দ্বিমাত্রা ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| নির্বাসন ||

কিছু মুখ থাকে—
অক্সিজেন সিলিন্ডারের চেয়েও জরুরি,
ধ্বংসস্তূপে জন্ম নেওয়া সবুজ শৈবালের মতো
ফুসফুসে ফিরিয়ে আনে আদিম পৃথিবী।
কিছু কণ্ঠ—
মৃত নক্ষত্রের ভেতর জমে থাকা আলো
শুনলেই রক্তে খুলে যায়
ঘুমিয়ে থাকা জানালার কপাট।
তবু দেখো—দীপন
মহাকর্ষও সবগ্রহ ধরে রাখতে পারে না—
কিছু উপগ্রহ অদৃশ্য কৃষ্ণগহ্বরের ডাকে
কক্ষপথ ছেড়ে চলে যায়।
এভাবেই দূরত্ব জন্ম নেয়—
একটি শ্বাস থেকে আরেকটি শ্বাসের মাঝখানে
যেখানে বেঁচে থাকার সমস্ত কারণ থেকেও
মানুষ নির্বাসনকে বেশি বিশ্বাস করে।

 

|| দ্বিমাত্রা ||

বুকের ভেতর যেন কেউ চীনের প্রাচীর টেনে দিয়েছে 
আমি এপাশে দাঁড়িয়ে আছি–
আর তুমি অন্য কোনো উচ্চারণের ভিতর
ধীরে ধীরে নাগরিকত্ব বদলে ফেলছো।
তুমি কি সত্যিই তার সাথে দেখা করতে গেছো? 
নাকি এই দূরত্ব কেবল ভূগোল না—
একটা গোপন শরীরের মানচিত্র
যেখানে আমার নাম মুছে দিয়ে
অন্য কারো আঙুলে এঁকে দিচ্ছো নতুন সীমান্ত?
আমার বুকের ভিতর ছিঁড়ে যাচ্ছে পুরোনো ডাকটিকিটের মতো— 
যেন বহুদিন আগের প্রেমপত্র বৃষ্টিতে ভিজে ঝাপসা হয়ে মুছে যাচ্ছে! 
আমি ভয় পাচ্ছি, দিপু!
ভালোবাসা কখনও কখনও
ব্যবহৃত চায়ের কাপের মতো ফেলে রাখা হয়— 
একজনের ঠোঁটের উষ্ণতা শেষ হলেই মানুষ অন্য ঠোঁট খুঁজে নেয়।

 

|| পাফার-ফিশিং ||

কিছু আত্মা সমুদ্রের চেয়ে বড় হয়ে উঠতে চায়—
ফুলে ওঠা শরীরে লুকিয়ে রাখে ক্ষুদ্রতম শূন্যতা!
সমুদ্র জানে—বিষধর দেখানোর এই শিল্প
আসলে ডুবে না যাওয়ার শেষ কৌশল। 
শরীরের ভেতর তাদের লুকিয়ে থাকা ক্রোধ, যেন
স্পর্শ পেলে ভেঙে যাবে—এমন নরম মহাবিশ্ব। 
 
বিস্ময়কর দীপ–যত বেশি বিষ জমে ওঠে শরীরে
তত বেশি হাততালিও বাড়ে অ্যাকুরিয়ামে।

অনেকেই পাফার-ফিশিং জানে, 
নিজেকে বিপজ্জনক দেখিয়ে বাঁচিয়ে রাখে ভঙ্গুর হৃদয়ের ভেজা কঙ্কাল।

 

|| ডাবল টাইমিং || 

একটি চাঁদ
দুটি জানালায় আলাদা আলাদা পূর্ণিমা বিক্রি করে
একটি কম্পাস
উত্তরকে গোপন রেখে
দুটি দিগন্তে পাঠায় একই যাত্রা
ভালোবাসা তখন
কোয়ান্টাম বিভ্রমের মতো—
একই সঙ্গে উপস্থিত
একই সঙ্গে অনুপস্থিত।
শুধু দেখা যায়—দিপু
দুটি হৃদয়ে ঝুলছে একই চাবি
কিন্তু তালাটি
কোনো দরজারই নয়।