পৃথিবীর ঠ্যাঙ ঝুলে আছে ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| পৃথিবীর ঠ্যাঙ ঝুলে আছে ||

গেলো আশ্বিনের আগের কথা
পোড়ামাটির ফলকে খোদাই নাম
ধুয়ে গেছে এ বর্ষায়

সুখী প্রত্ন ইতিহাস
আমাদের যা কিছু কেবল ক্ষয়িতা
বৎসর বৎসরান্তে নবায়িত এমন
আহ্নিক থেকে বার্ষিক;
আবারও উৎসব এলে আশ্বিনে
রচিত হবে তবে বর্ষার জল আর
ভেসে আসবে অমোঘ গল্প
তারপর ভেসে যাবে ঘর দুয়ার
জমির আইল বসন্ত বাতাস
উড়ে গেলে প্রাচীন হাঁস
অমৃত নগরীর ভাষা
রোদ পোহালে তপ্ত বালি
বসন্ত এসে দাঁড়াবে হেথায়
মুগ্ধ হয়ে গেলে রূপার মুদ্রা
পকেটের ঠিকানা হারিয়ে গেলে
প্রতিদিন জমে উঠবে ব‍্যবধান
মুখ ফিরিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে যে
নগ্ন শরীরে নিজেরে দেখে
ভালোবাসা উদাম ঘুমায়
পৃথিবীর দিকে ঠ‍্যাং ঝুলিয়ে
তারপর বৃষ্টি আসবে

আলো আসবে কাঠের রোয়াকে
ছিন্নপত্র পোস্ট করা হয়ে গেছে
হৃদরোগে মৃত্যু হলে
ডিমের সন্তান চোখের মণি হয়ে
পর্দার সামনে আয়না টানবে!

 

|| উড়ে যাচ্ছে ডুবোজাহাজ ||

যে তুমি সুন্দর
সে তুমি পরিত্রাণ নও
তুমি কে যে রাত নও!
দিনের নও সংবাদ

গ্রীষ্মের বদলা নিতে চাও
সমুদ্রকে দাও তুমি
ঢেউ তোমায় জ্বর দিবে
বাতাস দিবে ঢেউ
শঙ্খচিলের সাদা দুধ
দুইছে আদম কেউ!
ডুবে যাচ্ছে
ডুবে যাচ্ছি
ক্ষয়ে যাচ্ছে
ক্ষয়ে যাচ্ছি
শিকল শিকল পা
সা রে গা রে গা মা
তাপ লাগছে শীত লাগছে
জ্বর আসছে
কাগজফুল প্রজাপতি
রঙিন মাঠে ফড়িং গাইছে
উড়ে যাচ্ছে ডুবোজাহাজ
রঙিন আকাশ কাঁদছে
মা বলছে ভাত খেয়ে যা
মন কেমন করছে,
মন কোথায় কোথায় যাচ্ছে
পাশের বাড়িতে রঙিন ঘুড়ি
নখের পাতায় কাক
ব‍্যালকনিতে ঝুলছে দেহ
ভ‍্যানটিলেশন নির্বাক

 

|| সংবিধানের ভাষা ||

ভিজছে বেলীগাছ
                                            শিয়রে তুলার বালিশ
                     রাতের ভেজা চাদর

ভিজে যাচ্ছে চুনসুরকি
                                            পর্দা কাঁপছে চা ফুটছে
                     অসাবধানে ঠোঁট ফুটছে

একা কাঁদছে বেহায়া স্মৃতি

                                             নিকোটিন ফুরায়ে গেছে
                     মন্ত্রী-পাড়ার আকাশে!