এই শীত রক্তরঞ্জকে ও অন্যান্য কবিতা
|| ভাটির মুখে ||
এই যে কুসুম কুসুম আলো লাগতেছে শরিলে,
তারে যাপন করি
বয়স পড়ে যাইতেছে ভাটির মুখে
ছোট ছোট বিবরণ থেকে বুঝতে পারি,
অনেক বড় একটা নদী থেকে খলায় কোন্দা বাওয়ার সময়
মন চলো, যাই কৃষি এলাকায়
ভিন্ন ভিন্ন স্ন্যাপ একলগে গাঁথি!
আর জল ছিটা দিই রুহের সবজি বাগানে।
আমার গল্প তৈয়ার হয় বহু দৃশ্য থেকে!
কত কিছু করার চেয়ে একটা জুতসই বিকালের আলো ভালো লাগে
মাছ বাছার মতো করে ভাগ ভাগ হয়ে রই দায়ের বিভিন্ন ডুলায়
গ্রাম্য লতায়-পাতায় জড়ানো সে সোঁদা আউজের গন্ধে বুক ভুরভুর
আইলের মাঝামাঝি দাঁড়ানো গাভী, পিছনে ছায়া ছায়া গোঠ
সামনে স্বর্ণঘাস, জল-বাষ্পের বিল, চিরপরপার।
|| জবুথবু ফুল ||
মানুষ সরে গেছে দরদি গান থেকে
ভক্তি এমনই বিষাদ-চাপানো পাথর কোনো;
সীসার গন্ধের ভেতর আমি জবুথবু ফুল,
থ্যাতলানো পাঁপড়ি নিয়ে ঘ্রাণ হয়ে ফুটি—
তারাদের ভ্রূকুটি পেরিয়ে
জড়োসড়ো দুলি
|| সম্বিৎ ||
এই মাগরিবে বাসায় ফিরতেছি—
স্টপেজের আলোয়
আমাদের ভাগ্য দেখা যায়
পাখির ঠোঁটের শেষ ফাঁকটুকুর ভেতরে
জড়োসড়ো জিহবার মতো
গেরস্থালির দৃশ্যে প্রার্থনা
সম্বিৎ ফিরা পাইলো পাতাগুলি
ঝিরিঝিরি হাওয়ায়
ঝুপ কইরা রাত নাইমা আসার কালে
আজও সঙ্গী হইলো সেই তারকাটি
যে দিশা দিয়া যায় বরাবর
|| কল্পনা ||
ফুল থেকে সুগন্ধকে আলাদা করলে ফুল থাকে না,
তাকিয়ে থাকার সৌরভটুকুও গেলে
যা থাকে—
তা নিছক মঞ্জুরি;
আবেগের ভাগটুকু এভাবে দলা দলা পড়ে রইলো
ছড়ানো ছিটানো অলঙ্কার থেকে
গহনা?
—যেন মিছা কল্পনা!
|| এই শীত রক্তরঞ্জকে ||
কোথাও খটকা নাই
ছিটকে পড়া লোকগুলিকে ক্রমে টেনে নিচ্ছে নিজের ভেতরে
পশমের ওমে আমরা চিনতে পারছি একে অপরকে
এই শীত যুগ যুগ বেয়ে আমাদের হাড়ে এসে বসলো,
মাত্রই দাফন সেরে আসলাম
মাত্রই শুহাদার জন্য দোয়া করলাম
ভয়ের পোশাকগুলি ফেলে দিয়েছি
মায়েরা যে ওল বুনেছে রক্তরঞ্জকে তা ভেজা ছিল
আমরা তরতাজা রোদে শুকিয়ে পড়লাম
আলিঙ্গণের জন্য তৈরি আমাদের শরীর
মর্যাদার ব্যঞ্জনায় সিক্ত হওয়ার জন্য অধীর



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন