ফাহমিদা এনাম কাকলীর একক প্রদর্শনী ‘অব্যাখ্যাত বেদনা’

অ+ অ-

 

শিল্পীকথা || ফাহমিদা এনাম কাকলী

ফাহমিদা এনাম কাকলী একজন সমকালীন দৃশ্যশিল্পী। জন্ম ১৯৭৪ সালে, বাংলাদেশের মাদারীপুরে। তিনি ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিষয়ে প্রথম শ্রেণিসহ এমএফএ (MFA) ডিগ্রি অর্জন করেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি পেশাদারিত্বের সঙ্গে শিল্পচর্চা করছেন। শিল্পের নানা ফর্মচিত্রকর্ম, ড্রয়িং, কোলাজ, ছাপচিত্র, ইনস্টলেশন এবং অন্যান্য মিশ্র-মাধ্যম তার শিল্পের কৃৎকৌশল। নানা প্রকরণে তিনি স্মৃতি-সত্তা, মানবিক অভিজ্ঞতা, প্রকৃতি, সামাজিক বাস্তবতা ও মনোজাগতিক রহস্যময় অবস্থাকে তুলে ধরেন। ২০০৬-২০০৭ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ কনটেম্পরারি আর্ট-এর এশিয়ান আর্ট ফেলোশিপ প্রোগ্রাম-এর জন্য নির্বাচিত হন। তার কয়েকটি একক ও দ্বৈত শিল্প-প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে; যেমনঅ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকা-তে কাঁথা কাহিনী (২০০৯), সিউলের গুয়ান আর্ট গ্যালারিতে একক প্রদর্শনী (২০০৭) এবং এর আগে ঢাকার জয়নুল গ্যালারি ও মাদারীপুরের শিশু একাডেমিতে একক প্রদর্শনী। তিনি বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, ভারত, চীন, জাপান, হংকং, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যৌথ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। শিল্পী কাকলী বেশ কিছু পুরস্কার অর্জন করেছেন। যার মধ্যে রয়েছেযুক্তরাজ্যের নিউক্যাসলে অনুষ্ঠিত আইজ ওপেন ৩য় বিশ্ব এইডস দিবস শিল্প প্রতিযোগিতা-তে দ্বিতীয় স্থান (২০০৫), শিল্পী রাশেদ স্মৃতি পুরস্কার (২০০৩), দীপা হক স্মৃতি পুরস্কার (২০০২) এবং ঢাকার গ্যালারি টোন আয়োজিত আন্তর্জাতিক মিনিয়েচার আর্ট প্রদর্শনীতে চিত্রকর্মের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কার (১৯৯৮)। নিজস্ব স্টুডিও-ভিত্তিক কাজের পাশাপাশি তিনি অসংখ্য আর্ট ক্যাম্প, কর্মশালা, শিল্প-বিষয়ক উপস্থাপনা, প্রিন্টমেকিং কর্মশালা এবং পরীক্ষামূলক শিল্প প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রশিক্ষণ ও যৌথ কাজের অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রখ্যাত শিল্পী ও বিভিন্ন সংস্থার সাথে আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণ। তিনি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক শিল্প-উদ্যোগ স্টুডিও ৪৮-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠক; এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন প্রদর্শনী, আর্ট ক্যাম্প, কর্মশালা এবং যৌথ শিল্প-কর্মসূচির আয়োজন করেছেন।

 

শিল্পকথা || অব্যাখ্যাত বেদনা

আমি ছবি আঁকি আমার দেখা, অনুভব করা এবং মনে জমে থাকা কথাগুলো প্রকাশ করার জন্য। আমার কাছে শিল্প শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্যকে তুলে ধরা নয়; বরং মানুষের অন্তর্গত অনুভূতি, স্মৃতি, সম্পর্ক, সময় এবং আমাদের চারপাশের বাস্তবতাকে অনুভব ও প্রশ্ন করার একটি মাধ্যম। আমার কাজের কেন্দ্রে থাকে মানুষতার আনন্দ, একাকিত্ব, ভালোবাসা, ক্ষত, আকাঙ্ক্ষা এবং নীরব সংগ্রাম। ব্যক্তিগত স্মৃতি যেমন আমার কাজকে প্রভাবিত করে, তেমনি প্রকৃতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং সমষ্টিগত অভিজ্ঞতাও আমার শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কখনও মানুষ, পশুপাখি, প্রকৃতি বা দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রতীককে ব্যবহার করি; কখনও শব্দ ও টেক্সট যুক্ত করি, যাতে দৃশ্যের পাশাপাশি একটি অন্তর্গত গল্পও তৈরি হয়। অ্যাক্রেলিক, কোলাজ, ড্রয়িং ও বিভিন্ন মিশ্র মাধ্যমে কাজ করি। আমার শিল্পের মাধ্যমে আমি এমন কিছু অনুভূতির কাছে পৌঁছাতে চাই, যা বলা কঠিনকিন্তু অনুভব করা যায়। মনোজগতকে নাড়া দেয়। শিল্পের রহস্যময় এই অপরূপ খেলা অনেকটাই অব্যাখ্যাত!

 

প্রতিধ্বনি আয়োজন করেছে শিল্পী ফাহমিদা এনাম কাকলীর প্রথম একক অনলাইন শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘অব্যাখ্যাত বেদনা’। এটি চলবে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর  ২০২৬ নাগাদ।

 

শিল্পকর্ম প্রদর্শনী || ফাহমিদা এনাম কাকলী || অব্যাখ্যাত বেদনা

 

অব্যাখ্যাত বেদনা || 

 

অব্যাখ্যাত বেদনা ||

 

অব্যাখ্যাত বেদনা ||

 

অব্যাখ্যাত বেদনা ||

 

অব্যাখ্যাত বেদনা ||

 

অব্যাখ্যাত বেদনা ||

 

অব্যাখ্যাত বেদনা ||

 

অব্যাখ্যাত বেদনা ||

 

অব্যাখ্যাত বেদনা ||

 

অব্যাখ্যাত বেদনা || ১০

 

অব্যাখ্যাত বেদনা || ১১

 

অব্যাখ্যাত বেদনা || ১২

 

অব্যাখ্যাত বেদনা || ১৩

 

অব্যাখ্যাত বেদনা || ১৪

 

অব্যাখ্যাত বেদনা || ১৫

কপিরাইট © ফাহমিদা এনাম কাকলী || প্রদর্শনী © pratidhwanibd.com