ধারাবাহিক উপন্যাস || সম্রাট ও প্রতিদ্বন্দ্বীগণ || দ্বিতীয় পর্ব
|| ন্যায্যমূল্যে কবিতা ||
কবিতার এই ‘বাগানবাড়ি’ প্রথমে শামসুর রাহমান আর তার বন্ধুরাই গড়ে তুলেছিলেন। তবে সে বাগান ছিল ভিন্ন জমিনে, অন্য পরিবেশে। তরুণ কবি জাহিদ কায়সার প্রথম এই বাগানের সন্ধান পায় একুশের বইমেলাতে। সন্ধানী প্রকাশনীর একটা নীল রঙের ছিমছাম বই—‘পদাবলী’; প্রচ্ছদে এক গ্রামীণ নারীর স্কেচ। নারীটি আসন মুড়ে বসে আছেন, হাতের আরশিতে মুখ দেখছেন গ্রীবা বাঁকিয়ে। বইটিতে পদাবলীগোষ্ঠীর কবিদের কবিতা আছে। জাহিদের খুব কৌতূহল হল। সুরভির বাসায় পুরনো সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনগুলো থাকে। বিচিত্রা, রোববার, সচিত্র সন্ধানী। সেখান থেকে খুঁজে পদাবলী সম্পর্কে নানাকিছু জেনে নিল।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর বাড়িতে কবিদের ঘরোয়া কবিতাপাঠের আসরে সেদিন ছিলেন রফিক আজাদ, বেলাল চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, আসাদ চৌধুরী, রবিউল হুসাইন, হায়াত সাইফ প্রমুখ। কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে ছিলেন মাহমুদুল হক ও রশীদ করিম। তখন হঠাৎ করেই রফিক আজাদ বললেন, এই উঞ্ছবৃত্তি আর ভালো লাগছে না। কবিতা তো নিভৃতে চর্চা করে যেতে হবে তেমন গোপনীয় কিছু না। আমরাও তো নাটকের মতো করে পাবলিসিটি দিয়ে, হল ভাড়া নিয়ে দর্শনীর বিনিময়ে কবিতাসন্ধ্যার আয়োজন করতে পারি। কবিতা যেমন শুয়ে-বসে পড়া যায়, তেমনই এর একটা পারফরম্যান্স ভ্যালুও তো আছে। হয়তো সুন্দরভাবে পাঠ করে শোনালে আধুনিক কবিতার বিরুদ্ধে যে দুর্বোধ্যতার অভিযোগ আছে, তাও কিছুটা খণ্ডানো যেতে পারে।
বেলাল চৌধুরী বললেন, এটা একটা দারুণ ঘটনা হবে। এই সংগঠনের একটা নাম থাকা চাই। নাম হোক ‘পদাবলী’। সবাই হাততালি দিয়ে নামটা গ্রহণ করলেন। সেদিন গদ্যের মানুষ রশিদ করিম আর মাহমুদুল হকের আগ্রই ছিল বেশি। কবিরা সংগঠনে দুর্বল বলে তাঁরা পরদিন থেকেই মাঠে নেমে গেলেন।
আশি সালের ডিসেম্বরে এর যাত্রা শুরু। এরপর বেশ কয়েকটা কবিতাসন্ধ্যা হলো। কোনোটা টিকেটের বিনিময়ে, কোনোটা আবার টিকেট ছাড়া। কখনো ব্রিটিশ কাউন্সিলে, কখনো জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে, কখনো আর্ট কলেজের লিচুতলায় বা প্রেসক্লাবের আমন্ত্রণে, কখনো মহিলা সমিতি মিলনায়তনে। টাকা উদ্বৃত্ত থাকলে, কবিরা তার ভাগ পেতেন।
দৈনিক বাংলার উপসম্পাদকীয় ‘নগর দর্পণে’তে প্রতি কিস্তিতে একটা ঢাকাই লিমেরিকসহ ঢাকা শহরের নাগরিক কড়চা তুলে ধরা হয়। লেখকের নাম ‘সুপান্থ’— এই ছদ্মনামে লিখেন আহমেদ হুমায়ূন। তিনি দৈনিক বাংলার সহকারী সম্পাদক। সুপান্থ বেশ মজা করে লিখেছেন, কবিতা ইদানীং কেউ আর ইচ্ছুক—অনিচ্ছুক শ্রোতা কাছে পেলে জোর করে বিনে পয়সায় শুনিয়ে দেবে এমন আশংকা কমে গেছে, কিংবা কবিতা এখন আর সুলভ নয়। অবশ্য কেউ কেউ নাকি বলছেন কবিতা কি মওজুতদার, ব্যবসায়ী কিংবা সংস্কৃতির ইন্ডেন্টার হয়ে গেছে? কেননা কবিতা এখন টিকেট কেটে নাটক-সিনেমার মতো উপভোগ করতে হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির বাজারে সবকিছুর দাম বাড়বে আর কবিতা বিনে পয়সায় বিলি হবে? তা হবে না। কবিরা যদি তাঁদের সৃষ্ট পণ্যের জন্য সামান্য মূল্য ধরেই থাকেন, তাহলে রসিকদের বিনা প্রতিবাদেই তা মিটিয়ে দেয়া উচিৎ। দশ কি বিশ টাকা প্রবেশ ফি দিয়ে যদি একসাথে অনেক বিশিষ্ট কবির স্বকণ্ঠে কবিতা পাঠ শোনার সুযোগ থাকে, তাহলে তো সেটাকে ন্যায্যমূল্যের কবিতা বাজার বলা যায়। কবিতা তো মুফতে পাওয়া যায়ও না, কবিতার বই বা কবিতা পত্রিকা তো পয়সা দিয়েই কিনতে হয়। আসলে কবিতা এখন লোকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মানুষ টিকেট কেটেই শুনতে চায় ভালোবাসার ছন্দিত অভিব্যক্তি, শুনতে চায় ঝংকৃত হৃৎস্পন্দন, প্রতিবাদ, ঘৃণা, আক্রোশ।
জাহিদ আর সুরভি মিলে একদিন মহিলা সমিতি মিলনায়তনে পদাবলীর কবিতাসন্ধ্যায় গিয়ে হাজির হল। জাহিদ আর সুরভির পরিচয় আমরা আখ্যানের শেষ পর্যন্ত পেতেই থাকব। আপাতত জেনে রাখি সুরভি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী, আর জাহিদ মাস্টার্স করছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে।
আজ পদাবলীর প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। গেট পেরিয়ে হলে ঢোকার মুখেই সুরভি একটি গোলাপ উপহার পেল, জাহিদ পেল একটা কসমস। আয়োজকেরা ছোট একটা স্মরণিকা প্রকাশ করেছেন, সেটাও দর্শকদের হাতে হাতে দেওয়া হচ্ছে। ভেতরে অর্ধবৃত্তাকারে সাজানো দর্শকদের আসন। মাঝখানে মঞ্চ সাজানো হয়েছে। দেখার ও শোনার এমন পরিবেশ ওরা আগে কখনো দেখেনি। মঞ্চের জমিনে এক সারি আসন। উপরে শাদা মেঘের মতো সফেদ চাঁদোয়া। স্পট লাইট আর স্কুপ লাইটের তির্যক আলোকসম্পাত। রঙিন আলোয় ভরে গেছে চারপাশ। মিলনায়নজুড়ে সেতার আর সরোদের মোহন আলাপ। আসাদ চৌধুরী উপস্থাপক। টেলিভিশনে সাহিত্য নির্ভর অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে তিনি এখন একজন তারকা। রাত দশটার খবরের পরে দেখালেও ‘প্রচ্ছদ’ অনুষ্ঠানটি খুবই জনপ্রিয়। তিনি মঞ্চে এসে রশীদ করিমকে কিছু বলতে আহ্বান করলেন। তিনি এসে পদাবলীর ইতিহাস নিয়ে কথা বললেন, জন্মদিনে সবাইকে স্বাগত জানালেন। এরপর গাঢ় নীল পাঞ্জাবী আর কাশ্মিরী শাল গায়ে জড়ানো আসাদ চৌধুরীর ডাকে একে একে মঞ্চে এলেন ‘ক্রিমসন রঙের টাই শোভিত কম্বিনেশন