অঙ্কনাগার বা একটি সুখের গল্প
সিগারেটে একটা টান দিলেই শাহাবের মাথা ঘোরে। আর অঙ্কনা! চেইন স্মোকার না হলেও একসময় দিনে পুরো কি আধ প্যাকেট সিগারেট দিব্যি ফাঁকা করে দিত।
অঙ্কনার বলে সব রকমের বাজে অভ্যাসই ছিল। এমনিতেই তার বক বক করার অভ্যাস আগে তেমন ছিল না। শাহাবের সঙ্গে যত কথা বলেছে, এত কথা আগে কোনোদিন কারো সঙ্গে বলেনি। নিজের পছন্দ-অপছন্দ শুরুতেই শাহাবকে জানিয়ে দিয়েছিল।
ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেনিংয়ের কাজ করতে গিয়ে অঙ্কনার সঙ্গে আলাপ। ওর সঙ্গে প্রথমদিনই কথা বলে অঙ্কনার ওকে অনেক ভালো লেগেছিল।
টাইনাটুইনা ম্যাট্রিক পাস বলতে যা বোঝায় তাই ছিল শাহাব। গুণের মধ্যে একটাই: গাছাপালা ভালোবাসা। ছোটবেলা থেকে বাগান করার শখ।
—দিনাজপুরে ওয়াপদা কলোনিতে বড় হওয়া। কলোনিতে এ, বি আর সি—এই তিন রকমের বাসা ছিল। মামা ওয়াপদাতে ছোটখাটো একজন অফিসার ছিলেন। আমরা বি টাইপের বাসায় থাকতাম। কলোনির পাশে একটা নদী। কাঞ্চন নদী। পুনর্ভবা নদীর শাখা। মামার কাছে বড় হওয়া। বাবা-মা ঢাকা থেকে ফেরার পথে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি অ্যাক্সিডেন্টে মারা গিয়েছিলেন। একদম স্পটডেড। একমাত্র বোনের একমাত্র ছেলেকে বড় মামা তার কাছে নিয়ে এসেছিলেন। পড়লেখায় কোনোভাবেই মন দিতে পারিনি। মামাও বলতেন, তোর মাথা এত পরিষ্কার কিন্তু পরীক্ষা এত খারাপ করিস! কারণ কী বলতো?
মামি স্কুলে পড়াতেন। তাকে কোনোদিন নিজেদের ছেলেমেয়েদের চেয়ে আলাদা করে দেখেননি। ঈদে-বকরিদে সবার জন্য যা জামাকাপড় তার জন্যও তা-ই।
মামি স্কুলে গণিতের মাস্টার। শাহাবকে নিজে থেকে পড়ানোর চেষ্টা করে দেখেছেন, ছেলের অংকে তো মাথাই খোলে না। কিন্তু তুই তো কোনোভাবেই বোকাগাধা নোস।
মামা একদিন বললেন, পড়ালেখায় ভালো হওয়ার সঙ্গে ইন্টেলিজেন্ট হওয়ার কোনো সম্পর্কই নেই, মানো?
সেই ‘ইন্টেলিজেন্স’ই তাকে কোনো এক ভোর বেলা বলেছিল, বড় হয়েছো, এখন আগে বাড়ো। নিজের মতো করে নিজের জীবন গড়ে নাও। আর বোধ-বুদ্ধি যখন আছে, তখন আর চিন্তা কী!
কলেজে যাওয়া-আসা শুরু করার কদিন পরই সে ঢাকা চলে আসে। প্রথমে সাভারে জাহাঙ্গারীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটা নার্সারিতে কাজ নেয়। সেখানে অলক মিত্রের সঙ্গে আলাপ। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে বোটানিতে পড়তেন। অলকই তাকে বলতে গেলে ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেনিং শেখায়। পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখাটা করার বুদ্ধি দেয়। কীভাবে কী করবে—সব পথ বাতলে দেয়। মাত্র কদিন আগে এই পঁয়ত্রিশ বছরে সে এম.এ শেষ করল।
অলক তাকে বাসাবোতে নিজের বাসায় নিয়ে আসে। নিচতলার একটা ঘরে নামমাত্র ভাড়া নিয়ে থাকতে দেয়। পরে একটার পর একটা কাজ জুগিয়ে দেয়। সেই থেকে দেখতে দেখতে নিজের অফিস। মুগদাতে নিজের একটা ফ্ল্যাট কিনবে কিনবে তখন অঙ্কনার কাজটা পায়। একতলা থেকে সাততলা পুরোটা গাছ-লতা-পাতা দিয়ে সাজিয়ে দেওয়ার কাজ। সঙ্গে বিরাট ছাদ বাগানের কাজটাও।
—তোমাকে কোনো একটা বাজে অভ্যাসে পেল না—এটাতেই অবাক হয়েছি। বাজে অভ্যাস ছাড়া মানুষ হয়!
—আসলে অল্প বয়সে কাজের জগতে ঢুকে পড়েছিলাম তো। আর গাছপালা ফুল ফল পাখির সঙ্গে থাকলে মনে হয় তেমন বাজে হওয়া যায় না। এছাড়া একদিকে এত অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে কাজের নেশা।—এর ভেতরে আলাদা করে নেশা করার মনটাই তৈরি হয়নি। এত গাছ, এত ফুল, এত শাকশাবজি চিনেছি। এই করতে করতে এত পাখি চিনেছি।—অন্যদিকে মন দেওয়ার সময়ই পাইনি।
—তুমি একটা দারুণ মানুষ কিন্তু।
—জানো, মাঝখানে ব্যবসার দশা এত খারাপ হয়েছিল। বস্তিতে থেকেছি। অলকদারা, ওদের পুরো পরিবার বাড়িঘর সব বেচে দিয়ে কানাডা চলে গেল। আমাকে নিজে বলেছিলেন, তোমাকে বাড়ি দেখাশোনার কাজ দিতে পারতাম। তাতে তোমার খাওয়া-পরা দিব্যি হয়ে যেত। কিন্তু তোমাকে অনেক দূর যাওয়া লাগবে হে শাহাবুদ্দিন। আর পরের ওপরে ভর করে অনেক দূর যাওয়া যায় না। নিজের ভার নিজেই বইতে হয়। পরের ঘাড়ে সওয়ার হলে সেই ঘাড় হয় ভেঙে পড়ে নয়, কাত করে ফেলে দেয়। তাই নিজের ভার নিজেরই বইতে হয়। সেই ভারে গতি থাকলে আর চিন্তা নেই। গতিবেগে ভারও হালকা হয়। আবার ভার থাকার জন্য গতিবেগও বাড়ে। ভাইস-ভার্সা। অলকদাই আসলে আমার গুরু।... লেখাপড়া শিখে সার্টিফিকেট হয়, কিন্তু গুরু ধরলে যা শেখা যায়, তা কেউ দিতে পারে না। আর গুরুর কাছে রাশি রাশি শেখার কিছু নেই। একটা দুটো মন্ত্র আর মন্ত্রণা পেলেই সারা জীবনের কাজ হয়ে যায়। মজার ব্যাপার, একদিন আমি হাঁটা-বাবার পিছে পিছে মাইলখানিক হেঁটেছিলাম। শুনেছিলাম, মনের সত্যিকারের কোনো ইচ্ছা নিয়ে ওঁর পেছনে হাঁটলে সেই ইচ্ছাপূরণ হয়।
অঙ্কনা বলে, তুমি এসবেও বিশ্বাস করো নাকি! আজব তো!
—আরে ঠিক বিশ্বাস নয়, আসলে কেউ যদি ধ্যান করে এক মনে কোনো কথা বার বার, প্রতিদিন ভাবতে থাকে, আর সেমতো কাজ করতে থাকে, তাহলে কাজ না হয়ে উপায় কী।
—এভাবেই তুমি সেল্ফমেইড ম্যান হয়ে গেলে!
—সেল্ফমেইড ম্যান কী জিনিস জানতাম না। আমি কেবল মনপ্রাণ দিয়ে নিজে কাজটা করার চেষ্টা করে গেছি।
—কোনোদিন প্রেমট্রেম করোনি?
—দিনাজপুরে সেই ম্যাট্রিক পড়ার সময়, নাইন-টেনে আর কী, একটা মেয়েকে ভালো লেগেছিল। ওই এক পাক্ষিক ভালো লাগা। এত সুন্দর মেয়ে! ওয়াপদার বড় ইঞ্জিনিয়ারের মেয়ে। বামন হয়ে চাঁদে হাত দেওয়ার মতো ব্যাপার হয়ে যেত।
—বামন হবে কেন! তোমার হাইট তো অনেক। ছফুটই তো মনে হয়, নাকি কতো?
—পাঁচ ফুট এগারো।
—তো! তাছাড়া তুমি তো দেখতে এত ভালো। এত ম্যানলি!
—আসলে কিছু হলে মামা-মামির কাছে মুখ রাখাতে পারতাম না। পুরো না হলেও তখনকার হিসেবে ভালোই পাগল হয়েছিলাম। তখন কী করেছিলাম জানো, একটার পর একট চিঠি লিখতে শুরু করলাম আর লেখা শেষ হলেই ছিঁড়ে ফেলতাম। এটাও যে দারুণ ওষুধ নিজের ওপর না জেনে কাজে লাগিয়েছিলাম, তাও না জেনে।
—কী নাম ছিল মেয়েটার?
শাহাব চুপ করে থাকে। আর তার এই চুপ করে থাকার সময়ে চোখে মুখের যে দশা হয়, বলতে গেলে তা দেখেই অঙ্কনা জীবনে প্রথমবারের মতো প্রেমে পড়ে যায়। সেদিন সে আর কোনো কথা বলতে পারেনি।
শাহাবও মেয়েটার নাম বলেনি। অঙ্কনাও আর কোনোদিন শুনতেও চায়নি। কেবল মনে পড়ে সারা রাত সে ছটফট করেছে। সিদ্ধান্ত নিতে ভোর হয়ে গিয়েছিল!
এমনিতে গার্ডেনিংয়ের কাজে গেলেই অঙ্কনা ডেকে আলাপ করে। চানাস্তা না করিয়ে ছাড়ে না। কখনো বোঝা যায়নি, তার ভেতরে এত জ্বালাপোড়া আছে! নিজের বড় ভাই অঙ্কন বাবার কাছে মোটরসাইকেল না পেয়ে আত্মহত্যা করেছিল। মাকে চোখের সামনে দিনের পর দিন রোগে ভুগে ধুকে ধুকে মরতে দেখেছে। ছোটবোনটা একটা ছেলের সঙ্গে অল্প বয়সে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে খুন হয়। স্বামী আর শাশুড়ি মিলে বলে খুন করেছিল। এর ভেতরে অঙ্কনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলায় ভর্তি হয়। তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময়, ওর একা-নিঃসঙ্গ কেরানি বাবা হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। সে ছিল তার পরিবারের কালো ভেড়ার উল্টাটা। মানে, কালো ভেড়ার পরিবারে সাদা ভেড়া। সব দিক থেকেই। রূপে-গুণে, আকারে-প্রকারে। কেবল লোকজন তার আসল বিকারটা জানতো না। সেই সময় থেকে সিগারেট-মদ খেতে শুরু করে। রটনা ছিল, অঙ্কনা আশমিটিয়ে যার-তার সঙ্গে সেক্স করছে। কেবল সেক্সের জন্য সেক্স করা। অথচ, এসব নিয়ে কোনোদিন কারো কাছে সে একটা টুঁ শব্দ করেনি। আবার কেউ কেউ জানতো, সে কোনোভাবেই কোনো ছেলের প্রেমে পড়তে পারে না। প্রেম না-পড়ার অসুখ ছিল অঙ্কনার। লম্বায় পাঁচ-পাঁচ। মেয়েদের এমন পেটানো স্বাস্থ্য হয়! সরু কোমরটা মাঝে রেখে ওপরে-নিচে উথলে ওঠা শরীর। এমন ফিগারওয়ালি মেয়ের এই হলো!
অঙ্কনার স্বামী জাওয়াদ ওর এক শিক্ষকের বন্ধু। প্রথম স্ত্রী মারা যায়। বিয়ের পরে জানে, ওই মহিলা পরকীয়ায় ধরা পড়ে আত্মহত্যা করেছিল। জাওয়াদকে তার বন্ধু মানে ওর শিক্ষক বলেছিলেন, এই মেয়েকে তুই সামলাতে পারবি?
—কেন?
—অনেক দুর্নাম আছে!
—মানে মানুষ খারাপ?
—মানুষ খারাপ নয়, কিন্তু অনেক খারাপ অভ্যাস আছে। মানুষ হিসেবে একদম সলিড!
—তাহলে আর কী!
—মেয়ে খারাপ না।
আসলে জাওয়াদ এত দেখে শুনে খোঁজ নিয়ে প্রথম বিয়েটা করেছিল। রুচি বংশ সব দেখে। সেই মেয়ে পরপুরুষের সঙ্গে একদম হাতে নাতে ধরা পড়ল। দোষ জাওয়াদেরও ছিল। নিজের অফিস ছাড়া আর কোনো দিকে তাকাতে পারেনি। প্রথমে সরকারি চাকরি করলেও পরে তিন বন্ধু মিলে ব্যবসা শুরু করে। তিনজনই আর্কিটেক। প্রচুর কাজের চাপ ছিল। স্ত্রীকে শুরু থেকেই একদমই সময় দিতে পারেনি।
—ভালো মেয়ে, ভালো ছেলে—এসবের মানে এখন আর পুছি না। জানিস তো, গুড গার্লস আর গুড, বাট ব্যাড গার্লস আর বেটার।... তুই একটু আলাপ করিয়ে দে না।
—ওরে বাবা, ম্যাচমেকিং!—জীবনে একটা জিনিস কখনোই করব না বলে ঠিক করেছি। ম্যাচমেকিং! সর্বনাশ! কোনো ভরসা নেই। মানুষ হলো শয়তানের আসরি।
—তোদের রবীন্দ্রনাথ তো বলে, মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ।
—আমি তো বলি, মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখাটাই বরং ভুল। পাপ মাফ হয়, কিন্তু কোনো একটা-দুটো ভুলে জীবন গুলিতে গোল্লা হয়ে যায়!
শাহাব অঙ্কনাকে বলেছিল, তোমার এত দার্শনিক কথা কি ওই স্যারের কাছে পাওয়া? আরে না, আমি কি লায়েক কম ছিলাম না কি! সোফিস ওর্য়াল্ড পড়েছিলাম। উইলি ডুরান্ট। দর্শন যদিও তেমন কিছু বুঝি না, কিন্তু দর্শন পড়তে আমার কেন যে এত ভালো লাগে, তাও জানি না। যদিও বলে, জীবনের জটিল অন্ধকারময় গোলকধাঁধায় দর্শনই বলে একমাত্র আলো। আমি বলি, জীবন এমন এক কুয়াশা, কোনো আলোতে কাজ হয় না। অন্ধকারে তো একটা মোমবাতি জ্বালালেও কিছু আলো পাওয়া যায়। জীবনের কুয়াশায় কিন্তু কোনো সম্বল নেই।
—একমাত্র সাহস ছাড়া।
—বাহ! গ্রেইট। এজন্য তোমাকে এত ভালো লাগে। বলেই একেবারে সোফা থেকে উঠে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শাহাবের দুই গালে কষে কয়েকটা চুমু দিয়েছিল অঙ্কনা।
শাহাব একদম বিস্ময়ে হতবাক!
সম্বিৎ ফিরে পেতেই অঙ্কনা বলে, এ মা! কী করলাম এটা! সরি সরি!
অঙ্কনার প্রথম বাচ্চাটা হওয়া পর পরই মারা যায়। এরপর দুটো যমজ ছেলে হয়। একটু বড় হওয়ার পর দুজনকে দার্জিলিংয়ের নাম করা বোডিংস্কুলে ভর্তি করে দিয়ে আসে।
—মাঝে মাঝেই গিয়ে দেখে আসি।—মা হিসেবে এইটুকু আমি করি আর কী।
বড় ছেলেটা আমাকে বহু বার বলেছে, মা একা থেকো না, প্লিজ। পারলে বিয়ে করো।
জাওয়াদ মদ খেতে খেতে লিভার পচিয়ে ফেলেছিল। প্রথম স্ত্রীর কাণ্ডের পর মদ ধরেছিল। ব্যবসাতে সামাল দিতে পারেনি, বলে বন্ধুরা ওকে এক রকম বেরই করে দেয়। ভালো টাকা পয়সা দিয়েছিল যদিও। আর থাকার মধ্যে এই সাততলা বাড়িটা। আর কোনো প্রপার্র্টি, আর কোনো কিছুই ওর ছিল না। কেবল মা-বাবার একমাত্র ছেলে বলে রক্ষা। অন্যদিকের কোনো ঝুটঝামেলা আসেনি। আমি কিন্তু জাওয়াদের প্রেমে পড়ে ওকে বিয়ে করিনি। হ্যাঁ ভালো লেগেছিল। সুন্দর হ্যান্ডসাম ছেলেদের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে। যদিও জানি সুন্দর ছেলেগুলির বেশিরভাগই হয় ল্যাবদা, নয় অকর্মা, নয়তো বদের হাড্ডি।
শাহাব অঙ্কনাকে সবসময় দেখেছে হয় শার্টপ্যান্ট, নয়তো শার্ট আর লং স্কার্টে। সেদিন ঠেসে চুমু খাওয়ার ঘটনার পরে প্রথম যেবার ওর বাসায় গেল, শাড়ি পরা অঙ্কনাকে দেখে, আসলে শাড়িতে অঙ্কনাকে-যে রীতিমতো... বাংলাটা তার সেদিন পেটে আসলে মুখে আসেনি, পরে মনে করতে পেরেছিল, ‘অপ্সরা’ লাগছিল, সেটা অনেক পরে বলেছিল।
—জানো স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠান হলেই আমি শাড়ি পরতাম। অন্যদেরও কত পরিয়ে দিয়েছি। শাড়ি আমার এত প্রিয় ছিল। ভাইয়ের আত্মহত্যা, মায়ের মারা যাওয়া, ছোটবোনের পালিয়ে যাওয়া। পরে বাবার নিরুদ্দেশ হওয়া—পরে তো জাওয়াদের মারা যাওয়া—যেকারণেই হোক আমি কোনোমতেই আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছিলাম না।
—তুমি তো দেখি অঙ্কনা ঘটনার জাদুঘর!
—হ্যাঁ, জানো ‘স্টুডিয়ো’র একটা বাংলা আছে—‘অঙ্কনাগার’। আমি হলাম কঠিন জীবনের একটা স্টুডিয়ো।
—কষ্টই কি মানুষকে দার্শনিকও করে দিতে পারে?
—আমি জানতাম: বিস্ময়। হ্যাঁ, মন্দ নয়, তুমি লড়াকু মানুষ, আমি দার্শনিক। আমাদের জুটি মন্দ হবে না।
কথাটা বলেই অঙ্কনা একটু ভ্যাবাচ্যাক খায়।
শাহাব সেই প্রথম ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া অঙ্কনার মুখের দিকে অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে।



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন