বে-পর্দা ও অন্যান্য কবিতা
তুমি
খোয়াবে তোমারে আজ দেখলাম
অন্য নারী হই আসছো রাতের বেলা
নগদ আদায় লোভে
তোমারেই ভাবি ঝাপায় পড়ছি যেই
তোমার বিকট হাসিতে হারাই খেই
যে অবুজ বুজে সে প্রেমের মনসুর
হয়েছে শিকার, বলি, সেই মতো—কার যে কখন
আসে পালা—
মোর কুঞ্জবন ছিনিমিনি হই গেল
নিমিষেই কারবালা!
তাইলে এতদিন আমি কি ভুলটা জানতাম—
সবাইরে বাসলে ভালো তোমার মহিমায়
তোমারেই ভালোবাসা হয়া যায়!
বে-পর্দা
অনেক গভীর রাত। ‘তুমি’ অভিমান করি
সেই কবে হইছ গায়েব, না পালাই!
তরোয়ালের খাপের মতো ফাঁকা, কালা,
এইঘর যেন মূর্ছা রোগী,
কত না সহস্র এক রজনীর শেষে কোন তরিকায়
দরোজায় টোকা শুনি
ভীষণ আতঙ্কে
‘ভিতর’ ‘বাহির’ যত সব গোলায়ে ফেলায়!
কইবাম ন পারি, কে কাহার ডামি
সেও যদি মুখ ফসকায় আমারে শুধায় তবে
—কে?
—‘আমি’
যদি বলি দোঁহে এক লগে!
মজনুর চর
যদি আমি শুধু ওয়াদা পাইতাম
মজনুর কানাকড়ি আঁখি পাইবো একদিন—
তা’লে বেমালুম মোর এই হাল স্বপ্নেও হইত না!
ঠিকই আমি চিনতাম, নিজেরে কইতাম লাকি
কোনটা লায়লার গলির কুকুর
কোনটা বেগানা সুর ও অসুর
মাখলুকাতের তিলে ও অতিলে
‘তুমি’ ও ‘আমি’র পর্দা
এত খলবলায়ে দিত না বেদম ধোঁকা!
ঠিকই দেখি ফেলতাম
এজমালি যুগ যুগ ভিজে একজনই বেহুশ উদাম
তেমাথায় বর্ষায় কদম হাতে
কড়কড় বিজলি-বৃষ্টি-বন্যার ভিতর
তখন তখন তার হই
দাবি রাখতাম,
তোমারেই ডাকতাম
লায়লা, বলতাম, আমিই মজনুর চর।
ফিরা
ফিরুম আমিই ফের
গোলাপ না গোলাপের কাঁটা হই!
কবে কার ধড়ে হবো অস্তমিত
সব আফসোস এক্কেবারে
গিলবোনে এইবার দিলের তাগিদে
রাখুম না ইয়াকুব নবীর অশ্রুর অর্থ
ইউসুফের কাছে শুধু জমা!
রাখাল না মুসা
দয়ালের কাছে বেশি ঋণী?
দাস আর মনিবের রহস্য করি দিব ফাঁস!
বসন্তের রঙগুলি আটক হয়া গেছে
কার কায়া কার হাকিকত করতে জিয়ারত!
তাই বলে জিগাস করিও না ‘আমি’ কে?
কোনখানে মোর বাস?
বেমালুম
আজ কেন ধূলা ও রেণুরা এক-কাতারেই
কোন জমানার বুড়ি খাব উড়ি আসে
মোর ঘুমে খাবি খাইতে!
দুধের নহর ছিল যত ফিরি গেছে
বাঁক নিয়া অতীতের বাটে!
আমার ভিতর জুলেখার মন কান্দে!
তর্কবুদ্ধি লোপ পাইয়ে ভবে
বেয়াক্কল আমার কী হবে!
কোন ফাঁকে হোলির রঙেতে মাতি হইছি বুদ!
কোন হাটে কড়িছাড়া বিক্রি হইল আমার ইউসুফ!
খোয়াবে গালিব
সাত আসমানে রুমির পিছু পিছু কোন খনির সন্ধানে
ইকবাল উঠছিল আর কেন সে গালিবরে দেখছিল
কিন্তু কোনো কথা না বলিই পাশ কাটায়ে চলি যাইতেছিল!
আমি ইকবালরে জিগাস করছি
গালিবের দশা নিয়া।
গালিবরে দেখতেছি, সে খোদার আরশের থাকি কয়েকশ মাইল দূরে
কাঁপতেছে আর খোদার শানে উপুড়
হই বসি আছে, চাইতেছে পানাহ।
ইকবাল জানাইল,
খোদারে লয়ে ইশকের নামে
মশকরাটা একটু বেশিই করি ফেলছিল সে!
গালিব কাঁদতে কাঁদতে কইল যে
দুনিয়াতে গিয়া সবাইরে পষ্ট মেসেজ দিও ইকবাল—
সময়ের বাইরে পাপও নাই পুণ্যও নাই
আছে শুধু আল্লাহর আতর!
তারপর হইতে কোন তরাসে ঘুমাইতে পারি নাই!
রানির আয়ু
ও রানি আপনে
অজান গহিনে ডুবি যাইতেছেন নাকি!
তলাই যাইতেছেন নাকি!
রানি আপনে
আয়াতের মতো ভাসি উঠেন আমার মনে
অল্প আয়ু স্বল্প আয়ু
আপনারে কী মানায়!
সিঁড়িপথ ধুই রাখছি যতন করি
আমার চুলের মপ দিয়া মুছি রাখছি ও রানি!
আপনার খেদমতে
আপনি গায়েব হইলে
এক হাতে বাজবে ক্যামনে তালি!
সিঁড়িতে পায়ের দাগ
মনেতে পায়ের দাগ
এমন দাসীরে ফেলি
যান কনে ওগো রানি!
হইতাম যদিবা
মাকড়শা—
তার মতো গুহামুখে বুনতাম জাল
ওানি, আপনেরে ধরি একটু ভাসতে চাইছিলাম!
প্রতিধ্বনি
কাহিনির শুরু এইখানে
দিলই চালায়, তারে রাজিখুশি
সুন্দরের খানিক নাচনই
এই ঘর ভাঙা উচকানি!
কেনই বা বন্য পাখিরে খাচায় ভরলা
কিন্তুক বনের স্বপ্ন ক্যানে কাড়ি নাই নিলা
কেনই বা শুরু
কেনই বা শেষ
এর মাঝখানে
কোন খোজামিল সারতে আমারে বাছলা
এইখন আমার দিনই
বা কী রাতই বা কী
এতদিন আড়ালে ছিলাম
তোমার নকল হইতে গিয়া
প্রতিধ্বনি হই
বাড়ি খাইতেছি
পাহাড়ে পাথরে
কাটাঅলা বাবলা শিমুলে!
দুই মাতালে
সেইদিন একটা লোকরে
আমাদের গলিতে দেখলাম
হুকিঝুকি দিতেছে, তাকাচ্ছে ঘন ঘন
বাসার নম্বরগুলোর দিকে!
সন্দেহের সাথে জিগাস করলাম,কাউরে খুঁজছেন হযরত?
সে উত্তর দিল, কাল রাতে যখন মাতাল ছিলাম
আমারে কী যতনে প্রিয়ে একজন তার বাসায় জায়গা দিছিল
আমার হাল এতই খারাপ ছিল যে আমি
আজ ভোরে সেই বাসা থেকে ঘোর কাটানোর লাগি
বার হই পড়ি।
এখন আমার গলির কথা মনে পড়তেছে, বাট
বাসার নম্বর পুরাই ভুলি গেছি!
আমি কইলাম, তাহলে তো সুবিধা হলো
বিশেষ নম্বরে আপনের প্রিয়ে থাকে না।
যেকোনো বাসায় যাইয়ে মন দি খুজলেই পাইয়ে যাবেন তারে!
আপনিও কী এ মুহূর্তেও মাতাল?
সে জিগাস করে।
নিজেরে সামলে কইলাম,
মাতাল না হইলে এতগুলা কথা ঠিকঠাক মতো
আপনার কানে যোগান দিলাম কীভাবে!
তোমার আজান
আমার এ ডান কান্ধে চড়ি বসি আছে দেখ কোন ভবিষ্যৎ!
বাম কান্ধে বসি আছে এ কোন অতীত বেশরম বদখত!
হায়রে নিয়তি একি পাজির পাঝাড়া
মোর খসা ল্যাজ আমারেই করে তাড়া!
আমারে দিয়াই তোমারে গাওয়াও ক্যান
দিতেছে ঠোকর দিলে তোমার আজান!
ময়দানে উড়তেছে কত ভিমরুল
মোরই তর্জমাতে ধরতেছ কেন ভুল
আমার এ ডান কান্ধে চড়ি বসি আছে দেখ কোন ভবিষ্যৎ!
বাম কান্ধে বসি আছে এ কোন অতীত বেশরম বদখত!
জমিন সাজায় কারা কাটাগাছে
ফুলের স্মৃতিরা শেষে যেন ভাসে
কোন উন্মাদনা হতেছে সওয়ার
রূপ নাকি রঙ নিবে দায়ভার
নিতেছে সত্যরে কান্ধে তুলি কারা নদীর কিনার
নতুন চমক তবু তাতেই কি সব হবে তোলপাড়!
আমার এ ডান কান্ধে চড়ি বসি আছে দেখ কোন ভবিষ্যৎ!
বাম কান্ধে বসি আছে এ কোন অতীত বেশরম বদখত!
তড়িখড়ি কারা মুছতেছে কার চমকানো মুখ
ফণা নিজে ফণায়িত নিজেরেই দেখতে উৎসুখ!
এইখানে যা ঘটে না ঘটে তা জাহেলি আশকারায়
লাগুড় পাইলে ছিন্ন বস্ত্রও থাকতো না কারও গায়
জুলুমের কালে হাসিমুখে চড়ি শূলে হবে কে আনাল হক
সত্তা ডোবে সত্তা-কূলে কাটা আছে আগে খোদার মহিমা ছক
আমার এ ডান কান্ধে চড়ি বসি আছে দেখ কোন ভবিষ্যৎ!
বাম কান্ধে বসি আছে এ কোন অতীত বেশরম বদখত!



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন