রংধনু ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| রংধনু ||

আকাশের কালো ছায়ার মাঝে কিছু ছিটেফোঁটা, নীলাদ্রী সজল চোখে, আঁকা বাঁকা তোমার পদচিহ্ন খুঁজতে গিয়ে এক দারুণ আবিষ্কার করা আমি।

দৈববাণী এসেও ফিরে গেলো, কোনো সাড়াশব্দ পেলাম না।

বিনোদিনী বলল, তোমার চেয়ে কটা নতুন মাল বাজারে এসেছে, চেকে দেখো না, হাত পুড়িয়ে ফেলবে, শতবার, নোংরা পরিষ্কার করার আগে নিজের ছবিটা আয়নায় দেখো একবার, নীলিমায় মুখটা শুকিয়ে গেছে।

ডাকাডাকি করেও তোমার ঘুমটা বোধ হয় ভাঙল না, নিঃশ্বাসে কেমন যেন গড় গড় শব্দ, মোড়ানো কিছু শুকনো পাতার মাঝে অনাবিল আনন্দ আসছে কেবল। ছুঁয়ে দেখো, পদ্ম কত শান্তি পাবে! তোমার কোলে মাথা নোয়ানো শান্তির মায়ের মতো।

আচ্ছা, তাই?

ঠিক আছে, আমি বিলিয়ে দেবো রংধনু ঘেরা খোলা আকাশটা। যেমন পারো, চেটে নাও—ভরা জলে সাম্পানের আলো, আঁধারের স্তব্ধতার আওয়াজ শুনতে বেশ লাগে।

 

|| বাতাবি লেবু ||

পাঁজরের কৌটায় বন্দি সেই ক্ষণ। ক্ষণে ক্ষণে বেজে উঠে তীব্র আকুলতায় সর্বময়। কণ্ঠে বিষ মেশানো চিবুকের ক্রন্দন। আর হাতের সিগারেটের ধোঁয়া জ্বলজ্বল করছে।

প্রেমিকার হাতে চায়ের কাপে সবে লেগে থাকা চুমুর মিষ্টি সুবাসে নাগরিক কোলাহলের মৃত্যু। প্রেমহীন জীবনের এক মধুর আলিঙ্গন। যেমনটা সপ্ত প্রেমে বাঁধা এক ঘৃণার পুনরুদ্ধার করা বাতাবি লেবু।

 

|| প্যাঁচার কথন ||

আমি গন্তব্য খুঁজেছি বহুবার। আর সেই গন্তব্য ছিল এক নরকবাসীর সাদা প্যাঁচা। প্যাঁচা তো নরকের পাহারাদার, সর্বময় তার দুটো চোখ খেলা করে। তবে নরকে কখনো যেতে ইচ্ছে করেনি, একটাই কারণ আমি তোমাকে পেয়েছিলাম।

পাওয়ার মধ্যে যে এত সুর তা আগে জানতাম না, অভির সাথে আমি ভরসা হয়েছি কিনা। প্যাঁচার মাঝে সুন্দর কিছু সুর ছিল, যা সব সময় আমাকে টানতো, তাই হয়তোবা তাকেই শুধু আপন করে নিয়েছিলাম।

 

|| পূর্ণ পরিণীতা ||

দিনের অন্তে মিতালি পল্লব শুভ্রতায় ঝড়ে পড়ে বিষাদ, একদিন রাজকুমার এসে নিয়ে যাবে তারে। ভাবাভাবি থেকেও যেন কষ্ট করে ভাবতে চায় না মন।

কেউ আবার বিশ্রাম করে? 

দিনের আলোয় সব স্বপ্ন ধুয়ে মুছে একাকার হয়। জগতের কোনো ব্যক্তি আছে, অবলা বলা পুরুষ তার হাত ধরবে। এগুলো শুধু মিছে কথা, অবলা মানে নারী নয় সদ্য ভূমিষ্ঠ এক প্রাণী, যা সবার কাছে নিত্য আবিষ্কৃত এক খেলনার বস্তু।

নবজাতক না হতে চাওয়া প্রাণ ফের এক পূর্ণ পরিণীতা সাজে।