ফলাবনত বৃক্ষ অথবা মনুষ্য ও অন্যান্য কবিতা
অধিষ্ঠান
আমার ছোট্ট কামরার
জানালা দিয়ে তাকালেই
তোমার দুঃখগুলো দেখা যায়।
ক্ষুধার্ত নিরন্ন এক মূর্তি
ঘুরে বেড়ায়,
রোগ-শোক ও জরাগ্রস্ত
উদ্বেল ছায়ামূর্তি
বিঘতখানিক দূরে বসে থাকে।
গৃহহীনের মতো আকাশে উড়ে বেড়ায়
আমি বিপুল টের পাই,
নিশ্চুপ বসে থাকি আড়ালে
এই বুঝি খসে যায়!
সব ফুলেদের এনে রাখি
তার পায়,
যদি সে ভালোবেসে আমার
গৃহ দ্বারে অধিষ্ঠান চায়!
সুধা বীজ
অমীয় সুধা রোপন করে
ক্লান্ত বিপণ্ণ—
অকর্ষীত চলে যায়
শতাব্দী সমূহ—
নিঃশব্দে চাষ হয়
নিজস্ব উর্বরতায়,
হে অদৃষ্ট,
কামনার ছাপ ফেলে
কোনো মহামনব
উঠে আসুক ঘরে,
বয়ে আনুক জীবন স্রোত
আনীত সংহারে।
ক্যাকোফোনির শহর
সময় গুণতে গুণতে
পেরিয়ে এলাম আধেক
জীবন—
‘অপেক্ষা’ শব্দটির সাথে
তাই আর আঁতাত চলে না
আমার—
যেমন তুমি ট্রাফিকের ক্যাকোফোনি
বাজতে বাজতে নেমে যাও
চেয়ারম্যান বাড়ি অথবা
জনসন রোড—
কোনোরকম বিদায় সম্ভাষণ
না তুলেই ছুটতে থাকি
কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল
অথবা সুপার হোম—
জীবন আমাদের এমন
প্রতীক্ষাই আমরণ!
অনাবাদি জমিন
বহুদিন অনাবাদি, বৃষ্টিহীন চরা
লাঙল ও মলন শিকোয় উঠে গেছে
মৌসুমি সময়, পরিযায়ী পাখি,
ফিরে যায়—
কখনো বর্গাচাষি, কখনো মাঠপ্রধান, গ্রামপ্রধান,
আসে—
ফিরে যায়।
কখনো পরকীয়া প্রেম, কখনো প্রাক-সঙ্গমে আবৃত প্রেম
কখনো কিশোর প্রেম
অথবা পরিণত,
ফিরে যায়—
কখনো আসে সুরার অনল পাত্র
প্রেম নিয়ে—
তবুও ফসল হয় না নির্দিষ্ট দাগে।
জমিনের পর্চা বেড়ে চলে
কালে–কালে।
দুর্লভ চাষার খোঁজে
চৌচির মাঠ-ঘাট।
রুপাই—মতন যোগ্য চাষা
ছেড়ে গেছে বন্দর;
যুগে যুগে তাই আক্ষেপ, অনুযোগ
বিফলে যাচ্ছে অকর্ষিত মন।
ফলাবনত বৃক্ষ অথবা মনুষ্য
বাম অলিন্দ থেকে ভেসে আসে
যে সুভাস—
অঞ্জলি পেতে শুষে নেই
পরস্পর—
দোপাট্টা, চুল ও গ্রীবায়
মেখে নিয়ে আসি
ভালোবাসার অমল
মালাগাছি—
অঘোষিত দিনক্ষণ, যবে পাই দেখা
রেখে দেই সস্নেহে,
যথাতথা আবেগ ও অনুরাগে
গাছে গাছে আমের মৌলি,
বাতাসে কলতান
সঙ্গমরত রেণু—
গুঞ্জরিত মৌমাছি
সৃষ্টিতে অপার ফলাবনত
বৃক্ষরাজি।
পড়লাম। বেশ ভাল লাগল।
নাহিদ হাসান
জুন ১৫, ২০২৬ ০৫:৩২