জ্বলন্ত বালিশ ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| চোখ হেরি ||

পুরুষই তাকাবে নারীর মুখের দিকে
বারবার আর পেছনের দিকে হেলে
মাথা, যেনো পুরোপুরি আরো দেখা যায়
কাচ ভেদ ক’রে এই চোখ দুটো দেখো
লাফিয়ে পড়লো মেয়েটার টানা চোখে

আমি আঁখি হারা আর সে পেয়েছে দুটো
বাড়তি নয়ন, যদি দয়াপরবশ হও
আমার চোখটি ফেরত চাইছি কর-
জোড় করে, আর মুচলেকা দেই, দেবো
সমাধান এর, যেনো চঞ্চল চোখ থাকে
নমিত আমার চোখের কোটরে সদা

পুরুষই তাকাবে নারীর মুখের দিকে বারবার

 

|| আমাদের প্রেম ||

আমাদের প্রেম হায় উড়োজাহাজের
মতো উড়ে উড়ে যায়, ধরায় পড়ে না পা,
যন্ত্রবৎ ওঠে আর নামে

আর মনুষ্যবিহীন পরিত্যক্ত এক
রানওয়েতে দোমড়ানো মোচড়ানো
প্লেনের আত্মায় ঘুরে মরি

এবার তোমার ডানার গর্জনে আমার
হৃদয়ে যদি ঝড় ওঠে, যদি বিকল
ইঞ্জিন কেঁপে ওঠে, আমিও উড়বো ডানা
মেলে তোমাকে পাওয়ার জন্যে

যতোবার নেমে আসি পাখির স্বভাবে
এই পৃথিবীতে, ততোবার আরেক
পক্ষির মতো উড়ে যাও দূরে

এবার নাছোড় প্রেমিকের মতো
পাইলট বেশে তোমার প্রেমের ককপিটে
উঠে বসি আমি আজ—

ওড়াবো তোমাকে আকাশ ছাড়িয়ে
আরেক আকাশে, আর নামিয়ে আনবো
এই মর্ত্যে প্রবল বিক্রমে

আমাদের প্রেম আজ  উড়োজাহাজের
মতো উড়ে উড়ে যায়, ধরায় পড়ে না পা,
যন্ত্রবৎ ওঠে আর নামে

 

|| জ্বলন্ত বালিশ ||

বালিশই আমার অবশিষ্ট মাথা;
বালিশ, আমার মাথার নিচেই
জ্যান্ত হতে থাকে, একসময়
আমি পুরোপুরি বালিশে রূপান্তরিত
হই; বিছানায় পড়ে থাকি; আমিই
আমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকি

ঘুমের মধ্যে যখন দহন হয়
বালিশরূপী আমি পুড়তে থাকি
তুষের আগুনের মতো জ্বলতে থাকি

তবে সেই সাজানো বিছানার কোনো
বিকার নেই, বিছানার রূপে মুগ্ধ হয়ে
আমার আর বালিশের জ্বলতে থাকা
কেউ আর দেখতে পায় না কখনোই

জ্বলন্ত বালিশের দুনিয়া রাত পোহালেই
মিলিয়ে যায়; বালিশ হচ্ছে সেই দহন
যার অস্তিত্ব আমার মাথার নিচেই
ধীরে ধীরে জ্যান্ত হয়ে ওঠে

আমিই বালিশ, বালিশ আমার মধ্যে ঘুমায়

বালিশের সাথে আমাদের বিবাহের
দিন কে কবে ধার্য করেছিলো?

বালিশের সাথে আর বিচ্ছেদ হয় না
কোনো দিন; বালিশই তবে ঘুম-নির্ঘুম!

একসময় আমি পুরোপুরি বালিশে
রূপান্তরিত হই; বিছানায় পড়ে থাকি;
আমিই আমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকি

 

|| মমি ||

আমার পাশেই তোমার অবস্থান
নিস্তরঙ্গ বিছানা চাদর আর
রয়েছে একটা বালিশের ভেদ-রেখা

জিজ্ঞেস করি: কোত্থেকে তুমি এলে?
চেনা চেনা লাগে, অচেনাই জাগ্রত
অথচ রয়েছে গৃহস্থ নামে ব্রত

চেয়ার টেবিল আঁটসাঁট ঠিকঠাক
আশেপাশে শুধু ডেকে যায় এক কাক
হৃদয়ের ভাঁজে রয়েছে লুকানো দাগ

একজোড়া জুতো তার গহবর ফাঁকা
হয়েছে সচল যখন ঢুকালে দু’পা
সম্পর্ক কি জুতোর ফিতেয় আঁটা?

মেঝেতে গড়ায় দুরন্ত মোজায়েক
এমন মসৃণ যেনো বা পিছলে পড়ি
ধরবে কি হাত পড়ে গেলে উলটিয়ে?

আয়নায় বাঁধা আমাদের ছায়াছবি
নির্বাক চোখ নির্বাক ঠোঁট জোড়া
যেনো অবিকল একালের কোনো মমি

 

|| খুনের বিবরণ ||

বিড়ালগুলোকে মারতে হবে
মাথায় বাড়ি দিয়ে মারতে হবে

ওদেরকে কে পাঠায়, আমাদের
বাসায় এসে প্রস্রাব করে যায়

ওরা আমাদের ঘৃণা করে
আমাদের ভেংচি কাটে

দুধ দেই না, মাছ মাংস দেই না

বিড়ালগুলোকে মারার জন্য
ওৎ পেতে থাকি, লাঠি হাতে

বিড়াল যে বালিশে বদলে যায়
বিড়াল যে একবার তুলো হয়ে
ছেয়ে গেলো বালিশ ফেটে, এই
কথা পেড়ে তোমরা নিষ্ঠুরতার
তল পাবা না, বিড়ালের লেজ ধ’রে
শূন্যে ঘুরাতে ঘুরাতে ছুড়ে মারবো

বিড়ালের মাথা শক্ত, তাই ঘাড়ে
বাড়ি দিয়ে মারা লাগে, বিড়াল
মারতে আর মানুষ মারতে এখন
ওয়ান ট্যুর ব্যাপার; শিস দিতে দিতে
তুড়ি বাজাতে বাজতে, মুচকি হাসি
সহকারে খুন করতে কয়েক
সেকেন্ড লাগে—খুন পিয়াসি মন!

খুনের বিবরণে ভরে ওঠে এই
খালি পাতা, খালি জায়গা আর নাই?

বিড়ালগুলোকে মারতে হবে
মাথায় বাড়ি দিয়ে মারতে হবে
মানুষ মারতে হবে কোপ দিয়ে