থাকা না থাকার মাঝখানে
খালা কাঁইন্দেন না। কাঁইন্দেন না। কাঁনতেছেন ক্যান? ডাক্তার খারাপ কিছু কইছে? আমনের কি খারাপ কোনো অসুখ অইছে? ভাইব্বেন না! সব ঠিক অইয়া যাইব। রিসিপশনিস্টের চেয়ারে বসে সহানুভূতি দেখিয়ে কথাগুলো বিরতিহীনভাবে বলে যায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরি এক কর্মী। কাজের ফাঁকে সে হয়তো রিসেপশনিস্টকে সাহায্য করছিলো।
না খালা, আমার কিছু হয় নাই। কথাটা বলতে গিয়েও গলা কেঁপে ওঠে রাফার। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে আর চোখের পানি মোছে সে।
উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে সেই কর্মী আবারও জানতে চায়, তয় কাঁনতেছেন যে...
রাফা এবার আর কিছু বলে না। কেবল তাকিয়ে দেখে ডাক্তারের চেম্বারের আশেপাশে, ডাক্তারের দরজার দিকে। হয়তো চেম্বারের ভিতরটাকেও কল্পনা করছিলো সে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, আজ এখানে যে ডাক্তারকে দেখাতে এসেছে রাফা, তার চেম্বারের দরজায় চোখ ফেলেনি একবারের জন্যও। তাকিয়েছিলো পাশের নিউরোলজিস্টের দরজায়।
অথচ আজ সে এসেছে ইএনটির ডাক্তারের কাছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তার কাশি হচ্ছিলো। প্রথমদিকে বিষয়টিকে সে পাত্তাই দেয় নাই। পরিচিত দু একজন বলেছিল ডাক্তার দেখিয়ে নিতে। সে ভেবেছিল, এমনি এমনিই ঠিক হয়ে যাবে। সামান্য সর্দি, কাশির জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়া সময় নষ্ট করার মানে হয় না। সময় অপচয় করার মতো বহু কাজ আছে জীবনে। অন্তত ডাক্তারের দরজার সামনে বইসা থাকার মতো ফালতু কাজ আর হয় না। তাও আবার সামান্য ঠান্ডা, কাশির জন্য। এভাবেই চলতে থাকে বেশ কিছুদিন। এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন তার গলা ভেঙে যায়। কথা বলতে পারছিল না ঠিকমতো। বললেও ওই কথা কেউই ঠিকঠাক বুঝে না। বলে একটা, বুঝে আরেকটা। এমনিতেই কথা বলতে কষ্ট হয়, তার উপর একবারের জায়গায় দুইবার তিনবারও বলা লাগে। রাফার কাছে ‘এ’ লেভেলের যে স্টুডেন্টটা পড়তে আসে, তাকে পড়ানো শেষে রাফার স্বামি সেদিন রাফাকে ডেকে বলছিল, শোনো, তুমি ছেলেটার সাথে এতো রুডলি কথা বইলো না। স্বামীর কথা শুনে রাফা তো হতবাক! আশ্চর্য, আমি আবার কখন রুডলি কথা বললাম।
না মানে, পড়ানোর সময় দেখলাম তুমি খুব ক্ষেইপা ক্ষেইপা কথা বলতেছ। মনে হইলো আর কি!
আরে বাবা, আমি তো কথাই কইতে পারি না। গলায় প্রেশার দিয়া কথা বাইর করতে হয়। আমার যে কি কষ্ট হইতেছে তা তো আর তোমরা বুঝবা না।
আচ্ছা, আচ্ছা, বুঝছি। আলাপ যেন আর দীর্ঘায়িত হয়ে ঝগড়ার দিকে না এগোয়, তাই সে ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।
কয়েকদিন পর রাফার গলার ভয়েস ইম্প্রুভ করে। কিন্তু কাশিটা কমে না। এর কিছুদিন পর হঠাৎ এক দুপুরে সে টের পায় তার প্রচন্ড কপাল ব্যথা হচ্ছে। ভাবে-কী মসিবত! ঠান্ডা, কাশি তারপর গলা ভাঙল, সেটা কিছুটা ইম্প্রুভ করতে না করতেই এখন আবার কপাল ব্যথা, না কি মাথা ব্যথা, কে জানে কি বলে এইটারে। কোনোদিন তো হয় টয় নাই। হইলেও মনে রাখার মতো ছিলো না। তাই মনে নাই।
একদিন, দুদিন, তিনদিন চলে যাবার পরও ব্যথা যখন কমছিলো না বরং একটানা হচ্ছিলো তখন বাসা থেকে সবাই তাকে ডাক্তারের কাছে যেতে বলে। নাপা খেলে কিছুটা কমে ঠিকই কিন্তু আবার তিন চার ঘন্টা পর ব্যাথা ব্যাক করে। চোখ ফুলে যায়। সামনের দিকে তাকাতেও তার কষ্ট হয় খুব। স্বামি আসিফ রাতে বিছানায় শুয়ে কপালে হাত বুলাতে বুলাতে বলেছিলো, আর দেরি কইরো না, ডাক্তারের কাছে গিয়া দেখাইয়া আসো। এতদিন ধইরা মাথা ব্যথা থাকার কথা না। ব্যথাতো আমারও করে। কিন্তু কিছুক্ষণ ঘুমাইলে বা একটু রেস্ট নিলে ঠিক হইয়া যায়। একটানা এতোক্ষণ থাকে না।
পরদিন বিকেলে আসিফ আ্যাপোয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখে, ছেলে সাদাত রাফাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার সব শুনে ব্যথা কমার জন্য কিছু ওষুধ লিখেন। তারপর রাফার দিকে প্রেসক্রিপশনটা এগিয়ে দিয়ে বলেন, আপাতত এই ওষুধগুলা খেতে থাকেন। আর সম্ভব হলে একজন ইএনটি ডক্টর দেখিয়ে নিবেন।
কিন্তু প্রায় পাঁচদিন টানা ঘড়ি ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খাবার পরও তার কপাল ব্যথা কমে না। বরং দুপুর হলেই তীব্র ব্যথায় চোখ ফুলে যায়। কপাল টনটন করে। বাধ্য হয়ে তখন সে এক্স পা খায়। তাতেও ব্যথা খানিকটা কমতে তিন থেকে চার ঘন্টা লেগে যায়। তবে পুরোপুরি কমে না। কপালের একদিকে একটু একটু করে সারাক্ষণই কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে পেরেক মারতে থাকে কপালের কোণায়, কোণায়। এই সময় বই পড়তে, গান শুনতে, এমনকি কারো সাথে কথা বলতেও ভালো লাগে না তার। সবকিছু কেমন অসহ্য মনে হয়।
সেই রাতে আসিফ বাসায় ফিরে রাফাকে ব্যথায় কাতরাতে দেখে বলে, কাল আমি আ্যপোয়েন্টমেন্ট নিয়া রাখব। তুমি বিকালের দিকে গিয়া ইএনটির ডাক্তার দেখাইয়া আইসো।
বিকেল হবার আগেই যথারীতি পুরনো নিয়মেই পরদিন দুপুরেও রাফার তীব্র কপাল ব্যথা শুরু হয়। আসিফ তখন অফিসে। রাফা ফোন করে তার কাছে ডাক্তারের নাম জানতে চায়।
ব্যথা বাড়ছে? আসিফ বলে।
উত্তরে রাফা বলে—হুম।
আচ্ছা, আমি আ্যাপোয়েন্টমেন্ট নিয়া তোমাকে জানাচ্ছি।
ফোনটা রেখে বিছানায় গড়াগড়ি করতে করতে এস এম এসের শব্দ হয়। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে ডাক্তারের নাম আর অ্যাপোয়েন্টমেন্টের সময়সহ এসএমএস এসেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে।
আসিফও আবার আ্যাপোয়েন্টমেন্ট সম্পর্কে কল করে জানায়। ফোন রাখার পর ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে কখন যে রাফা ঘুমিয়ে পড়েছে টেরই পায়নি সে। দুপুরের রোদ তখন ঝিমিয়ে পড়েছে। বিকালও বিদায় নিবে নিবে করছে। তার যখন ঘুম ভাঙল তখন সন্ধ্যা নামছে শহর জুড়ে। দেয়ালে সাঁটানো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে পাঁচটা বাজে। এমন সময় আসিফ আবারও কল করে, ডাক্তারের কাছে গেছো?
না, যাইনি। যাব।
যাও, যাও। গিয়া দেখাইয়া আসো।
তুমি ফিরবা কখন?
এইতো অফিস থেকে বের হবো এখন।
রাফা আসিফের ফোন রেখে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ে ডাক্তারের চেম্বারের উদ্দেশ্যে।
পপুলারের ভবন এক-এর সামনে পৌঁছেই সে থমকে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ এদিক ওদিক তাকাতেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে রাফার, অজান্তেই। গাড়ি থেকে নামার জায়গাটা, হুইল চেয়ারে করে যেদিক দিয়ে প্যাশেন্ট উঠে নামে সেই ঢালু পথটা, কাচের দরজা, রিসিপশনের হালকা আলো, যেদিকেই তাকায় সে, ভেতরটায় কেমন শূন্যতা অনুভব করে। গলার কাছে কান্না জমে যায় মুহূর্তেই।
আসা যাওয়ার পথে তা-ই এই দিকটাতে সে তাকিয়েও সঙ্গে সঙ্গে অন্যদিকে ঘাড়টা ঘুরিয়ে নেয়। জীবনানন্দের মতো সেও হয়তো হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে না! কেবল জীবননানন্দ কেনো, কোনো মানুষই বোধহয় বেদনাকে অনুভব করতে চায় না। কিন্তু মানুষ না চাইলেও বেদনারা ঠিকই মাঝে মাঝে এসে তাদের মনে করিয়ে দেয়। এই যেমন সবসময় এই ভবনটার সামনে দিয়ে পথ পেরুলেও এদিকে সে ইচ্ছে করেই তাকায় না। অথচ আজ এখানেই তাকে আসতে হলো। দীর্ঘশ্বাস চেপে রেখে কাচের দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢোকে রাফা। পা দুটো যেন নিজে থেকেই চিনে নেয় পথ, যদিও মন তখনও কোনো এক পুরনো সময়ে থমকে আছে। রিসিপশনে ঢুকে সে জানতে চায়, ডা. নাসিম ইয়াসমিন কোন ফ্লোরে বসেন?
লিফটের সেভেন।
উপরে ওঠেই চেম্বারের দরজাগুলোর নেইমপ্লেটে খোদাই করা নামগুলো এক এক করে পড়ছিলো রাফা। খুঁজছিলো ডা. নাসিম ইয়াসমিনকে। হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় নিউরোলজিস্ট মনিরুজ্জামান ভুঁইয়ার দরজায়। সে থমকে দাঁড়ায়। মুহূর্তেই বহু স্মৃতি তার মনের দরজায় এসে ভিড় করে। চোখের জল নিমিষেই গাল বেয়ে ঝরে পড়ে।
সেভেনথ ফ্লোরে নতুন কাউকে দেখে হঠাৎ একটি কন্ঠস্বর রাফার সকল ভাবনাকে এলোমেলো করে দেয়। ডাক্তারের দরজার সামনে বসে থাকা যুবক জানতে চায়—ম্যাডাম, সিরিয়াল ছিলো?
রাফা অবাক হয়ে বলে, জি, আমাকে বলছেন?
সিরিয়াল ছিলো? আবারও জিজ্ঞেস করে।
হ্যাঁ।
কোন ডাক্তার?
নাসিম ইয়াসমিন।
একটু বসেন।
রাফা রোগির জন্য রাখা সবুজ রঙের প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে তাকিয়ে থাকে নিউরোলজিস্টের দরজার দিকে, হতবিহ্বল হয়ে। দুই-তিন মিনিট পরই রিসিপশন থেকে তরুণ ছেলেটি বলে, ম্যাডাম, যান ভিতরে যান।
ডক্টর নাসিম ইয়াসমিনের রুমে যায় রাফা। ডাক্তার যা জিজ্ঞেস করছিলেন, উত্তর দিচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু মন যেন ছিল তার বাইরের সেই দরজাটার কাছে। ডাক্তারের দেয়া প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে তাই একরকম তাড়াহুড়ো করেই বেরিয়ে আসে সে, যেন ভেতরে আর এক মুহূর্তও বসে থাকা যাচ্ছিল না। ডাক্তারের রুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখে আগের যুবকটি আর রিসিপশনে নেই। তার জায়গায় একজন মহিলা বসে আছে। পরনে সালোয়ার-কামিজের উপরে নীল রঙ্গের এ্যাপ্রোন।
রাফা তার কাছে জানতে চাইলো, ডক্টরের ভিজিটটা কি এখানে দিব?
