নগর-বাউল  ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

|| মিলেছে কি যাত্রাবিরতি? ||

মেয়েটা মুখের দিকে চেয়ে,
ছেলেটা মনের মতো তাই, 
প্রণয়ে-বিনয়ে-অপনয়ে
ছেলেটা বহতা বনসাই।

কেন তুমি সুনীল সাহস?
কেন তুমি মসৃণ দ্বিধা?
কেন ছেলে, পায়রা-শরীরে
শেকলবন্দি ক্ষিপ্রতা?

তুমি হও বউ-কথা-কও,
অথবা, শ্যামল প্রজাপতি;
তিসিবর্ণা হৃদয়ে তোমার
মিলেছে কি যাত্রাবিরতি?

 

|| তুড়ি ||

ছেলেটা বাজায় তুড়ি 
          একাকী না হলে,
ছেলেটা বাজায় তুড়ি 
          শেষ সম্বলে!

হাতে আঁকা ক্যাকটাস
         ছেলেটার বুকে, 
এ ঘোর সন্ধ্যাবেলা
         রঙিন অসুখে

ছেলেটা বাজায় তুড়ি।
         মরোমরো দশা;
তুড়ির শব্দে জাগে
         ব্যথিত বরষা। 

রক্তের কালো দাগ
         তোমার আঙুলে! 
হাতে আঁকা ক্যাকটাসে
         কেন ব্যথা পেলে? 

 

|| নগর-বাউল ||

ঘুঘুগন্ধী জানালায় বসে আছে
খেয়ালি ফড়িং, কালো চারকোল।
তুমিও থাকতে পারো; হয়তোবা
আছো মনে মনে। যারা জানে, তারা
জানে, এ দিগন্ত নামমাত্র দামে
কিনে নিচ্ছে আমাদের মধ্যরাত। 

কেন যে নগরবাসী হতে গেলে?

দ্যাখো, ছায়ারাও পিছুটানহীন!
সময়ের বসতি আর মৃত্যুর 
অধিক জীবদ্দশা, প্রতিবিম্বের
মতো তোমাকে পেরিয়ে চলে যাবে।

কেন যে নগরবাসী হতে গেলে?

 

|| নাম তার আলো? ||

রোদ উঠছে, রোদে ফুটছে,
ব্যথা শুকিয়ে হচ্ছে কড়া,
তুমি জানতে? এই মহামারী
কাকে করেছিল আধমরা? 

শিশু বেদনার মতো কোলাহল 
পোড়া হচ্ছে, পুড়ে যাচ্ছে;
যত দিন যায়, তত ভিড় হয়
শুধু স্মারকগ্রন্থে উপচে।

যারা মরছেই, বেঁচে উঠছেই
তারা বিরল খেতাব প্রাপ্ত,
ব্যথা জমছে, ব্যথা জমছে, 
হিম শীতল, উত্তপ্ত!

 

|| প্রকৃত বৃক্ষের খোঁজে ||

কিছুই ফেলি না আমি, রেখে দিই। 

আগাছা-পাথর-শ্যাঁওলা-শামুক-
একে অপরের সাথে ঘর বাঁধে,
ক্লান্ত হয়; বিবাদও বোধহয়
অনেকের প্রধান আহার! আমি
কিছুই বলি না, দেখি চলাচল।

কাকে বলি অর্থকরী, কে আগাছা,
চূড়ান্ত উত্তর, আমিই কি জানি?