মৃত্যুমুখী ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| অনুভব ||

দেখা হবে মেঘনার কূলে। চরের শরীরে কাশের বন। সাদা ফুলে ছেয়ে আছে চরের যৌবন। 
বিচ্ছেদের নূপুরে বাজে কোকিলের আর্তনাদ।

বিছানা কখনো আপন হয় না। আমার কোনো বিছানা নেই। ভালো আছি, ঘরের মেঝেয়। 
সাতপুরুষের বাস্তুভিটা ছেড়ে চলে এসেছি নদীর কূলে। এখানে সুখ ও অসুখ আছে। 
বড্ড ক্লান্ত। ঘুমিয়ে পড়ছে চোখ। 

মেঘনার কূলে যাচ্ছি। আঁধারে হারিয়ে যাচ্ছে কাশবন। হারিয়ে যাচ্ছে উচ্ছ্বসিত জোছনার আলো...

 

|| আতঙ্ক ||

ভয় ভয় করে। শূন্য শূন্য লাগে। কী যেন নেই! কী যেন নেই!! 
অস্থির সকাল...

কেউ কিছু বলতে চাইলে, বলুগগে। সবটুকু অনাগ্রহ। প্রজাপতি উড়ে উড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। ঘাসের যৌবন ফিরছে অশান্ত দুপুরে। 
বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। সামনে আঁধার। মধ্যরাত...

শেষ রাতে শেষ হবে ভয় ভয় খেলা। 
শেষ রাতে শেষ হবে শূন্য শূন্য খেলা। 

 

|| তোমাকে বলছি ||

দু'দিন অপেক্ষা করো, তারপর এসো
চুড়ির কোমল শব্দে ভেঙে যায় ঘুম 
খুব বেশি দূরে নয়, গেলে যেতে পারো
চোখের ভেতরে ঘুম, স্বপ্নের ভাসান 
ঘুমালে ঘুমাতে পারো, মন যতো চায়
নদীর মোহনা থেকে ফিরছে ধীবর
খুব বেশি কথা নয়, সামান্য আলাপ 
আর নয়, থেমে যাও, এখানেই শেষ 

 

|| মৃত্যুমুখী ||

আহত আকাশ দেখে মর্মাহত চাঁদ। 
মায়াবী মেঘের চোখে শিশিরের জল। 

সূর্যের উত্তাপে পুড়ে যাচ্ছে মাটি ও মানুষ...
মৃতদের লোকালয়ে ভেজা চাঁদ জ্বলে। 

সূর্য পশ্চিমে হেলে গেলে সরে যায় ছায়া। 
খেলাচ্ছলে পুড়ে যায় কথিত মেঘের দেহ। 

আহত আকাশ মৃত্যুমুখী। 
মেঘচরে পুড়ছে বসতি। 

কোথাও মানুষ নেই...