মাছের জনম ও অন্যান্য কবিতা
ক্যাচার ইন দ্য রাই
একটা কবিতা
কিছুতেই কবিতা হতে চাইছে না
হামাগুড়ি দিয়ে
খিলখিল হেসে
চলে যাচ্ছে দূরে
মাঝে মাঝে ফিরে চাইছে
ঝলমলে দুষ্টুমিতে,
জানে
আমি ওর নাগাল পাবো না
চাইছি কেবল
ব্যথা না পায় যেন,
নিরাপদে সুস্থির
খেলুক, শিখুক, দেখুক
ভালো কিছু হয়ে উঠুক
পাঠকের চোখে
অথচ মেঝেতে গড়িয়ে
ধুলো মেখে ওই
আঙুল মুখে পুরে
অবাধ্য হাসি নিয়ে
চেয়ে আছে দেখুন
পেছনে লেগে থাকি তবু
দিনভর জাগরণে, স্বপ্নেও
দেখি শাসনে হঠাৎ
অভিমানী চোখে আর নির্বাক ঠোঁটে
সুন্দর এসে বাসা বাঁধে
অকস্মাৎ
কোথাও কোন কিনারা পেরিয়ে
হঠাত পড়ে যাবে
এই ভয় নিয়ে চেয়ে থাকি
আর মনে হ’তে থাকে
অবাধ্যতাই ওর একমাত্র ভাষা,
না হতে চাওয়াতেই বেড়ে ওঠা।
কলের মিস্তিরি
আমাদের পানির কলের মিস্তিরি
কল ঠিক করতে যায়া
একা একা কথা বলে,
পাশের ঘর থেকে শুনি
শুধু নিজের সাথে না,
হাতের রেঞ্চ,
জংধরা ভাল্ব আর
ঘাউরা পাইপের সাথেও
ওরে সোনা,
এই তো আর একটু,
হয়া গেছে নড়িস না
শুনি আর ভাবি
কেমনে একটা মানুষ
লোহার টুকরার সাথেও
নরম গলায় কথা বলা শিখে,
এইটাই কি
কল সারাইয়ের বিদ্যা?
রহস্য
দ্যাখো পাথর নড়তেসে না আর
সেইসাথে রক্তে ভেজা
পাথর কি তবে ছিল
মানুষটার ডাকনাম?
নাকি পাথরে বাধা ছিল
একটা পাখি
আর কেউ প্র্যাকটিশ
করতেসিল গুলির নিশানা?
নাকি পাথরটা নড়ে নাই
সেই লক্ষ বছর,
ফসিল হয়ে আছে?
তাহলে রক্ত এলো কোত্থেকে?
মাছের জনম
আমার ছেলে আমাকে বলে
মাছ নাকি কখনও পুরোপুরি
ঘুমায় না,
ব্রেনের অর্ধেক বিশ্রাম নেয়
আর অর্ধেক তারে রাখে
সাঁতারে চলমান যাতে
ভাইসা না উঠে
কথাটা এমনভাবে ও বলে
যেন জমানো আরেকটা জ্ঞান
ডাকটিকেটের মত
প্রতিদিন জমায় যেগুলো
শৈশব
বলে: ‘থামলে যে ওরা বাঁচে না।’
কথাটা হজম করার আগেই
পরের তথ্যে চলে যায় ও।
মাথা নাড়ি
ভাবি কতদিন ধরে
এমনেই বেঁচে আছি:
বুকের মধ্যে ছোট্ট একটা
সাঁতার অবিরাম চলে
কিছুতেই হাল ছাড়ে না,
চাইলেও পারে না।



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন