প্রতিধ্বনি গল্প পুরস্কার ২০২৬-এর দীর্ঘ তালিকায় ‘হারিয়ে যাওয়া বেহুলারা’

অ+ অ-

 

প্রতিধ্বনি গল্প পুরস্কার ২০২৬-এর দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ

 

গল্পের সারাংশ  || হারিয়ে যাওয়া বেহুলারা

নদীকেন্দ্রীক এক রহস্যময় জীবন এবং মানুষের অবদমিত অপরাধবোধের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন নিয়ে এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। আমীর আলী প্রথাগত কোনো মাঝি বা জেলে না হলেও, নদীই তার জীবনধারণের প্রধান উৎস। তার একমাত্র বিচিত্র সঙ্গী ‘টুইন্না’—যা মূলত এক টুকরো চুম্বক খণ্ড। এই চুম্বকের সাহায্যে নদীর অতল গভীর থেকে ডুবে যাওয়া নানা ধাতব বস্তু ও গুপ্তভাণ্ডার উদ্ধার করাই তার প্রাত্যহিক কাজ। তার জীবনে একদকে আছে আদরের মেয়ে টুনটুনি। আছে জোনাকি দিয়ে আলোর সাঁঝবাতি বানানোর এক রূপকথাতুল্য শৈশব, অন্যদিকে আছে স্ত্রী জুলেখা। যার সাথে নিত্যদিনের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকে। নদীর গভীর থেকে এক আটি ধারালো ‘রামদা’ খুঁজে পাওয়ার পর থেকেই আমীর আলীর চেনা জীবনের রুটিন দ্রুত পাল্টে যেতে শুরু করে। সংসারে বিমলের মতো পরপুরুষের আগমন ঘটে। ফলশ্রুতিতে, একদিন জুলেখা মেয়ে টুনটুনিকে নিয়ে চিরতরে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। আকস্মিক এই বিচ্ছেদে আমীর আলীর জীবনে নেমে আসে চরম একাকীত্ব ও শূন্যতা। কাহিনীর চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে গল্পটি সাধারণ বাস্তবতার গণ্ডি পেরিয়ে এক রূঢ়-বাস্তব জাদু-বাস্তবতার আবহে রূপ নেয়। আমীর আলীর একমাত্র জড় সঙ্গী, চুম্বক খণ্ড ‘টুইন্না’, আচমকা মানুষের ভাষায় কথা বলে ওঠে। এই অলৌকিক সংলাপের মধ্য দিয়েই মূলত আমীর আলীর অবচেতন মনের রুদ্ধ দুয়ার খুলে যায়। তার অতীতের অন্ধকার অধ্যায় এবং একে একে লুকিয়ে রাখা পুরোনো সব পাপের খতিয়ান পাঠকের সামনে উন্মোচিত হতে থাকে।

 

লেখক পরিচিতি || মেহেদী ধ্রুব

গল্পকার, কবি ও শিক্ষক। তিনি ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ সালে গাজীপুরের শ্রীপুর জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—গল্পগ্রন্থ: মেঘ ও মানুষের গল্প (২০১৯), সাধারণ মৃত্যুর জীবনচক্র (২০২২), রাত্রির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য (প্রকাশিতব্য); উপন্যাস: পশ্চিমের হাওয়ায় প্রাণ (২০২৩); কবিতা: আমার নিঃশ্বাসগুলো অনুবাদ করো (২০২৪)। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।