সাদা কাফনের সাইরেন ও অন্যান্য কবিতা
কার কাছে যাই?
ঘন বর্ষায় বৃশ্চিক রাস্তা এঁকে যায়।
পা-ভরা সংকোচ! কার কাছে যাই?
মরার!
কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে
সব গভীর ঘুম।
বৃন্দাবন সারং রাগে জাগে না সে,
জাগার কথাও নয় এই ঘুম।
বৃষ্টির দোলে
আবোলে ডেকে ওঠে
তার নাম।
জানলা খুলে আবার
ঘন হতে থাকে ঘাসের রাস্তা।
ঘুম-ঘুম জিভ
জল চায়!
অপেক্ষা
রাস্তার ওইপারে
পলাশীর মোড়।
তুমি আঙুল তুলে দেখিয়ে দাও
প্রথম প্রেমে পড়া,
তার হাত ধরে হেঁটে যাওয়া
মুহূর্ত।
প্রেমে না পড়ার প্রতিজ্ঞা
আজও দাঁড়িয়ে থাকে
তোমার সঙ্গে।
দেখা হলো কি হলো না
প্রেমে কিংবা অপ্রেমে,
দেখা না করার পাঁয়তারায়
সব ভেস্তে যাবে ভেবে
এমন তো হতেই পারে
বিরল এক রোগে
তুমি মরে যাবে।
মরে যাওয়ার আগে
তোমার বাড়ি ফেরার পথে
স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে
রেডিওহেড বাজতে থাকে।
আর কারও দুপুর,
কারও বিকেল কাটে
অপেক্ষায়—
ফোন হাতে...
সাদা কাফনের সাইরেন
সাদা কাফনের সাইরেন
বেজে যায়
চেরিদের বোবা শরীরে।
নুয়ে যাচ্ছে সূর্যমুখী—
তার নতমুখ স্পর্শ করে
ঝড়ো হাওয়া নিয়ে আসে
অন্য ফুলের সুবাস
তোমাকে চেয়েছিলাম
আমার পরাজয়ে—
যেখানে থাকে
নিজের নাম ভুলে যাওয়ার
দীর্ঘ অভ্যাস।
কই যাও?
না, থাক।
জানতে ইচ্ছে করে না।
সেসব রাতগুলো—
যখন নিজের মাথা
নিজেই চিবিয়ে খেতে ইচ্ছে করে
খপ করে
রক্ত
দুঃখ হয়ে
ছলকে ওঠে বুকে,
আর একটা বিস্বাদ
জিভে নয়
হাড়ের ভেতর
লেগে থাকে।
সাদা কাফনের সাইরেন
বেজে যায়
চেরিদের বোবা শরীরে।



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন