বিকেলের বিষাদ
অ
শেষ বিকেলে মৃত একটা গাছের নিচে এসে দাঁড়াতেই এক তরুণীর নিজেকে মনে হলো একটা জীবিত গাছ! তারপর সে দাঁড়িয়ে থাক্লো চুপচাপ। তার বিশ্বাস হলো, ত্বক ফুঁড়ে পাতা বের হবে,পা চিরে শেকড় নামবে মাটিতে! হাওয়ায় রোদে বৃষ্টিতে সতেজ হয়ে উঠবে সে! কিন্তু অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ঘুম তার দুচোখ টেনে ধরতে চাইল, ক্ষুধা তাকে অবসন্ন করে তুল্ল, শ্রান্ত পা দুটো তাকে বাড়ি ফিরে যেতে তাড়া দিল। কিন্তু তার মন তাকে বল্ল, উঁহু… তুমি গাছ… মৃত গাছটার দুঃখের দুঃখি একজন..ওকে ফেলে কেন যাবে? ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে একদিন পা ফেঁটে শেকড় নেমে এল। মাটিতে মিশে গেল সমস্ত দেহ মেয়েটার। উইয়ের ঢিবি যেভাবে জন্মায় মরা গাছের কাঠে তেমনি তার দেহ ঢেকে ফেল্ল উঁইয়ের ঢিবি। লোকেরা বল্ল, মৃত্যুই তাকে মরা গাছটার কাছে টেনে নিয়ে গিয়েছিল মরার জন্যে! আমরা তো জানি না আমাদের প্রস্থান কোন পথ দিয়ে কিভাবে হবে!
আ
বিকেলে লেকের জলে যারা নৌকা বাইতে নেমেছিল তাদের বৈঠার স্পন্দন এত বেশি ভালো লাগ্ল যে, জল কেটে আগাতে আগাতে তাদের মনে হলো তারা একেকজন একেকটা রাজহাঁস! ফলে সন্ধ্যার মুখোমুখি তারা সবাই নৌকা জলে ভাসিয়ে নেমে পড়ল জলে! হাঁসের মতো ভাসতে ভাসতে তাদের এত ভালো লাগতে লাগ্ল যে, সন্ধ্যার শেষ রূপোলী আলোয় তাদের মনে হলো, তারা প্রত্যেকে জলের সন্তান! অন্ধকার নাম্লে তারা ডুব সাঁতার দিয়ে নিজেদেরকে মাছ ভাবতে লাগ্ল! ভোরে যারা মাছ মারতে এল তারা আবিস্কার করল লেকের সমস্ত জল উধাও! একদল লোক ঘুমিয়ে আছে কাদার মধ্যে! তারা ভাব্ল ওরা জলের তলার বাসিন্দা।
ই
বিকেলে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ক্লান্ত, বিরক্ত হয়ে উঠল শহরের লোকেরা। কেউ কেউ লাফিয়ে পড়ল ছাদ থেকে, কেউ কেউ গায়ে আগুন দিল! যারা বেঁচে থাক্ল তারা উন্মাদ হয়ে গেল! মন চিকিৎসকেরা বল্ল, বর্ষাকাল এলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বর্ষাকালে দেখা গেল মনোচিকিৎসকেরা উন্মাদ হয়ে গেল, তারা পরস্পরের নাম শুনলেই পরস্পরকে কামড়াতে লাগ্ল! অনেকদিন পর রাজধানী থেকে ঘোষণা এল—একটা উন্মাদ শহরের নাম, যেখানে সবাই বৃষ্টির অপেক্ষা করতে করতে উন্মাদ হয়ে গেছে। বর্ষাকালে যারা রেইনকোর্ট গায়ে, ছাতা মাথায় মানববন্ধন করে, বৃষ্টির দাবিতে!
ঈ
বিকেলে এক মহিলাকে একটা কফিন আঁকড়ে বসে থাকতে দেখল একদল কিশোর। তারা ফুটবল খেলা ফেলে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, কি হয়েছে? মহিলাটি বল্ল, মৃত স্বামীর কফিন বইবার মতো কেউ নেই তার। কিশোরেরা লাফিয়ে পড়ে কফিন কাঁধে তুলে মহিলার সঙ্গে গোরেস্তান চলে গেল। কবর খোঁড়ার মতো কেউ না থাকায় কিশোরেরা নিজেরাই কবর খুঁড়তে লাগ্ল! অনেকক্ষণ খুঁড়তে খুঁড়তে ভীষণ গভীরে নেমে গেল কিশোরের দল। তারা বুঝল উপর থেকে দড়ি বা মই না ফেললে ওঠা সম্ভব নয়। মহিলাটি তখন গোরেস্তানের একজন মুর্দাফরাসকে ডাক দিলেন। তিনি এসে বললেন, গোর খোড়া হয়ে গেছে? মহিলাটি কবরের গহীনে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরদের দেখিয়ে বললেন, এরা সব মৃতের সঙ্গী! মুর্দাফরাস মুচকি হেসে উপর থেকে কফিন নামিয়ে চাপা দিলেন কিশোরদের, তারপর মাটি ফেলে ঢেকে ফেললেন সব। কবরের উঁচু বুকের উপর এক তোড়া আগরবাতি জ্বালতে জ্বালতে মহিলাটি বললেন, সবাই একা যায় না, কেউ কেউ অনেক ঘরে দুঃখ জ্বালিয়ে যায়! মুর্দাফরাস মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন।
উ
বিকেলের বিষাদ আসে কোত্থেকে? একজন বল্ল, হাওয়া থেকে! অন্যজন বল্ল, উত্তর দিক থেকে! বাকি তিনজন বল্ল, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিমের কথা। ৫ম জন বল্ল, উঁহু ওই পাহাড়ের চূড়া থেকে! পাহাড় বেয়ে সে নেমে আসে দুপুরের পর থেকে! আর হাওয়ার স্পর্শ পেলে সে বিষাদ হয়ে ওঠে! সবাই হই হই করে বল্ল, আমরা বিকেলের বিষাদে জর্জরিত হয়ে আছি। কিভাবে ওটা থেকে মুক্তি পাব? ৫ম জন বল্ল, বিষাদকে হত্যা করতে হবে! সবাই অবাক হলো। তার পরেরদিন থেকে পাহাড়ের কোল ঘেঁষা ছিমছাম গ্রামের যুবকেরা বিকেল হলেই তীর ধনুক নিয়ে পাহাড়ের দিকে তীর ছুড়তে থাকে। তাদের বিশ্বাস পাহাড় বেয়ে নামতে নামতে বিষাদ তীর বিদ্ধ হয়ে মারা পড়বে! কিন্তু তার মৃত্যু সংবাদ তারা কিভাবে টের পাবে সেটা তারা জানে না। ফলে তারা মাসের পর মাস তীর মারতে থাকে। আর সেইসব শত শত তীর গিয়ে পাথরে লেগে পাথর আলগা করে ফেলে দিনে দিনে। এক সময় হুড়মুড় করে আলগা পাথর তীরের আঘাতে খুলে পড়তে থাকে। সবাই চিৎকার দিয়ে বলে, ওই যে বিষাদ নামছে গুড়ো গুড়ো হয়ে! দেখা যায় সেইসব বড়বড় পাথরে চাপা পড়ে অনেক তরুণ মরে যেতে থাকে। আর অন্যরা বলে, অমুক বিষাদে চাপা পড়ে মরেছে, আমি ওর মৃত্যুর বদলা নেবো। বলেই সে হয়তো আরও ডজন ডজন তীর ছোঁড়ে। বছরের পর বছর কেটে যায় এভাবে। তারুণ্য জীবনের অংশ হয়ে ওঠে এই বিষাদকে হত্যা করা কিংবা তাকে হত্যা করত গিয়ে নিজে মারা পড়া! কয়েক যুগ পর সেই পাহাড়ের পাথর খসে পড়তে পড়তে একসময় পাহাড় কমে এল। দিনে দিনে আরও ছোট হয়ে গেল। তারপর বাদবাকি পাথর স্থানীয় পাথর চোরেরা লোপাট করে দিল। কিন্তু বিকেলের বিষাদের মৃত্যু হলো না। সবাই আবিষ্কার করল, পাহাড় শূন্য একটা গ্রাম হু হু করে কান্দে দিনরাত। ফলে সবাই সেই বিষাদে ডুবে গিয়ে অপেক্ষা করে, কবে একটা আস্ত পাহাড় জন্মাবে যেখানে আগের পাহাড়টা ছিল সেইখানে? তারা প্রতি রাতে এই স্বপ্নের বিষাদ বুকে নিয়ে ঘুমাতে যায়।
ঊ
পড়ন্ত বিকেলে একটা বনমোরগ ধরার পর সেটাকে ঝলসাতে আগুন জ্বালতে জ্বালতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। জঙ্গলে ক্যাম্প করা মেয়েটি আগুনে যখন মোরগটাকে উল্টেপাল্টে দিচ্ছিল তখন ভীষণ বিষন্ন হয়ে পড়ল মনটা। এদিকে ঝলসানো মাংসের ঘ্রাণে বাতাস ভরে উঠল। ঝোপের আড়ালে বসে থাকা শেয়ালটা এসব দেখতে দেখতে জিভ দিয়ে গাল চাটতে লাগ্ল। মেয়েটা ঠিক করে ফেল্ল এই মোরগ সে খাবে না। সঙ্গে আসা তার বন্ধুকে খা্ইয়ে দেবে। যদি যাদু জানত মেয়েটা, তবে সে মোরগের প্রাণ ফিরিয়ে দিত নির্ঘাৎ! ঠিক তখন আশপাশের গাছ থেকে লাফিয়ে নেমে এল একটা চিতাবাঘ! ঝোপের আড়াল থেকেই আতঙ্কে দৌড়ে পালাল শিয়াল আর মেয়েটা মুহূর্তের মধ্যে ঝলসানো বনমোরগটা ছুড়ে দিল চিতাবাঘের মুখে আর নিজেকে নিয়ে সে তাবুর মধ্যে ঢুকে পড়ল!
ঋ
বিকেল হেঁটে যাচ্ছিল বিষাদের চাদর গায় দিয়ে। এক বণিক তাকে দেখে বল্ল, তোমার চাদরটা তো ভারি সুন্দর! বিক্রি করবে? বিকেল গায়ের চাদর খুলে বিক্রি করে হাসিমুখে চলে গেল। বণিক চাদরটা গায়ে দিতেই তার মন ভারি হয়ে এল। মনে হতে লাগ্ল, এই ব্যবসা এই সম্পদ সব অনর্থক! মুহূর্তের মধ্যে তিনি সব ছেড়ে পাহাড়ের দিকে হাটা দিলেন। পাহাড়ের কোলে এক সন্ন্যাসী থাকেন তার আস্তানায় গিয়ে বণিক বললেন, আমি সব ছেড়ে এসেছি, আমি সন্ন্যাস নিতে চাই! সন্ন্যাসী বণিকের গায়ে বিষাদের চাদর দেখে বললেন, আগে স্নান সেরে আসো নদী থেকে! বণিক নদী কিনারে গিয়ে গায়ের চাদর খুলতেই তার মনে হলো, আরে আমি তো বিরাট ব্যবসায় ফেলে এসেছি, পরিবার রেখে এসেছি, আর এই নদীতে যদি কুমির থাকে আর সেই কুমির যদি তাকে টেনে নেয় তবে তো সর্বনাশ! বণিক হাঁটা দিল তার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দিকে। কিনারায় ফেলে রেখে গেল বিষাদের চাদর! এক মাঝি নৌকা নিয়ে যাচ্ছিল নদীর কিনার ঘেঁষে। চাদর দেখতেই তার মনে হলো তার একটা ভালো পালের অভাব! চাদরটা নিয়ে সে তার নৌকার পাল বানাল! বাতাস লাগতেই বিষাদ ফুলেফেঁপে উঠল। আর নৌকায় পারাপার হওয়া যাত্রীদের বিষাদিত মনে কেবল মনে হতে লাগ্ল, জীবন হচ্ছে পারাপারের মধ্যে এই নৌকায় বসে থাকা! লাফিয়ে পড়লেই শেষ! কয়েকদিনের মধ্যে মাঝি আবিষ্কার করলেন তার আর নৌকা বাইতে ভাল্লাগে না,কেমন জানি মন মরা লাগে সব সময়, আগে এমন হতো না। হঠাৎ একদিন নদীতে ভেসে যেতে দেখল একটা লাশ। লাশটা তুলে ডাঙ্গায় এনে লাশ ঢাকতে বিষাদের পাল খুলে জড়িয়ে দিল। একটু পর পুলিশ এসে বিষাদ জড়ানো লাশটা নিয়ে গেল সুরতহাল করতে! মাঝি বৈঠা বাইতে গিয়ে টের পেল জীবন বেদনার উপর আনন্দের নৌকায় ভাসছে!
এ
বিকেলের বিষাদ যখন একটা বাড়ির উপর ঝড়ে পড়তে লাগ্ল,তখন বাড়ির লোকেরা দ্রুত দরজা-জানালা লাইট বন্ধ করে শুয়ে পড়ল! কিন্তু ঘুম এলো না কারোর চোখে! অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর তারা পরস্পরের কাছে ফিসফাস স্বরে বার্তা পাঠালো—‘… ঘুম তো আসছে না! এভাবে লাইট অফ করে শুয়ে থাকলে বিষাদ পালাবে?... আমরা তো রাতের খাবারও খাইনি আজ… এক রাত না খেলে মরবে না… বাথরুম পেলে কি যাওয়া যাবে?... না-কি বাথরুমের বাতি জ্বাললে ভেন্টিলেটর দিয়ে বিষাদ ঢুকে পড়বে?... এখন আমরা ঘুমাতে গেলে উঠতে হবে ভোররাতে…. তখন কি বাইরে বিষাদের থাকার চান্স আছে?’ সারারাত তারা মরার মত পড়ে রইল। ঘুম এলো না। বরং অন্ধকারের সুযোগ পেয়ে নির্জন রাতে বিষাদ জানালার ফাঁক গলে ঢুকে জড়িয়ে ধরল সবাইকে। ভোররাতে যখন ঘুম ভাঙলো সবার,তারা আবিস্কার করল সমস্ত বাড়িতে হাটুপানি জমে থৈথৈ! তাদের নিরব কান্নার নোনা জল।
ঐ
বিকেলে এক বালকের ঘুড়ি ওড়ানো দেখে মুগ্ধ একদল লোক মাঠের মধ্যে দুইহাত দিয়ে পাখির মতন ডানা ঝাপ্টাতে লাগ্ল। কিন্তু মানুষ তো পাখি না, সে উড়বে কিভাবে? কিন্তু উন্মাদনায় অস্থির হয়ে উঠল সবাই। এবং ডানার ঝাপ্টা দিতে দিতে দুইহাত ক্রমাগত সঞ্চারিত করতে করতে তারা দৌড় শুরু করল। দিগন্তের কাছাকাছির গিয়ে আচমকা দেখা গেল বিরাট বিড়াট একেকটা পাখি মাটি থেকে হাওয়ায় উবে যাচ্ছে! ঘুড়ি উড়ানো বালকটির সুতো কেটে গেল ঠিক সেই সময়ের বিস্ময়ে!
ও
বিকেলে নিজের মৃত্যুর পয়গাম জানতে পেরে একজন হাসিখুশি মানুষ তার সন্তানদের ডাকলেন। জানা গেল ক্যান্সারের যে স্তরে সে আছে তাতে বড়জোড় সপ্তাহখানেক তিনি বাঁচবেন। লোকটা তার সন্তানদের বললেন, পরশুদিন আমার চল্লিশা আমি নিজে হাতে খাওয়াতে চাই সবাইকে আয়োজন করে। এলাকার সবাইকে দাওয়াত দাও। ছেলেরা আয়োজন করল। ৪০০ লোকের বড়সড় আয়োজন হলো। তিনি হুইল চেয়ারে বসে অক্সিজেন মাস্ক পরে মুগ্ধ হয়ে দেখলেন সবার খাওয়া। শেষ লোকটা খেয়ে ওঠার পর তিনি স্ত্রীকে বললেন, আমার রুমে এক প্লেট খাবার দাও। আমার একজন বিশেষ মেহমান আছেন। স্ত্রী বললেন, উনি কই? লোকটা বল্ল, খাবার দাও। উনি আসবেন। সন্ধ্যায় যখন মালতী ফুলে ছয়লাপ হয়ে গেছে লোকটার বাড়ির বাগান, সেই পাতলা ঘ্রাণের মধ্যে তার স্ত্রী আবিষ্কার করলেন তিনি মারা গেছেন এবং তার সামনে সাজিয়ে রাখা খাবার প্লেট শূন্য!
ঔ
বিকেলের নদী থেকে এক জেলে বিরটা বড় একটা বোয়াল মাছ ধরে অনেক কষ্টে সেটা ডাঙায় তুলে পাঁজা কোলে করে বাড়ির পথে রওনা হলো! সন্ধ্যায় জেলের বউ স্বামীকে খুঁজতে নদীর দিকে যেতে গিয়ে রাস্তায় মানুষের সাইজের এক বোয়াল দেখে চমকে উঠল। নিজে তুলতে পারবে না তাই একটু দূর দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক ব্যাপারীকে দেখে ডাক দিল। ব্যাপারী প্রকাণ্ড মাছ দেখে জিজ্ঞেস করল, মাছটা কে ধরেছে? জেলে বউ বল্ল, তার স্বামী ধরেছে। উনি মাছের লেজের বাড়িতে আহত হয়েছেন। বাড়ি গেছেন চুন হলুদ মাখতে; আর বলে গেছেন যেন আমি খদ্দের পেলে বিক্রি করি। ব্যাপারী খুব অল্প দাম হেঁকে মাছটা কিনে নিল। আর জেলে বউ ওই অল্প টাকাতেই মহাখুশি হয়ে নদীর দিকে এগিয়ে গেল! পরদিন সন্ধ্যায় শোনা গেল আগেরদিন বাজারে ওঠা অতিকায় বোয়ালের পেট থেকে একজন জেলে বেরিয়েছে; যার বউকে মেছো ভূত টেনে নিয়ে নদীতে চুবিয়ে মেরেছে!



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন