বড়ছোট ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| আত্মঘাতী ||

দুষ্ট পাখি ঢুকেছে খাঁচায়
সে যদি তোমাকে ধর্ষকের মতো ছিঁড়েখুড়ে খেতে চায়
অবাক হওয়ার কিছু নেই।
যেহেতু আমরা ঢুকেছি নতুন এক বাংলাদেশে
আত্মঘাতী সর্বনাশে!
আর সে কারণেই বলতে চাই
কে বলে স্বপ্নের মৃত্যু নেই?
আছে
নইলে নতুন করে দুঃখের আবাদ কেন হচ্ছে?

 

|| কাকাতুয়া ||

চোখ কই? জ্বলছে কতিপয় পাথর
কীভাবে ঢুকি বলো জীবনের ভেতর।
জীবন তোমার কাছে একটা খসড়া খাতা
আর আমার কাজ যেন শুধু পাতা উল্টে যাওয়া।
ভেতরে যদি বহে হু হু হাওয়া
তোমার তাতে কী যায় এসে
যখন স্বয়ং সময় মজে আছে ভণিতা বিলাসে!
তবে আমার কোনো আক্ষেপ নেই
যেহেতু তোমার ভেতর তুমি নেই
রূপকথার গল্প বলছে এক কাকাতুয়া।

 

|| বড়ছোট ||

বড় হতে হতে ছোট হয়ে গেছ তুমি
ছোট হতেই কি তোমার এত বড় হওয়া?
কী বলে হাওয়া?
যার টানে ফাল্গুনের আগুন বেপরোয়া!
কাম সাধনায় হে বীর্যবান
তুমি না হয় দেহের সুলতান!
তাই বলে এই আষাঢ় ঢলে
কে তুলনা করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে
কে বেশি পুড়ছে উত্তপ্ত অনলে?
তার কাছে কি স্পষ্ট নয় কে সাধু কে শয়তান?
সে যাক আমি দেখছি অন্যকিছু
দেখছি আষাঢ় বর্ষণে বেজে চলেছে যে বৃষ্টির বেহালা
সে আসলে আমার প্রতি তোমার তীব্র অবহেলা।
কিন্তু কদমফুলের হলুদ-সাদা রেনুর মতো এই সত্য
প্রকাশ করবে কে?

 

|| সীলমারা ||

ট্রাস্টেড ওয়ার্ল্ডওয়াইড অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী বিশ্বস্ত
গুণে মানে অনন্য
তুমি কেন গ্রহণে অনাগ্রহী ঐ বিশেষ পণ্য?
আমি বুঝি না সুমিত্রা
তুমি কি তার মধ্যে পেয়েছ পারফিউমের মতো ষড়যন্ত্রের সুবাস
কিংবা অবৈধ দখলের নগ্ন পায়ঁতারা?
আমার কিন্তু তা-ই মনে হয়েছে
মনে হয়েছে বিশেষ দেশের সিলমারা!
নইলে দাড়েবসা পাখি কেন মনমরা?
আর চরের পাখিরাই বা কী বলে
সূর্যাস্তের চোখে?

 

|| জাতিসত্তা ||

মাতৃস্নেহের মতোই চিরন্তন
ভাষার বন্ধন।
আর রক্তঝরা মহান একুশ
সেই সম্পর্কের ফুসফুস।
তুমি তাকে এড়িয়ে যাবে কোন অজুহাতে?
নিরবধি বহিছে সে জীবনস্রোতে।
জীবন কবিতা সে
জাতিসত্তার তালাশে।
নইলে তোমার আমার পরিচয় যেতো না ছড়িয়ে
শিমুল ও পলাশে।

 

|| ঋণ ||

আমি পাখি তুমি শিকারি
কীভাবে বলো তোমাকে নিয়ে গৌরব করি?
কিংবা সুনজরে দেখি
বাতাসে ফুপিয়ে ওঠে বাঁশরী!
আর বাঁশির ঐ ফোঁপানি
মনে হয় বহুদিনের গ্লানি।
কিন্তু তোমার কাছে তা অর্থহীন
যেহেতু অবাধ্য তুমি
স্বীকার করো না জন্মের ঋণ!
এই যে বেগানা বেজন্মা সভ্যতা
সেই কারণেই কি আমলে নিচ্ছে না কেউ
কেন কবিতার ভেতর বহে নৈঃশব্দ্যের ঢেউ?

 

|| পরিস্থিতি ||

ব্যাপারটা এমন কেবল তুমিই প্রদীপ
আর সবাই তোমার ছায়ায় আবৃত
অর্থাৎ তোমার অনুগত!
ফলে তোমার পক্ষেই সম্ভব অসম্ভবকে সম্ভব করা
যেহেতু আগুনে ঝাঁপ দিতে পতঙ্গ আত্মহারা।
কিন্তু তারপরও কথা উঠছে
কথা উঠছে বড় মিয়া
বাইরে মৌসুমি বৃষ্টি ভেতরে কেন গরম হাওয়া?
কথা হচ্ছে কথা হচ্ছে ফিসফিস বাতাসে
বর্গী তাড়াতে এসেছ নাকি স্বয়ং বর্গী সেজে?
নইলে উদ্ভূত পরিস্থিতি কেন জটিল হয়ে যাচ্ছে?
কেন দেখতে পাচ্ছি
তোমার কৃতিত্বে ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যাচ্ছে চাঁদের হাসি?
ভেতরে বহিছে নৈঃশব্দ্যের ঝড়
সেকি কোনো সুখবর?