রেখাচক্র ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| আইসোলেটেড মহিমায় ||

এরপর আর কেউই পায়নি তাদের 
অক্টোপাসের ঝাঁপি, কিংবা গাত্র নীলবর্ণ ম্যারমেইড
তুমি বলছিলে আমায় নোনা জল
জলবায়ু হরিৎ এক দ্বীপ 
আবিষ্কারের মোহে গড়িয়ে নামে জাহাজ 
কাঠের পাটাতনে তোমার ছায়া
আমার শরীর উৎরে বইছে নদী 
সমুদ্র কাঁদে বাসভূমি পরিত্যাগে
তুমি জানছিলে আমায় ছুঁয়ে গেছে 
আরও ঢেউ বাতাবী বনের মশলা 
কাঠবাদামের পাতা আর নীল রাত
তুমি আমাকেই আবিষ্কার করা কলম্বাস
কুঠুরি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে 
কেবল দূরত্বের আবাহন আমাদের;

জ্বলে নিঃসঙ্গ হেডলাইট 
ঠোঁটের আগায় বেয়োনেট লাগিয়ে 
তুমি জানতে উত্তরের দোটানায় ক্লান্ত 
দক্ষিণ বায়ুরোধী বৈশালী পরিত্রাণ 
তবুও আমারে নিয়া যাও তুমি 
আমার একা সমুদ্রে একা লাগে
আমার কলম্বাস আবিষ্কার করো 
আবারও আমারে, 
ঢেউ গুণে গুণে আমি ক্লান্ত 
ডানা ঝাপটায় বাতাসে ঝাউপাতা 
আমার মনে হয় কেউ এলো
আমি ছুঁইতে চাই তারে 
ঘোরতর অমাবস্যায় 
যদি বেদুইন আকাশে ঝুলে থাকে তার মুখ
কম্পাংকের লেজার রশ্মি হয়ে,

বলে দিবো তারে আমার একা লাগে 
সমুদ্র কাঁদে আমার হয়ে…

 

||  মাছের মতো চোখ ||

যেন আমিই
শীতনিদ্রা যাপন শেষে কোলাব্যাঙ
যারপরনাই হুড়মুড়িয়ে আসা বর্ষান্ধকার
আমিই একটা শকুন
নিবিড় পরিচর্যায় থাকা পাহাড়ের শিকারী
ঝাঁঝালো কণ্ঠে পাল্টা প্রশ্ন 
লতায় ঝুলে-দুলে থাকা বাতাসী ঝুমকোলতা 
বহুদিন পর খোলা কাঁসার ঘটিবাটি 
ছুটে চলেছে পুকুরের জলে টপাটপ 
মায়ের নতুন শাড়ি
পুরাতনী বয়সের তুলনায় নিখুঁত প্রাণশক্তি
তুলে রাখা রেহালে পবিত্র বইয়ের পাতা 
একা একটি কবিতা আমি
অনেক অক্ষম আক্রোশে নিজেকে পড়ি।

আমি বসে থাকি 
কেননা আমার পায়েরা আখরোট জমায়
কানগুলো সজাগ থাকবে বলে ভুলে যায়
চোখের ভাষা আন্দোলন করে নিজের ভিতরে

লোকগুলো কথা বলে
মাছির মতো
যেন সদ্য জন্মানো হাম্বা বাছুর

আমিই শেষ 
আপাতত অনবরত অভিনয় করতে পারি।

 

|| রেখাচক্র ||

বিষুবতলা বরাবর দাঁড়িয়ে থাকাটা অপেক্ষা 
চুলের কাঁটায় বরাদ্দ থাকবে জল
হাতের রেখায় উল্কি 
নিঃসৃত স্রোত আমায় কাঁদাবে—

অপেক্ষায় থাকবো আকুল দীর্ঘশ্বাসের 
স্বস্তির বিনিময়ে বিকিয়ে আনা শোধ
মনিহারী ভালোবাসা আমার
এমন লেজার সন্ধ্যায়;

আমি অপেক্ষায় থাকি
অক্ষরেখায় দ্রাঘিমান্তর মেপে,
ফিরে আসো এমন করে
আবার আমরা হই যেমন করে…

 

|| ককপিট দুপুর ||

বিষণ্ণ দুপুর আমায় চোরাবালিতে আটকে মারে। চুলের জল চোখের পাতায় নির্বিবাদে জড়ায় তখন। ঘাটের শামুক অবুঝ চাহনি তিলতিল করে পিষে মারে তপ্ততা।

দুপুর নেমে আসলে আমার বিচ্ছিন্ন লাগে। সর্বোচ্চ সতর্কতায় পড়ে থাকা নারিকেল জিঞ্জিরায় একা একটা নৌকা যেন আমি। সাথে ভাসে কোমল মাটির গন্ধ, একটানা ডেকে যাওয়া ঘুঘুটার সাথে যে সখ্য গড়ে তারে খুঁজে বেড়ায় গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স। কতটা হারায় গভীর ক্লান্ত ডানা লেজের পশমের কাছে, ঠোঁট বাঁকিয়ে যে পাখিটা গুঁজে দেয় নিজেরে পশমের ভাঁজে, তারও মতো দুপাটি রোদ এসে ঘুরে গেছে উঠানের জলপাই গাছের গোড়ায় আমার! 

দুপুর আমায় অজানায় রাখে শৈশবের পুকুরের গুপ্তধনের গল্পে—