হ্যাঁ, এখানেই। হাসিমুখে জানায় রাফাকে।
রাফা ব্যাগ থেকে ওয়ালেটটা বের করে এক হাজার টাকা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আনমনে। কি যেন ভাবে সে। সেই দরজার দিকে তাকিয়েই।
ভদ্রমহিলাটি তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে, ম্যাডাম ডাক্তারের ভিজিট এক হাজার টাকাই।
হুম? শব্দটি রাফা এমন বিস্ময় নিয়ে উচ্চারণ করলো যেন এই মুহূর্তে সে এখানে নেই। কিংবা তার অস্তিত্ব আছে কিন্তু মন যেন অন্য কোথাও বিচরণ করছে। হয়তো নিকট কোনো অতীতে, সতেজ কোনো স্মৃতিতে। যা এখনো তার হৃদয়ে জ্বাজ্জল্যমান হয়ে আছে।
এক হাজার টাকাই ভিজিট। আবারও বললেন রিসিপশনে বসে থাকা নারীটি।
ও, বলে রাফা চেম্বারের সামনে রোগির জন্য রাখা চেয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো বসে পড়ে। কপালের ভেতরটা তখনও টনটন করছে।
ঠিক তেমনই টনটন করছে ভেতরের আরেকটা অদৃশ্য জায়গা, যেখানে জমে আছে স্মৃতির পর স্মৃতি।
নিউরোলজিস্টের দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কয়েক মাস আগের দৃশ্যগুলো এক এক করে মনে পড়ে যায়।
এইতো সেদিন—এই দরজার সামনেই বসে থাকতো বাবা, স্ট্রোকের রোগী। বয়স নব্বই ছুঁইছুঁই, তবুও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা ছিল অবিশ্বাস্যরকম প্রবল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হুইলচেয়ারে বসে অপেক্ষা করতো বেঁচে থাকার আশায়, একটু সুস্থতার আশায়। যেন ওই দরজার ওপাশেই লুকিয়ে থাকতো সুস্থ হয়ে ওঠার সকল সম্ভাবনা। রাফা পাশে বসে থাকত। মাঝে মাঝে মাথায় হাত বুলিয়ে দিত, গলা শুকিয়ে এলে বোতলের ছিপিতে করে পানি খাইয়ে দিত। কখনো নিঃশব্দে বাবার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে রাখতো চুপচাপ, যেন সেই স্পর্শটুকুর মধ্য দিয়েই কিছু একটা বলে দেয়া যায়, যা মুখে বলা যায় না।
বাবা বলত—আর ক’টা দিন গেলেই হাঁটতে পারব, কি বলিস মা? আস্তে আস্তে তো ইম্প্রুভ করতেছি।
রাফাও বাবার কথায় সম্মতি জানিয়ে বলতো, পারবা বাবা।
কখনো কখনো অপেক্ষা দীর্ঘ হলে বাবা ক্লান্ত গলায় জিজ্ঞেস করত, আর কতক্ষণ রে মা? রাফা তখন হাতঘড়ির দিকে না তাকিয়েই বলতো, এইতো বাবা, বেশিক্ষণ লাগবে না। মনে হয় সময়টাকে ছোট করে দেখানোটাও ছিল তার বিশেষ একটা কাজ। আর হয়তো এভাবেই অপেক্ষার মাঝেই জমেছিলো জীবনের সবটুকু আলো।
আজও সেই দরজা আছে, চেম্বার, ডাক্তার, সবই আছে আগের মতোই, শুধু মানুষটা নেই। স্মৃতির ভারে বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে ওঠে, রাফার ভেতর থেকে নিঃশব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। ওড়নার শেষ অংশ দিয়ে সে তাড়াতাড়ি চোখ মুছে নেয়, যেন কেউ দেখে না ফেলে।
করিডোরের সাদা আলোটা আজ কেমন নির্জীব লাগে। দূরে লিফটের সামনে লাল বাতিটা নিঃশব্দে জ্বলছে-নিভছে। ধীরে ধীরে পা বাড়ায় রাফা, তবু বারবার পেছন ফিরে তাকায় সেই দরজার দিকে, যেন এখনও কেউ বসে আছে সেখানে, অপেক্ষা করছে আজও।
চোখ দুটো আবারও ভিজে ওঠে রাফার, ঠিক যেমন ভিজেছিল একটু আগে, রিসিপশনের সামনে বসে। তারপরই ওড়নায় মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। একই শূন্যতা তখনও তাড়া করেছিল তাকে, তাই হয়তো ‘কাঁনতেছেন ক্যান? ডাক্তার খারাপ কিছু কইছে? আমনের কি খারাপ কোনো অসুখ অইছে?’ এই উৎকন্ঠাভরা প্রশ্নগুলোর কোনো জবাব দিতে পারেনি রাফা, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেই নারীটির। শুধু চোখ দুটো আর মুখখানি আধেক ঢেকেছিলো ওড়নার আঁচলে, যেন সেখানেই লুকিয়ে ছিল তার সব না-বলা কথা। এছাড়া আর কিইবা উপায় ছিল নিজেকে আড়াল করার! তাকে সে কী করে বলে... মানুষ কী অদ্ভুতভাবে না থেকেও থেকে যায় হৃদয়ের সবটা জুড়ে! যাকে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, অথচ গভীর মমতায় তাকে ভেবে চোখের জল ঝরিয়ে যায়, এই করিডোরে দাঁড়িয়েও।



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন