স্মৃতি থেকে পাঠ
১
শুধু মনে আছে
সেদিন খুব জ্যোৎস্না ছিল—
আমার বয়স আটকে ছিল মৃত ঘড়ির কফিনে,
এখানে যাদের
সান্ধ্যপান শেষে আসার কথা ছিল,
তারা সবাই ইমনের কড়ি সুরে
নিঃশব্দে জখম তারাদের গুনছে...
আমিও চেয়েছিলাম ফিরে আসতে।
চন্দ্রফাঁদে আটকে থাকা মানুষগুলো আসার পূর্বেই;
আদিখুনের রসদ হাতে ভেঙে ফেললাম সময়ের খোলস
ততক্ষণে ওরা মগ্ন হয়ে ওঠে
ভৈরবের সুরে, পানপাত্রে ভাসমান ওদেরই মুখচ্ছবি
২
সেই কবে থেকে ডাক শুনে আসছি—
বেরুতে পারিনি।
ব্যাস তারপর থেকে
আয়না মহল দেখছি, আয়না মহল
যেন চোখ মেললেই, আলোকিত প্রেক্ষাগৃহ।
রাতের বেহাগে কেঁপে উঠছে
বাক্স ভরা খোসা ছাড়ানো—
এলাচ দানা
কিছু পতঙ্গ উত্তেজনায় আমরা
হেঁটে গেছি জনশূন্য পার্কে—
সেখানে, বয়ঃসন্ধিকালের কিছু যুবক
আগুনে দুপুর পোড়ায়।
সৃষ্টির দায় কাঁধে ঈশ্বর
হাপরে লোহা গলিয়ে
পেরেক তৈরি করে
৩
একদিন ‘ভালোবাসি’ শব্দের উত্তাপে
ছুটে গিয়েছিলাম সবুজ বৃক্ষের কাছে—
স্থির ঝরা পাতাদের করুণ দৃষ্টি দেখে
ফিরে এসেছিলাম।
পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহে
আছে কি এমন ঝরে পড়া সভ্যতা!
জানা ছিল না...
ইদানীং আমাদের প্রসঙ্গ এলে—
চুপ করে থাকি
৪
কতটা পৃথক হয় লিফটের গতিশীলতা,
আমাদের লাফিয়ে সিঁড়িভাঙ্গা থেকে?
গ্রীবা থেকে গ্রীবাদেশে
বটতলার হাট বসে,
অকারণে ঝুমঝুম ঝুমঝুমি।
ঘামজলে নুন ঝরে, বৃষ্টির তরঙ্গ বাজে।
শোনো, ঘৃণা করি সমস্ত ব্যবধান
বয়ে যাওয়া নদীর ভেতর মাছের ষড়যন্ত্র।
সময় ঢুকে গেছে মাছের পেটে—
মোমের আঁচড়ে কাগজ ভারি হলে,
আমাদের জ্ঞান কমে আসে। মুক্তি যেমন প্রতারক
তেমন কোনো গন্তব্যে পোষায় না হাহাকার!



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন