চোখ ও অন্যান্য কবিতা
ভিজিটিং আওয়ার
নগরে ফেলে আসা বিবাদ হুল ফুটাচ্ছে জোছনার গায়ে। চাঁদের মতিচুর ভেঙে পড়ছে ট্রেনের খোলা জানালায়। আমাকে শাস্তি দেবার আহবান জানাও। পিছমোড়া করে বাঁধো হাত। কালো কাপড়ে চোখ। পায়ে তপ্ত লোহার বেড়ি। ভালোবাসার মতো জবরদস্ত অপরাধ ঢের করেছি, না বাসবারও।
নেহাৎ শরীর দিয়ে মেপেছি রোগ শোক জ্বরার কালাকাল। নিরাময় অযোগ্য ব্যধি যাতনার যতিচিহ্ন রাখেনি। সাদা সাদা নার্স নাড়ী দেখে বলেনি, আজ তো বেশ দুর্বল লাগছে আপনাকে। কেউ বুঝি দেখতে আসেনি!
ঘুঘুর দুপুর
উলঙ্গ দুপুরের ধ্যান ভেঙে ডেকে ওঠা ঘুঘুর বুকে তীর ছুড়ে পালিয়ে যায় যে কিশোর। তার জন্য অপেক্ষা করছে ধূসর ট্রেন। হুইসেল ফেলে এসেছে সে আগের স্টেশনে।
ফুল তোলা নদীর জলে ধুয়ে গেছে ভাতের ভাপ। এ তল্লাটের মানুষ খিদে চেনে না। মজমা ভেঙে যাবার আগেই এরা বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ডুকরে কেঁদে ওঠে। সংসারে সংঘাত বিশ্বাস করে। রাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে। রাষ্ট্রের আইন বিশ্বাস করে। খুনের বদলে খুন বিশ্বাস করে। সত্যি মিথ্যেকে এক পাল্লায় মাপে। অপ্রচলিত শব্দে কথা বলে শিশুদের সাথে। নদী আর পাখির ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
হুইসেল বিচ্ছিন্ন ট্রেনের গতি রোধ করে দাঁড়িয়েছে দুপুর। তাকে উলঙ্গ হবার প্ররোচনা দিতে নাগারে ডেকে চলেছে একটি ঘুঘু। হাতে বিষমাখা তীর নিয়ে এগিয়ে আসবার কথা যে কিশোরের। সে কেনো আসছে না। কে নো আ স ছে না...।
সন্ধ্যা
সন্ধ্যায় তোমাকে মনে পড়লে আলোর ঝাঁঝর বাজিয়ে পানশালার দরজায় ঝেড়ে দু’চারটে লাথি মারি। পুরনো জুতো আঙুলের সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। ওল্টানো নখ টেনে ছিঁড়ে গণতন্ত্রের গলায় বাঁধি। পঞ্চাশ টাকায় কিনি শিম। কৃষক পায় পাঁচ টাকা। ছোটলোকের ছোট পকেট ছোট নোটই যুতসই।
তোমাকে পকেটে পুরি আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশলে। প্রস্তুত পানপাত্র ছুঁই না। গন্ধ মাতাল বারোয়ারী সন্ধ্যা তোমাকে মনে করিয়ে দেয়। লাথি মেরে ক্ষত কুড়ায় ভ্রমণ যোগ্য মেধাবী পা। সন্ধ্যায় তোমাকে মনে পড়লে কোনো কাজই ভাল্লাগে না। নিরীহ আগুনে চুপচাপ পুড়ি। কিচ্ছু ভালো লাগে না। কিচ্ছু না।
চোখ
নগর খুলে বেরিয়ে এসে দেখো।
অঘোষিত যুদ্ধে জয়লাভ করছে শত্রুপক্ষ।
নারী ও শিশুর ভয়ার্ত চিৎকারে প্রসব ব্যথা ভুলে দাঁড়িয়েছে একটি জিরাফ। তার গর্ভস্থ শিশুর মতো আমাদের দিন। দৃশ্যের বাইরে চলে এসেছি তবু দৃশ্যমান নয়।
ভূমিহীন কৃষকের লাঙল যতো দুঃখ চেনে,
আমরা তার অধিক গ্লানি নিয়ে পথ হাঁটি।
যেনো মৃণাল সেনের আকালের সিনেমায় চরিত্র হয়ে ঢুকে পড়েছি নিজেদের জীবনে। জিরাফের গর্ভস্থ শিশুর মতো দিন। যন্ত্রণার পর্দা ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারি, কিন্তু আসছি না।



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন