চাঁদের পানে হাত

অ+ অ-

 

ঈদ গেল। বেশ কদিন আনন্দেই ছিলাম। পড়িনি। লিখতেও চেষ্টা করিনি। লিখতে হলে পড়তে হয়। যদিও আমার পড়াশোনা অনেকের থেকে অনেক কম! তারপরও পড়ি।

একটা সময় তো হাতের কাছে যা পেতাম গোগ্রাসে তা গিলতাম। অবশ্য তখন আমার এই লেখক জীবন ছিল না। যদিও আমি কী ধরনের লেখক আমি নিজেই তা জানি না। পড়তে পড়তে যদি পাঠক হয়, আর খেলতে খেলতে যদি খেলোয়াড় হয় তাহলে তো আমি লেখক মানে লেখোয়াড়! সেই লেখোয়াড় হিসেবে আজকে লিখতে চেষ্টা করছি।

কদিন আগে বিমানকে নিয়ে চৌহাট্টায় গিয়েছিলাম মেয়ের ল্যাপটপ কিনতে। আসলে আমি ল্যাপটপ বলি আর কম্পিউটার বলি এই যন্ত্র সম্পর্কে আমার জ্ঞান ক-অক্ষর গো মাংস। যদিও ভালো বাংলা টাইপিং জানি আমি। আর জানি টুকটাক কাজ। কিন্তু হলে কী হলো, একজন দক্ষ মানুষ সঙ্গে নেয়া দরকার, যে এই যন্ত্র সম্পর্কে বেশ ভালো জানে। আমাদের বিমান রায় এ ব্যাপারে সেরা। বলা যায় ও সকল কাজের কাজি। কাজেই সময় ও সুযোগ করে বলতেই ও রাজি হয়ে গেল। গেলাম দুজনে একসঙ্গে। ও র‌্যাম-ট্যাম কী কী জিজ্ঞেস করে একটা সুন্দর ল্যাপটপ চয়েজ করে দিল। শেষ-মেশ মেয়ের সঙ্গে কথা বলে ল্যাপটপটি কেনা হলো।

এখন এই সময় কিন্তু এআইয়ের! আপনি কী জানতে চান এআই সব জানিয়ে দেবে! জুতা সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ—সব তার নখদর্পণে! অনেক দিন থেকে জানার ইচ্ছে ছিল, তাই সুযোগ পেয়ে এআইকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভারতের আসামের কাছাড় জেলার কাটিগড়া থানার ওপারে বাংলাদেশের সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার কোন কোন গ্রাম আর কাটিগড়ার কোন কোন গ্রাম?’ মুহূর্তেই এআই বলল, ‘কানাইঘাটের লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মূলাগুল আর লোভাছড়া চা বাগানের ওপারে কাটিগড়ার কিন্নরগ্রাম, দিনানাথপুর গ্রাম।’ আর শিলচর কতদূর বলতেই বলল,‘৫০ কিলোমিটার।’ এগুলো কেন জিজ্ঞেস করি তার একটা জবাব আছে। হয়তো অনেকে জানেন। হয়তো জানেন না।

যাইহোক, আমার আবার ভৌগলিক জ্ঞান বলা যায় খানিকটা টনটনে। সেই কিশোরকাল থেকে জানার আগ্রহ অনেকের থেকে আমার অনেক বেশি। নিজের ঢোল নিজেই পেটাচ্ছি। আচ্ছা, পেটাচ্ছি যখন তখন আরও পেটাই।

যখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি তখন দুটি ঠিকানায় দৈনিক পত্রিকা পড়তে যেতাম। একটি হচ্ছে আমাদের খুব খাতিরের একজন খালাম্মার বাসা, আরেকটি হচ্ছে চালের আড়ত। তো খালাম্মার বাসায়ই বেশি যেতাম। আর চালের আড়তে মনে হয় একদিন পরপর যেতাম সংবাদ পড়তে।

একদিন শুনি চালের আড়তের ম্যানেজার তাঁর সঙ্গী আরেকজনকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘কোয়ালিশন সরকার কীরে ভাই?’

বললাম, ‘একসঙ্গে কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলে যখন সরকার গঠন করে তখন তাকে কোয়ালিশন সরকার বলে।’

ম্যানেজার বললেন, ‘কাল থেকে তোমার পত্রিকা পড়া বন্ধ।’ তিনি কথ্যভাষায় এঁচোড়পাকা না বলে বলেছিলেন, ‘ইচরেপাকা ছেলে! দুইদিনে নষ্ট হয়ে গেছ।’

চোখ বুজলেই এখনও সেই ফর্সা ছোটোখাটো ম্যানেজার ভদ্রলোকের চেহারা ভেসে ওঠে।

মনে হয় তিনি আমাদের অবস্থা জানতেন, অথবা তেমন জানতেন না। তবে বেশ স্নেহ করতেন।

ফিরে আসার সময় শুনছি তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলছেন, ‘ছেলেটার বাবা নাই। মায়ের সঙ্গে স্টাফ কোয়াটারে থাকে। ওর একটা বোনও আছে।’

‘বাড়ি কোথায় ওদের?’

তিনি কী জবাব দিয়েছিলেন ইথারে আর ভেসে আসেনি সে কথা।

তখন কী দিনটাই না আমাদের গেছে! বাবা নেই। বাড়িঘর নেই। বাবা যে সরকারি ইন্সটিটিউটে চাকরি করতেন থাকি সেই ইন্সটিটিউটের স্টাফ কোয়াটার্সে। সেই খালাম্মার হাসবেন্ডের আমরা যাঁকে চাচা বলতাম বলা যায় তাঁরই বদান্যতায়। কদিন পর পর তাঁর কিছু কলিগ যখন আমাদেরকে তাড়ানোর জন্য উঠেপড়ে লাগতেন তিনি তখন একক প্রচেষ্টায় সেই চাপ ব্যর্থ করে দিতেন।

বলতেন, ‘কোথায় যাবে ওরা? এদেশে তো ওদের কিছুই নেই। বিবেক কি আমাদের লোপ পেয়েছে? একজন বিধবা মহিলা তাঁর দুজন এতিম সন্তান নিয়ে এখানে থাকছেন। তাঁর স্বামী তো আজীবন রাষ্ট্রের সেবা করে গেছেন।’

তখন ফুল-ফ্রি স্টুডেন্টশিপ নিয়ে স্কুলে পড়তাম। প্রতি মাসে ফুল-ফ্রি স্টুডেন্টশিপের রিসিট জমা দেয়ার সময় মনটা ছোটো হয়ে যেত। সে সময় ক্লাসটিচাররা বেতন নিতেন। সকলেই বেতন দিচ্ছে। কেবল আমি আর দুর্গেশ হেডস্যারের স্বাক্ষরযুক্ত রিসিট জমা দিচ্ছি। হায়রে হায়! কী একটা জীবন ছিল!

‘ভাই দুর্গেশ, তোর কি মনে আছে রে আমি আর তুই ফুল-ফ্রি স্টুডেন্টশিপের ছাত্র ছিলাম।’

দুর্গেশ এসএসসি পাশ করেছিল কিনা তা আমার আর মনে নেই। তবে সে পোস্টঅফিসের চাকরিতে ঢুকেছিল। তার বাবা পোস্টঅফিসে চাকরি করতেন তখন।

এই দুর্গেশের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে আমার। বছর কয়েক আগে হঠাৎ ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল বন্দরবাজারে। কথা বলতেই বলল, ‘চিনতাম না কেনে! তোরে চিনি। প্রতিবছর মিলাদো সুন্দর করি গজল গাইতে। এখনও কানো বাজে তোর গাওয়া সেই গজল, ‘তোরা দেখে যা আমেনা মায়ের কোলে...।’ বললাম, ‘খান স্যারে প্র্যাকটিস করাইতা মিলাদোর আগে। আমি গাইতাম। দরদ দিয়া গাইতামরে।’

তখন তো আমার বয়স কেবল ১৪। আমাদের রাজা জিসি হাইস্কুলের বাংলার রহমান স্যারের ভাষায়, ‘হাওয়া লাগার সময়কাল।’ সত্যি, স্যারের কথা মতো সে সময় আমার হাওয়া লেগেছিল!

আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় একটি প্রবাদ বাক্য আছে। ‘খাইবার নাই, খেলাইবার হাদা।’ তো খাইবার নাই খেলাইবার হাদা কিশোর আমি প্রেমে পড়লাম খালাম্মার ওই মেয়েটির সঙ্গে যে গভর্নমেন্ট গালর্স স্কুলের ছাত্রী ছিল। ও আমার এক ক্লাস নিচে পড়ত। আমি ইত্তেফাক পড়ার ছলে ওদের বাসায় ওকে দেখতে যেতাম। একটা নির্দিষ্ট সময়ে ওই বাসায় ঢু মারতাম। ও দরজা খুলে দিত। খালাম্মা বলতেন, ‘কে রে অনামিকা?’ ও বলত, ‘আনিস ভাই, পড়তে এসেছেন।’ আমি ইত্তেফাক পড়তাম আর ওর একঘর থেকে আরেক ঘরে যাওয়া-আসা দেখতাম। আর বন্ধের দিন হলে তো কথাই নেই সকাল-বিকেল ঘোরাঘুরি করতাম। সকালে হয়ত ইত্তেফাক পড়তে গেছি আর বিকেলে ওদের বাসার সম্মুখের রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। ও জানালা খুলে দেখত অথবা বারান্দায় বের হতো। আমার মন আনন্দে তখন ভরে যেত! আর ও যে যে বাসায় যেত কাকতালীয়ভাবে আমিও সে সে বাসায় যেতাম।

ও-ও সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন আমাদের বাসায় আসত। আমার ইমিডিয়েট বড় বোনের সঙ্গে ওর তুমুল আড্ডা চলত। আর পারলে কতক্ষণ পরপর আমার দিকে তাকাত। আমিও আপা মায়ের ডাকে সাড়া দিলেই, অথবা পাকঘরে গেলেই সুযোগ বুঝে দু-এক কথা বলতাম, আর তাকাতাম।

একদিন হয়েছে কী, স্কুল থেকে ফিরেছি।

তখন আশ্বিন মাস মানে শরৎকাল চলছিল। সুরমা নদীর তীরে আমাদের বাসার পাশে কাশফুলের মেলা বসেছিল। প্রকৃতির এই রূপের বর্ণনা দেয়ার সাধ্য তখন আমার ছিল না। এখনও নেই! পুজোর ছুটি তখনও শুরু হয়নি। আমার জানা ছিল ও একটু পরে আসবে। তাই শরীর গরম, জ্বর এসেছে বলে খেয়েদেয়ে আর বের হইনি। শুয়ে পড়েছি।

ও একটু পরে এলো। আমাকে দেখে শুয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করল। তারপর আমার কপালে হাত দিয়ে জ্বর দেখল। সুযোগ বুঝে আমিও স্বাভাবিকভাবে ওর হাতে হাত রাখলাম। সত্যি যে খামোখা শুয়ে রয়েছি ও মুচকি একটি হাসি দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল! তারপর সন্ধ্যারাতে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করি ও আবার এসেছে সঙ্গে ওর বোনকে নিয়ে। এবার দেখি ভাববাচ্যে কথা বলছে! ‘জ্বর কি ছেড়ে গেছে সাহেবের?’ তারপর গলার স্বর নিচু করে চুপি চুপি আমাকে বলল, ‘দেখতে এসেছি আপনাকে জনাব।’ আমি কী বলব? তখন পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে হাস্যোজ্জ্বল মুখে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর ছিল না আমার।

প্রেম-টেম করতে হলে সাহসী হতে হয়, নিজ থেকে এগিয়ে গিয়ে ভালোবাসার কথা বলতে হয়। সেইকালে আমাদের পারিবারিক মহাবিপর্যয়ের সময়ে আমি এই প্রকৃতির ছিলাম না। ছিলাম ভীতুর ডিম। এখনও তো মনে হয় সেই ভীতুর ডিমই আছি আমি। সাহসী হয়ে উঠতে পারিনি।

অবশ্য কদিন আগে একসময়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী কাম ক্লাসমেট বলল, ‘লেখক হয়ে তুমি যে সাহসী হয়ে উঠলে! আগে তোমার এই সাহস কোথায় ছিল!’ আসলে সাহসী হতে গেলে মনে হয় টাকা একটি ফ্যাক্টর। সেই সময়ে আমাদের কোনো টাকা ছিল না। ছিলাম আমরা কপর্দকহীন ভাসমান মানুষ। এখন কি টাকাওয়ালা হয়েছি? নিশ্চয়ই না। তবে সেইরকম দিন আর নেই। এখন একটা মধ্যবিত্তের পাকের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি।

যাইহোক, যে কথা বলছিলাম। ওই সময় ওদের বাসায় তখন আমার যাওয়া-আসা বেড়ে গেছে। নানা ওসিলায় ওদের বাসায় যাচ্ছি। আর সাপ্তাহিক রোববার, বিচিত্রা নিয়ে ফিরছি। একদিন  রোববারে, হ্যাঁ স্পষ্ট মনে আছে, রোববারে একটি চিরকুট মার্কা চিঠি আবিষ্কার করলাম।  লেখা, ‘তোমাকে কিছু লিখতে পারছি না বলে আমি দুঃখিত। তুমিও তো কিছু লেখ না!’ কিন্তু দুঃখ আমার দুঃখ হয়েই রয়ে গেল। চিঠিটির উত্তর দেয়ার সাহস হয়ে উঠল না। তারপরও ও কত চেষ্টাচরিত্র করে গেছে! লাভ চিহ্ন এঁকে এ+ও লিখেও পাঠিয়েছে। কিন্তু আমি হাঁদারামের ঘুম ভাঙ্গেনি; ওকে ভালোবাসি এ কথা বলতে পারিনি!

আরেকদিন দেখি আপা লুকিয়ে লুকিয়ে হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে উপন্যাসটি পড়ছে। তখন তো আর এত প্রচ্ছদ-ট্রচ্ছদ তেমন বুঝতাম না। কেবল জানতাম আপা এটি কোত্থেকে এনেছে। আপা পড়ে ফেরত দিতেই আমি গিয়ে বললাম, ‘অনামিকা, আমি হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে উপন্যাসটি পড়ব।’ ও নিয়ে এলো। আপাকে দেখিয়ে দেখিয়ে আমি কাইয়ুম চৌধুরীর প্রচ্ছদে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস পড়তে শুরু করলাম। তখন তো আমি অনামিকায় বুঁধ হয়ে আছি।

ও দেখতে বেশ সুন্দরী ছিল। আর তখন তো আমি শ্যামলা রংয়ের কিশোর।

কত কথা মনে হচ্ছে।

খালাম্মা বলছেন, ‘আপা, আপনার ছেলের মুখ কালো হয়ে যাচ্ছে। কারণটা কী গো? ওরে ডাক্তার দেখান। হাত-পা সব পরিষ্কার আর মুখ কালো হইতেছে দিন দিন।’

আম্মা কী বলবেন? খালাম্মা চলে গেলে আমাকে ডেকে বললেন, ‘বাবারে, আমরা তো অভাবো আছি। আমি কই পাইতাম টেকা? পুয়া মানুষোর কালা আর দলা। পড় আর মানুষ অও। দেখবায় তুমার অনেক দাম।’  

আমাদের সমাজে কিন্তু মেয়েদেরকে সুন্দর হতে হয়। আবার বেশি সুন্দরী হলে বিপদও আছে। আশেপাশের ছেলেছোকরারা পেছনে লেগে যায়। আমার বন্ধুবান্ধবরাও দেখি ওর পেছনে লেগে গেল। একজন তো তার বাসার সম্মুখ দিয়ে ও কোথায় গেলেই গায়ক হয়ে যেত। গাইত, ‘চুমকি চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কী তাতে...।’ আরেকজন ‘ববিতা ম্যাডাম’ বলে হাটে-মাঠে-ঘাটে ওকে উত্যক্ত করত। আর আমি তো ওর ভালো লাগার মানুষ ছিলাম। তাই আমি বাদে একদিন সকলের বাসায় বিচার গেল। সাধু আমি মনে মনে বললাম.‘বালা অইছে। লাগো। লাগালাগি করলে তো এমন ফল পাইবায়।’ কিন্তু হায়রে হায়! আস্তে আস্তে আম্মাও কীভাবে যেন টের পেয়ে গেলেন আমার আর ওর মধ্যে একটা সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বললেন, ‘কিতারে অনামিকার লগে তোর কিতা? বুঝসনি আইজ যদি তারা বাসা ছাড়ার কথা কয় তাইলে আমরা কই যেইমু! তুই তো বড় অকৃতজ্ঞ! অনামিকার লগে লাগিয়া রইসত। তোর চাচা আর খালাম্মায় যদি আমারে কিচ্ছু কইন ই ব্যাপারে, কত বড় শরম পাইমু আমি! কী উত্তর দিমু আমি? আমার কিতা উত্তর দেয়ার সুযোগ আছেনি?’

আম্মার এই কথাতে আমার ভালোলাগা-ভালোবাসা শেষ হয়ে গেল। গরিবের আবার ভালোলাগা- ভালোবাসা কী!

তারপর একদিন পরীক্ষা শেষ হলে ওর বাবার বদলিজনিত কারণে ওরা সপরিবারে সিলেট ছেড়ে চলে গেল।

কিন্তু ওর সঙ্গে আপার যোগাযোগ ছিল চিঠির মাধ্যমে। প্রতিটি চিঠিতে ও আকুল হয়ে লিখত, ‘আনিস ভাইকে বলবেন যেন আমাকে সে চিঠি লেখে।’

আমি কোনো চিঠি লিখিনি। কী লিখব! বামন হয়ে চাঁদের পানে কি হাত বাড়ানো শোভা পায়?

শেষ কথা। বছর খানিক বাদে অনামিকা ওর বাবার সঙ্গে আমাদের বাসায় আবার এসেছিল। ওরা নেই। কাজেই আমরা তখন আরেক ঠিকানায়। যাইহোক, তখন আমি দ্বাদশ শ্রেণি আর ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। আমাদের মধ্যে কি কোনো কথাবার্তা হয়েছিল এ ব্যাপারে? কিছুই বলছি না আমি। তবে তখনও সে গভীরভাবে এই গরিবকে ভালোবাসত!