স্যুট পরা’ শামসুর রাহমান, সাইয়িদ আতীকুল্লাহ, বিলেতি জ্যাকেট পরা সৈয়দ শামসুল হক, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, বেলাল চৌধুরী, মুহম্মদ নূরুল হুদা, সিকদার আমিনুল হক, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, হাসান হাফিজ, আবিদ আজাদ, সমুদ্র গুপ্ত। জাহিদ, সুরভিকে কানে কানে বলল, এরা তো সবাই দেখছি সুপার স্টার রে! খানিক বাদে মঞ্চে এলেন ‘কচি কলাপাতা রঙের শাড়িতে স্নিগ্ধ শ্রীময়ী’ রুবী রহমান, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, টাঙ্গাইল শাড়ি পরা শামীম আজাদ, জাহিদ হায়দার, শিহাব সরকার, হায়াত সাইফ ও মাহমুদ আল জামান। আসাদ চৌধুরী তো মঞ্চের এক কোণে বসেই আছেন। সৈয়দ হক জলপাই রঙের জ্যাকেট পরে মঞ্চের পাশের শাদা কাপড়ে ঢাকা রোস্ট্রামে এসে দাঁড়ালেন। পাঠ শুরু করলেন,
মনে পড়ে সেই তোমাকে জড়িয়ে ধরে
একাকী বাড়িতে শেষের কবিতা পড়া।
সাজানো তোমার সংসারে অনাহূত
ব্যাকুল অতিথি অনুভূতি নাড়ে কড়া।
হাতের বাঁধনে তুমি ছিলে সম্মত,
মন ছিল কোন দ্বিধাসংকুল বনে।
ইচ্ছার যত পাখি পেয়েছিল ছাড়া
রবিঠাকুরের তুমুল উচ্চারণে।
একে একে কবিরা কবিতা পড়তে আসছেন। মঞ্চের কবিদের কেউ কেউ সিগারেট ধরালেন। কেউ কেউ কিছুটা আড়াল করে ঘন ঘন টান দিচ্ছেন। জাহিদ আর সুরভির পেছনে বসা একজন বলছে, কবিরা এতো সিগারেট খায়! তাও স্টেজে বসে? অন্যজন উত্তর দিল, অনুষ্ঠানটা বাংলাদেশ টোবাকো কোম্পানি স্পন্সর করেছে যে! ওরা শুনে হাসল।
কোনো কোনো তরুণ কবির নাম ঘোষণামাত্র মিলনায়তনের নির্দিষ্ট কর্নার থেকে উল্লাস ধ্বনি আর হাততালির শব্দ আসছে—আসেন আসেন ওস্তাদ! সুরভি বলল, কবিদের ফ্যান ফলোয়ারও আছে তাহলে। কবিদের অনেকেই ভালো কবিতা পড়েন। সাউন্ড সিস্টেমের বেশ কিছু কারিকুরির সুবিধাও নেয়া হয়েছে। ডিমিনিশিং কর্ড ব্যবহার করে ফেড আউট, প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করার ফিডব্যাক পদ্ধতি—এসব নতুন এসেছে। এই সব প্রযুক্তি আবৃত্তিকে মোহময় ও নাটকীয় করে তুলেছে। আসাদ চৌধুরীর পাঠে এই শব্দ নির্দেশনার চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল। আসাদ চৌধুরী পড়লেন ‘সত্য ফেরারী’ আর ‘তখন সত্যি মানুষ ছিলাম’ কবিতাটি। সত্য ফেরারী কবিতাটি একাধিকবার আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বিনোদনমূলক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে পাঠের সুবাদে জনপ্রিয় হয়েছে-
রেখাতেও নেই, লেখাতেও নেই,
উত্তরে নেই, প্রশ্নেও নেই
লেবাসে নেই, সিলেবাসে নেই
পারমিটে নেই, বোনাসেও নেই
হতাশায় নেই, আশাতেও নেই
প্রেম-প্রীতি ভালবাসাতেও নেই
এমন কি কালোবাজারেও নেই
কোথায় গেলেন সত্য?
লাল পাঞ্জাবিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা মুহম্মদ নূরুল হুদা লাল রঙের মলাটের নির্বাচিত কবিতা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, আমার পা কাঁপে। আসলে কবিতার বিষয়বস্তুও ওই পা কাঁপাকাঁপি নিয়েই। রফিক আজাদ পড়লেন ‘আমার একটি আগ্নেয়াস্ত্র চাই’। সুরভি বলল, কবি তো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি আবার আগ্নেয়াস্ত্র চান কেন? কি করবেন অস্ত্র দিয়ে? জাহিদ পুরো কবিতাটি শোনার পর বলল, কবি নিজেও তো পরিষ্কার করে কিছুই বললেন না।
শামসুর রাহমান মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন:
তার বুকপকেটে ও আস্তিনের ভেতরে সে এতো
লাল নীল রেশমী রুমাল আর পায়রার ঝাঁক
বাসা বেঁধেছিলো জানতো তা পার্কের খোঁড়া লোকটা,
ক’টা ঘোড়া ও গোর খোড়ক আর কিছু বাঁশীওলা।
(আবুল হোসেন, সময়ের স্রোতে)।
শামসুর রাহমান পড়লেন, ‘বাচ্চু তুমি, বাচ্চু তুই চলে যাও চলে যা সেখানে/ ছেচল্লিশ মাহুতটুলির খোলা ছাদে।’ জাহিদ বলল, শামসুর রাহমানের ডাকনাম কিন্তু বাচ্চু। আর মাহুতটুলিতেই তার নানার বাড়ি। তাঁর জন্ম সেই বাড়িতে। কবির পরের কবিতা ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’-এর সুনীল ব্লেজার, দর্শক শ্রোতাদের মনের অস্থির হ্যাঙ্গারে জায়গা করে নিল।
সিকদার আমিনুল হক ‘সুলতা জানে, সুলতা জানে ভালো/ কবিরা কেন নারীর ক্রীতদাস’ পাঠের পর জাহিদ বলল, হুম, সুরভি জানে, সুরভি জানে ভালো! সুরভি জাহিদের মাথায় একটা চাঁটি মেরে বসল।
কবিতা শুনে দর্শকদের অনেকেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, অনেকে জানালেন পরে। একজন কবি একটা কবিতা পড়লেন, যার মোদ্দা কথা এরকম—তোমরা যারা এই শহরের টিকেট ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে বক্তৃতা দাও, তাঁরা কি জানো আমরা গ্রামের মানুষ কি খাই, কি পরি, কেমন করে দিন কাটাই! জাহিদ তাৎক্ষণিকভাবে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আপনারা যারা হল ভাড়া করে হাজার হাজার টাকা খরচ করে কবিতার আসরের আয়োজন করেন, আপনারা কি সবাই তাদের খোঁজ রাখেন? ক’জন রাখেন? ক’জন ভণিতা করেন? কিছুক্ষণের মধ্যে একজন ভলান্টিয়ার এসে জাহিদকে বলল, শামসুর রাহমান আর আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ তাকে অনুষ্ঠানের পর থাকতে বলেছেন। কথা বলবেন। সুরভি জাহিদকে বলল, তুমি আজ একটু বেশিই হাইপারগিরি দেখাচ্ছ। এখানে একটা সিন ক্রিয়েট না করলেও পারতে। এত সুন্দর একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে। আর তুমি এখানে এসে বাগড়া দিলে! জাহিদ বলল, দেশের শীর্ষ দুজন কবি আমার সাথে কথা বলতে চাইছেন, এটা কি একটা বড় প্রাপ্তি নয়?
সেদিন থেকেই জাহিদ আর সুরভির সাথে মূলধারার কবিদের পরিচয় হতে শুরু হল।
কবি আহসান হাবীবকে এ বছরের পদাবলী পুরস্কার দেয়া হল। দৃঢ় পায়ে শুভ্রকেশ ছোটোখাটো গড়নের মানুষটি মঞ্চে উঠে এলেন। সুরভি বলল, এই বয়সেও তিনি কী স্মার্ট! আসাদ চৌধুরীর অনুরোধে তিনি কবিতা পড়লেন,
পাখির উড়াল দেখতে দেখতে প্রশ্ন করেছি
কোথায় নিবাস?
... কি নিঃসঙ্গ নদী বয়ে যায় একা একা নদী
কোথায় যে যায়
কতদিন তাকে প্রশ্ন করেছি নিবাস কোথায়
নিবাস কোথায়?
কোথায় যে কার নিবাস, আহা রে ঝড়ে বৃষ্টিতে
কোথায় যে রয়
আমার নিজের ঘর আছে, আমি নিজের ঘরেই
থাকি নির্ভয়।
...
হঠাৎ কখনো দর্পণে মুখ হঠাৎ প্রশ্ন
কোথায় নিবাস?
(বসবাস, নিবাস, আহসান হাবীব)
কিছুদিনের মধ্যেই রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল এইচ এম এরশাদ ক্ষমতায় আসবেন। তিনি সিএমএলএ বা চিফ মার্শাল ল এডমিনস্ট্রেটর পদবি গ্রহণ করলেও, দেশ তিনিই চালাবেন। বছর ঘুরতেই এরশাদ স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হবেন, আর পদাবলীর আমলা কবিরা আস্তে আস্তে সংগঠন ছেড়ে চলে যাবেন।
পড়ুন ► প্রথম পর্ব



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন