নিরুদ্দেশ স্বরলিপি ও অন্যান্য কবিতা
নিরুদ্দেশ স্বরলিপি
বুকের ভেতর সূর্য রাখা আছে, গহীনে কয়লা পুড়ে ছাই।
তীর বেয়ে হেঁটে যাচ্ছে কেউ, তন্দ্রাঘোরে জেগে থাকে ঢেউ।
পাহাড় যেমন আকাশ ছুঁতে চায়,
আকাশও কি তাকিয়ে দেখে ঘাস?
নারী যেমন পুরুষের চোখ দেখে,
নারীর চোখে কী দেখে পুরুষসমাজ?
জানলে রহস্য নেই বৃষ্টি আর সাগরের মাঝে;
যথা কাজে, কর্মে, প্রেমে—
তুচ্ছ এক আঁধারের ভেতর শত শত রঙধনু লুকিয়ে আছে।
কে যেন কাঁটা বিছিয়ে দেয় পথে, কেউ সরায় অলক্ষ্যে।
শেষবেলায় আপনজন রোদ সেজে গেয়ে ওঠে সুদূরে—
‘দেখো ওই সূর্যপোড়া মাটি, অন্তরে পুঁতে রেখো খাঁটি।
অবোধেরে ভাষা দিও বলার,
কণ্ঠে দিও গান সমস্বরে।’
কল্পঘট
অন্ধকারে জ্বলে ওঠে কল্প ঘট,
তার ভেতরে সরল জন্ম, সর্পিল মঠ।
কেউ কি আগে থেকে জানে—
দুমড়েমুচড়ে না উঠতে পারলে হৃদয় জানে না।
চারদিকে সঙ্গ ও অসঙ্গের এত ঐক্য-ষড়যন্ত্র!
ধূসর ধূমকেতু বহন করে বিগত অনুরাগ।
চিত্রিত স্বেচ্ছামৃত্যুতে বিভ্রান্ত নান্দনিক চাঁদ।
এত সব সম্ভব ও অসম্ভব মতবাদে
ছাই হৃদয়, ভস্ম।
আলপনা নিজেকে আঁকে ক্ষতস্থানে।
ভাঙনের নীড়ে
নীরবতা ভাঙলেই
ছিন্ন হয় ডানা
শব্দের।
নিবিষ্ট নেমে পড়ি
ভুল রাস্তায়।
সেদিন জনবিচ্ছিন্ন দুপুরে
মায়াবী শ্রাবণের আঁধার
জলতরঙ্গ বুনেছে
অবিন্যস্ত চুল।
তুফান কেটে গেলে
কেটে যায় সম্মোহন।
ধূসর অশ্রুবারি মুছে দিয়ে
চক্রাকারে উড়ে যায়
আলোড়িত ডানা।
মুখোমুখি বৃষ্টিতে
এমনই নির্মোহ বেদনা।
উঁচুনিচু আকাশের কাছে
উদ্ধত দলবেঁধে আসে
খণ্ড খণ্ড ভাঙনের
অবিশ্রান্ত মূঢ়তা।
অথৈ অভিসারে
ক্ষমাহীন ভুলে যাওয়া
অতীত নীড়ে—
গগনবিদারী নীরবতার
কী অসীম চিৎকার!


আপনার মন্তব্য প্রদান করুন