আশাহীন সার্কাস ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-


|| আড়াল দেখে না কেউ ||

বিষণ্ণ সকাল। ওড়ে নিষ্প্রাণ ধুলো। খসে স্বপ্ন পালক।
ঝরে পড়া চুল অজানায়, কাঁপছে ঠোঁট, নির্ঘুম চোখ।
অবিরাম ডুবসাঁতারে—উদাসীন ঠিকানায় অনুতাপ
ভুল করে নিয়ন্ত্রণ হারালে মানুষ মৃত্যুর কাছাকাছি—
এই মৃত্যুই সংযোগ ঘটায় স্বর্গ ও নরকের।

হে মর্মঘাতক—
দাঁড়িয়ে আছি বিষুবরেখায়—এক ভয়ে কাঁপছি দুজন।
বিস্ময়কর মৃত্যুতে, রক্তাক্ত লাশেরও কি কথা থাকে?

হেঁটেছি অনেক, ঘুরেছি নির্জনে
চেনামুখ পালটে যায় অনায়াসে
হাত বদলের আশায়—বারবার হরণ হৃদয়
কাকে বলি, সবাই দেখে বুক। আড়াল দেখে না কেউ।

 

|| প্রেম হয় না হীনম্মন্যতায়... ||

গহিন গভীরে অনুযোগ
সবার প্রেম হয়, আমার হয় না।

জুলাই স্রোতে পালটায় বাতাস
ধুলায় লুটায় মন, ধরা দিতে দিতে দেয় না
অপেক্ষায় আগুন নিভে কপালজুড়ে ছাই।

এমন করে দিন যায়, মাস যায়
বর্ষার আশ্বাসে, বৃষ্টির বেখেয়ালে
ভাবুকের প্রেম হয় না হীনম্মন্যতায়!

 

|| নৃত্যের মূর্ছনায় কামসূত্র ||

মধ্যরাত। আস্ত একা আকাশ, আগুনমুখো তারা
ঝিঁঝি পোকা জানালায় বন্ধুর মতো দিচ্ছে ইশারা।

সুগন্ধি মেখে আড় চোখে তাকিয়ে
শুয়ে থাকে পাখি। আনমনে ডাকে
পর্বতারোহণে দক্ষ ঘোড়া মাঠে!

মেঘ-ভর্তি বালিশে তুলতুলে সুখের ছায়া
অস্থিরতায় বিব্রত হয় ময়ূর, বোতাম খুলে হাসে
দিগন্ত আবিষ্কারের—অপেক্ষার দখিনা ধূপকাঠি!

 

|| আশাহীন সার্কাস ||

শান্তি তুমি কোথায় গেলে, কত দূরে,
মিলিয়েছো কি বিকেলের হাওয়ায়?
সকাল থেকে দুপুর—বেলা যে যায়
কেন খাচ্ছো ঘুরপাক? চলে এসো ছায়ায়...

পাখিরা নেই ঘরে, অনাদরে শব্দহীন ঘুরে
উপরিতলে খড়কুটো, ছিটেফোঁটা এইটুকু পাওয়া
পিয়ানো নারী বলে ‘ক্লোজআপ’, অথচ রাখে দূরে
এভাবে আশাহীন সার্কাস, রক্ত মুছে মানুষের মাংস খাওয়া

নাক চোখ লুকানো কাল, রোদে শুকানো ইতিহাস
শরীরে লেগে আছে স্বপ্নাহত উচ্ছেদের ধুলো
নগরীতে হিম নীরবতা, মৃত্যুর মতো নিঃসঙ্গ সন্ধ্যা
মানুষ মানুষকে বোঝে না—শূন্যে সফেদ চোখের ভাষা...!

 

|| জীবনরেখায় পূর্ণিমা ||

বহরামপুরে নতুন চাঁদ, জীবনরেখায় পূর্ণিমা—
নতজানু হই তোমার দুয়ারে, প্রশান্তির ঠিকানা
বাহারি ফাঁদে আয়না নয়, চোখ স্থির নবি সোলায়মান।

আমি আমায় জানি না বলে তোমার কাছে বসেছি।
লোকে বলে তোমার ছোঁয়ায় সুগন্ধি ছড়ায় বাতাসে
যেন আমরা সূর্যছায়ায় উন্মুক্ত পুষ্পস্তবক
বাতাসের মতো জড়িয়ে আছো—তুমি প্রেম!