে আমরা বলেছি ‘ভ্রান্ত বিশ্বাস’,
তার ঠোঁট এখন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের লোগো
|| নিজের সমাধিতে ||
কোথাও যাব না ভেবে বসে থাকি; তারপর চলে যাই কবরখানার দিকে!
কোনো কোনো সমাধিফলকে নিজেরই নাম দেখে চমকে উঠি, আর বিস্মিত নই, বরং আশ্বস্ত হয়েছি এই জেনে যে, জীবিত মানুষও নিজের সমাধিফলক দেখতে পায় কখনো কখনো। সমাধিতে ফুল দিতে যাই, বুনো ফুলেরা খামচে ধরে হাত; যেহেতু নিজেকে নিজেই চিঠি লিখেছিলাম—আমার সমাধিতে পুষ্পস্তবক নয়, শুধু কিছু পরাবাস্তব ঘুম দিয়ো যদি পারো, আর জানো তো, পুষ্প কেবল নিজের জন্য ফোটে না, মূর্খের গলায় শোভাবর্ধক হিসেবেও ফোটে।
ফলে বাধ্য লাশের মতো ঘাসের এমব্রয়ডারি সাজিয়ে দিলাম নিজের সমাধিতে



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন